। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা যদি প্রকৃতভাবেই আল্লাহ্ তা'আলার উপর নির্ভরশীল হতে তাহলে পাখিদের যেভাবে রিযিক দেয়া হয় সেভাবে তোমাদেরকেও রিযিক দেয়া হতো। এরা সকালবেলা খালি পেটে বের হয় এবং সন্ধ্যা বেলায় ভরা পেটে ফিরে আসে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৪১৬৪)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আমরা এই হাদীসটি শুধুমাত্র উপরোক্ত সূত্রেই জেনেছি। আবূ তামীম আল-জাইশানীর নাম আবদুল্লাহ ইবনু মালিক।
হাদিস 2345 — Jami At Tirmidhi 36:42
সহিহসহিহহাসান SahihIsnaad Sahih
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ كَانَ أَخَوَانِ عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَكَانَ أَحَدُهُمَا يَأْتِي النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَالآخَرُ يَحْتَرِفُ فَشَكَا الْمُحْتَرِفُ أَخَاهُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " لَعَلَّكَ تُرْزَقُ بِهِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে দুই ভাই ছিল। তাদের একজন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে উপস্থিত থাকত এবং অন্যজন আয়-উপার্জনে লিপ্ত থাকত। কোন একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট সেই উপার্জনকারী ভাই তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করল। তিনি তাকে বললেনঃ হয়তো তার ওয়াসীলায় তুমি রিযিকপ্রাপ্ত হচ্ছ। সহীহ, মিশকাত (৫৩০৮), সহীহাহ (২৭৬৯)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।
। উবাইদুল্লাহ ইবনু মিহসান আল-খিতমী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, (তিনি সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত)। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে যে লোক পরিবার-পরিজনসহ নিরাপদে সকালে উপনীত হয়, সুস্থ শরীরে দিনাতিপাত করে এবং তার নিকট সারা দিনের খোরাকী থাকে তবে তার জন্য যেন গোটা দুনিয়াটাই একত্র করা হলো। হাসান, ইবনু মা-জাহ (৪১৪১)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র মারওয়ান ইবনু মু'আবিয়ার সূত্রেই জেনেছি। “হীযাত” অর্থ ‘একত্র করা হলো’। মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল-হুমাইদী হতে, তিনি মারওয়ান ইবনু মু'আবিয়া হতে উপরোক্ত হাদীসের মতো হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবূদ দারদা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
। আবূ উমামা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমার বন্ধুদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী ঈর্ষনীয় হল সেই মু'মিন ব্যক্তি যার অবস্থা খুবই হালকা (স্বল্প সম্পদ এবং পরিবারের সদস্য সংখ্যাও কম) এবং যে নামাযে মনোযোগী, সুচারুরূপে তার প্রভুর ইবাদাত করে, একান্ত নিভৃতেও তার অনুগত থাকে, মানুষের মাঝে অখ্যাত, তার দিকে অংগুলি সংকেত করা হয় না, আর নুন্যতম প্রয়োজন মাফিক তার রিযিক এবং তাতেই ধৈর্য ধারণকারী। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দুই হাতের ইংগিতে বলেনঃ শীঘ্রই তার মৃত্যু হয়, তার জন্য ক্ৰন্দনকারীর সংখ্যাও কম, তার রেখে যাওয়া সম্পদও খুব সামান্য। যঈফ, মিশকাত, তাহকীক ছানী (৫১৮৯) একই সনদসুত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমার রব আমার নিকট মক্কার বাতহা অর্থাৎ কংকরময় এলাকা আমার জন্য স্বর্ণে পরিণত করার প্রস্তাব করেন। আমি বললাম, হে আমার রব! প্রয়োজন নেই, বরং আমি একদিন তৃপ্তির সাথে খাবো আর একদিন ক্ষুধার্ত থাকব। একই কথা তিনি তিনবার বা তদ্রুপ বললেন। যখন ক্ষুধার্ত থাকব তখন বিনীতভাবে তোমার নিকটে প্রার্থনা করব ও তোমাকেই মনে করব এবং যখন তৃপ্তির সাথে খাবো তখন তোমার শুকরিয়া আদায় করব ও তোমার প্রশংসা করব। যঈফ, মিশকাত, তাহকীক ছানী (৫১৯০) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। এ অনুচ্ছেদে ফাযালা ইবনু উবাইদ হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আল-কাসিম (রাযিঃ) তিনি আবদুর রহমানের পুত্র এবং উপনাম আবূ আবদির রহমান, মতান্তরে আবূ আবদিল মালিক। তিনি আবদুর রহমান ইবনু খালিদ ইবনে ইয়াযীদ ইবনে মু'আবিয়ার মুক্তদাস। তিনি সিরিয়ার অধিবাসী এবং বিশ্বস্ত রাবী। আর আলী ইবনু ইয়াযীদ হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল এবং তার উপনাম আবূ আবদিল মালিক।
। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক ইসলাম কুবুল করেছে, এবং তার নিকট নূন্যতম রিযিক রয়েছে এবং তাকে আল্লাহ তা'আলা অল্পে তুষ্ট থাকার তাওফীক দিয়েছেন, সে-ই সফলকাম হলো। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৪১৩৮)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। ফাযালা ইবনু উবাইদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেনঃ সেই ব্যক্তি কতই না সৌভাগ্যবান যাকে ইসলামের পথে হিদায়াত দান করা হয়েছে এবং তার জীবিকা নুন্যতম প্রয়োজন মাফিক এবং সে তাতেই খুশি। সহীহ, তা’লীকুর রাগীব (২/১১), সহীহাহ (১৫০৬)। আবূ হানীর নাম হুমাইদ ইবনু হানী। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দরিদ্র মুহাজিরগণ তাদের সম্পদশালীদের চেয়ে পাঁচশত বছর পূর্বে জান্নাতে প্রবেশ করবে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৪১২৩)। আবূ হুরাইরা, আবদুল্লাহ ইবনু আমর ও জাবির (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান, তবে উপরোক্ত সনদসূত্রে গরীব।
। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (দু’আ করে) বলেনঃ হে আল্লাহ! তুমি আমাকে দরিদ্র অবস্থায় বাঁচিয়ে রাখ, দরিদ্র থাকাবস্থায় মৃত্যু দিও এবং কিয়ামত দিবসে দরিদ্রদের দলভুক্ত করে হাশর করো। (একথা শুনে) আইশা (রাঃ) বলেন, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কেন এরূপ বলছেন? তিনি বললেনঃ হে আইশা! তারা তো তাদের সম্পদশালীদের চেয়ে চল্লিশ বছর পূর্বে জান্নাতে প্রবেশ করবে। হে আইশা! তুমি যাঞ্চাকারী দরিদ্রকে ফিরিয়ে দিও না। যদি দেয়ার মতো কিছু তোমার নিকট না থাকে, তাহলে একটি খেজুরের টুকরা হলেও তাকে দিও। হে আইশা! তুমি দরিদ্রদের ভালোবাসবে এবং তাদেরকে তোমার সান্নিধ্যে রাখবে। তাহলে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা’আলা তোমাকে তার সান্নিধ্যে রাখবেন। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৪১২৬)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দরদ্রিগণ সম্পদশালীদের চেয়ে পাঁচশত বছর পূর্বে জান্নাতে যাবে। আর তা হলো (আখিরাতের) অর্ধদিনের সমান। হাসান সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৪১২২)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।