। আবূ মূসা আল-আশআরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মাতের মধ্যে পুরুষদের জন্য রেশমী পোশাক এবং স্বর্ণালংকার ব্যবহার হারাম করা হয়েছে এবং মহিলাদের জন্য তা হালাল করা হয়েছে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৫৯৫) উমার, আলী, উকবা ইবনু আমির, আনাস, হুজাইফা, উম্মু হানী, আব্দুল্লাহ ইবনু আমর, ইমরান ইবনু হুসাইন, আব্দুল্লাহ ইবনুজ জুবাইর, জাবির, আবূ রাইহান, ইবনু উমার, বারাআ ও ওয়াসিলা ইবনুল আসকা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
। উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি জাবিয়া নামক জায়গায় ভাষণ দানের সময় বলেন, দুই, তিন অথবা চার আঙ্গুলের বেশি পরিমাণ রেশমী পোশাক ব্যবহার করতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বারণ করেছেন। সহীহ, মুসলিম। এই হাদিসকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, এক যুদ্ধে আবদুর রাহমান ইবনু আওফ ও যুবাইর ইবনুল আওয়াম (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট নিজেদের শরীরে উকুন হওয়ার অভিযোগ করেন। তাদের দু'জনকেই তিনি রেশমী পোশাকের জামা পরার সম্মতি দেন। আনাস (রাঃ) বলেন, আমি তাদের দু’জনকেই তা পরে থাকতে দেখেছি। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৫৯২), নাসা-ঈ এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
। ওয়াকিদ ইবনু আমর ইবনু সাঈদ ইবনু মুয়াজ (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, (আমাদের এখানে) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) আসলে আমি তার সামনে এলাম। তিনি (আমাকে) প্রশ্ন করেন, তুমি কে? আমি বললাম, আমি ওয়াকিদ ইবনু আমর ইবনু সা’দ ইবনু মুআয। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি (আনাস) কেঁদে ফেললেন এবং বললেন, সা’দের চেহারার সাথে তোমার চেহারার মিল আছে। সা'দ (রাঃ) ছিলেন অত্যন্ত মর্যাদাবান, বলিষ্ঠ ও লম্বা শরীরের অধিকারী। তিনি একবার স্বর্ণের কারুকার্য খচিত দীবাজ (রেশম ও সূতা মিশ্ৰিত) কাপড়ের একটি জুব্বা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য প্রেরণ করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা পরে মিম্বারে উঠে দাড়ান অথবা বসেন। জনগণ তা ছুয়ে দেখতে শুরু করলো এবং বলতে লাগল, আমরা আজকের মতো এমন জামা আর কোন দিন দেখিনি। তিনি বললেনঃ তোমরা এর সৌন্দর্য দেখে আশ্চর্য হচ্ছ! তোমরা যা দেখছ, জান্নাতে সাদের রুমাল তার চেয়ে বেশি উত্তম। সহীহ, নাসা-ঈ আবূ ঈসা বলেন, আসমা বিনতু আবূ বাকর (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। বারাআ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি লাল রং-এর জামা পরে থাকাবস্থায় আর কোন বাবরি চুলবিশিষ্ট মানুষ দেখিনি যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেয়ে বেশি সুন্দর। কাধের কাছাকাছি পর্যন্ত তার বাবরি চুল ঝুলন্ত ছিল। তার দুই কাধের মাঝামাঝি জায়গা প্রশস্ত ছিল। তিনি ছিলেন না বেঁটে আকৃতির আর না লম্বাকৃতির। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৫৯৯), নাসা-ঈ আবূ ঈসা বলেন, জাবির ইবনু সামুরা, আবূ রিমসা ও আবূ জুহাইফা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে কাসী (সূতা ও রেশম মিশ্ৰিত কাপড়) ও হলুদ রং-এর জামা পরতে বারণ করেছেন। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৬০২), মুসলিম, ৩৬৭৬ নং হাদীসে আরও পরিপূর্ণ বর্ণনা আসবে। আবূ ঈসা বলেন, আনাস ও আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ।
। সালমান (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, ঘি, পনির ও পশমী বা চামড়ার জামা প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করা হল। তিনি বললেনঃ আল্লাহ তা'আলা তার গ্রন্থে যা বৈধ করেছেন তা-ই বৈধ এবং আল্লাহ তা'আলা তার গ্রন্থে যা অবৈধ করেছেন তা-ই অবৈধ। আর তিনি যে সকল বিষয়ে নীরব থেকেছেন (বৈধ বা অবৈধ বিষয়ে কিছুই বলেননি) তা তার ক্ষমা ও উদারতার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। হাসান, ইবনু মা-জাহ (৩৩৬৬) আবূ ঈসা বলেন, মুগীরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি গারীব। আমরা এটাকে শুধু উল্লেখিত সনদ সূত্রেই মারফুভাবে জেনেছি। এটাকে সালমান ফারসী (রাঃ)-এর নিজের কথা হিসাবে সুফিয়ান সাওরী ও আরো কয়েকজন বর্ণনাকারী সুলাইমান আত-তাইনী হতে আবূ উসমানের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। মাওকৃফ বর্ণনাটি অনেক বেশি সহীহ মনে হয়। আমি ইমাম বুখারীর নিকট উক্ত হাদীস প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আমি এটাকে মাহফু্য (সুরক্ষিত) বলে মনে করি না। সুফিয়ান-সুলাইমান আত-তাইয়ী হতে, তিনি আবূ উসমান হতে, তিনি সালমান (রাঃ) হতে মাওকৃফভাবে বর্ণনা করেছেন। বুখারী আরো বলেন, হাদীস শাস্ত্রে সাইফ ইবনু হারুন গ্রহনযোগ্য এবং সাইফ ইবনু মুহাম্মাদ, যিনি আসিমের সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেন, নির্ভরযোগ্য নন।
হাদিস 1727 — Jami At Tirmidhi 24:8
সহিহসহিহIsnaad Sahih
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ، قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ، يَقُولُ مَاتَتْ شَاةٌ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لأَهْلِهَا " أَلاَ نَزَعْتُمْ جِلْدَهَا ثُمَّ دَبَغْتُمُوهُ فَاسْتَمْتَعْتُمْ بِهِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الْمُحَبِّقِ وَمَيْمُونَةَ وَعَائِشَةَ . وَحَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَقَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوُ هَذَا . وَرُوِيَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ مَيْمُونَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . وَرُوِيَ عَنْهُ عَنْ سَوْدَةَ وَسَمِعْتُ مُحَمَّدًا يُصَحِّحُ حَدِيثَ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَحَدِيثَ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ مَيْمُونَةَ وَقَالَ احْتَمَلَ أَنْ يَكُونَ رَوَى ابْنُ عَبَّاسٍ عَنْ مَيْمُونَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَرَوَى ابْنُ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ عَنْ مَيْمُونَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَابْنِ الْمُبَارَكِ وَالشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ .
। আতা ইবনু আবূ রাবাহ (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ)-কে আমি বলতে শুনেছি, একটি ছাগল মারা গেল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মালিককে বললেনঃ তোমরা কেন তার চামড়া ছিলে নাওনি? তোমরা এটাকে প্রক্রিয়াজাতের পর কাজে ব্যবহার করতে পারতে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৬০৯, ৩৬১০), মুসলিম
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রক্রিয়াজাতের পর যে কোন চামড়া পবিত্র হয়ে যায়। সহীহ, প্রাগুক্ত এ হাদীস মোতাবিক বেশিরভাগ অভিজ্ঞ আলিম আমল করেছেন। তারা মৃত প্রাণীর চামড়ার বিষয়ে বলেছেন, প্রক্রিয়াজাতের পর তা পবিত্র বলে বিবেচিত। এই হাদীসের ভিত্তিতে ইমাম শাফিঈ বলেছেন, প্রক্রিয়াজাতের পর যে কোন চামড়া পবিত্র হয়ে যায়, কুকুর ও শূকরের চামড়া ব্যতীত (তা অপবিত্র ও হারাম)। তার মতের সপক্ষে তিনি অত্র হাদীসকে দলীল হিসেবে গ্রহণ করেছেন। হিংস্র প্রাণীর চামড়ার ব্যবহারকে একদল সাহাবী ও তৎপরবর্তীগণ মাকরূহ বলেছেন। এটা পরতে এবং এর উপর নামায আদায় করতে তারা বারণ করেছেন। এই মত আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারাক, আহমাদ ও ইসহাকের। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম বলেন, “প্রক্রিয়াজাতের পর যে কোন চামড়া পবিত্র হয়ে যায়” রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই কথার তাৎপর্য হল, যেসব পশুর গোশত খাওয়া বৈধ, এখানে শুধু সেসব পশুর চামড়ার কথা বলা হয়েছে। নাযর ইবনু শুমাইলও একই ব্যাখ্যা দিয়েছেন এবং বলেছেন, যেসব পশুর গোশত খাওয়া বৈধ তাকেই (আরবী ভাষায়) ইহাব বলা হয় এবং সেই ক্ষেত্রে এই হাদীসের বিধান প্রযোজ্য। আবূ ঈসা বলেন, সালামা ইবনু মুহাব্বিক, মাইমুনা ও আইশা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত হয়েছে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে ইবনু আব্বাসের বরাতে বিভিন্ন সূত্রে এ হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে মাইমুনার বরাতেও ইবনু আব্বাসের সূত্রে হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। সাওদার বরাতেও ইবনু আব্বাসের সূত্রে এটি বর্ণিত আছে। আমি (আবূ ঈসা) মুহাম্মাদ (বুখারী)-কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে ইবনু আব্বাসের বর্ণনা এবং মাইমূনার বরাতে ইবনু আব্বাসের উভয় বর্ণনাকেই সহীহ বলতে শুনেছি। সম্ভবতঃ ইবনু আব্বাস মাইমূনার সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। আবার কোন সময় মাইমূনার উল্লেখ না করে ইবনু আব্বাস সরাসরি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতেও বর্ণনা করেছেন। এ হাদীস মোতাবিক বেশিরভাগ অভিজ্ঞ আলিম আমল করেছেন। একই কথা বলেছেন সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকও।
। আবদুল্লাহ ইবনু উকাইম (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমাদের নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পত্র আসে এই মর্মেঃ মৃত প্রাণীর চামড়া এবং জন্তু তোমরা কোন কাজে লাগাবে না। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৬১৩) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান বলেছেন। এ হাদীসটি আবদুল্লাহ ইবনু উকাইম (রাহঃ) তার আরো কয়েকজন শাইখের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এ হাদীস অনুসারে বেশিরভাগ অভিজ্ঞ আলিম আমল করেননি। উল্লেখিত হাদীসটি আবদুল্লাহ ইবনু উকাইম হতে অপর একটি সূত্রে এভাবে বর্ণিত হয়েছেঃ “আমাদের নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মারা যাবার দুই মাস আগে তার একটি পত্র আসে”। আহমাদ ইবনু হাসানকে আমি (তিরমিয়ী) বলতে শুনেছি, এ হাদীস মোতাবিক আহমাদ ইবনু হাম্বল প্রথম দিকে আমল করতেন। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মারা যাবার দুই মাস পূর্বেকার ছিল এ নির্দেশটি। তিনি বলতেন, এটা ছিল মৃত প্রাণীর চামড়ার প্রসঙ্গে তার সর্বশেষ নির্দেশ। কিন্তু তিনি এ হাদীসের সনদে গোলমাল থাকায় তার আগের মতামত বাতিল করেন। কারণ কোন কোন বর্ণনাকারী উক্ত হাদীসের সনদ এভাবেও বিকৃত করেছেনঃ আবদুল্লাহ ইবনু উকাইম-জুহাইনা গোত্রীয় তাদের কিছু শাইখ হতে বর্ণিত।