। খাল্লাদ ইবনুস সাইব (রাঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জিবরীল (আঃ) আমার নিকট এসে বলেন যে, আমার সাহাবীদেরকে যেন আমি উচ্চস্বরে তালবিয়া পাঠের নির্দেশ প্রদান করি। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৯২২) যাইদ ইবনু খালিদ, আবু হুরাইরা ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। খাল্লাদ হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীসটিকে কেউ কেউ খাল্লাদ ইবনু সাইব হতে, তিনি যাইদ ইবনু খালিদ (রাঃ)-এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এটি সহীহ্ নয়। খাল্লাদ ইবনুস সাইব তার পিতার সূত্রে এই বর্ণনাটিই সঠিক।
। যাইদ ইবনু সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তিনি ইহরামের উদ্দেশ্যে (সেলাই করা) পোশাক খুলতে ও গোসল করতে দেখেছেন। — সহীহ তা’লীকাতুল জিয়াদ, মিশকাত তাহকীক ছানী, আল হাজ্জ্বল কাবীর (২৫৪৭) এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। ইহরাম বাধার পূর্বে গোসল করাকে একদল আলিম মুস্তাহাব বলেছেন। এই মত ইমাম শাফিঈর।
। ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, এক লোক প্রশ্ন করল, হে আল্লাহর রাসূল! কোথা হতে আমরা ইহরাম বাধব? তিনি বললেনঃ যুল-হুলাইফা হতে মাদীনাবাসীগণ, জুহফা হতে সিরিয়াবাসীগণ, কারন হতে নাজদবাসীগণ এবং ইয়ালামলাম হতে ইয়ামানবাসীগণ ইহরাম বাঁধবে। -সহীহ ইবনু মা-জাহ (২৯১৪) বুখারী, মুসলিম ইবনু আব্বাস, জাবির ইবনু আবদুল্লাহ ও আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীস অনুযায়ী অলিমগণ আমল করতে বলেছেন।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পূর্ব এলাকার লোকদের জন্য আকীক নামক জায়গাকে মীকাত হিসেবে স্থির করেছেন। মুনকার; ইরওয়া (১০০২), যঈফ আবূ দাউদ (৩০৬), সহীহ হল যাতু ইরক। আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান। মুহাম্মাদ ইবনু আলী ইনি হলেন আবূ জাফর।
। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, এক লোক দাড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদেরকে ইহরাম অবস্থায় আপনি কি ধরণের পোশাক পরার নির্দেশ দেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ জামা, পাজামা, টুপি, পাগড়ী ও মোজা পরবে না। তবে কোন লোকের জুতা না থাকলে সে লোক চামড়ার মোজা পরবে যা পায়ের গোছার নিচে থাকে। যাফরান ও ওয়ারাস রং-এ রং করা কোন-পোশাক তোমরা পরবে না। ইহরামধারী মহিলারা মুখ ঢাকবে না এবং হাতে দস্তানা (হাত মোজা) পরবে না। — সহীহ, ইরওয়া, সহীহ আবু দাউদ (১৬০০-১৩০৬), আল হাজ্জ্বল কাবীর, বুখারী, মুসলিম এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীস অনুযায়ী আলিমগণ আমল করার কথা বলেছেন।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমি বলতে শুনেছিঃ ইহরামধারী ব্যক্তি লুঙ্গি যোগাড় করতে না পারলে সে পাজামাই পরবে এবং জুতা জোগাড় করতে না পারলে মোজা পরবে। – সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৯৩১), বুখারী, মুসলিম। ইবনু উমার ও জাবির (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীস অনুযায়ী একদল আলিম আমল করার কথা বলেছেন। তারা বলেন, ইহরামধারী ব্যক্তি (সেলাইবিহীন) লুঙ্গি জোগাড় করতে না পারলে পাজামাই পরবে এবং জুতা জোগাড় করতে না পারলে মোজা পরবে। এটা আহমাদ (রাহঃ)-এর মন্তব্য। ইবনু উমার (রাঃ)-এর বর্ণিত হাদীস অনুযায়ী অপর একদল আলিম বলেন, জুতা না পেলে সে মোজার উপরিভাগ পায়ের গোড়ালি নিন্মভাগ বরাবর কেটে পরতে পারবে। এই মত সুফিয়ান সাওরী, শাফিঈ ও মালিক (রাহঃ) এর।
হাদিস 835 — Jami At Tirmidhi 9:28
সহিহসহিহসহিহ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي سُلَيْمَانَ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ يَعْلَى بْنِ أُمَيَّةَ، قَالَ رَأَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَعْرَابِيًّا قَدْ أَحْرَمَ وَعَلَيْهِ جُبَّةٌ فَأَمَرَهُ أَنْ يَنْزِعَهَا .
। ইয়ালা ইবনু উমাইয়া (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, এক বেদুইনকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম অবস্থায় জুব্বা পরিহিত দেখলেন। তিনি তাকে তা খুলার নির্দেশ দিলেন। - সহীহ, সহীহ আবু দাউদ ১৫৯৬, ১৫৯৯, বুখারি, মুসলিম পূর্ণরূপে।
হাদিস 836 — Jami At Tirmidhi 9:29
সহিহসহিহ - Agreed Upon
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ يَعْلَى، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ بِمَعْنَاهُ . وَهَذَا أَصَحُّ وَفِي الْحَدِيثِ قِصَّةٌ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَكَذَا رَوَاهُ قَتَادَةُ وَالْحَجَّاجُ بْنُ أَرْطَاةَ وَغَيْرُ وَاحِدٍ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ يَعْلَى بْنِ أُمَيَّةَ . وَالصَّحِيحُ مَا رَوَى عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ وَابْنُ جُرَيْجٍ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ صَفْوَانَ بْنِ يَعْلَى عَنْ أَبِيهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .
। ইবনু আবী উমার সুফিয়ান হতে, তিনি আমর ইবনু দিনার হতে, তিনি আতা হতে, তিনি সাফওয়ান ইবনু ইয়ালা হতে এই সুত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপরোক্ত হাদিসের অনুরূপ বক্তব্যসম্বলিত হাদিস ইয়ালা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে। আবু ঈসা এই শেষাক্ত সুত্রে বর্ণিত হাদিসটিকে অধিক সহিহ বলেছেন। এ হাদিসের পটভূমিতে একটি ঘটনাও আছে। আতা-ইয়ালা ইবনু উমাইয়্যা (রাঃ) এর সূত্রে কাতাদা-হাজ্জাজ ইবনু আরতাত প্রমুখ এইরূপই বর্ণনা করেছেন। কিন্তু আমর ইবনু দীনার ও ইবনু জুরাইজ-আতা হতে, তিনি সাফওয়ান ইবনু ইয়ালা হতে তিনি তার পিতা ইয়ালা (রাঃ)-এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ সালালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে যা বর্ণনা করেছেন তাই সঠিক।
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হারাম শারীফের ভিতরেও পাঁচটি অনিষ্টকারী প্রাণীকে মারা যায়ঃ ইদুর, বিচ্ছু, কাক, চিল ও হিংস্র কুকুর। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩০৮৭), মুসলিম ইবনু মাসউদ, ইবনু উমার, আবু হুরাইরা, আবু সাঈদ ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এই হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
। আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ইহরামধারী ব্যক্তি আক্রমণকারী হিংস্র জীব, হিংস্ৰ কুকুর, ইদুর, বিছা, চিল ও কাক হত্যা করতে পারে। যঈফ, ইবনু মাজাহ (৩০৮৯) আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান। আলিমগণ এই হাদীস অনুযায়ী আমল করেছেন। তারা বলেন, ইহরামধারী ব্যাক্তি আক্রমণকারী হিংস্র জীব হত্যা করতে পারে। সুফিয়ান সাওরী ও শাফিঈ এই অভিমত দিয়েছেন। ইমাম শাফিঈ (রাহঃ) আরও বলেন, যে কোন হিংস্র জীব, যদি তা মানুষ বা তার পশুর উপর আক্রমণ করে তবে সেটিকে ইহরামধারী ব্যক্তি হত্যা করতে পারে।