। উমাইর (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, ভীড় ঠেলে হলেও ইবনু উমার (রাঃ) হাজরে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানীর নিকটে যেতেন (তা স্পর্শ করার জন্য)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্য কোন সাহাবীকে আমি এরূপ করতে দেখিনাই। আমি বললাম, হে আবূ আবদুর রাহমান। আপনি ভীড় ঠেলে হলেও এই দুই রুকনে গিয়ে পৌছেন, কিন্তু আমি তো ভীড় ঠেলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্যকোন সাহাবীকে সেখানে যেতে দেখিনি। তিনি বললেন, আমি এরূপ কেন করব না? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমি বলতে শুনেছিঃ এই দুইটি রুকন স্পর্শ করলে গুনাহসমূহের কাফফারা হয়ে যায়। — সহীহ, তালিকুল রাগীব (২/১২০) আমি তাকে আরো বলতে শুনেছিঃ সঠিকভাবে যদি কোন লোক বাইতুল্লাহ সাতবার তাওয়াফ করে তাহলে তার একটি ক্রীতদাস আযাদ করার সমান সাওয়াব হয়। -সহীহ ইৰনু মা-জাহ (২৯৫৬) তাকে আমি আরো বলতে শুনেছিঃ যখনই কোন ব্যক্তি তাওয়াফ করতে গিয়ে এক পা রাখে এবং অপর পা তোলে আল্লাহ তখন তার একটি করে গুনাহ মাফ করে দেন এবং একটি করে.সাওয়াব লিখে দেন। -সহীহ, তা’লীকুর রাগীব (২/১২০), মিশকাত (২৫৮০) আবু ঈসা বলেন, একইরকম হাদীস ইবনু উমার (রাঃ) হতে অপরএক সূত্রে বর্ণিত.আছে। কিন্তু সেই সনদে উমাইরের উল্লেখ নেই। এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান বলেছেন।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বাইতুল্লাহর চারদিকে তাওয়াফ করা নামায আদায়ের অনুরূপ। তবে তোমরা এতে (তাওয়াফকালে) কথা বলতে পার। সুতরাং তাওয়াফকালে যে ব্যক্তি কথা বলে সে যেন ভাল কথা বলে। — সহীহ, ইরওয়া (১২১), মিশকাত (২৫৭৬), তা’লীকুর রাগীব (২/১২১), তা’লীক আলা ইবনু খুযাইমাহ (২৭৩৯)। আবু ঈসা বলেন, এই হাদীসটি ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর সূত্রে ইবনু তাউস প্রমুখ হতে মাওকুফ হিসেবেও বর্ণিত আছে। এটি আতা ইবনুস সাইব ছাড়া অন্য কোন সুত্রে মারফুভাবে বর্ণিত আছে বলে আমাদের জানা নেই। এই হাদীস অনুযায়ী বেশিরভাগ আলিম আমল করার কথা বলেছেন। তারা বলেন, বিশেষ কোন প্রয়োজনীয় কথা, আল্লাহর যিকির ও ইলম প্রসঙ্গিয় আলোচনা ব্যতীত তাওয়াফের সময় অন্য কোন কথা না বলা মুস্তাহাব।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজরে আসওয়াদ প্রসঙ্গে বলেছেনঃ আল্লাহর শপথ! এই পাথরকে আল্লাহ তা'আলা কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় উঠাবেন যে, এর দুটি চোখ থাকবে যা দিয়ে সে দেখবে এবং একটি জিহ্বা থাকবে যা দিয়ে সে কথা বলবে। যেলোক সত্য হৃদয়ে একে পর্শ করবে তার সম্বন্ধে এই পাথর আল্লাহ্ তা'আলার নিকটে সাক্ষ্য দিবে। — সহীহ, মিশকাত (২৫৭৮), তা’লীকুর রাগীব (২/১২২), তা’লীক আলা ইবনু খুযাইমা (২৭৩৫) এই হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান বলেছেন।
ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম অবস্থায় সুগন্ধিহীন তেল ব্যবহার করতেন। সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেন, "মুকাত্তাত’ অর্থ সুগন্ধযুক্ত। তিনি আরও বলেন, এই হাদীসটি গারীব। ফারকাদ আস-সাবাখী হতে সাঈদ ইবনু জুবাইর-এর সূত্রেই শুধু মাত্র আমরা এই হাদীস প্রসঙ্গে জেনেছি। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ (রাহঃ) ফারকাদ আস-সাবাখীর সমালোচনা করেছেন। কিন্তু তার বরাতে লোকেরা হাদীস বর্ণনা করেছে।
হাদিস 963 — Jami At Tirmidhi 9:157
সহিহসহিহIsnaad Sahih
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا خَلاَّدُ بْنُ يَزِيدَ الْجُعْفِيُّ، حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها أَنَّهَا كَانَتْ تَحْمِلُ مِنْ مَاءِ زَمْزَمَ وَتُخْبِرُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَحْمِلُهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ .
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি যমযমের পানি সাথে করে নিয়ে আসতেন, আর বলতেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা বহন করে আনতেন। — সহীহ, সহীহাহ (৮৮৩) এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। আমরা এই হাদীস প্রসঙ্গে শুধু উপরোক্ত সূত্রেই জেনেছি।
। আবদুল আযীয ইবনু রুফাই (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি আনাস (রাঃ)-কে বললাম, ইয়াওমুত-তারবিয়ায় (৮ই যুলহিজ্জায়) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোথায় যুহরের নামায আদায় করেছেন? আপনি এই প্রসঙ্গে যা জানেন তা আমাকে বলুন। তিনি বললেন, মিনায়। আমি বললাম, তিনি ইয়াওমুন নাফরে (১৩ই যুলহিজ্জায়) আসরের নামায কোথায় আদায় করেছেন? তিনি বলেন, আবতাহ (বাতহা) নামক জায়গায়। এরপর তিনি বললেন, তোমার আমীরগণ যা করবে তুমিও সেইভাবে কর (যেখানে তারা নামায আদায় করে সেখানে তুমিও আদায় কর) -সহীহ, সহীহ আবূ দাউদ (১৬৭০) বুখারী, মুসলিম। এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। কিন্তু সুফিয়ান সাওরীর সূত্রে ইসহাক ইবনু ইউসুফ আল-আযরাকের বর্ণনাটি গারীব।