। আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, প্রত্যেক মাসের শুরুতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন দিন রোযা পালন করতেন এবং জুমুআর দিনের রোযা খুব কমই ভাঙ্গতেন। — হাসান, তাখরীজুল মিশকাত (২০৫৮) তা’লীক আলা ইবনু খুযাইমা (২১৪৯), সহীহ আবু দাউদ (২১১৬) ইবনু উমার ও আবু হুরাইরা (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান গারীব বলেছেন। জুমু'আর দিন রোযা পালন করাকে বিশেষজ্ঞ আলিমগণের একদল মুস্তাহাব বলেছেন, জুমুআর আগের বা পরের দিন রোযা পালন না করে শুধু জুমুআর দিন রোযা পালন করাকে মাকরূহ বলেছেন। আসিম (রাহঃ)-এর বরাতে শুবাও এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে এটিকে তিনি মারফুভাবে বর্ণনা করেননি (মাওকুফভাবে বর্ণনা করেছেন)।
। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মাঝে কোন ব্যক্তি যেন শুধুমাত্র জুমুআর দিনে রোযা না রাখে জুমুআর আগের দিন বা পরের দিন রোযা না রেখে। -সহীহ ইবনু মা-জাহ (১৭২৩), বুখারী, মুসলিম আলী, জাবির, জুনাদা আল-আযদী, জুওয়াইরিয়া, আনাস এবং আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা আবু হুরাইরা (রাঃ)-এর বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ আলিমগণ মত প্রকাশ করেছেন। তারা আগের বা পরের দিনের সাথে না মিলিয়ে শুধুমাত্র জুমুআর দিনে রোযা পালন করাকে মাকরূহ বলেছেন। ইমাম আহমাদ ও ইসহাকও এই কথা বলেছেন।
আবদুল্লাহ ইবনু বুসর (রহঃ) হতে তার বোনের সূত্রে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের উপর ফরযকৃত রোযা ছাড়া তোমরা শনিবারে আর অন্য কোন রোযা পালন করো না। আঙ্গুরের লতার বাকল বা গাছের ডাল ছাড়া তোমাদের কেউ যদি আর কিছু না পায় (সেদিনের আহারের জন্য) তবে সে যেন তাই চিবিয়ে নেয় (রোযা ভাঙ্গার জন্য)। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৭২৬) আবু ঈসা এই হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। শুধুমাত্র শনিবারের দিনকে রোযা পালনের জন্য নির্দিষ্ট করে নেয়াই মাকরূহ হওয়ার কারণ। কেননা, শনিবারের প্রতি ইয়াহূদীরা বিশেষ মর্যাদা প্রদর্শন করে থাকে।
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সোমবার ও বৃহস্পতিবারের রোযার প্রতি বেশি খেয়াল রাখতেন। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৭৩৯) হাফসা, আবু কাতাদা, আবু হুরাইরা ও উসামা ইবনু যাইদ (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা এই সূত্রে আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান গারীব বলেছেন।
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মাসের শনি, রবি ও সোমবার রোযা রাখতেন এবং অপর মাসের মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার রোযা রাখতেন। যঈফ, তাখরীজুল মিশকাত, তাহকীক ছানী (২০৫৯) আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান। আবদুর রহমান ইবনু মাহদী এই হাদীসটি সুফিয়ান (রাহঃ) হতে (মাওকুফ হিসেবে) বর্ণনা করেছেন, তবে মারফু করেননি।
। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার (আল্লাহ তা'আলার দরবারে) আমল পেশ করা হয়। সুতরাং আমার আমলসমূহ যেন রোযা পালনরত অবস্থায় পেশ করা হোক এটাই আমার পছন্দনীয়। — সহীহ, তাখরাজুল মিশকাত (২০৫৬), তা’লীকুর রাগীব (৮৪/২), ইরওয়া (৯৪৯) এই অনুচ্ছেদে আবু হুরাইরা (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান গারীব বলেছেন।
। উবাইদুল্লাহ ইবনু মুসলিম আল-কুরাশী (রহঃ) হতে তার পিতার সুত্রে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পুরো বছর রোযা রাখা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলাম বা তাকে প্রশ্ন করা হল। তিনি বলেনঃ তোমার উপর অবশ্যই তোমার পরিবারের অধিকার আছে। অতএব তুমি রামাযান ও এর পরের মাস (শাওয়ালের ছয়টি নফল রোযা) এবং প্রতি বুধ ও বৃহস্পতিবার রোযা রাখ। এই পদ্ধতি মানলে তুমি যেন পুরো বছরই রোযা রাখলে এবং রোযা ভেঙ্গে ফেলার সুযোগ পেলে। যঈফ, যঈফ আবূ দাউদ (৪২০) এ অনুচ্ছেদে আইশা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, মুসলিম আল-কুরাশীর হাদীসটি গারীব। কেউ কেউ এটিকে হারূন উবাইদুল্লাহ্ (রহঃ)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
। আবু কাতাদা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি আল্লাহ্ তা'আলার নিকট আরাফাতের দিনের রোযা সম্পর্কে আশা করি যে, তিনি এর মাধ্যমে পূর্ববর্তী এক বছর এবং পরবর্তী এক বছরের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিবেন। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৭৩০), মুসলিম আবু সাঈদ (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা আবূ কাতাদা (রাঃ)-এর বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। আরাফাতে অবস্থানরত ব্যক্তিদের ছাড়া অন্যদের জন্য এই দিনে রোযা পালন করাকে বিশেষজ্ঞ আলিমগণ মুস্তাহাব বলেছেন।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফাতে রোযা ভেঙ্গে ফেলেন। সেদিন তার জন্য উম্মুল ফাদল (রাঃ) কিছু দুধ পাঠিয়েছিলেন। তিনি তা পান করেন। — সহীহ, সহীহ আবু দাউদ (২১০৯), তা’লীক আলা ইবনু খুযাইমা (২১০২), উম্মুল ফাযল হতে বুখারী ও মুসলিম আবু হুরাইরা, ইবনু উমার ও উম্মুল ফাযল (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। ইবনু উমার (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে আমি হাজ্জ করেছি কিন্তু আরাফার দিন তিনি রোযা পালন করেননি; আবু বাকর (রাঃ)-এর সাথেও হাজ্জ করেছি, তিনিও সেদিন রোযা পালন করেননি; উমার (রাঃ)-এর সাথেও হাজ্জ করেছি, তিনিও সেদিন রোযা পালন করেননি এবং উসমান (রাঃ)-এর সাথেও হাজ্জ করেছি কিন্তু তিনিও রোযা পালন করেননি। এ হাদীস অনুযায়ী বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ আলিম আমলের কথা বলেছেন। তারা আরাফার দিন দু'আর ক্ষেত্রে শক্তিলাভের জন্য রোযা পালন না করাকে মুস্তাহাব বলেছেন। অবশ্য আরাফাতে অবস্থানকালে কোন কোন আলিম সে দিনের রোযা পালন করেছেন।
। ইবনু আবূ নাজীহ (রাহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আরাফাতের দিন রোযা পালন প্রসঙ্গে ইবনু উমার (রাঃ)-কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে হাজ্জ করেছি, তিনি সেদিন রোযা পালন করেননি। আবু বাকর (রাঃ)-এর সাথেও হাজ্জ করেছি, ঐ দিন তিনিও রোযা পালন করেননি। উমার (রাঃ)-এর সাথেও হাজ্জ করেছি, ঐ দিন তিনিও রোযা পালন করেননি। উসমান (রাঃ)-এর সাথেও হাজ্জ করেছি, ঐ দিন তিনিও রোযা পালন করেননি। এ দিন আমি নিজেও রোযা পালন করিনা, কাউকে রোযা রাখতেও বলি না এবং নিষেধও করি না। — সনদ সহীহ আবু ঈসা এই হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। এই হাদীসটি ইবনু ইবনু উমার (রাঃ)-এর সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে। আবু নাজীহ-এর নাম ইয়াসার।