। উবাইদুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু উতবা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি (অসুস্থ) আবূ তালহা আনসারী (রাঃ)-কে দেখতে যান। বর্ণনাকারী বলেন, আমি সেখানে সাহল ইবনু হুনাইফ (রাঃ)-কেও উপস্থিত পেলাম। তিনি আরও বলেন, আবূ তালহা (রাঃ) একজনকে ডাকেন নিচের চাদর সরানোর জন্য। সাহল (রাঃ) তাকে বললেন, কেন চাদর সরাবেন? তিনি বললেন, তাতে ছবি আঁকা আছে। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সম্পর্কে যা বলেছেন তা তো তুমি জান। সাহল (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি এ কথা বলেননি, “কিন্তু পোশাকে অল্প পরিমাণ অঙ্কিত কারুকার্য থাকলে কোন সমস্যা নেই?” আবূ তালহা (রাঃ) বললেন, হ্যাঁ। কিন্তু উহাই (ছবি সরিয়ে ফেলা) আমার জন্য উত্তম। সহীহ, গাইয়াতুল মারাম (১৩৪) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক কোন ছবি আঁকা, সে যে পর্যন্ত তাতে প্রাণ সঞ্চার করতে না পারবে সে পর্যন্ত আল্লাহ তা'আলা তাকে আযাব দিতে থাকবেন। অথচ সে কোন দিনও তাতে প্রাণ সঞ্চার করতে পারবে না। যে লোক কোন দল বা সম্প্রদায়ের গোপন কথা অগোচরে কান পেতে শুনে, অথচ তারা বিষয়টি তার কাছ থেকে গোপন রাখতে চায় তার কানে কিয়ামত দিবসে উত্তপ্ত সীসা ঢেলে দেওয়া হবে। সহীহ, গাইয়াতুল মারাম (১২০,৪২২), বুখারী, মুসলিম (১০) প্রথম অংশ আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ, আবূ হুরাইরা, আবূ জুহাইফা, আইশা ও ইবনু উমর (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
হাদিস 1752 — Jami At Tirmidhi 24:33
সহিহসহিহহাসান SahihIsnaad Hasan
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ عُمَرَ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " غَيِّرُوا الشَّيْبَ وَلاَ تَشَبَّهُوا بِالْيَهُودِ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ الزُّبَيْرِ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَجَابِرٍ وَأَبِي ذَرٍّ وَأَنَسٍ وَأَبِي رِمْثَةَ وَالْجَهْدَمَةِ وَأَبِي الطُّفَيْلِ وَجَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ وَأَبِي جُحَيْفَةَ وَابْنِ عُمَرَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَقَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা বার্ধক্যের শুভ্রতা পরিবর্তন করে দাও এবং ইয়াহুদীদের মতো হয়ো না। সহীহ, জিল বাবুল মারআহ (১৮৯), সহীহ (৮৩৬) যুবাইর, ইবনু আব্বাস, জাবির (ইবনু আবদুল্লাহ), আবূ যার, আনাস, আবূ রিমসা, জাহদামা, আবূত তুফাইল, জাবির ইবনু সামুরা, আবূ জুহাইফা ও ইবনু উমার (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এটি একাধিক সূত্রে আবূ হুরাইরা (রাঃ) এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত হয়েছে।
। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মধ্যম আকৃতির। তিনি অধিক লম্বাও ছিলেন না আবার খাটোও ছিলেন না। তিনি সুঠাম শরীরের অধিকারী ছিলেন এবং তার গায়ের রং ছিল বাদামী। তার মাথার চুল কোকড়ানোও ছিল না আবার একেবারে সোজাও ছিল না। তিনি রাস্তায় চলাচলের সময় সামনের দিকে ঝুঁকে হাটতেন। সহীহ, মুখতাসার শামা-ইল (১, ২), নাসা-ঈ আইশা, বারাআ, আবু হুরায়রা, ইবনু আব্বাস, আবু সাইদ, জাবির, ওয়াইল ইবনু হুজর ও উম্মু হানী (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। হুমাইদ কর্তৃক বর্ণিত আনাস (রাঃ)-এর এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ গারীব বলেছেন।
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই পাত্র হতে পানি নিয়ে গোসল করতাম। তার বাবরি চুল কাঁধের উপরে কিন্তু কানের লতির নিচ পর্যন্ত প্রলম্বিত ছিল। হাসান সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৬০৪, ৩৬৩৫) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা উল্লেখিত সনদসূত্রে হাসান সহীহ গারীব বলেছেন। উল্লেখিত হাদীসটি আরো কয়েকটি সূত্রে আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে। তবে তাতে “তার বাবরি চুল কাঁধের উপরে কিন্তু কানের লতির নিচ পর্যন্ত লম্বা ছিল কথাটুকু উল্লেখ নেই। (এই শেষের অংশটুকু আবদুর রাহমান ইবনু আবূয যিনাদ তার বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন।) তিনি একজন সিকাহ (আস্থাভাজন) বর্ণনাকারী এবং হাদীসের হাফিয ছিলেন। মালিক ইবনু আনাস তাকে সিকাহ বলেছেন এবং তার নিকট হতে হাদীস লিখার নির্দেশ দিতেন।
হাদিস 1756 — Jami At Tirmidhi 24:37
সহিহসহিহহাসান Sahih
। আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বার বার চুল আচড়াতে বারণ করেছেন। সহীহ, সহীহা (৫০১) মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার ইয়াহিয়া ইবনু সাঈদ হতে, তিনি হিশামের সূত্রে হাসান হতে একইরকম হাদীস বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। আনাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
হাদিস 1757 — Jami At Tirmidhi 24:39
সহিহসহিহ
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা ইসমিদ সুরমা লাগাও। এটা চোখের জ্যোতি বাড়ায় এবং চোখের পাতার লোম গজায়। তিনি মনে করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি সুরমাদানি ছিল। তা হতে তিনি প্রতি রাতে তিনবার ডান চোখে এবং তিনবার বা চোখে সুরমা লাগাতেন। “তিনি মনে করেন" এই শব্দ ব্যতীত হাদীসটি সহীহ, মুখতাসার শামা-ইল (৪২) জাবির ও ইবনু উমার (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ গারীব বলেছেন। আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র আব্বাদ ইবনু মানসূরের সূত্রে উক্ত শব্দে জেনেছি। এ হাদীসটি আলী ইবনু হুজর ও মানসূর (রাহঃ)-এর সূত্রেও একইরকম বর্ণিত হয়েছে। একাধিক সূত্রে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “তোমরা অবশ্যই ইসমিদের সুরমা লাগাও, এটা চোখের জ্যোতি বাড়ায় এবং চোখের পাতার লোম গজায়।” সহীহ, মিশকাতুল মাসা-বীহ
হাদিস 1758 — Jami At Tirmidhi 24:41
সহিহসহিহহাসান SahihIsnaad Sahih
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الإِسْكَنْدَرَانِيُّ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ لُبْسَتَيْنِ الصَّمَّاءِ وَأَنْ يَحْتَبِيَ الرَّجُلُ بِثَوْبِهِ لَيْسَ عَلَى فَرْجِهِ مِنْهُ شَيْءٌ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَابْنِ عُمَرَ وَعَائِشَةَ وَأَبِي سَعِيدٍ وَجَابِرٍ وَأَبِي أُمَامَةَ . وَحَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ وَقَدْ رُوِيَ هَذَا مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাপড় পরার দুইটি পদ্ধতি নিষিদ্ধ করেছেন। একটি কাঁধ উদম রেখে একই চাদর পুরো গায়ে জড়িয়ে নেওয়া; একই পোশাকে পেট, উরু ও পায়ের গোছা ঢেকে নিতম্ব মাটিতে ঠেকিয়ে দুই হাটু উঁচু করে বসা এবং লজ্জাস্থানে এর কোন অংশ না থাকা। সহীহ, নাসা-ঈ আবূ ঈসা বলেন, আলী, ইবনু উমার, আইশা, আবূ সাঈদ, জাবির ও আবূ উমামা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটি এই সূত্রে হাসান সহীহ্ গারীব। এ হাদীসটি আরো কয়েকটি সূত্রে আবৃ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে।