حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كُنْتُ أَفْتِلُ قَلاَئِدَ هَدْىِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كُلَّهَا غَنَمًا ثُمَّ لاَ يُحْرِمُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ يَرَوْنَ تَقْلِيدَ الْغَنَمِ .
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কুরবানীর পশুর গলায় মালা পরানোর রশি পাকিয়ে দিতাম। এগুলোর সবই ছিল মেষ ও বকরী। এরপরও তিনি ইহরাম বাঁধেননি। সহীহ, সহীহ আবু দাউদ (১৫৪০), বুখারী, মুসলিম এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীস অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও অন্যান্য আলিমগণ আমল করেছেন এবং কুরবানীর মেষ-বকরী ইত্যাদির গলায় মালা পরানো বৈধ বলেছেন।
। নাজিয়া আল-খুযাঈ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! কুরবানীর পশু পথ চলতে না পারলে এবং এর মৃত্যুর আশংকা দেখা দিলে আমি কি করব? তিনি বললেনঃ এটিকে যবাহ কর, এর (গলায় বাধা) জুতা তার রক্তে ডুবিয়ে দাও, এরপর মানুষের জন্য তা রেখে দাও যেন তারা তা খেতে পারে। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩১০৬) যুওয়াইব আবূ কাবীসা আল-খুযাঈ (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। নাজিয়া (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন। এই হাদীস অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ আলিমগণ আমল করার অভিমত দিয়েছেন। তারা বলেন, নফল কুরবানীর ক্ষেত্রে পশুটি চলতে না পারলে (যবাহ করার পর) সে নিজে বা তার সঙ্গীরা এর গোশত খেতে পারবে না, বরং লোকদের জন্য তা ফেলে রাখবে তারা যাতে উহা খেতে পারে। আর তার জন্য কুরবানী হিসাবে এটি যথেষ্ট হবে। এই অভিমত ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকের। তারা বলেন, যদি মালিক তা হতে কিছু খেয়ে থাকে তাহলে যতটুকু খেয়েছে সেই পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। অপর একদল আলিম বলেন, নফল কুরবানীর পশু হতে যদি সে কিছু খায় তাহলে তার বিনিময়ে আরেকটি কুরবানী দিতে হবে।
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, এক ব্যক্তিকে তার কুরবানীর উট হাকিয়ে নিয়ে যেতে দেখে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি এর পিঠে আরোহণ কর। সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! এটা তো কুরবানীর উট। তিনি তৃতীয় বা চতুর্থ বারে তাকে বললেনঃ আরে দুর্ভাগা এতে আরোহণ কর। -সহীহ বুখারী, মুসলিম আলী, আবু হুরাইরা ও জাবির (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। প্রয়োজনে কুরবানীর উটের উপর আরোহণ করার প্রতি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল সাহাবী ও অন্যান্য আলিমগণ অনুমতি দিয়েছেন। এই অভিমত ইমাম, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকের। কোন কোন আলিম বলেন, একান্ত বাধ্য না হলে কুরবানীর উটে আরোহণ করা উচিত নয়।
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, জামরায় কংকর মারার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পশু কুরবানী করলেন, এরপর তার মাথার ডান দিক নাপিতের দিকে বাড়িয়ে দিলেন এবং সে তা মুণ্ডন করল। আবু তালহা (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ চুলগুলো দিলেন। এরপর তিনি বাম দিক বাড়িয়ে দিলে সে তা মুণ্ডন করল। তিনি (আবু তালহাকে) বলেনঃ লোকজনের মাঝে এগুলো বণ্টন করে দাও। — সহীহ, ইরওয়া, সহীহ আবু দাউদ (১০৮৫, ১৭৩০), মুসলিম একই রকম হাদীস ইবনু আবী উমার (রাহঃ).....হিশাম (রাহঃ) হতেও বর্ণনা করেছেন। এই হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
। ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার সাহাবীদের একদল মাথা মুণ্ডন করলেন এবং কতিপয় সাহাবী চুল খাট করলেন। ইবনু উমার (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ মাথা মুণ্ডনকারীদের উপর আল্লাহ্ তা'আলা অনুগ্রহ করুন। একবার কি দুইবার তিনি এ কথাটি বললেন, তারপর বললেনঃ চুল ছোট করে কর্তনকারীদের উপরও। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩০৪৪), বুখারী, মুসলিম ইবনু আব্বাস, ইবনু উম্মুল হুসাইন, মারিব, আবু সাইদ, আবু মারইয়াম, হুবশী ইবনু জুনাদা ও আবু হুরাইরা (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এই হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। বিশেষজ্ঞ আলিমগণ এই হাদীস অনুযায়ী আমল করেছেন। পুরুষদের মাথা মুণ্ডন করা উত্তম বলে তারা মত দিয়েছেন, তবে চুল ছোট করে ছাটলেও তা যথেষ্ট হবে। এই অভিমত ইমাম সাওরী, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকের।
হাদিস 914 — Jami At Tirmidhi 9:107
দাঈফদাঈফহাসান
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُوسَى الْجُرَشِيُّ الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ خِلاَسِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ تَحْلِقَ الْمَرْأَةُ رَأْسَهَا .
। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলাদেরকে তাদের মাথা কামিয়ে ফেলতে মানা করেছেন। যঈফ, মিশকাত, তাহকীক ছানী (২৬৫৩)। যঈফ
। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার আবূ দাউদ হতে তিনি হাম্মাম হতে তিনি খিলাস হতে এই সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের মতই বর্ণিত আছে। কিন্তু এই সূত্রে আলী (রাঃ)-এর নাম উল্লেখ নেই। আবূ ঈসা বলেন, আলী (রাঃ) বর্ণিত এই হাদীসটিতে অস্থিরতা আছে। এই হাদীসটি হাম্মাদ হতে কাতাদার সূত্রে আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে বিদ্বানগণের মতে মহিলাদের মাথা কামাতে হবে না তাদের মাথার চুল ছাটতে হবে।
। আবদুল্লাহ্ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এক লোক প্রশ্ন করল, যবাহ (কুরবানী) করার পূর্বে আমি মাথা মুণ্ডন করে ফেলেছি। তিনি বললেনঃ যবাহ কর, এতে কোন সমস্যা নেই। অন্য আরেকজন প্রশ্ন করল, আমি কংকর মারার আগে কুরবানী করেছি। তিনি বললেনঃ কংকর মেরে নাও, এতে কোন সমস্যা নেই। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩০৫১), বুখারী, মুসলিম আলী, জাবীর, ইবনু আব্বাস ইবনু উমার ও উসামা ইবনু শরীক (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন। বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ আলিমের মতও তাই। অনুরূপ মত দিয়েছেন ইমাম আহমাদ ও ইসহাক। কিছু সংখ্যক আলিম বলেন, হজ্জের অনুষ্ঠানসমূহের ক্রমিক ধারা নিয়ম-কানুন ভঙ্গ করলে দম (পশু কুরবানী) দিতে হবে।
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, ইহরাম বাধার পূর্বে এবং কুরবানীর দিন বাইতুল্লাহ্ তাওয়াফের পূর্বে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমি কস্তুর মিশ্রিত সুগন্ধি লাগিয়ে দিয়েছি। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৯২৬), বুখারী, মুসলিম ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত রয়েছে। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বেশিরভাগ সাহাবী ও বিশেষজ্ঞ আলিমদের মতে কুরবানীর দিন যখন ইহরামধারী ব্যাক্তি জামরা আকাবায় কংকর মারবে, কুরবানী করবে এবং মাথা মুণ্ডন বা চুল ছেটে নিবে তখন হতেই তার জন্য যা (ইহরামের কারণে) হারাম ছিল তা হালাল হয়ে যাবে, তবে স্ত্রীসহবাস হালাল হবে না। এই অভিমত ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকের। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বলেন, স্ত্রীসম্ভোগ ও সুগন্ধি ব্যতীত আর সবকিছু তার জন্য হালাল হয়ে যাবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কিছু সংখ্যক সাহাবী ও অপরাপর আলিম এই মত গ্রহণ করেছেন। এই মত কুফাবাসী আলিমদেরও।
। ফাযল ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, মুযদালিফা হতে মিনা পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তার বাহনের পিছনে বসিয়ে এনেছেন। জামরা আকাবায় কংকর মারা পর্যন্ত তিনি অনবরত তালবিয়া পাঠ করেন। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩০৪০), বুখারী, মুসলিম আলী, ইবনু মাসউদ ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও অপরাপর আলিমদের মতে, হাজ্জ পালনকারী জামরা আকাবায় কংকর মারা শেষ না করা পর্যন্ত তালবিয়া পাঠ বন্ধ করবে না। এই অভিমত ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকের।