। ইউসুফ ইবনু মাহাক (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তারা কয়েকজন একত্রিত হয়ে আবদুর রাহমানের মেয়ে হাফসার নিকট গেলেন। তারা তাকে আকীকার ব্যপারে প্রশ্ন করলে তিনি তাদেরকে জানান যে, তাকে আইশা (রাঃ) জানিয়েছেন, ছেলে সন্তানের পক্ষে একই বয়সের দুটি বকরী এবং মেয়ে সন্তানের পক্ষে একটি বকরী আকীকা দেওয়ার জন্যে তাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিয়েছেন। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩১৩৬) আলী, উম্মু কুরজ, বুরাইদা, সামুরা, আবূ হুরায়রা, আব্দুল্লাহ ইবনু আমর, আনাস, সালমান ইবনু আমির ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আইশা (রাঃ)-এর হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। হাফসা হচ্ছেন আবূ বাকর (রাঃ)-এর ছেলে আবদুর রাহমানের মেয়ে।
হাদিস 1514 — Jami At Tirmidhi 19:25
হাসানহাসানহাসান Sahihদাঈফ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، قَالاَ أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَذَّنَ فِي أُذُنِ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ حِينَ وَلَدَتْهُ فَاطِمَةُ بِالصَّلاَةِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ فِي الْعَقِيقَةِ عَلَى مَا رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنِ الْغُلاَمِ شَاتَانِ مُكَافِئَتَانِ وَعَنِ الْجَارِيَةِ شَاةٌ . - وَرُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَيْضًا أَنَّهُ عَقَّ عَنِ الْحَسَنِ بِشَاةٍ وَقَدْ ذَهَبَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ إِلَى هَذَا الْحَدِيثِ .
। উবাইদুল্লাহ ইবনু আবূ রাফি (রাঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি (আবূ রাফি) বলেন, ফাতিমা (রাঃ) হাসান ইবনু আলী (রাঃ)-কে প্রসব করলে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হাসানের কানে নামাযের আযানের মতই আযান দিতে দেখেছি। যঈফ, যঈফা নতুন সংস্করণ (১/৪৯৩) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আকীকা প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হাদীস "ছেলে সন্তানের পক্ষ হতে সমবয়সী দুটি বকরী এবং মেয়ে সন্তানের পক্ষ হতে একটি বকরী যবেহ করতে হবে" অনুযায়ী আমল করতে হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে আরো বর্ণিত আছে যে, তিনি একটি বকরী দিয়ে হাসান ইবনু আলীর আকীকা করেছেন। একদল বিশেষজ্ঞ আলিম এ হাদীস অনুযায়ী আমল করার পক্ষে মত দিয়েছেন।
। উম্মু কুরয (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট তিনি আকীকার ব্যপারে প্রশ্ন করেন। তিনি বললেনঃ ছেলে সন্তানের পক্ষে দুটি বকরী এবং মেয়ে সন্তানের পক্ষে একটি বকরী (আকীকা দিতে হবে)। আকীকার পশু নর বা মাদী যাই হোক না কেন তাতে তোমাদের কোন অসুবিধা নেই। সহীহ, ইরওয়া (৪/৩৯১) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
। আবূ উমামা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কুরবানীর জন্য উত্তম পশু হল মেষ এবং উত্তম কাফন হল হুল্লা (হুল্লা অর্থ– নতুন কাপড় অথবা সমস্ত শরীর আবূত করে এমন কাপড়)। যঈফ, ইবনু মাজাহ (৩১৬৪) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। উফাইর ইবনু মাদানকে হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল সাব্যস্ত করা হয়েছে।
। মিখনাফ ইবনু সুলাইম (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমরা আরাফাতের মাঠে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম। আমি তাকে বলতে শুনেছিঃ হে জনসমষ্টি! প্রতি বছর প্রতিটি পরিবারের পক্ষ হতে কুরবানী ও আতীরা রয়েছে। তোমরা কি জান, আতীরা কী? তোমরা যাকে রাজাবিয়া বল এটা তাই। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩১২৫) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান গরীব বলেছেন। আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র উল্লেখিত সূত্রেই ইবনু আওনের রিওয়ায়াত হিসাবে জেনেছি।
। আলী ইবনু আবী তালিব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, একটি বকরী দ্বারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসানের আকীকা করেন এবং বলেনঃ হে ফাতিমা! তার মাথা নেড়া করে দাও এবং তার চুলের ওজনের অনুরূপ রূপা দান কর। তদানুযায়ী আমি তার চুল ওজন করলাম এবং তার ওজন এক দিরহাম বা তার কাছাকাছি হয়। হাসান, ইরওয়া (১১৭৫) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। এর সনদ পরস্পর সংযুক্ত (মুত্তাসিল) নয়। বর্ণনাকারী আবূ জাফর মুহাম্মাদ ইবনু আলী হুসাইন (রাহঃ) আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ)-এর সাক্ষাত পাননি।
। আবদুর রাহমান ইবনু আবূ বাকরা (রহঃ) হতে তার বাবার সুত্রে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের নামাযের (পর) খুৎবা প্রদান করলেন। তারপর মিম্বার হতে নেমে দুটি মেষ আনতে বললেন। তারপর এ দু'টোকে তিনি যবেহ করলেন। সহীহ, মুসলিম (৫/১০৮) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
হাদিস 1521 — Jami At Tirmidhi 19:33
সহিহসহিহদাঈফ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ أَبِي عَمْرٍو، عَنِ الْمُطَّلِبِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ شَهِدْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم الأَضْحَى بِالْمُصَلَّى فَلَمَّا قَضَى خُطْبَتَهُ نَزَلَ عَنْ مِنْبَرِهِ فَأُتِيَ بِكَبْشٍ فَذَبَحَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِيَدِهِ وَقَالَ " بِسْمِ اللَّهِ وَاللَّهُ أَكْبَرُ هَذَا عَنِّي وَعَمَّنْ لَمْ يُضَحِّ مِنْ أُمَّتِي " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ أَنْ يَقُولَ الرَّجُلُ إِذَا ذَبَحَ بِسْمِ اللَّهِ وَاللَّهُ أَكْبَرُ وَهُوَ قَوْلُ ابْنِ الْمُبَارَكِ . وَالْمُطَّلِبُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَنْطَبٍ يُقَالُ إِنَّهُ لَمْ يَسْمَعْ مِنْ جَابِرٍ .
। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি ৰলেন, আমি মাঠে হাযির হলাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ঈদুল আযহার নামায আদায়ের উদ্দেশ্যে। তিনি খুৎবা সমাপ্তির পর তার মিম্বার হতে নামলেন। তারপর একটি ভেড়া আনা হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা নিজ হাতে যবেহ করলেন এবং বললেনঃ “আল্লাহ্ তা'আলার নামে, আল্লাহ মহান, এই কুরবানী আমার পক্ষ হতে এবং আমার উম্মাতের যে সকল ব্যক্তিরা কুরবানী করতে পারেনি তাদের পক্ষ হতে। সহীহ, ইরওয়া (১১৩৮), সহীহ আবূ দাউদ (২৫০১) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা উল্লেখিত সনদ সূত্রে গারীব বলেছেন। এ হাদীস মোতাবিক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অভিজ্ঞ সাহাবী ও অপরাপর আলিমগণ আমল করেছেন। তারা মনে করেন যবাহের সময় “বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার" বলতে হবে। এই মত দিয়েছেন ইবনুল মুবারাকও। মুত্তালিবের পুত্র আবদুল্লাহ ইবনু হানতাব প্রসঙ্গে কথিত আছে যে, জাবির (রাঃ)-এর নিকট হতে তিনি কিছু শুনার সুযোগ লাভ করেননি।
হাদিস 1522 — Jami At Tirmidhi 19:34
সহিহসহিহহাসান Sahih
। সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সকল শিশুই তার আকীকার সাথে বন্ধক (দায়বদ্ধ) অবস্থায় থাকে। জনুগ্রহণ করার সপ্তম দিনে তার পক্ষে যবেহ করতে হবে, তার নাম রাখতে হবে এবং তার মাথা নেড়া করতে হবে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩১৬৫) আল-হাসান ইবনু আলী আল-খাল্লাল-ইয়াজীদ ইবনু হারুন হতে, তিনি সাঈদ ইবনু আবূ আরুবা হতে, তিনি কাতাদা হতে, তিনি আল-হাসান হতে, তিনি সামুরা ইবনু জুনদাব (রাঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রেও উপরে বর্ণিত হাদীসের মতো বর্ণিত হয়েছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস মোতাবিক অভিজ্ঞ আলিমগণ আমল করেছেন। তারা মনে করেন শিশু জন্মগ্রহণ করার সপ্তম দিনে তার পক্ষে আকীকা করাটা মুস্তাহাব, সপ্তম দিনে অক্ষম হলে চৌদতম দিনে এবং সেই তারিখেও অক্ষম হলে একুশতম দিনে। তারা আরো বলেন, যে ধরনের বকরী কুরবানীর জন্য বৈধ সেই ধরনের বকরী আকীকার জন্যও বৈধ।