। সাঈদ ইবনু আব্দুর রহমান আল-মাখযুমী আব্দুল্লাহ ইবনুল ওয়ালীদ হতে তিনি সুফিয়ান সাওরী হতে তিনি আবূ হামযাহ হতে তিনি আল-কামা হতে তিনি আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে একই রকম হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে তা মারফুরূপে বর্ণনা করা হয়নি এবং তাতে আন-নাইউ আযানুন বিলমায়্যিত" এই কথারও উল্লেখ নেই। যঈফ এই রিওয়ায়াতটি অনেক বেশী সহীহ। আবূ হামযার নাম মাইমূন আল-আওয়ার। হাদীস বিশেষজ্ঞগণের মতে তিনি নির্ভরযোগ্য রাবী নন। আবূ ঈসা বলেন, আবদুল্লাহ (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি গারীব। একদল আলিম নাঈ’ মাকরূহ বলেছেন। তাদের মতে নাঈ’ হল লোকদের মাঝে এই বলে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া যে, অমুক ব্যক্তি মারা গেছে। অতএব তারা যেন তার জানাযায় উপস্থিত হয়। কিছু আলিম বলেছেন, মৃতের ভাই-বন্ধু ও আত্মীয়-স্বজনকে তার মৃত্যুর সংবাদ দেয়াতে কোন অপরাধ নেই। ইবরাহীম নাখঈ বলেন, আত্মীয়-স্বজনের মৃত্যুসংবাদ দেয়াতে কোন সমস্যা নেই।
। হুযাইফা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলে আমার মৃত্যু হলে এই বিষয়ে তোমরা কোন ঘোষণা দিবে না। আমার ভয় হয় যে, এটা মৃত্যুর সংবাদ প্রচার বলে ধরা হবে। আমি মৃত্যু সংবাদ প্রচার করা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিষেধ করতে শুনেছি। – হাসান, ইবনু মা-জাহ (১৪৭৬) এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রকৃত ধৈর্য হচ্ছে বিপদের প্রথম ধাক্কাতেই ধৈর্যধারণ করা। — সহীহ, আহকা-মুল জানা-য়িজ (২২ পৃঃ), মুসলিম। আবু ঈসা হাদীসটিকে এই সূত্রে গারীব বলেছেন।
হাদিস 988 — Jami At Tirmidhi 10:24
সহিহসহিহহাসান Sahihসহিহ - Agreed Upon
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الصَّبْرُ عِنْدَ الصَّدْمَةِ الأُولَى " . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বিপদের প্রথম আঘাতেই ধৈর্য ধরতে হবে। — সহীহ এই হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
হাদিস 989 — Jami At Tirmidhi 10:25
সহিহসহিহহাসান Sahihদাঈফ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَبَّلَ عُثْمَانَ بْنَ مَظْعُونٍ وَهُوَ مَيِّتٌ وَهُوَ يَبْكِي . أَوْ قَالَ عَيْنَاهُ تَذْرِفَانِ . وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَجَابِرٍ وَعَائِشَةَ قَالُوا إِنَّ أَبَا بَكْرٍ قَبَّلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ مَيِّتٌ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَائِشَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, উসমান ইবনু মাযউন (রাঃ)-কে মৃত অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুম্বন করেছিলেন আর কাঁদছিলেন। অথবা বর্ণনাকারী বলেন, তার দু'চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরছিল। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৪৫৬) ইবনু আব্বাস, জাবির ও আইশা (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। তারা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মারা যাবার পর আবু বাকার (রাঃ) তাকে চুমা দিয়েছেন। আইশা (রাঃ)-এর বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
। উম্মু আতিয়া (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এক কন্যা (যাইনাব) মারা গেলে তিনি বললেনঃ তোমরা বেজোড় সংখ্যায় তিন বার বা পাঁচ বার অথবা প্রয়োজনে এর চেয়েও অধিক বার তাকে গোসল দিতে পার। বরই পাতা মিশ্রিত পানি দিয়ে গোসল দাও। আর শেষবার পানিতে কর্পূর বা কিছু পরিমাণ কর্পূর ঢেলে দাও। তোমাদের গোসল করানো শেষ হয়ে গেলে আমাকে জানিয়ে দিও। অতএব, তার গোসল শেষ করে আমরা তাকে জানালাম। তিনি তার লুঙ্গি আমাদের দিকে ছুড়ে দিলেন এবং বললেনঃ তার শরীরে এটিকে জড়িয়ে দাও। হুশাইম বলেন, এদের (খালিদ, মানসূর) ব্যতীত অন্যদের, হয়ত হিশামও তাদের একজন, বর্ণনায় আছে যে, উম্মু আতিয়া (রাঃ) বলেন, আমরা তার চুলকে তিন ভাগে বিন্যস্ত করলাম। হুশাইম বলেন, আমার ধারণায় তিনি এও বলেছেনঃ তার চুলগুলোকে আমরা তার পিছন দিকে ছেড়ে দিলাম। হুশাইম বলেন, এদের মধ্যে খালিদ আমাকে হাফসা ও মুহাম্মাদ-উম্মু আতিয়া (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বললেনঃ তার ডান পাশ দিযে তার ওযুর স্থানসমূহ হতে গোসল শুরু কর। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৪৫৮); বুখারী, মুসলিম। উম্মু সুলাইম (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। উম্মু আতিয়া (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীস অনুযায়ী আলিমগণ আমল করেছেন। ইবরাহীম নাখঈ (রহঃ) বলেন, নাপাক ব্যক্তির গোসলের নিয়মের মতই মৃতের গোসল করানোর নিয়ম। ইমাম মালিক (রহঃ) বলেন, আমাদের মতে মৃত ব্যক্তির গোসল করানোর ধরাবাধা কোন নিয়ম নেই। আসল কাজ হচ্ছে তাকে পাকসাফ করা। ইমাম শাফিঈ (রাহঃ) বলেন, মালিক (রাহঃ) একটি অস্পষ্ট কথা বলেছেন যে, মৃত ব্যক্তিকে পরিষ্কার পানি বা অন্য কোন পানি দ্বারা গোসল করিয়ে তার দেহ হতে ময়লা দূর করে দিলেই যুথেষ্ট। কিন্তু আমার মতে মৃত ব্যক্তিকে তিন বা ততোধিক বার বেজোড় সংখ্যায় গোসল করানো মুস্তাহাব। তবে যেন তিন হতে কম না হয়। কেননা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তাকে তোমরা তিনবার অথবা পাঁচবার গোসল করাও। যদি তিনবারের কমেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়ে যায় এবং তাই যথেষ্ট হয়। তবে তার এই বক্তব্য তিন বার বা পাঁচ বার-এর কোন অর্থ হয়না। এই বিষয়ে তিনি কোন নির্দিষ্ট সংখ্যা নির্ধারিত করে দেননি একথা বলা যায়না। ফকীহগণও এরকম কথা বলেছেন। হাদীসের প্রকৃত মর্ম তারাই হৃদয়ংগম করতে পারেন। ইমাম আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ) বলেন, বরই পাতা মিশ্রিত পানি দিয়ে গোসল করাতে হবে এবং শেষবারে কর্পূর মিশ্রিত পানি দিয়ে।
। আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কস্তুরি সবচাইতে উত্তম সুগন্ধি। — সহীহ, মুসলিম এই হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
। আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, কস্তুরি প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করা হল। তিনি বললেনঃ তোমাদের সুগন্ধিগুলোর মধ্যে এটা হলো সবচাইতে উত্তম সুগন্ধি। — সহীহ, মুসলিম এই হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীস অনুযায়ী একদল আলিম আমল করেছেন। এই অভিমত আহমাদ ও ইসহাকের। মৃতের জন্য কস্তূরী ব্যবহারকে অন্য একদল আলিম মাকরূহ বলেছেন। এই হাদীস আল-মুস্তামির ইবনুর রাইয়্যানও আবু নাযরা হতে, তিনি আবু সাঈদ (রাঃ)-এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। ইয়াহইয়া ইবনু সাইদ বলেনঃ আল-মুসতামির ইবনুর রাইয়্যান ও খুলাইদ ইবনু জাফর দুজনেই নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী।
। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মৃত ব্যক্তিকে গোসল করানোর পর গোসল করতে হবে এবং লাশ বহন করার পর ওযু করতে হবে। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৪৬৩) আলী ও আইশা (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান বলেছেন। এটি মাওকুফ হিসেবেও আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে। আলিমদের মাঝে লাশকে গোসল করানোর পর গোসল করার বিষয়ে মতের অমিল রয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল সাহাবী ও অপরাপর আলিম বলেন, মৃত ব্যক্তিকে কোন লোক গোসল করানোর পরে তাকেও গোসল করতে হবে। কেউ কেউ বলেন, তাকে ওযু করতে হবে। মালিক ইবনু আনাস (রাহঃ) বলেন, মৃত ব্যক্তিকে গোসল করানোর পর নিজে গোসল করা মুস্তাহাব, এটাকে বাধ্যতামূলক বলে মনে করি না। একই মত দিয়েছেন ইমাম শাফিঈও। ইমাম আহমাদ (রাহঃ) বলেন, মৃত ব্যক্তিকে যে লোক গোসল করাবে আমার ধারণা মতে তার উপর গোসল ওয়াজিব নয়, ওযুই তার জন্য যথেষ্ট হবে। ইসহাক (রাহঃ) বলেন, অবশ্যই তাকে ওযু করতে হবে। আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারাক (রাহঃ) বলেন, মৃত ব্যক্তিকে গোসল করানোর পর গোসলদানকারীর জন্য ওযু বা গোসল কোনটাই ওয়াজিব নয়।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা সাদা রঙ্গের পোশাক পর। কেননা, তোমাদের জন্য তা সবচাইতে উত্তম পোশাক। তোমাদের মৃত ব্যক্তিদের এটা দিয়েই কাফন দাও। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৪৭২) সামুরা, ইবনু উমার ও আইশা (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। আলিমগণও এটাকে মুস্তাহাব বলেছেন। ইবনুল মুবারাক বলেন, যে পোশাক পরিধান করে মৃত ব্যক্তি নামায আদায় করত তাকে তা দিয়ে কাফন দেয়াই আমার নিকট বেশি পছন্দনীয়। ইমাম আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ) বলেন, সাদা কাপড়ে কাফন দেয়াই আমরা পছন্দ করি। উত্তম কাপড় দিয়ে কাফন দেওয়াই মুস্তাহাব।