। আবু সাঈদ আল-আশাজ্জ আবু উসামা হতে, তিনি আউফ (রাঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে উপরোক্ত হাদীসের ন্যায় বর্ণনা করেছেন। -সহীহ দেখুন-পূর্বের হাদীস। আবূ সাঈদ ও উম্মু ইসহাক আল-গানাবিয়্যা (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী বেশিরভাগ আলিম আমল করতে বলেছেন। সুফিয়ান সাওর, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক বলেন, ভুলবশতঃ পানাহার করলে রোযা নষ্ট হয় না। ইমাম মালিক বলেন, কোন লোক রামাযান মাসে ভুলবশতঃ পানাহার করলে সে লোককে এর কায আদায় করতে হবে। কিন্তু প্রথমোক্ত অভিমতই বেশি সঠিক।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন অজুহাত বা রোগ ছাড়া রামাযান মাসের একটি রোযা ভেঙ্গে ফেলে, তার পুরো জিন্দেগীর রোযা দিয়েও এর ক্ষতিপূরণ হবে না। যদিও সে জীবনভর রোযা রাখে। যঈফ, ইবনু মাজাহ (১৬৭২) আবূ ঈসা বলেন, আবূ হুরাইরার হাদীসটি আমরা শুধুমাত্র উপরোক্ত সূত্রেই অবগত হয়েছি। আমি মুহাম্মাদ বুখারীকে বলতে শুনেছি, আবূল মুতাওবিস-এর নাম ইয়াযীদ এবং পিতার নাম মুতাওবিস। এই হাদীস ব্যতীত তার সূত্রে বর্ণিত অন্য কোন হাদীস আছে কি না তা আমাদের জানা নেই।
। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, এক লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমিতো ধ্বংস হয়ে গেছি। তিনি বললেনঃ কিসে তোমাকে ধ্বংস করল? সে বলল, আমি রোযা থাকাবস্থায় স্ত্রীসংগম করেছি। তিনি বললেনঃ তুমি কি একটি গোলাম মুক্ত করতে পারবে? সে বলল, না। তিনি বললেনঃ তুমি কি একসাথে দু’মাস রোযা রাখতে পারবে? সে বলল, না। তিনি বললেনঃ তুমি কি ষাটজন মিসকীনকে খাওয়াতে পারবে? সে বলল, না। তিনি তাকে বললেনঃ তুমি বস। লোকটি বসে রইল। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এক (বড়) ঝুড়িভর্তি খেজুর আসলো। তিনি তাকে বললেনঃ এগুলো নিয়ে দান-খায়রাত করে দাও। সে বলল, আমার চেয়ে দরিদ্র মাদীনার পাথরময় দুপ্রান্তের মাঝে আর কোন লোক নেই। আবু হুরাইরা (রাঃ) বলেন, (তার কথায়) তিনি হেসে দিলেন, এমনকি তার চোয়ালের দাত দেখা গেলো। তিনি বললেনঃ এগুলো নাও এবং তোমার পরিবারবর্গকে খাওয়াও। – সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৬৭১), বুখারী, মুসলিম ইবনু উমার, আইশা ও আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। আলিমগণ এ হাদীসের ভিত্তিতে বলেন, রামাযান মাসে কোন লোক স্বেচ্ছায় স্ত্রীসংগম দ্বারা রোযা ভেঙ্গে ফেললে প্রত্যেকটি রোযার জন্য তাকে একটি করে দাস মুক্ত করতে হবে অথবা দু'মাস একটানা রোযা পালন করতে হবে অথবা ষাটজন গরীব লোককে খাওয়াতে হবে। কিন্তু পানাহারের মাধ্যমে স্বেচ্ছায় কোন লোক রোযা ভেঙ্গে ফেললে তার কাফফারা প্রসঙ্গে আলিমগণের মধ্যে মতবিরোধ আছে। একদল আলিম বলেন, তাকে রোযার কাযা ও কাফফারা দুটোই আদায় করতে হবে। পানাহারকে তারা স্ত্রীসংগমের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ বলে মনে করেন। এরকমই অভিমত সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক ও ইসহাকের। অন্য একদল আলিম বলেন, তাকে কাযা রোযা আদায় করতে হবে কিন্তু কাফফারা আদায় করতে হবে না। কারণ, স্ত্রীসংগমের ক্ষেত্রেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে কাফফারার উল্লেখ আছে, পানাহারের ক্ষেত্রে এর কোন উল্লেখ নেই। তারা বলেন, স্ত্রীসংগমের সাথে পানাহারের সাদৃশ্য নেই। এরকম অভিমত ইমাম শাফিঈ ও আহমাদ (রাহঃ)-এর। ইমাম শাফিঈ বলেন, যে লোক রোযা ভেঙ্গে ফেলেছিলো সে লোককে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত খেজুর দান করেছিলেন। তার উক্তি “নাও, তোমার পরিবারবর্গকে তা খাওয়াও” বাক্যাংশ বিভিন্ন অর্থ বহন করে। এমনও হতে পারে যে, যে ব্যক্তির সামর্থ আছে তাকে কাফফারা আদায় করতে হয়। কিন্তু এ লোকটি কাফফারা আদায় করার মত সামর্থবান ছিল না। পরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে কিছু দান করে তার মালিক বানিয়ে দিলে সে বলল, আমাদের চেয়ে বেশি অভাবগ্রস্ত এ এলাকায় অন্য কোন লোক নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “নিয়ে নাও এবং তোমার পরিবারবর্গকে খাওয়াও”। কেননা, কাফফারা বাধ্যতামূলক হয় জীবনধারণের কোন অতিরিক্ত সম্পদ থাকলেই। এরকম অবস্থাসম্পন্ন লোক সম্বন্ধে ইমাম শাফিঈর অভিমত হচ্ছে, সে লোক ঐ মাল ভোগ করতে পারে। আর কাফফারা তার দায়িত্বে ঋণ হিসাবে থেকে যাবে। সে যে সময়ে তা দিতে সমর্থ হবে সে সময়েই কাফফারা আদায় করতে হবে।
। আমির ইবনু রাবীআ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রোযা থাকা অবস্থায় অসংখ্যবার মিসওয়াক করতে দেখেছি। যঈফ, ইরওয়া (৬৮) এই অনুচ্ছেদে আইশা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, আমির ইবনু রাবীআর হাদীসটি হাসান। এই হাদীস অনুযায়ী আলিমগণ বলেন, রোযাদারের মিসওয়াক করায় কোন সমস্যা নেই। তবে একদল আলিম কাচা ডাল দিয়ে এবং দিনের শেষাংশে মিসওয়াক করা অপছন্দ করেছেন। ইমাম শাফিঈ দিনের যে কোন অংশে মিসওয়াক করাতে কোন সমস্যা মনে করেন না। ইমাম আহমাদ ও ইসহাক দিনের শেষাংশে মিসওয়াক করা মাকরূহ মনে করেন।
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে এসে বলল, আমার চোখ ব্যথা করে। আমি রোযা থাকা অবস্থায় তাতে সুরমা লাগাতে পারি কি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। - সনদ দুর্বল এই অনুচ্ছেদে আবূ রাফি (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, আনাসের হাদীসের সনদ খুব একটা মজবুত নয়। এই বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে সহীহ্ কিছু বর্ণিত নেই। আবূ আতিকা একজন দুর্বল রাবী। রোযা থাকা অবস্থায় সুরমা ব্যবহার প্রসঙ্গে আলিমগণের মধ্যে মতের অমিল আছে। সুফিয়ান, ইবনুল মুবারাক, আহমাদ ও ইসহাকের মতে রোযা থাকা অবস্থায় সুরমা ব্যবহার করা মাকরূহ। ইমাম শাফিঈর মতে তা ব্যবহারের সম্মতি আছে।
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রামাযান মাসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (রোযা থাকাবস্থায় স্ত্রীকে) চুমু দিতেন। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৬৮৩), মুসলিম, বুখারী অনুরূপ আব্বাস, আনাস ও আবু হুরাইরা (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। রোযা থাকাবস্থায় চুমু দেয়া প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও অন্যান্য আলিমদের মধ্যে মতপার্থক্য আছে। বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল বিশেষজ্ঞ সাহাবী চুমু দেয়ার অনুমতি দিয়েছেন, কিন্তু যুবকদেরকে রোযা ভেঙ্গে যাওয়ার ভয়ে এই অনুমতি দেননি। আর তাদের মতে স্ত্রীকে আলিঙ্গন করার বিষয়টি আরো বেশি মারাত্মক। কোন কোন আলিম বলেন, চুম্বনে রোযার সাওয়াব কমে, কিন্তু তাতে রোযা নষ্ট হয় না। তাদের মতে, রোযা পালনকারী নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে সে চুম্বন করতে পারে। আর যদি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে তার আস্থা না থাকে তাহলে সে চুম্বন করবে না, যাতে করে রোযার হিফাযাত করা তার পক্ষে সম্ভব হয়। এরকম মতই সুফিয়ান সাওরী ও শাফিঈর।
হাদিস 728 — Jami At Tirmidhi 8:47
সহিহসহিহসহিহ
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي مَيْسَرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُبَاشِرُنِي وَهُوَ صَائِمٌ وَكَانَ أَمْلَكَكُمْ لإِرْبِهِ .
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে রোযা থাকাবস্থায় আলিঙ্গন করতেন। তবে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিনি তোমাদের চেয়ে অনেক বেশি সামর্থবান ছিলেন। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৬৮৪), বুখারী, মুসলিম
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রোযা থাকাবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (স্ত্রীকে) চুম্বন দিতেন এবং আলিঙ্গন করতেন। আর তিনি তোমাদের চেয়ে অনেক বেশি নিয়ন্ত্রণের অধিকারী ছিলেন। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৬৭৮), বুখারী, মুসলিম আবু ঈসা এই হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। আবু মাইসারার নাম আমর এবং পিতার নাম শুরাহবীল। 'লিইরবিহি’ অর্থ ‘তার নিজের উপর।
। হাফসা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ফজরের পূর্বেই যে লোক রোযা থাকার নিয়্যাত করেনি তার রোযা (কুবুল) হয়নি। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৭০০) আবু ঈসা বলেন, শুধুমাত্র উল্লেখিত সূত্রেই হাফসা (রাঃ) হতে বর্ণিত এ হাদীসটি আমরা মারফুভাবে জেনেছি। এ হাদীসটি ইবনু উমার (রাঃ)-এর উক্তি হিসাবেও বর্ণিত আছে এবং এটিই বেশি সহীহ্। এভাবেই হাদীসটি যুহরী হতে মাওকুফ হিসেবে বর্ণিত আছে। ইয়াহইয়া ইবনু আইয়ূব ছাড়া অন্য কেউ হাদীসটি মারফু হিসেবে বর্ণনা করেননি। কিছু আলিমের মতানুযায়ী এই হাদীসটির অর্থ হচ্ছেঃ রাত থাকতেই অর্থাৎ ফজর উদিত হওয়ার পূর্বেই রামাযানের রোযা অথবা কাযা বা মানতের রোযার ক্ষেত্রে কোন লোক নিয়্যাত না করলে তার রোযা আদায় হবে না। কিন্তু ভোর হওয়ার পরও নফল রোযার নিয়্যাত করা যায়। এরকম মতই ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকের।
। উম্মু হানী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে আমি বসা ছিলাম। তার কাছে কিছু শরবত নিয়ে আসা হল। তা হতে তিনি পান করলেন, তারপর আমাকে তা দিলেন। আমিও তা হতে কিছু পান করলাম। আমি বললাম, আমি তো অপরাধ করে ফেলেছি। আপনি আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। তিনি বললেনঃ তা কিভাবে? আমি বললাম, আমি রোযা রেখেছিলাম, তা ভেঙ্গে ফেলেছি। তিনি বললেনঃ তুমি কোন রোযার কাযা আদায় করছিলে কি? তিনি বললেন, না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাহলে এতে তোমার কোন ক্ষতি নেই। — সহীহ, তাখরীজুল মিশকাত (২০৭৯), সহীহ আবু দাউদ (২১২০) আবু সাঈদ ও আইশা (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।