। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কুরবানীর দিন মানুষ যে কাজ করে তার মধ্যে আল্লাহ তা'আলার নিকট সবচাইতে পছন্দনীয় হচ্ছে রক্ত প্রবাহিত করা (কুরবানী করা)। কিয়ামতের দিন তা নিজের শিং, পশম ও ক্ষুরসহ হাযির হবে। তার (কুরবানীর পশুর) রক্ত যমিনে পড়ার আগেই আল্লাহ্ তা'আলার নিকটে এক বিশেষ মর্যাদায় পৌছে যায়। অতএব তোমরা আনন্দিত মনে কুরবানী কর। যঈফ, ইবনু মাজাহ (৩১২৬) এ অনুচ্ছেদে ইমরান ইবনু হুসাইন ও যাইদ ইবনু আরকাম (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। শুধু উল্লেখিত সনদ সূত্রেই আমরা এ হাদীসটি হিশাম হতে বর্ণিত হিসেবে জেনেছি। আবূল মুসান্নার নাম সুলাইমান, পিতা ইয়াযীদ। ইবনু আবূ ফুদাইক তার সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেছেন। এক বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “কুরবানীকারীর জন্য প্রতিটি লোমের বিনিময়ে সাওয়াব আছে। অপর এক বর্ণনায় আছে 'প্রতিটি শিং-এর বিনিময়ে। খুবই দুর্বল, মিশকাত
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই শিং যুক্ত ধুসর রং-এর দুটি মেষ কুরবানী করেছেন। তিনি এ দু'টিকে বিসমিল্লাহ ও আল্লাহু আকবার বলে নিজ হাতে যবেহ করেছেন- এর পাজরে নিজের পা রেখে চেপে ধরে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩১২০), নাসা-ঈ আলী, আইশা, আবু হুরাইরা, আবু আইয়ুব, জাবির, আবুদ দারাদা আবূ রাফি, ইবনু উমার ও আবূ বাকরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি দুটি মেষ কুরবানী করতেন, একটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ হতে এবং অপরটি নিজের পক্ষ হতে। এ ব্যাপারে তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এই হুকুম করেছেন। অতএব আমি কখনও তা বাদ দেব না। সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। শুধু শারীকের সূত্রেই আমরা এ হাদীস জেনেছি। একদল আলিম মৃতের পক্ষ হতে কুরবানী করার অনুমতি দিয়েছেন এবং অপর একদল তা জায়িয মনে করেন না। আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারাক (রাহঃ) বলেন, মৃতের পক্ষ হতে কুরবানী করার পরিবর্তে দান-খাইরাত করাই আমি পছন্দ করি। তবে মৃতের পক্ষ হতে কুরবানী করা হলে তার সম্পূর্ণ গোশত দান করে দিতে হবে, নিজেরা খেতে পারবে না। মুহাম্মাদ (বুখারী) বলেনঃ আলী ইবনু আল মাদীনী বলেছেনঃ এ হাদীটি শারীক ছাড়া অন্যরাও বর্ণনা করেছেন। আমি (তিরমিয়ী) বললাম আবূল হাসনার নাম কি? তিনি তাকে চিনতে পারলেন না। মুসলিম বলেছেন তার নাম হাসান।
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিং বিশিষ্ট ও মোটাতাজা (শক্তিশালী) একটি মেষ কুরবানী করেছেন। এর চেহারা, পা ও চোখ ছিল মিটমিটে কালো। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩১২৮) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ গারীব বলেছেন। আমরা শুধু হাফস ইবনু গিয়াসের সূত্রেই তা জেনেছি।
। আবূ কিবাশ (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি ছয়মাস বয়সের কিছু সংখ্যক মেষ বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে মাদীনায় আনলাম। কিন্তু সেগুলো বাজারে বিক্রয় হল না (মূল্য কমে গেল)। আমি আবূ হুরাইরা (রাঃ)-এর সাথে দেখা করে তাকে এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ "ছয় মাস বয়সের মেষ কুরবানীর জন্য কতই না উত্তম!” রাবী বলেন, (এ কথা শুনে) লোকেরা মেষগুলো সাথে সাথে ছিনিয়ে নিল (তাড়াহুড়া করে কিনে নিল)। যঈফ, যঈফা (৪), মিশকাত (১৪৬৮), ইরওয়া (১১৪৩) এ অনুচ্ছেদে ইবনু আব্বাস, উম্মু বিলাল বিনতি হিলাল তার পিতার সূত্রে, জাবির, উকবা ইবনু আমির (রাঃ) এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আরো একজন সাহাবী হতে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, আবূ হুরাইরা (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান গারীব। এটি আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে মাওকুফ হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে। উসমান ইবনু ওয়াকিদ, তিনি হলেন ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু যিয়াদ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু উমার ইবনুল খাত্তাব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী ও তার পরবর্তী আলিমগণ এ হাদীস অনুসারে আমল করেছেন। তাদের মতে কুরবানীর জন্য ছয়মাস বয়সের ছাগল-ভেড়া যথেষ্ট।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, এক ভ্রমণে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম। এরকম পরিস্থিতিতে কুরবানীর ঈদ উপস্থিত হল। তখন আমরা একটি গরুতে সাতজন অংশীদার হয়ে এবং একটি উটে দশজন অংশীদার হয়ে কুরবানী আদায় করলাম। সহীহ, পূর্বে ৮৯৮ নং হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। আবূল আসাদ আস-সুলামী পর্যায়ক্রমে তার বাবা ও দাদার সূত্রে এবং আবূ আইয়ূব (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। আমরা এ হাদীস বিষয়ে শুধুমাত্র ফাযল ইবনু মূসার সূত্রেই জেনেছি।
হাদিস 1502 — Jami At Tirmidhi 19:13
সহিহসহিহহাসান Sahihসহিহ Muslim
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ نَحَرْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْحُدَيْبِيَةِ الْبَدَنَةَ عَنْ سَبْعَةٍ وَالْبَقَرَةَ عَنْ سَبْعَةٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَابْنِ الْمُبَارَكِ وَالشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . وَقَالَ إِسْحَاقُ يُجْزِئُ أَيْضًا الْبَعِيرُ عَنْ عَشَرَةٍ . وَاحْتَجَّ بِحَدِيثِ ابْنِ عَبَّاسٍ .
। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমরা হুদাইবিয়া নামক জায়গাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে একটি উটে সাতজন অংশীদার হয়ে এবং একটি গরুতেও সাতজন অংশীদার হয়ে কুরবানী সম্পন্ন করেছি। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩১৩২), মুসলিম এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস অনুসারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অভিজ্ঞ সাহাবী ও অন্যান্য আলিমগণ আমল করেছেন। একই অভিমত সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকের (সাতজন পর্যন্ত উট-গরুতে অংশীদার হওয়া যায়)। ইসহাক (রাহঃ) আরো বলেন, দশজন মানুষও একটি উটে অংশীদার হতে পারে। তিনি ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর হাদীসকে তার এ মতের সমর্থনে দলীল হিসাবে উল্লেখ করেছেন।