। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বিবিদের মাঝে খুবই ন্যায়সংগতভাবে পালা বন্টন করতেন। আর তিনি বলতেনঃ “হে আল্লাহ! আমার সামর্থ্য অনুযায়ী এই আমার পালা বন্টন। যে ব্যাপারে শুধু তোমারই পূর্ণ শক্তি আছে, আমার কোন শক্তি নেই, সেই ব্যাপারে আমাকে তিরস্কার কর না।” যঈফ, ইবনু মাজাহ (১৯৭১) আবূ ঈসা বলেছেন, আইশা (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি একাধিক রাবী হাম্মাদ ইবনু সালামা হতে উল্লিখিত সূত্রে বর্ণনা করেছেন। কোন কোন বর্ণনায় আবূ কিলাবার সূত্রে এ হাদীসটি মুরসাল হিসেবে বর্ণিত হয়েছে এবং এটাই বেশী সহীহ। “লা তালুমনী ফীমা তামলিকু অলা আমলিকু”-এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে কোন কোন আলিম বলেছেনঃ আন্তরিক প্রেম-ভালোবাসার উপর আমার কোন নিয়ন্ত্রণ নেই (এটা কম-বেশী হতে পারে)।
। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোকের নিকট দু’জন স্ত্রী আছে সে লোক যদি তাদের মধ্যে সমতা না রাখে তবে কিয়ামতের দিন সে লোক তার দেহের এক পার্শ্ব ভাঙ্গা অবস্থায় উপস্থিত হবে। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৯৬৯) এ হাদিসটি মুসনাদ হিসাবে কাতাদার সুত্রে হাম্মাম ইবনু ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন। কাতাদার সূত্রে হিশাম আদ-দাসতাওয়াঈও এটিকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, কথিত আছে যে, এটা মারফু হিসাবে শুধু হাম্মামের সূত্রেই বর্ণিত হয়েছে। আর হাম্মাম একজন বিশ্বস্ত ও স্মরণশক্তি সম্পন্ন বর্ণনাকারী।
। আমর ইবনু শুআইব (রহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় কন্যা যাইনাবকে পুনরায় মোহর নির্ধারণ করে এবং নতুন বিয়ের মাধ্যমে আবূল আস ইবনুর রাবীর নিকটে ফেরিয়ে দেন। যঈফ, ইবনু মাজাহ (২০১০) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসের সনদ সম্পর্কে সমালোচনা রয়েছে। বিদ্বানগণ এই হাদীসের মর্মানুযায়ী আমল করেছেন। কোন মহিলা যদি প্রথমে ইসলাম গ্রহণ করে এবং তার ইদ্দত পালনের সময়ই তার স্বামী ইসলাম গ্রহণ করে তবে তার পূর্ব স্বামীর অধিকার অগ্রগণ্য। মালিক ইবনু আনাস, আল-আওযায়ী, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক প্রমুখ ইমামগণের ইহাই অভিমত।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার মেয়ে যাইনাবকে প্রথম বিয়ে বহাল রেখেই আবূল আস ইবনুর রাবীকে ছয় বছর পর ফিরিয়ে দিয়েছেন, নতুন করে বিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেননি। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২০০৯) আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসের সনদে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু এর কারণ প্রসঙ্গে আমরা কিছু জানি না। সম্ভবতঃ এই বিষয়টি দাউদ ইবনু হুসাইনের স্মরণশক্তির দুর্বলতার জন্যেই উৎপত্তি হয়েছে।
ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময়ে এক লোক মুসলিম হয়ে আসার পর তার স্ত্রীও মুসলিম হয়ে আসে। লোকটি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! সে আমার সাথে মুসলিম হয়েছে। অতএব আমার স্ত্রী আমাকে ফিরিয়ে দিন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার স্ত্রী তাকে ফেরত দিলেন। এ হাদীসটি সহীহ ইয়াযীদ ইবনু হারূন মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাকের সূত্রে হাদীসটি উল্লেখ করেছেন। হাজ্জাজের সূত্রে আমর ইবনু শুয়াইব হতে তিনি তার পিতা হতে তিনি তার দাদা হতে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কন্যা যাইনাবকে নতুনভাবে মহরানা ধাৰ্য্য করে নতুন বিয়ের মাধ্যমে আবূল আসের নিকট ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। ইয়াযীদ ইবনু হারুন বলেছেনঃ ইবনু আব্বাস (রাঃ) বর্ণিত হাদীস সনদের দিক হতে খুবই উত্তম, কিন্তু আমর ইবনু শুআইবের হাদীস অনুসারে আমল প্রচলিত আছে। আমর ইবনু শুআইব এর হাদীসটি যঈফ; ইরওয়া (১৯১৮)। যঈফ আবূ দাউদ
ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তাকে প্রশ্ন করা হলঃ এক লোক এক মহিলাকে বিয়ের পর তার মোহর না ঠিক করে এবং তার সাথে সহবাস না করেই মৃত্যুবরণ করল, তার জন্য কি হুকুম আছে? ইবনু মাসউদ (রাঃ) বললেন, মহিলাটি তার পরিবারের অন্যান্য মেয়েদের সম-পরিমাণ মোহর পাবে, তার কমও পাবে না বেশিও পাবে না। তার স্বামীর মৃত্যুর জন্য সে মহিলাটি ইদ্দাত পালন করবে এবং সে (তার) ওয়ারিসের অধিকারীও হবে। তখন মাকিল ইবনু সিনান আল-আশজাঈ (রাঃ) দাড়িয়ে বললেন, আপনি যে ধরণের ফায়সালা করেছেন, আমাদের বংশের মেয়ে ওয়াশিকের কন্যা বিরওয়াআ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও একই ফায়সালা করেছেন। ইবনু মাসউদ (রাঃ) এটা শুনে খুবই আনন্দিত হন। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৮৯১) আল-জাররাহ (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। উপরোক্ত হাদীসের মত ইয়াযীদ ইবনু হারূন ও আবদুর রাযযাক-সুফিয়ান হতে, তিনি মানসূর হতে এর সূত্রেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু মাসউদ (রাঃ)-এর বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীসটি তার নিকট হতে একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। এ হাদীস অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও অপরাপর আলিম আমল করেছেন। এই মত দিয়েছেন সুফিয়ান সাওরী, আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ)-ও। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্য একদল সাহাবী, যেমন আলী ইবনু আবূ তালিব, যাইদ ইবনু সাবিত, ইবনু আব্বাস ও ইবনু উমার (রাঃ) বলেছেন, কোন স্ত্রীলোককে কোন লোক বিয়ে করে মোহর নির্ধারণ ও সহবাসের আগে মৃত্যুবরণ করলে সে মীরাস পাবে কিন্তু মোহর পাবে না এবং সেই মহিলাকে ইদ্দাত পালন করতে হবে। একথাটি ইমাম শাফিঈও ব্যক্ত করেছেন। তিনি আরো বলেছেন, ওয়াশিকের কন্যা বিরওয়াআর হাদীস (সহীহ) হিসেবে প্রমাণিত হলে তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে প্রাপ্ত সর্বশেষ ফায়সালা হবে এটাই। মিসর গিয়ে শাফিঈ (রাহঃ) নিজের প্রথম অভিমতটি বাতিল করেন এবং এ হাদীস অনুযায়ী মত গ্রহণ করেন।