। আবূ আয়্যুব আল-আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ চারটি জিনিস নবীদের চিরাচরিত সুন্নাত। লজ্জা-শরম, সুগন্ধি ব্যবহার, মিসওয়াক করা এবং বিয়ে করা। যঈফ,মিশকাত (৩৮২),ইরওয়া (৭৫) আর রাদুআল আল-কাত্তানী পৃঃ ১২ এ অনুচ্ছেদে উসমান, সাওবান, ইবনু মাসউদ, আইশা, আবদুল্লাহ ইবনু আমর, আবূ নাজীহ, জাবির ও আক্কাফ (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, আবূ আয়ূব (রাঃ)-এর হাদীসটি হাসান গারীব। মাহমূদ ইবনু খিদাশ-আব্বাদ ইবনুল আওয়াম হতে তিনি আল-হাজ্জাজ হতে তিনি মাকহুল হতে তিনি আবূশ শিমাল হতে তিনি আবূ আয়ূব (রাঃ), এর সূত্রেও উপরের হাদীসের মতই বর্ণনা করেছেন। উপরোক্ত হাদীস হুশাইম, মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াযীদ, আবূ মুআবিয়া ও অন্যরা হাজাজ হতে তিনি মাকহল হতে তিনি আবূ আয়্যুব (রাঃ), বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এই সনদে আবূশ শিমালের উল্লেখ নেই। হাফস ইবনু গিয়াস ও আব্বাদ ইবনুল আওয়ামের হাদীসটি অনেক বেশী সহীহ।
। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, কোন এক সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে আমরা বের হলাম। আমরা ছিলাম যুবক। (বিয়ের খরচ বহনের) আমাদের আর্থিক সামর্থ্য ছিল না। তিনি বললেনঃ হে যুব সমাজ! তোমাদের বিয়ে করা উচিত। কেননা, এটা দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থানকে সুরক্ষিত রাখে। আর তোমাদের যে লোকের বিয়ের সামর্থ্য নেই সে লোক যেন রোযা আদায় করে। কেননা, তার যৌনশক্তিকে এটা নিয়ন্ত্রণে রাখবে। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৮৪৫), বুখারী, মুসলিম এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। উপরোক্ত হাদীসের তিনি আমাশ হতে, তিনি উমারা এর সূত্রেও হাদীস বর্ণিত হয়েছে। আবু ঈসা বলেন, একাধিক বর্ণনাকারী আমাশ হতে এই সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আবু মুআবিয়া ও আল মুহা-রিবী আমাশ হতে, তিনি ইবরাহীম আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আবু ঈসা বলেন, উভয় সনদই সহীহ।
। সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, (বিয়ে না করে) চিরকুমার থাকতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বারণ করেছেন। যাইদ ইবনু আখযাম (রাহঃ)-এর বর্ণিত হাদীসে আরো আছেঃ এ আয়াতটি কাতাদাহ (রাহঃ) পাঠ করেনঃ “আমরা আরো অনেক রাসূলকেই তোমার পূর্বে প্রেরণ করেছি এবং তাদেরকে স্ত্রী ও সন্তান দিয়েছি” -(সূরাঃ রা'দঃ ৩৮) — সহীহ, পূর্বের হাদীসের সহায়তায়
। সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, সাদ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) বলেন, উসমান ইবনু মাযউন (রাঃ)-এর বিয়ে না করার (চিরকুমারের) প্রস্তাবকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি তাকে অনুমতি দিলে আমরাও নিজেদেরকে চিরবন্ধা করে নিতাম। — সহীহ, বুখারী ও মুসলিম ৷ এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। সাদ, আনাস ইবনু মালিক, আইশা ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আশআস ইবনু আব্দুল মালিক এই হাদীসটি হাসান হতে তিনি সা’দ ইবনু হিশাম হতে, তিনি আইশা (রাঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে পূর্বের হাদীসের মতই বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসের দুটি সনদ সূত্রই সহীহ বলে কথিত।
। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা যে ব্যক্তির দীনদারী ও নৈতিক চরিত্রে সন্তুষ্ট আছ তোমাদের নিকট সে ব্যক্তি বিয়ের প্রস্তাব করলে তবে তার সাথে বিয়ে দাও। তা যদি না কর তাহলে পৃথিবীতে ফিতনা-ফ্যাসাদ ও চরম বিপর্যয় সৃষ্টি হবে। — হাসান সহীহ, ইরওয়া (১৮৬৮), সহীহাহ (১০২২), মিশকাত (২৫৭৯) আবু হাতিম আল-মুযানী ও আইশা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ আবদুল হামীদের বিরোধিতা করা হয়েছে আবু হুরাইরা (রাঃ)-এর হাদীসের সনদে। এটাকে মুরসাল হিসেবে আবু হুরাইরা (রাঃ)-এর সূত্রে লাইস ইবনু সা’দ ইবনু আজলান হতে বর্ণনা করেছেন। লাইসের বর্ণনাটিকে ইমাম বুখারীও বিশুদ্ধতার নিকটতর বলেছেন এবং আবদুল হামীদের বর্ণনাকে সংরক্ষিত বলে বলে মনে করেন না।
। আবূ হাতিম আল-মুযানী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা যে লোকের দীনদারী ও নৈতিক চরিত্র দ্বারা সন্তুষ্ট আছ, তোমাদের নিকট যদি সে বিয়ের প্রস্তাব দেয়, তবে তার সাথে (তোমাদের পাত্রীর) বিয়ে দাও। তা না করলে পৃথিবীতে ফিতনা-ফ্যাসাদ ও বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়বে। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! কিছু (ক্রটি) তার মাঝে থাকলেও কি? তিনি বললেনঃ তোমাদের নিকটে যে লোকের দীনশীলতা ও নৈতিক চরিত্র পছন্দ হয় সে লোক তোমাদের নিকট বিয়ের প্রস্তাব করলে তবে তার সাথে বিয়ে দাও। (বর্ণনাকারী বলেন) একথা তিনি তিনবার বললেন। - হাসান, পূর্বের হাদীসের সহায়তায় এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্য পেয়েছেন আবু হাতিম আল-মুযানী। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এ হাদীসটি ব্যতীত আর কোন হাদীস বর্ণনা করেছেন কি-না তা আমাদের জানা নেই।
। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মহিলাদেরকে বিয়ে করা হয় তাদের দীনদারী, ধন-সম্পদ ও সৌন্দর্য দেখে। অবশ্যই তুমি দীনদার পাত্রীকে বেশি অগ্রাধিকার দিবে; কল্যাণে তোমার হাত পরিপূর্ণ হবে। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৮৫৮), বুখারী ও মুসলিম আওফ ইবনু মালিক, আইশা, আবদুল্লাহ ইবনু আমর ও আবু সাঈদ (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
। মুগীরা ইবনু শুবা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি এক মহিলার নিকট বিয়ের প্রস্তাব প্রেরণ করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাকে দেখে নাও, তোমাদের মধ্যে এটা ভালবাসার সৃষ্টি করবে। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৮৬৫) মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামা, জাবির, আবু হুমাইদ, আনাস ও আবু হুরাইরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী একদল আলিম আমল করেছেন। তারা বলেছেন, বিয়ে করার পূর্বে নিষিদ্ধ অঙ্গের প্রতি না তাকিয়ে পাত্রী দেখাতে কোন সমস্যা নেই। এই মত ইমাম আহমাদ ও ইসহাকেরও। তোমাদের উভয়ের মধ্যে ভালবাসার সৃষ্টি হবে এ কথার অর্থঃ পাত্রীকে দেখে পছন্দ করার পর বিয়ে করলে দাম্পত্য জীবনের ভালোবাসা স্থায়ী হয়।
হাদিস 1088 — Jami At Tirmidhi 11:9
হাসানহাসানহাসানIsnaad Hasan
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَلْجٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ حَاطِبٍ الْجُمَحِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " فَصْلُ مَا بَيْنَ الْحَرَامِ وَالْحَلاَلِ الدُّفُّ وَالصَّوْتُ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَائِشَةَ وَجَابِرٍ وَالرُّبَيِّعِ بِنْتِ مُعَوِّذٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ مُحَمَّدِ بْنِ حَاطِبٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَأَبُو بَلْجٍ اسْمُهُ يَحْيَى بْنُ أَبِي سُلَيْمٍ وَيُقَالُ ابْنُ سُلَيْمٍ أَيْضًا . وَمُحَمَّدُ بْنُ حَاطِبٍ قَدْ رَأَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ غُلاَمٌ صَغِيرٌ .
। মুহাম্মাদ ইবনু হাতিব আল-জুমাহী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দফ বাজানো ও ঘোষণা দেয়া হচ্ছে (বিয়েতে) হালাল ও হারামের পার্থক্য। — হাসান, ইবনু মা-জাহ (১৮৯৬) আইশা, জাবির ও রুবাই বিনতু মুআওব্বায (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। মুহাম্মাদ ইবনু হাতিব (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান বলেছেন। আবু বালজের নাম ইয়াহইয়া, পিতা আবু সুলাইম এবং তাকে ইবনু সুলাইমও বলা হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মুহাম্মাদ ইবনু হাতিব দেখতে পেয়েছেন। সে সময় তিনি নাবালেগ ছিলেন।
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা বিয়ের ঘোষণা দিবে, বিয়ের কাজ মসজিদে সম্পন্ন করবে এবং এতে দফ পিটাবে। বিয়ের ঘোষণা দিবে এই অংশটি ব্যতীত হাদীসটি যঈফ। ইবনু মাজাহ (১৮৯৫) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। ঈসা ইবনু মাইমূন হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল। তবে যে ঈসা ইবনু মাইমূন তাফসীর সম্পর্কে ইবনু আবূ নাজীহ হতে বর্ণনা করেছেন তিনি নির্ভরযোগ্য।