। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার কাছ হতে আমি যা কিছু শ্রবণ করি তা মনে রাখতে পারি না। তিনি বললেনঃ তোমার চাদরখানা বিছাও। অতএব আমি তা বিছালাম। তারপর তিনি বহু হাদীস রিওয়ায়াত করলেন যা আমি কখনো তুলিনি। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। হাদীসটি একাধিক সূত্রে আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে।
। ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ)-কে তিনি বললেন, হে আবূ হুরাইরাহ্! আপনি আমাদের চেয়ে বেশি সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছাকাছি কাটিয়েছেন এবং আমাদের তুলনায় তার বেশি হাদীস মুখস্থ করেছেন। সনদ সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান।
হাদিস 3837 — Jami At Tirmidhi 49:237
দাঈফ Isnaadদাঈফ Isnaadদাঈফ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي شُعَيْبٍ الْحَرَّانِيُّ، قَالَ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ الْحَرَّانِيُّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَبِي عَامِرٍ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى طَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ فَقَالَ يَا أَبَا مُحَمَّدٍ أَرَأَيْتَ هَذَا الْيَمَانِيَ يَعْنِي أَبَا هُرَيْرَةَ هُوَ أَعْلَمُ بِحَدِيثِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْكُمْ نَسْمَعُ مِنْهُ مَا لاَ نَسْمَعُ مِنْكُمْ أَوْ يَقُولُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا لَمْ يَقُلْ . قَالَ أَمَّا أَنْ يَكُونَ سَمِعَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا لَمْ نَسْمَعْ فَلاَ أَشُكُّ إِلاَّ أَنَّهُ سَمِعَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا لَمْ نَسْمَعْ وَذَاكَ أَنَّهُ كَانَ مِسْكِينًا لاَ شَىْءَ لَهُ ضَيْفًا لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَدُهُ مَعَ يَدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَكُنَّا نَحْنُ أَهْلَ بُيُوتَاتٍ وَغِنًى وَكُنَّا نَأْتِي رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم طَرَفَىِ النَّهَارِ فَلاَ نَشُكُّ إِلاَّ أَنَّهُ سَمِعَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا لَمْ نَسْمَعْ وَلاَ نَجِدُ أَحَدًا فِيهِ خَيْرٌ يَقُولُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا لَمْ يَقُلْ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ . وَقَدْ رَوَاهُ يُونُسُ بْنُ بُكَيْرٍ وَغَيْرُهُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ .
। মালিক ইবনু আবূ আমির (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, এক লোক তালহা ইবনু উবাইদুল্লাহ (রাঃ)-এর নিকট এসে বলল, হে আবূ মুহাম্মাদ! ঐ ইয়ামানী লোকটি অর্থাৎ আবূ হুরাইরা (রাঃ) প্রসঙ্গে আপনার কি বক্তব্য? তিনি কি আপনাদের চাইতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস অনেক বেশি জানেন? তার নিকট আমরা এমন কিছু হাদীস শুনি যা আপনাদের নিকট শুনতে পাই না। অথবা তিনি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বরাতে এমন কথা বলেন যা প্রকৃতপক্ষে তিনি বলেননি? তালহা (রাঃ) বললেন, বস্তুত তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এ হাদীস শুনেছেন যা আমরা শুনতে পারিনি। তার কারণ এই যে, তিনি ছিলেন একজন গারীব লোক, তার কিছুই ছিল না। তিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অতিথি। তার হাত থাকত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতের সাথে (অর্থাৎ সব সময় তার সঙ্গে থাকতেন)। আর আমরা ছিলাম বাড়ি-ঘর ও পরিবার-পরিজনসহ ধনবান। তাই আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খিদমাতে হাযির হওয়ার সুযোগ পেতাম দিনের দুই ভাগে (সকাল ও সন্ধ্যায়)। তাই নিঃসন্দেহে তিনি অবশ্যই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী শুনেছেন, যা আমরা শুনিনি। আর তুমি এমন একজন সৎ লোকও খুঁজে পাবে না যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বরাতে এমন কথা বলবেন, যা সত্যিকার আর্থে তিনি বলেননি। সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধু মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাকের সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি। অবশ্য ইউসুফ ইবনু বুকাইর প্রমুখগণ এ হাদীস মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক হতে বর্ণনা করেছেন।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রশ্ন করেনঃ তুমি কোন গোত্রের লোক? আমি বললাম, দাওস গোত্রীয়। তিনি বললেনঃ আমি জ্ঞাত ছিলাম না যে, দাওস গোত্রে কোন উত্তম ব্যক্তি আছে। সহীহঃ সহীহাহ (২৯৩৬)। তাইসীরুল ইনতিফা মুহাজির ইবনু মাখলাদ হতে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। আবূ খালদাহর নাম খালিদ ইবনু দীনার এবং আবূ আলিয়্যার নাম রুফাই।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি কয়েকটি খেজুরসহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! এ খেজুরগুলোতে বারাকাত হওয়ার জন্য আল্লাহ তা'আলার নিকট দুআ করুন। তিনি খেজুরগুলো জড়ো করলেন, তারপর আমার জন্য খেজুরগুলোয় বারাকাত হওয়ার দু'আ করলেন, তারপর আমাকে বললেনঃ এগুলো নাও এবং তোমার এই থলেতে রাখ। আর যখনই তা হতে তুমি কিছু খেজুর নিতে চাও, সে সময় থলের ভেতরে হাত ঢুকিয়ে বের করে নিবে এবং কখনও থলেটি ঝেড়ে ফেল না। এরপর আমি উক্ত থলে হতে এত এত ওয়াসাক খেজুর আল্লাহ তা'আলার রাস্তায় দান করেছি। আর এ হতে আমরা নিজেরাও খেতাম এবং অন্যকেও খাওয়াতাম। থলেটি আমার কোমর হতে কখনো আলাদা হয়নি। অবশেষে উসমান (রাযিঃ) যে দিন শাহাদাত বরণ করেন সেদিন আমার (কোমর) হতে থলেটি পড়ে যায়। সনদ হাসান। আবূ ঈসা বলেন, উক্ত সনদে এ হাদীসটি হাসান গারীব। হাদীসটি আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে অন্য সনদেও বর্ণিত হয়েছে।
। আবদুল্লাহ ইবনু রাফি' (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ)-কে আমি প্রশ্ন করলাম, আবূ হুরাইরাহ (বিড়ালের বাপ) আপনার ডাকনাম হল কেন? তিনি বললেন, তুমি আমাকে কি ভয় পাও? আমি বললাম, হ্যাঁ আল্লাহর শপথ, অবশ্যই আপনাকে আমি ভয় করি। তিনি বললেন, আমি আমার পরিবারের মেষপাল চড়াতাম এবং আমার একটি ছোট বিড়াল ছিল। রাতের বেলা আমি এটিকে একটি গাছে বসিয়ে রাখতাম। আর দিন হলে আমি এটাকে আমার সঙ্গে নিয়ে যেতাম এবং এর সাথে খেলা করতাম। তাই লোকেরা আমাকে আবূ হুরাইরাহ ডাকনাম দেয়। সনদ হাসান। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব।
। আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, 'আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) ছাড়া আর কেউ আমার চেয়ে অধিক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর হাদীস রিওয়ায়াত করেনি। কেননা তিনি (হাদীস) লিখে রাখতেন কিন্তু আমি লিখতাম না। সহীহঃ বুখারী (২৬৬৮) নং হাদীস পূর্বে উল্লেখ হয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
হাদিস 3842 — Jami At Tirmidhi 49:242
সহিহসহিহIsnaad Sahih
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو مُسْهِرٍ عَبْدُ الأَعْلَى بْنُ مُسْهِرٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي عَمِيرَةَ، وَكَانَ، مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ لِمُعَاوِيَةَ " اللَّهُمَّ اجْعَلْهُ هَادِيًا مَهْدِيًّا وَاهْدِ بِهِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ .
। আবদুর রহমান ইবনু আবী উমাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবী ছিলেন; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মু'আবিয়া (রাযিঃ)-এর জন্য দু'আ করেনঃ “হে আল্লাহ! তুমি তাকে পথপ্রদর্শক ও হেদায়াতপ্রাপ্ত বানাও এবং তার মাধ্যমে (মানুষকে) সৎপথ দেখাও। সহীহঃ মিশকাত (৬২৩), সহীহাহ (১৯৬৯)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব।
। আবূ ইদরীস আল-খাওলানী (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, “উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) যখন উমাইর ইবনু সা'দ (রাযিঃ)-কে পদচ্যুত করে সে পদে মু'আবিয়াহ (রাযিঃ)-কে হিমসের গভর্নর নিযুক্ত করলেন তখন লোকেরা বলল, তিনি উমাইরকে পদচ্যুত করে সেই পদে মু'আবিয়াহকে শাসক নিযুক্ত করেছেন। উমাইর (রাযিঃ) বলেন, তোমরা মু'আবিয়াহকে ভালভাবে স্মরণ কর। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি বলতে শুনেছিঃ হে আল্লাহ! তুমি তার মাধ্যমে (লোকদের) পথ দেখাও। পূর্বের হাদীসের সহায়তায় সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি গারীব। আমর ইবনু ওয়াকিদকে দুর্বল মনে করা হয়।
। উকবাহ ইবনু আমির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন রাসুলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ লোকেরা ইসলাম কবুল করেছে আর আমর ইবনুল আস বিশ্বাস স্থাপন করেছে। হাসানঃ সহীহাহ (১১৫), মিশকাত (৬২৩৬)। আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি গারীব। আমরা এ হাদীস শুধুমাত্র ইবনু লাহী আহর বরাতে মিশরাহ হতে জানতে পেরেছি। এর সনদসূত্র খুব একটা মযবুত নয়।