। আবু আতিয়া (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি ও মাসরূক আইশা (রাঃ)-এর নিকটে গিয়ে বললাম, হে উম্মুল মু'মিনীন! রাসূলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুজন সাহাবীর মধ্যে একজন ইফতার করেন এবং নামায আদায় করেন বিলম্ব না করে আর অন্যজন ইফতার করেন এবং নামায আদায় করেন বিলম্ব করে। তিনি বললেন, তাদের মধ্যে কে অবিলম্বে ইফতার করেন এবং নামায আদায় করেন? আমরা বললাম, আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ)। তিনি বললেন, এভাবেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেছেন। অপর সাহাবী ছিলেন আবু মূসা (রাঃ)। — সহীহ, সহীহ আবু দাউদ (২০৩৯), মুসলিম এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। আবু আতিয়্যার নাম মালিক, পিতা আবু আমির হামদানী, মতান্তরে ইবনু আমির এবং এটিই অধিকতর সহীহ।
। যাইদ ইবনু সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাহরী খাওয়া শেষ করেই আমরা নামায আদায় করতে দাঁড়ালাম। বর্ণনাকারী বলেন, আমি তাকে প্রশ্ন করলাম, কি পরিমাণ ব্যবধান ছিল এ দুটির মাঝে তিনি বললেন, পঞ্চাশ আয়াতের সমপরিমাণ (তিলাওয়াতের সময়)। - সহীহ বুখারী, মুসলিম
। উপরোক্ত হাদীসের ন্যায় বর্ণনা করেছেন হান্নাদ ওয়াকী হতে, তিনি হিশাম হতে। তাতে আছে “পঞ্চাশ আয়াত পাঠের সমপরিমাণ"। হুযাইফা (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা যাইদ ইবনু সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। এরকম মতই ইমাম, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকের। বিলম্ব করে সাহরী খাওয়াকে তারা মুস্তাহাব বলেছেন।
। তালক ইবনু আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা (ভোররাতে) পানাহার করে যাও। তোমাদের যেন উর্ধ্বগামী আলোকরশ্মি খাবার থেকে বিরত না রাখে। তোমরা পানাহার করে যেতে পার লাল দীপ্তিটুকু প্রশস্তভাবে ছড়িয়ে পড়ার আগ পর্যন্ত। – হাসান সহীহ, সহীহ আবু দাউদ (২০৩৩) আদী ইবনু হাতিম, আবু যার ও সামুরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা তালুক ইবনু আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে এই সূত্রে হাসান গারীব বলেছেন। এ হাদীস মোতাবেক আলিমগণ অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, রোযা পালনকারীর জন্য ফজরের লালচে আলো প্রস্থে বিস্তৃত না হওয়া পর্যন্ত পানাহার অবৈধ নয়। এটাই বেশিরভাগ আলিমের মত।
। সামুরা ইবনু জুনদাব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদেরকে যেন সাহরী খাওয়া হতে বিরত না রাখে বিলালের আযান এবং দিগন্তবৃত্তে প্রকাশিত ভোরের আলো (সুবহে কাযিব), দিগন্তবৃত্তে উদ্ভাসিত বিস্তৃত আলো (সুবহি সাদিক) ব্যতীত। — সহীহ, সহীহ আবু দাউদ (২০৩১), মুসলিম আবু ঈসা এ হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন।
। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অন্যায় কথাবার্তা (গীবাত, মিথ্যা, গালিগালাজ, অপবাদ, অভিসম্পাত ইত্যাদি) ও কাজ যেলোক (রোযা থাকা অবস্থায়) ছেড়ে না দেয়, সে লোকের পানাহার ত্যাগে আল্লাহ তা'আলার কোন প্রয়োজন নেই। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৬৮৯), বুখারী আনাস (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা এই হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন।
। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা সাহরী খাও, কেননা, সাহরী খাওয়ার মধ্যে বারকাত আছে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৬৯২),বুখারী, মুসলিম৷ আবদ ও আবু দারদা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে আরও বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেনঃ আমাদের ও আহলি কিতাবদের (ইয়াহুদী ও খৃষ্টান) রোযার মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে সাহরী খাওয়া।
হাদিস 709 — Jami At Tirmidhi 8:28
সহিহসহিহহাসান Sahihসহিহ Muslim
وَرُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " فَصْلُ مَا بَيْنَ صِيَامِنَا وَصِيَامِ أَهْلِ الْكِتَابِ أَكْلَةُ السَّحَرِ " . حَدَّثَنَا بِذَلِكَ قُتَيْبَةُ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ عَنْ مُوسَى بْنِ عَلِيٍّ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي قَيْسٍ مَوْلَى عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ عَنْ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِذَلِكَ . قَالَ وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَأَهْلُ مِصْرَ يَقُولُونَ مُوسَى بْنُ عَلِيٍّ وَأَهْلُ الْعِرَاقِ يَقُولُونَ مُوسَى بْنُ عُلَىٍّ وَهُوَ مُوسَى بْنُ عَلِيِّ بْنِ رَبَاحٍ اللَّخْمِيُّ .
। উপরোক্ত হাদীসটি বর্ণনা করেছেন কুতাইবা লাইস হতে, তিনি মূসা ইবনু আলী হতে, তিনি তার পিতা (আলী) হতে, তিনি আবৃ কাইস হতে, তিনি আমর ইবনুল আস (রাঃ)-এর সূত্রে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে। - সহীহ, হিজাবুল মারআতিল মুসলিমা (পৃঃ ৮৮), সহীহ আবু দাউদ (২০২৯), মুসলিম এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেন। এ হাদীসটির বর্ণনাকারী মূসা প্রসঙ্গে মিসরবাসী (মুহাদ্দিসগণ) বলেন, মূসা ইবনু আলী এবং ইরাকবাসী (মুহাদ্দিসগণ) বলেন, মূসা ইবনু উলাই। তিনি হলেন মূসা ইবনু উলাই ইবনু রাবাহু আল-লাখমী।
। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, মক্কা বিজয়ের বছর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কার উদ্দেশ্যে রাওয়ানা হন। তিনি রোযা রাখেন এবং লোকেরাও তার সাথে রোযা রাখে। কুরাউল গামীমে পৌছানোর পর তাকে বলা হল, রোযা রাখা লোকদের জন্য কষ্টকর হয়ে পড়েছে। আপনি কি করেন তারা সেই অপেক্ষায় আছে। আসরের নামায আদায়ের পর তিনি এক পেয়ালা পানি চেয়ে আনালেন এবং তা পান করলেন। তখন লোকেরা তার দিকে তাকিয়ে দেখছিল। ফলে তাদের মধ্যেকার কিছু লোক রোযা ভাঙ্গলো এবং কিছু লোক রোযা থাকল। তখনও কিছু লোক রোযা অবস্থায় আছে এ কথা তার নিকটে পৌছলে তিনি বললেনঃ এরী হচ্ছে অবাধ্য নাফরমান। — সহীহ, ইরওয়া (৪/৫৭), মুসলিম কাব ইবনু আসিম, ইবনু আব্বাস ও আবু হুরাইরা (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেনঃ “সফরের মাঝে রোযা পালন করাটা সাওয়াবের কাজ নয়”। আলিমদের মধ্যে সফরে থাকাবস্থায় রোযা পালন করা প্রসঙ্গে মতবিরোধ আছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও অন্যান্যদের মতানুযায়ী সফরে থাকা অবস্থায় রোযা পালন না করাই উত্তম। এমনকি কারো কারো মতানুযায়ী সফরে থাকাবস্থায় কোন লোক রোযা পালন করলে তাকে আবার সে রোযা কাযা করতে হবে। সফরে রোযা না পালনের পক্ষে ইমাম আহমাদ ও ইসহাক অভিমত দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্য আরেকদল বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও আলিম বলেছেন শক্তি-সামর্থ্যবান লোকে যদি সফরে রোযা পালন করে তাহলে তা ভাল এবং তাই উত্তম, রোযা আদায় না করলে তাকেও ভাল বলেছেন। সুফিয়ান সাওরী, মালিক ইবনু আনাস ও আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারাকের.এই মত। ইমাম শাফিঈ বলেন, “সফরে থাকাবস্থায় রোযা পালন করা সাওয়াবের কাজ নয়” এবং “এরা নাফরমান” এই কথার তাৎপর্য হচ্ছে, যে লোকের অন্তর আল্লাহর দেয়া অবকাশ (রুখসাত) গ্রহণ করতে প্রস্তুত নয় সে লোকের ক্ষেত্রে ঐ কথা প্রযোজ্য। কিন্তু সফরে রোযা ভেঙ্গে ফেলাকে যে লোক জায়িয মনে করে এবং রোযা রাখার সামর্থ্য থাকায় রোযা পালন করে, তা আমার নিকটে পছন্দনীয়।
হাদিস 711 — Jami At Tirmidhi 8:30
সহিহসহিহহাসান SahihIsnaad Hasan
حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ إِسْحَاقَ الْهَمْدَانِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ حَمْزَةَ بْنَ عَمْرٍو الأَسْلَمِيَّ، سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الصَّوْمِ فِي السَّفَرِ وَكَانَ يَسْرُدُ الصَّوْمَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنْ شِئْتَ فَصُمْ وَإِنْ شِئْتَ فَأَفْطِرْ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ وَأَبِي سَعِيدٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَأَبِي الدَّرْدَاءِ وَحَمْزَةَ بْنِ عَمْرٍو الأَسْلَمِيِّ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَائِشَةَ أَنَّ حَمْزَةَ بْنَ عَمْرٍو سَأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আসলাম গোত্রের হামযা ইবনু আমর (রাঃ) সফরে থাকাবস্থায় রোযা পালন প্রসঙ্গে প্রশ্ন করেন। আর তিনি প্রায়ই রোযা পালন করতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ ইচ্ছা করলে তুমি রোযা পালন করতেও পার আবার ইচ্ছা করলে ভাঙ্গতেও পার। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৬৬২), বুখারী, মুসলিম আবদুল্লাহ ইবনু আমর, আবু দারদা ও হামযা ইবনু আমর আসলামী (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত 'হামযা ইবনু আমর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করেছেন' হাদীসটি হাসান সহীহ।