। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ রান্না করা ব্যতীত রসুন খাওয়া ঠিক নয়। যঈফ, প্রাগুক্ত আবূ ঈসা বলেছেন, এ হাদীসের সনদ খুব একটা মজবুত নয়। আলী (রাঃ)-এর বিবৃতি হিসেবেও হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। শারীকের এ হাদীসটি মুরসাল হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে। মুহাম্মাদ বলেছেন, আল-জাররাহ ইবনু মালীহ সত্যবাদী এবং আল-জাররাহ ইবনুয যাহহাক হাদীস শাস্ত্রে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি।
। উম্মু আইয়ূব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের মেহমান হলেন। তারা তার জন্য সুস্বাদু খাবার রান্না করেন। তার মধ্যে এই (পিয়াজ-রসুনের) সবজীরও কিছু অংশ ছিল। তিনি তা খেতে অপছন্দ করলেন। তিনি তার সাহাবীদের বললেনঃ তোমরা এটা খাও। আমি তোমাদের কারো মতো নই। আমার আশংকা হচ্ছে (এটা খাওয়ার কারণে) আমার সার্থীকে (ফেরেশতার) কষ্টে ফেলতে পারি। হাসান, ইবনু মা-জাহ (৩৩৬৪) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ গারীব বলেছেন। উম্মু আইয়ূব (রাঃ) হলেন আবূ আইয়ুব আনসারী (রাঃ)-এর স্ত্রী।
। আবূল আলিয়া হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রসুন হালাল খাদ্যের অন্তর্ভুক্ত। সনদ দুর্বল ও বিচ্ছিন্ন। আবূ খালদার নাম খালিদ ইবনু দীনার। হাদীস বিশারদদের নিকট তিনি বিশ্বস্থ রাবী। তিনি আনাস ইবনু মালিকের দেখা পেয়েছেন এবং তার নিকট হতে হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবূল আলিয়ার নাম রুফাঈ আর-রিযাহী। আব্দুর রহমান ইবনু মাহদী বলেন, আবূ খালদাহ একজন উত্তম মুসলিম ছিলেন।
। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা (শোয়ার আগে) ঘরের দরজা বন্ধ করে দিও, পানির পাত্রের মুখ ঢেকে বা বেঁধে দিও, থালাগুলো উপুর করে রেখ অথবা ঢেকে দিও এবং আলো নিভিয়ে দিও। কেননা শাইতান বন্ধ দরজা খুলতে পারে না। মশকের বন্ধ মুখ উদম করতে পারে না এবং পাত্রের মুখ খুলতে পারে না। (আলো না নিভালে) মানুষের ঘরে দুষ্টু ইদুর আগুন লাগিয়ে দেয়। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৪১), মুসলিম ইবনু উমার, আবূ হুরাইরা ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীসটি জাবির (রাঃ) হতে অপরাপর সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে।
। সালিম (রহঃ) হতে তার বাবার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি (আবদুল্লাহ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শোয়ার সময় তোমরা তোমাদের ঘরে আগুন জ্বলিয়ে রেখ না। সহীহ, সহীহুল আদাব (৯৩৮), নাসা-ঈ এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ খেজুরহীন ঘরের মানুষেরা যেন অনাহারী। সহীহ, সহীহা (১৭৭৬), মুসলিম আবূ রাফির স্ত্রী সালমা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা উল্লেখিত সনদসূত্রে হাসান গারীব বলেছেন। আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র এই সূত্রে হিশাম ইবনু উরওয়ার রিওয়ায়াত হিসাবে জেনেছি। আমি (তিরমিয়ী) বুখারী (রাহঃ)-কে এ ব্যতীত অন্য কেউ এ হাদীস বর্ণনা করেছে বলে আমার জানা নেই।
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন কিছু খেয়ে অথবা কিছু পান করে বান্দাহ আল্লাহ্ তা'আলার প্রশংসা করলে অবশ্যই তিনি তার উপর সন্তুষ্ট হন। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৬৫১), মুসলিম উকবা ইবনু আমির, আবূ সাঈদ, আইশা, আবূ আইয়ূব ও আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান বলেছেন। এ হাদীসটি বিভিন্ন সূত্রে যাকারিয়্যা ইবনু আবী যাইদা হতে বর্ণিত হয়েছে। আমরা এ হাদীসটি শুধু যাকারিয়্যা ইবনু আবী যাইদার রিওয়ায়াত হিসাবে জেনেছি।
। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক কুষ্ঠ রোগীর হাত ধরে তাকে নিজের সাথে একই পাত্রে খাওয়াতে বসান। অতঃপর তিনি বললেনঃ আল্লাহ্ তা'আলার নামে আল্লাহ্ তা'আলার উপর আস্থা রেখে এবং (প্রতিটি ব্যাপারে) তার উপর ভরসা করে খাও। যঈফ, ইবনু মাজাহ (৩৫৪২) আবূ ঈসা বলেছেন, এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু ইউনুস ইবনু মুহাম্মাদ-আল-মুফাযযাল ইবনু ফাযালার সূত্রে বর্ণিত হাদীসের মাধ্যমেই এ প্রসঙ্গে জেনেছি। মুফাযযাল ইবনু ফাযালা (রাহঃ) বসরার একজন শাইখ (হাদীসের উস্তাদ)। আর অপর একজন আল-মুফাযযাল ইবনু ফাযালা আছেন তিনিও বসরার শাইখ এবং তিনি বসরার এই শাইখের চেয়ে বেশী নির্ভরযোগ্য ও প্রসিদ্ধ। শুবাও এ হাদীসটি হাবীব ইবনুশ শহীদ-ইবনু বুরাইদার সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে আছে, উমার (রাঃ) জনৈক কুষ্ঠ রোগীর হাত ধরলেন.....। আমার মতে শুবার হাদীসটিই অনেক বেশী সুপ্রমাণিত ও সহীহ।