। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনও উচ্চ দস্তরখানে (টেবিলে) বসে এবং (বিভিন্ন প্রকার চাটনি ও হজমির) ছোট ছোট পেয়ালায় নিয়ে খাননি। কখনো তার জন্য পাতলা রুটি বানানো হয়নি। কাতাদা (রাহঃ)-কে আমি (ইউনুস) প্রশ্ন করলাম, তাহলে কিসের উপর (থালা) রেখে তারা খাওয়া-দাওয়া করতেন? তিনি বললেন, চামড়ার এই সাধারণ দস্তরখান বিছিয়ে তার উপর। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩২৯২), বুখারী এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার বলেন, এই ইউনুস হলেন ইউনুস আল-ইসকাফ। সাঈদ ইবনু আবী আরুবা হতে, তিনি কাতাদা হতে, তিনি আনাস (রাঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সূত্রে আবদুল ওয়ারিস ইবনু সাঈদ (রাহঃ) উপরোক্ত হাদীসের মতো বর্ণনা করেছেন।
। হিশাম ইবনু যাইদ (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আনাস (রাঃ)-কে আমি বলতে শুনেছি, আমরা একটি খরগোশকে মাররায-যাহরানে তাড়া করলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ এর পিছু ধাওয়া করলেন। আমি এর নাগালে পৌছে তা ধরে ফেললাম। আমি আবূ তালহা (রাঃ)-এর সামনে খরগোশটি নিয়ে আসলে তিনি একটি ধারালো পাথর দিয়ে তা যবেহ করেন। তিনি আমাকে এর উরু অথবা নিতম্বের গোশত দিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট পাঠালে তিনি তা খেলেন। আমি (হিশাম) প্রশ্ন করলাম, তিনি কি তা খেয়েছেন? আনাস (রাঃ) বললেন, তিনি তা গ্রহণ করেছেন। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩২৪৩), নাসা-ঈ আবূ ঈসা বলেন, জাবির, আম্মার ও মুহাম্মাদ ইবনু সাফওয়ান (রাঃ) (তাকে মুহাম্মাদ ইবনু মাইকীও বলা হয়) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীস মোতাবিক বেশিরভাগ অভিজ্ঞ আলিম আমল করেছেন। খরগোশের গোশত খাওয়াতে কোন সমস্যা নেই বলে তারা মনে করেন। খরগোশের গোশত খাওয়াকে অপর কয়েকজন বিশেষজ্ঞ আলিম মাকরূহ বলেন। তারা বলেন, খরগোশের ঋতুস্রাব হয়।
হাদিস 1790 — Jami At Tirmidhi 25:3
সহিহসহিহহাসান SahihIsnaad Sahih
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم سُئِلَ عَنْ أَكْلِ الضَّبِّ فَقَالَ " لاَ آكُلُهُ وَلاَ أُحَرِّمُهُ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عُمَرَ وَأَبِي سَعِيدٍ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَثَابِتِ بْنِ وَدِيعَةَ وَجَابِرٍ وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ ابْنِ حَسَنَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدِ اخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي أَكْلِ الضَّبِّ فَرَخَّصَ فِيهِ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ وَكَرِهَهُ بَعْضُهُمْ . وَيُرْوَى عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ قَالَ أُكِلَ الضَّبُّ عَلَى مَائِدَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَإِنَّمَا تَرَكَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَقَذُّرًا .
। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, দব্ব (অনেকটা গুইসাপের মত দেখতে) খাওয়ার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেনঃ আমি তা খাই না এবং তা হারামও বলি না। সহীহ, নাসা-ঈ উমার, আবূ সাঈদ, ইবনু আব্বাস, সাবিত ইবনু ওয়াদিআ, জাবির ও আবদুর রাহমান ইবনু হাসান নহে (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। দব্ব (অনেকটা গুইসাপের মত দেখতে) খাওয়ার ব্যাপারে অভিজ্ঞ আলিমগণ দ্বিমত পোষণ করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল সাহাবী ও অপরাপর আলিম তা খাওয়ার পক্ষে সম্মতি দিয়েছেন এবং তাদের অন্য এক দল তা খাওয়াকে মাকরূহ বলেছেন। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, দব্বের গোশত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দস্তরখানে খাওয়া হয়েছে; তিনি ব্যক্তিগত অরুচির কারণে তা পরিত্যাগ করেছেন”।
। ইবনু আবী আম্মার (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি জাবির (রাঃ)-কে প্রশ্ন করলাম, দাবু কি শিকারযোগ্য প্রাণী? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি আবার বললেন, আমি কি তা খেতে পারি? জাবির (রাঃ) বললেন, হ্যাঁ, প্রশ্নকারী আবার প্রশ্ন করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি তা বলেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩২৩৬) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীস মোতাবিক একদল অভিজ্ঞ আলিম আমল করেছেন। দাবু খাওয়াতে তারা কোন সমস্যা মনে করেন না। এই অভিমত দিয়েছেন ইমাম আহমাদ এবং ইসহাকও। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে দাবু খাওয়া মাকরূহ হওয়ার ব্যাপারেও একটি হাদীস বর্ণিত আছে। কিন্তু তার সনদ খুব একটা জোড়ালো নয়। দাবু খাওয়াকে অপর একদল আলিম মাকরূহ বলেছেন। একথা বলেছেন ইবনুল মুবারাকও। প্রখ্যাত হাদীস বিশারদ ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-কাত্তান বলেছেন, এ হাদীসটিকে আবদুল্লাহ ইবনু উবাইদ ইবনু উমাইর-ইবনু আবী আম্মার হতে, তিনি জাবির (রাঃ) হতে, তিনি উমর (রাঃ)-এর সূত্রে উমর (রাঃ)-এর কথা বলে জারীর ইবনু হাযিম বর্ণনা করেছেন। এ ক্ষেত্রে ইবনু জুরাইজের হাদীসটিই অনেক বেশি সহীহ। ইবনু আবী আম্মারের নাম আবদুর রাহমান ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু আবী আম্মার। তিনি মক্কার অধিবাসী।
। খুযাইমা ইবনু জাযয়ি (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে ভালুক খাওয়া প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেনঃ ভালুক কেউ খায় নাকি? আমি তাকে নেকড়ে বাঘ খাওয়া প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেনঃ কোন উত্তম লোক নেকড়ে বাঘ খায় নাকি? যঈফ, ইবনু মাজাহ (৩২৩৭) আবূ ঈসা বলেছেন, এ হাদীসের সনদ মযবুত নয়। আমরা শুধুমাত্র ইসমাঈল ইবনু মুসলিমের মাধ্যমে আব্দুল করিমের সূত্রেই হাদীসটি জানতে পেরেছি। কিছু হাদীস বিশারদ এ হাদীসের রাবী ইসমাঈলও আবদুল কারম আবূ উমাইয়্যার সমালোচনা করেছেন। তিনি কাইস ইবনুল মুখারিকের পুত্র। কিন্তু মালিক আল-জাযারীর পুত্র আবদুল কারীম সিকাহ রাবী।
। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে ঘোড়ার গোশত খাইয়েছেন এবং আমাদেরকে গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন। সহীহ, ইরওয়া (৮/১৩৮) মুসলিম ও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আসমা বিনতু আবূ বাকর (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। আমর ইবনু দীনারের সূত্রে জাবির (রাঃ) হতে একাধিক বর্ণনাকারী একইরকম বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসটি আমর ইবনু দীনার হতে মুহাম্মাদ ইবনু আলী (রহঃ)-এর সূত্রে জাবির (রাঃ) হতে হাম্মাদ (রহঃ) বর্ণনা করেছেন। ইবনু উয়াইনার বর্ণনাটি অনেক বেশি সহীহ। আমি (তিরমিয়ী) ইমাম বুখারীকে বলতে শুনেছি, হাম্মাদ ইবনু যাইদ (রহঃ)-এর চেয়ে সুফিয়ান ইবনু উয়াইন (রহঃ) বেশি স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন ছিলেন।
হাদিস 1794 — Jami At Tirmidhi 25:7
সহিহসহিহ
। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, খাইবারের (যুদ্ধের) সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলাদের সাথে মুতআ বিয়ের সম্পর্ক স্থাপন করতে এবং গৃহপালিত গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন। সহীহ, ইনু মা-জাহ (১৯৬১), নাসা-ঈ সাঈদ ইবনু আবদুর রাহমান আল-মাখযুমী-সুফিয়ান হতে, তিনি যুহরী হতে, তিনি আবদুল্লাহ ও হাসান (মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়ার পুত্রদ্বয়) হতে অনুরূপ বর্ণিত আছে। যুহরী (রাহঃ) বলেন, হাসান ইবনু মুহাম্মাদই হলেন এই দুইজনের মধ্যে অনেক বেশি সন্তোষজনক। সাঈদ ইবনু আবদুর রাহমান ছাড়া অন্যান্য বর্ণনাকারী ইবনু উয়াইনা হতে বর্ণনা করেন যে, আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ তাদের মধ্যে অনেক বেশি সন্তোষজনক। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, খাইবারের যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে কোন প্রকারের শিকারী দাতযুক্ত হিংস্র প্রাণী, চাদমারির (নিশানার) লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে হত্যা করা প্রাণী (মুজাসসামা) এবং গৃহপালিত গাধা হারাম ঘোষণা করেছে। হাসান সহীহ, সহীহা (৩৫৮, ২৩৯১), ইরওয়া (২৪৮৮) আলী, জাবির, বারাআ, ইবনু আবী আওফা, আনাস, ইরবায ইবনু সারিয়া, আবূ সালাবা, ইবনু উমার ও আবূ সাঈদ (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীসটি মুহাম্মাদ ইবনু আমর হতে অপর একটি সূত্রে আবদুল আযীয ইবনু মুহাম্মাদ প্রমুখ বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তাদের বর্ণনায় তারা একটিমাত্র বিষয় উল্লেখ করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম “শিকারী দাঁতযুক্ত হিংস্র প্রাণী হারাম ঘোষণা করেছেন”।
। আবূ সালাবা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, মাজুসীদের (অগ্নি উপাসক) হাড়ি-পাতিল সম্বন্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করা হল। তিনি বললেনঃ এগুলো ধুয়ে পরিষ্কার করে নাও, তারপর এগুলো রান্নার কাজে লাগাও। শিকারী দাতযুক্ত হিংস্র প্রাণী তিনি নিষিদ্ধ করেছেন। সহীহ, (১৫৬০) নং হাদীস পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি আবূ সালাবা (রাঃ)-এর রিওয়ায়াত হিসাবে মাশহুর। তার সূত্রে অন্যভাবেও এ হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। আবূ সালাবা (রাঃ)-এর নাম জুরসূম, মতান্তরে জুরহুম বা নাশিব। আবূ কিলাবা-আবূ আসমা আর-রাহাবী হতে, তিনি আবূ সালাবা (রাঃ) হতে এই সূত্রেও উল্লেখিত হাদীস বর্ণিত আছে।
। আবূ সালাবা আল-খুশানী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আহলে কিতাবের লোকালয়ে বাস করি, তাদের হাড়ি-পাতিলে রান্না করি এবং তাদের থালা-বাটি পানাহারের কাজে লাগাই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এদেরগুলো ব্যতীত অন্য ব্যবস্থা করতে না পারলে তবে পানি দিয়ে এগুলো ধুয়ে নাও। তিনি আবার বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! শিকারের পশু পাওয়া যায় এমন এলাকায় আমরা বসবাস করি, আমরা কি করব? তিনি এবং সাথে সাথে আল্লাহ্ তা'আলার নাম নিয়ে থাকলে সে শিকার ধরে হত্যা করে ফেললে তুমি তা খেতে পার। কুকুরটি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত না হলে তবে এর শিকার যবেহ করার সুযোগ পাওয়া গেলে তা খাও। তুমি তোমার তীর নিক্ষেপ করলে এবং সাথে সাথে আল্লাহ তা'আলার নাম নিলে তা শিকারকে মেরে ফেললেও তা খেতে পার। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩২০৭), নাসা-ঈ এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।