حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، حَدَّثَنَا مُعَمَّرُ بْنُ سُلَيْمَانَ الرَّقِّيُّ، عَنِ الْحَجَّاجِ بْنِ أَرْطَاةَ، عَنْ عَبْدِ الْجَبَّارِ بْنِ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ اسْتُكْرِهَتِ امْرَأَةٌ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَدَرَأَ عَنْهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْحَدَّ وَأَقَامَهُ عَلَى الَّذِي أَصَابَهَا وَلَمْ يُذْكَرْ أَنَّهُ جَعَلَ لَهَا مَهْرًا . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ وَلَيْسَ إِسْنَادُهُ بِمُتَّصِلٍ وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ مِنْ غَيْرِ هَذَا الْوَجْهِ . قَالَ سَمِعْتُ مُحَمَّدًا يَقُولُ عَبْدُ الْجَبَّارِ بْنُ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ لَمْ يَسْمَعْ مِنْ أَبِيهِ وَلاَ أَدْرَكَهُ يُقَالُ إِنَّهُ وُلِدَ بَعْدَ مَوْتِ أَبِيهِ بِأَشْهُرٍ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ أَنْ لَيْسَ عَلَى الْمُسْتَكْرَهَةِ حَدٌّ .
আবদুল জাব্বার ইবনু ওয়াইল ইবনু হুজ্বর (রাঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি (ওয়াইল ইবনু হুজ্বর) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে একটি স্ত্রীলোককে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্ত্রীলোকটিকে হাদ্দ (যেনার শাস্তি) হতে মুক্তি দেন, কিন্তু তার ধর্ষণকারীর উপর হাদ্দ (যেনার শাস্তি) কার্যকর করেন। তিনি তার জন্য মোহর নির্ধারণ করেছেন কি-না রাবী তা বর্ণনা করেননি। যঈফ, মিশকাত (৩৫৭১) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। এর সনদ পরস্পর সংযুক্ত (মুত্তাসিল) নয়। অন্য সূত্রেও এ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। আমি ইমাম বুখারীকে বলতে শুনেছি, আবদুল জাব্বার তার পিতা ওয়াইলের নিকট হতে হাদীস শুনার কোন সুযোগই পাননি এবং তাকে দেখেনওনি। কথিত আছে যে, তিনি তার পিতার মৃত্যুর কয়েক মাস পর জন্মগ্রহণ করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিশেষজ্ঞ সাহাবীগণ ও তৎপরবর্তী আলিমগণ এ হাদীস অনুযায়ী আমল করেছেন। তাদের মতে, যে নারীকে জোরপূর্বক যেনায় লিপ্ত হতে বাধ্য করা হয় অর্থাৎ যাকে ধর্ষণ করা হয় সে হাদ্দমুক্ত (যেনার শাস্তিমুক্ত)।
। আলকামা ইবনু ওয়াইল (রহঃ) হতে তার বাবার সূত্রে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যামানায় একজন মহিলা নামায আদায়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলো। রাস্তায় একজন লোক তার সামনে পড়ে এবং সে তাকে তার পোশাকে ঢেকে নিয়ে (জাপটে ধরে) নিজের প্রয়োজন মিটায় (ধর্ষণ করে)। মহিলাটি চিৎকার করলে লোকটি পালিয়ে গেল। তারপর আর একজন লোক তার সম্মুখ দিয়ে যাচ্ছিল। মহিলাটি বলল ঐ লোকটি আমার সাথে এই এই করেছে। ইতোমধ্যে মুহাজির সাহাবীদের একটি দলও সে স্থান দিয়ে যাচ্ছিল। মহিলাটি বলল, ঐ লোকটি আমার সাথে এই এই করেছে। যে লোকটি তাকে ধর্ষণ করেছে বলে সে ধারণা করল, তারা (দৌড়ে) গিয়ে তাকে ধরে ফেলেন। তাকে নিয়ে তারা মহিলাটির সামনে ফিরে আসলে সে বলল, হ্যাঁ, এই সেই লোক। তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট তাকে নিয়ে আসেন। তিনি যখন তাকে রজমের (পাথর মেরে হত্যা) হুকুম দিলেন, সে সময়ে তার আসল ধর্ষণকারী উপস্থিত হয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তার ধর্ষণকারী (ঐ লোকটি নয়)। তিনি মহিলাটিকে বললেনঃ যাও, তোমাকে আল্লাহ তা'আলা মাফ করে দিয়েছেন। তিনি (সন্দেহজনকভাবে) ধৃত লোকটির সম্বন্ধে ভাল কথা বললেন। মহিলাটির আসল ধর্ষণকারীর সম্পর্কে তিনি হুকুম করলেনঃ একে রজম কর। তিনি আরো বললেনঃ সে এমন ধরণের তাওবা করেছে, যদি মাদীনার সকল জনগণ এমন তাওবা করে তবে তাদের সেই তাওবা কুবুল করা হবে। হাসান, তাকে রজম কর বাক্য ব্যতীত। সঠিক বক্তব্য হল তাকে রজম করা হয় নাই। মিশকাত (৩৫৭২) সহীহাহ (৯০০) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান গারীব সহীহ বলেছেন। আলকামা (রহঃ) তার পিতা ওয়াইল (রাঃ)-এর কাছে হাদীস শ্রবণ করেছেন। তিনি বয়সে তার ভাই আবদুল জাব্বারের চেয়ে বড় ছিলেন। আবদুল জাব্বার (রহঃ) তার আব্বা ওয়াইল (রাঃ)-এর কাছ থেকে হাদীস শ্রবণ করার সুযোগ লাভ করেননি।
হাদিস 1455 — Jami At Tirmidhi 17:38
হাসান Sahihহাসান Sahih
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو السَّوَّاقُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ أَبِي عَمْرٍو، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ وَجَدْتُمُوهُ وَقَعَ عَلَى بَهِيمَةٍ فَاقْتُلُوهُ وَاقْتُلُوا الْبَهِيمَةَ " . فَقِيلَ لاِبْنِ عَبَّاسٍ مَا شَأْنُ الْبَهِيمَةِ قَالَ مَا سَمِعْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي ذَلِكَ شَيْئًا وَلَكِنْ أُرَى رَسُولَ اللَّهِ كَرِهَ أَنْ يُؤْكَلَ مِنْ لَحْمِهَا أَوْ يُنْتَفَعَ بِهَا وَقَدْ عُمِلَ بِهَا ذَلِكَ الْعَمَلُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ عَمْرِو بْنِ أَبِي عَمْرٍو عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو السَّوَّاقُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ أَبِي عَمْرٍو، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ وَجَدْتُمُوهُ وَقَعَ عَلَى بَهِيمَةٍ فَاقْتُلُوهُ وَاقْتُلُوا الْبَهِيمَةَ " . فَقِيلَ لاِبْنِ عَبَّاسٍ مَا شَأْنُ الْبَهِيمَةِ قَالَ مَا سَمِعْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي ذَلِكَ شَيْئًا وَلَكِنْ أُرَى رَسُولَ اللَّهِ كَرِهَ أَنْ يُؤْكَلَ مِنْ لَحْمِهَا أَوْ يُنْتَفَعَ بِهَا وَقَدْ عُمِلَ بِهَا ذَلِكَ الْعَمَلُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ عَمْرِو بْنِ أَبِي عَمْرٍو عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা যে মানুষকে লুত সম্প্রদায়ের কুকর্মে (সমকামিতায়) নিয়োজিত পাবে সেই কুকর্মকারীকে এবং যার সাথে কুকর্ম করা হয়েছে তাকে মেরে ফেলবে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৫৬১) জাবির ও আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি শুধু উল্লেখিত সনদসূত্রেই আমরা জেনেছি। এ হাদীসটি আমর ইবনু আবী আমরের সূত্রে মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক এভাবে বর্ণনা করেছেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ "যে মানুষ লুত সম্প্রদায়ের কুকর্ম করে সে অভিশপ্ত।” এই বর্ণনায় হত্যা করার’ উল্লেখ নেই। এতে আরো আছেঃ "যে মানুষ পশুর সাথে কুকর্ম করে সেও অভিশপ্ত"। " উপরে উল্লেখিত হাদীসটিকে আসিম ইবনু উমার সুহাইল ইবনু আবূ সালিহ-এর সূত্রে, তিনি তার বাবার সূত্রে, তিনি আবূ হুরাইরা (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “এ কাজের কর্তা ও কর্ম দুজনকেই মেরে ফেল"। এ হাদীসের সনদ বিতর্কিত। সুহাইলের সূত্রে এ হাদীসটি আসিম ব্যতীত আর কেউ বর্ণনা করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। আসিমের স্মরণশক্তি হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল বলে সমালোচিত। অভিজ্ঞ আলিমদের মধ্যে লাওয়াতাতকারীর (সমকামীর) শাস্তির ব্যাপারে মতপার্থক্য আছে। কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, সমকামীকে রজম (পাথর মেরে হত্যা) করতে হবে, সে বিবাহিত বা অবিবাহিত যাই হোক। এই মত প্রকাশ করেছেন ইমাম মালিক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক। আতা ইবনু আবূ রাবাহ প্রমুখ বলেছেন, সমকামীর শাস্তি যিনাকারীর শাস্তির মতই। এই মত সুফিয়ান সাওরী ও কূফাবাসীদের।
। আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আকীল (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, জাবির (রাঃ)-কে আমি বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি যে কুকর্মটি আমার উম্মাতের মাঝে ছড়িয়ে পড়ার সর্বাধিক ভয় করি তা হল লুত সম্প্রদায়ের কুকর্ম। হাসান, ইবনু মা-জাহ (২৫৬৩)। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। আমরা শুধুমাত্র আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আকীল ইবনু আবূ তালিব হতে জাবির (রাঃ)-এর সূত্রেই হাদীসটি এভাবে জেনেছি।
। ইকরিমা (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, একদল মানুষ ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করলে (মুরতাদ হয়ে গেলে) আলী (রাঃ) তাদেরকে আগুন দিয়ে জ্বলিয়ে দেন। ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট এ সংবাদ পৌছলে তিনি বললেন, আমি সেখানে উপস্থিত থাকলে তাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী মোতাবিক হত্যা করতাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “যে মানুষ তার দীন পরিবর্তন করে তাকে মেরে ফেল”। আমি (ইবনু আব্বাস) কখনো তাদেরকে আগুনে জ্বালিয়ে মারতাম না। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “তোমরা আল্লাহ্ তা'আলার আযাব (আগুন) দ্বারা (কাউকে) শাস্তি দিও না।" একথা আলী (রাঃ)-এর নিকট পৌছলে তিনি বললেন, ইবনু আব্বাস সঠিক বলেছে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৫৩৫) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা- হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস মোতাবিক অভিজ্ঞ আলিমগণ ধর্মত্যাগীর হুকুমের বিষয়ে মতামত ব্যক্ত করেছেন। কিন্তু কোন মহিলা ইসলাম ধর্ম বর্জন করলে তার কি শাস্তি হবে এই ব্যাপারে তাদের মধ্যে দ্বিমত আছে। একদল বিশেষজ্ঞ বলেছেন, তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হবে। এই মত প্রকাশ করেছেন ইমাম আওযাঈ, আহমাদ ও ইসহাক। অপর একদল বলেছেন, তাকে বন্দী করা হবে, মেরে ফেলা যাবে না। এই মত সুফিয়ান সাওরী ও কূফাবাসীদের।
। আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমাদের বিপক্ষে যে মানুষ অস্ত্র ধারণ করে সে আমাদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয়। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৫৭৫, ২৫৭৭), মুসলিম ইবনু উমার, ইবনুয যুবাইর, আবূ হুরাইরা ও সালামা ইবনুল আকওয়া (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
। জুনদুব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যাদুকরের শাস্তি হল তরবারির আঘাতে মৃত্যুদণ্ড। যঈফ, যঈফা (১৪৪৬), মিশকাত, তাহকীক ছানী (৩৫৫১) আবূ ঈসা বলেন, শুধু উল্লেখিত সনদসূত্রেই আমরা এ হাদীস মারফু হিসেবে জেনেছি। ইসমাঈল ইবনু মুসলিম আল-মক্কীকে তার স্মরণশক্তির দুর্বলতার কারণে হাদীস বিশারদগণ তাকে হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল বলেছেন। কিন্তু ইসমাঈল ইবনু মুসলিম আল-বাসর প্রসঙ্গে ওয়াকী বলেছেন, তিনি নির্ভরযোগ্য রাবী। হাসান বাসরীর সূত্রেও হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। জুনদুব (রাঃ)-এর সূত্রে মাওকুফ হিসেবে বর্ণিত হাদীসটিই সহীহ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল সাহাবী ও তৎপরবর্তী আলিমগণ এ হাদীস অনুযায়ী আমল করেছেন। মালিক ইবনু আনাসও এই মত দিয়েছেন। শাফিঈ (রাহঃ) বলেছেন, যাদু যদি কুফরীর পর্যায়ভুক্ত হয় তবে তার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। আর কুফরীর চেয়ে নিম্নতর পর্যায়ের হলে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া যাবে না।
। উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা যাকে আল্লাহ্ তা'আলার পথে (গানীমাত) আত্মসাৎ করতে দেখবে তার মালপত্র সব পুড়িয়ে দিবে। সালিহ (রাহঃ) বলেছেন, আমি মাসলামার নিকটে গেলাম। এ সময় সালিম ইবনু আবদুল্লাহ তার নিকটই ছিলেন। তিনি এক আত্মসাৎকারীকে পেলেন। সালিম (রাহঃ) তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ হাদীস উল্লেখ করেন। তিনি তার মালপত্র পুড়িয়ে দেয়ার হুকুম দিলে তা পুড়িয়ে দেয়া হয়। তার মালপত্রের মধ্যে এক জিলদ কুরআন পাওয়া গেলে সালিম (রাহঃ) বলেন, তা বিক্রয় করে তার মূল্য দান-খাইরাত করে দাও। যঈফ, যঈফ আবূ দাউদ (৪৬৮), মিশকাত, তাহকীক ছানী (৩৬৩৩), তাহকীকুল মুখতারাহ (১৯১, ১৯৪) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। শুধুমাত্র উল্লেখিত সনদসূত্রেই আমরা এটা জেনেছি। কিছু বিশেষজ্ঞ আলিম এ হাদীস অনুযায়ী মত দিয়েছেন। ইমাম আওযাঈ, আহমাদ ও ইসহাকের এই মত। আমি (তিরমিয়ী) মুহাম্মাদ বুখারীকে এ হাদীস প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এ হাদীসটি সালিহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু যায়িদা বর্ণনা করেছেন। তার ডাকনাম আবূ ওয়াকিদ আল-লাইসী। তিনি একজন প্রত্যাখ্যাত রাবী। ইমাম বুখারী আরো বলেন, গানীমাতের মাল আত্মসাৎকারী প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আরো হাদীস আছে। কিন্তু তিনি তাতে তার মালপত্র পুড়িয়ে ফেলার হুকুম দেননি।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন কোন ব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে বলে, “হে ইয়াহুদী তখন তাকে বিশটি চাবুক মার। যখন সে বলে, “হে নপুংসক' তখন তাকে বিশটি চাবুক মার। যে ব্যক্তি মাহরাম আত্মীয়ার সাথে যেনা করে তাকে হত্যা কর। যঈফ, মিশকাত, তাহকীক ছানী (৩৬৩২) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি আমরা শুধু উল্লেখিত সনদেই জেনেছি। এ হাদীসের অধঃস্তন রাবী ইবরাহীম ইবনু ইসমাঈল হাদীসশাস্ত্রে দুর্বল। আমাদের সমমনা আলিমগণ এ হাদীস অনুসারে আমল করেছেন। তারা বলেছেন, যে ব্যক্তি জেনেশুনে মাহরাম আত্মীয়ার সাথে যেনা করে তার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। ইমাম আহমাদ (রহঃ) বলেন, যে ব্যক্তি নিজের মাকে বিয়ে করে তাকে হত্যা করতে হবে। ইসহাক (রাহঃ) বলেন, যে ব্যক্তি মাহরাম আত্মীয়ার সাথে যেনা করে তাকে হত্যা করা হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই প্রসঙ্গে আরো কয়েকটি সূত্রে হাদীস বর্ণিত হয়েছে। যেমন বারাআ ইবনু আযিব (রাঃ) ও কুররা ইবনু ইআস আল-মুযানী (রাঃ) বর্ণনা করেছেনঃ এক ব্যক্তি নিজের পিতার স্ত্রীকে (সৎমাকে) বিয়ে করলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে হত্যা করার হুকুম দেন।