। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ জিবরীল (আঃ) কা'বা শরীফের চত্বরে দু'বার আমার নামাযে ইমামতি করেছেন। তিনি প্রথমবার যুহরের নামায আদায় করালেন যখন প্রতিটি জিনিসের ছায়া জুতার ফিতার মত ছিল। অতঃপর তিনি আসরের নামায আদায় করালেন যখন কোন বস্তুর ছায়া তার সমান ছিল। অতঃপর মাগরিবের নামায আদায় করালেন যখন সূর্য ডুবে গেল এবং যে সময়ে রোযাদার ইফতার করে। অতঃপর ইশার নামায আদায় করালেন যখন লাল বর্ণ অদৃশ্য হয়ে গেল। অতঃপর ফযরের নামায আদায় করালেন যখন ভোর বিদ্যুতের মত আলোকিত হল এবং যে সময় রোযাদারের উপর পানাহার হারাম হয়। তিনি (জিবরীল) দ্বিতীয় এবং পূর্ববর্তী দিন ঠিক যে সময় আসরের নামায আদায় করেছিলেন। অতঃপর আসরের নামায আদায় করালেন যখন কোন বস্তুর ছায়া তার দ্বিগুণ হল। অতঃপর মাগরিবের নামায আদায় করালেন পূর্বের দিনের সময়ে। অতঃপর ‘ইশার নামায আদায় করালেন যখন রাতের এক-তৃতীয়াংশ চলে গেল এবং ফযরের নামায আদায় করালেন যখন যমিন আলোকিত হয়ে গেল। অতঃপর জিবরীল (আঃ) আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, হে মুহাম্মাদ! এটাই হল আপনার পূর্ববর্তী নবীদের (নামাযের) ওয়াক্ত। নামাযের ওয়াক্ত এই দুই সীমার মাঝখানে। —হাসান সহীহ। মিশকাত— (৫৮৩), ইরওয়া— (২৪৯), সহীহ আবু দাউদ- (৪১৬)। আবু ঈসা বলেনঃ এ অনুচ্ছেদে আবু হুরাইরা, বুরাইদা, আবু মূসা, আবু মাসউদ, আবু সাঈদ, জাবির, আমর ইবনু হাযাম, বারাআ ও আনাস (রাঃ) হতেও বর্ণনাকৃত হাদীস রয়েছে।
হাদিস 150 — Jami At Tirmidhi 2:2
সহিহসহিহহাসানIsnaad Hasan
أَخْبَرَنِي أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُوسَى، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، أَخْبَرَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ حُسَيْنٍ، أَخْبَرَنِي وَهْبُ بْنُ كَيْسَانَ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَمَّنِي جِبْرِيلُ " . فَذَكَرَ نَحْوَ حَدِيثِ ابْنِ عَبَّاسٍ بِمَعْنَاهُ . وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ " لِوَقْتِ الْعَصْرِ بِالأَمْسِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ . وَحَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَالَ مُحَمَّدٌ أَصَحُّ شَيْءٍ فِي الْمَوَاقِيتِ حَدِيثُ جَابِرٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . قَالَ وَحَدِيثُ جَابِرٍ فِي الْمَوَاقِيتِ قَدْ رَوَاهُ عَطَاءُ بْنُ أَبِي رَبَاحٍ وَعَمْرُو بْنُ دِينَارٍ وَأَبُو الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَ حَدِيثِ وَهْبِ بْنِ كَيْسَانَ عَنْ جَابِرٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .
। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ জিবরীল (আঃ) আমার ইমামতি করলেন, হাদীসের অবশিষ্ট বর্ণনা ইবনু আব্বাসের হাদীসের মত। তবে এ হাদীসে আসরের নামায সম্পর্কে “গতকাল” শব্দটির উল্লেখ নেই। -সহীহ। ইরওয়া- (২৫০), সহীহ আবু দাউদ- (৪১৮)। আবু ঈসা বলেনঃ ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর হাদীসটি হাসান সহীহ এবং জাবির (রাঃ)-এর হাদীসটি হাসান, সহীহ গারীব। মুহাম্মাদ (বুখারী) বলেন, নামাযের ওয়াক্ত সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হতে বর্ণিত জাবিরের হাদীসটি সনদের দৃষ্টিকোণ হতে সবচাইতে সহীহ। ওয়াক্ত সম্পর্কিত জাবিরের হাদীসটি “আতা ইবনু আবী রাবাহ আমর ইবনু দীনার ও আবু যুবাইর জাবির হতে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ওয়াহব ইবনু কাইসানের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নামাযের ওয়াক্তের শুরু ও শেষ সীমা রয়েছে। যুহরের নামাযের শুরুর সময় হচ্ছে যখন (সূর্য পশ্চিম দিকে) ঢলতে শুরু করে এবং শেষ ওয়াক্ত হচ্ছে আসরের ওয়াক্ত শুরু হওয়া। আসরের প্রথম ওয়াক্ত হচ্ছে যখন আসরের ওয়াক্ত প্রবেশ করে (যুহরের শেষ সময়) এবং তার শেষ ওয়াক্ত হচ্ছে যখন সূর্যের আলো হলুদ রং ধারণ করে। মাগরিবের প্রথম ওয়াক্ত হচ্ছে সূর্য ডুবে যাওয়ার পর এবং তার শেষ ওয়াক্ত হচ্ছে যখন শাফাক চলে যায়। ইশার প্রথম ওয়াক্ত হচ্ছে যখন শাফাক বিলীন হয়ে যায়, আর তার শেষ ওয়াক্ত হচ্ছে যখন অর্ধেক রাত চলে যায়। ফযরের নামাযের প্রথম ওয়াক্ত যখন ভোর শুরু হয় এবং তার ওয়াক্ত শেষ হয় যখন সূর্য উঠা শুরু হয়। -সহীহ। আস-সহীহাহ- (১৬৯৬)। এ অনুচ্ছেদে আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীস রয়েছে। আবু ঈসা বলেন, আমি মুহাম্মাদকে বলতে শুনেছি, নামাযের ওয়াক্ত সম্পর্কে মুজাহিদ হতে আমাশের সূত্রে বর্ণনাকৃত হাদীসটি আমাশ হতে মুহাম্মাদ ইবনু ফুযাইলের সূত্রে বর্ণিত হাদীসের চেয়ে বেশি সহীহ। কেননা মুহাম্মাদ ইবনু ফুযাইল রাবীদের সনদের ধারা বর্ণনায় ক্রটি করেছেন। মুজাহিদ (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, কথিত আছে যে, নামাযের ওয়াক্তের শুরু এবং শেষ প্রান্ত রয়েছে। এ হাদীসটি অর্থ ও বিষয়বস্তুর দিক হতে মুহাম্মদ ইবনু ফুযাইল হতে আমাশের সূত্রে বর্ণিত হাদীসের মতই।
। সুলাইমান ইবনু বুরাইদা (রাঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (বুরাইদা) বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ নবী আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে তাকে নামাযের ওয়াক্ত সম্পর্কে প্রশ্ন করল। তিনি বললেনঃ আল্লাহ তা'আলা চান তো তুমি আমাদের সংগে থাক। তিনি বিলাল (রাঃ)-কে নির্দেশ দিলেন এবং সে অনুযায়ী তিনি ভোর (সুবহি সাদিক) উদয় হলে ফযরের নামাযের ইকামাত দিলেন। তিনি আবার নির্দেশ দিলেন এবং সূর্য ঢলে গেলে তিনি (বিলাল) ইকামাত দিলেন। অতঃপর তিনি যুহরের নামায আদায় করালেন। তিনি আবার নির্দেশ দিলে বিলাল ইকামাত দিলেন। তখন সূর্য অনেক উপরে ছিল এবং আলোক উদ্ভাসিত ছিল। অতঃপর তিনি ‘আসরের নামায আদায় করালেন। অতঃপর সূর্য ডুবে যাওয়ার সাথে সাথে তিনি তাকে মাগরিবের নামাযের ইকামাত দেয়ার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর তিনি তাকে ইশার নামাযের (ইকামাতের) নির্দেশ দিলেন। শাফাক অদৃশ্য হলে তিনি ইকামাত দিলেন। পরবর্তী সকালে তিনি তাকে (ইকামাতের) নির্দেশ দিলেন। ভোর খুব পরিষ্কার হওয়ার পর তিনি ফযরের নামায আদায় করালেন। অতঃপর তিনি তাকে যুহরের নামাযের (ইক্বামাত(ইকামত/একামত)ের) নির্দেশ দিলেন এবং (সূর্যের তাপ) যথেষ্ট ঠাণ্ডা হওয়া পর্যন্ত দেরি করে নামায আদায় করলেন। অতঃপর তিনি তাকে আসরের নামাযের নির্দেশ দিলেন, সে অনুযায়ী তিনি (বিলাল) সূর্য শেষ সীমায় এবং পূর্ব দিনের চেয়ে অনেক নীচে নেমে আসলে ইকামাত দিলেন [অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের নামায আদায় করালেন]। অতঃপর তিনি তাকে (ইকামাতের) নির্দেশ দিলেন এবং শাফাক অদৃশ্য হওয়ার সামান্য পূর্বে মাগরিবের নামায আদায় করালেন। অতঃপর তিনি তাকে ইশার নামাযের ইকামাত দেয়ার নির্দেশ দিলেন এবং সে অনুযায়ী এক-তৃতীয়াংশ রাত চলে যাবার পর ইকামাত দিলেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ নামাযের ওয়াক্ত সম্পর্কে প্রশ্নকারী কোথায়? লোকটি বলল, আমি। তিনি বললেনঃ নামাযের সময় এই দুই সীমার মাঝখানে। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৬৬৭), মুসলিম। আবু ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান, গারীব সহীহ। শুবাও এ হাদীসটি আলকামাহ ইবনু মারসাদ হতে বর্ণনা করেছেন।
। আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফযরের নামায আদায় করতেন, অতঃপর মহিলারা ফিরে আসতেন। আনসারীর বর্ণনায় আছে– মহিলারা নিজেদের চাদর মুড়িয়ে চলে যেতেন এবং অন্ধকারের মধ্যে তাদের চেনা যেত না। কুতাইবার বর্ণনায় (মুতালাফফিফাতিন শব্দের স্থলে) মুতালাফফি'আতিন’ শব্দ রয়েছে। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৬৬৯), বুখারী ও মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে ইবনু উমার, আনাস ও কাইলা বিনতু মাখরামা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে। আবু ঈসা বলেন, ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর হাদীসটি হাসান সহীহ। যুহরী হাদীসটি উরওয়া হতে তিনি আয়িশাহ হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। কিছু সাহাবা যেমন, আবু বাকার ও উমর (রাঃ) এবং তাদের পরবর্তীগণ অন্ধকার থাকতেই ফযরের নামায আদায় করা মুস্তাহাব বলেছেন। ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক একই মত ব্যক্ত করেছেন।
। রাফি ইবনু খাদীজ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ তোমরা ফযরের নামায (ভোরের অন্ধকার) ফর্সা করে আদায় কর। কেননা তাতে অনেক সাওয়াব রয়েছে। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৬৭২)। শুবা ও সুফিয়ান সাওরী মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাকের সূত্রে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মাদ ইবনু আজলান ও আসিম ইবনু উমারের সূত্রে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এ অনুচ্ছেদে আবু বারযা, জাবির এবং বিলাল (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ রাফি' (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর একাধিক বিশেষজ্ঞ সাহাবা ও তাবিঈন অন্ধকার চলে যাওয়ার পর ফযরের নামায আদায়ের পক্ষে মত দিয়েছেন। সুফিয়ান সাওরী এ মত গ্রহণ করেছেন। ইমাম শাফিঈ, আহমাদ এবং ইসহাক বলেছেন, (অন্ধকার) ফর্সা হওয়ার অর্থ হচ্ছে- সন্দেহাতীতরূপে ভোর হওয়া। কিন্তু ফর্সা হওয়ার অর্থ এই নয় যে, নামায দেরি করে আদায় করতে হবে।
হাদিস 155 — Jami At Tirmidhi 2:7
দাঈফ Isnaadদাঈফ Isnaadদাঈফ
حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ حَكِيمِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ مَا رَأَيْتُ أَحَدًا كَانَ أَشَدَّ تَعْجِيلاً لِلظُّهْرِ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلاَ مِنْ أَبِي بَكْرٍ وَلاَ مِنْ عُمَرَ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ وَخَبَّابٍ وَأَبِي بَرْزَةَ وَابْنِ مَسْعُودٍ وَزَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ وَأَنَسٍ وَجَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَائِشَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَهُوَ الَّذِي اخْتَارَهُ أَهْلُ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَمَنْ بَعْدَهُمْ . قَالَ عَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ قَالَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ وَقَدْ تَكَلَّمَ شُعْبَةُ فِي حَكِيمِ بْنِ جُبَيْرٍ مِنْ أَجْلِ حَدِيثِهِ الَّذِي رَوَى عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم " مَنْ سَأَلَ النَّاسَ وَلَهُ مَا يُغْنِيهِ " . قَالَ يَحْيَى وَرَوَى لَهُ سُفْيَانُ وَزَائِدَةُ وَلَمْ يَرَ يَحْيَى بِحَدِيثِهِ بَأْسًا . قَالَ مُحَمَّدٌ وَقَدْ رُوِيَ عَنْ حَكِيمِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ عَائِشَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي تَعْجِيلِ الظُّهْرِ .
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবূ বাকার ও উমার (রাঃ)-এর তুলনায় অন্য কাউকে আমি যুহরের নামায তাড়াতাড়ি আদায় করতে দেখিনি (ওয়াক্ত শুরু হলেই তারা নামায আদায় করে নিতেন)। সনদ দুর্বল। এ অনুচ্ছেদে জাবির ইবনু আবদিল্লাহ, খাব্বাব, আবূ বারযা, ইবনু মাসউদ, যাইদ ইবনু সাবিত, আনাস ও জাবির ইবনু সামূরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীস রয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, আইশা (রাঃ)-এর হাদীসটি হাসান। সাহাবায়ে কিরাম ও তাদের পরবর্তী বিদ্ধানগণ আওয়াল (প্রথম) ওয়াক্তে নামায আদায় করা পছন্দ করেছেন। আলী ইবনুল মাদানী বলেন, ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ বলেছেন, হাকীম ইবনু জুবাইর (রাহঃ) ইবনু মাসউদ (রাঃ)-এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস,مَنْ سَأَلَ النَّاسَ وَلَهُ مَا يُغْنِيهِ “প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি মানুষের নিকট প্রার্থনা করে।" বর্ণনা করার প্রেক্ষিতে শুবাহ তার (হাকীমের) সমালোচনা করেছেন। ইয়াহইয়া ইবনু মুঈন বলেন, সুফইয়ান এবং যায়িদাহ তার (হাকীম) নিকট হতে হাদীস বর্ণনা করেছেন। ইয়াহইয়া ইবনু মুঈন তার (হাকীম) বর্ণিত হাদীসে কোন ত্রুটি আছে বলে মনে করেন না। মুহাম্মাদ (বুখারী) বলেনঃ যুহরের নামায আওয়াল ওয়াক্তে আদায় করা সম্পর্কিত আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ -এর হাদীসটি হাকীম ইবনু জুবাইর সাঈদ ইবনু জুবাইরের সূত্রেও বর্ণনা করেছেন।
। আনাস ইবনু মালিক হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্য ঢলে পড়লে যুহরের নামায আদায় করেছেন। —সহীহ। বুখারী। আবু ঈসা বলেনঃ হাদীসটি সহীহ। এ অনুচ্ছেদে এ হাদীসটি সবেত্তম। এ অনুচ্ছেদে জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে।
। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন (সূর্যের) উত্তাপ বেড়ে যায়, তখন তোমরা ঠাণ্ডা করে নামায আদায় কর (বিলম্ব করে নামায আদায় কর)। কেননা প্রচণ্ড উত্তাপ জাহান্নামের নিঃশ্বাস হতে হয়। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৬৭৮), বুখারী ও মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে আবু সাঈদ, আবু যার, ইবনু উমার, মুগীরা, কাসিম ইবনু সাফওয়ান তার পিতার সূত্রে, আবু মূসা, ইবনু আব্বাস ও আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হতে উমর (রাঃ)-এর একটি বর্ণনাও রয়েছে। কিন্তু এ বর্ণনাটি সহীহ নয়। আবু ঈসা বলেনঃ আবু হুরাইরা বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ। বিশেষজ্ঞদের একদল গরমের মওসুমে যুহরের নামায বিলম্বে আদায় করা পছন্দ করেছেন। ইবনুল মুবারাক, আহমাদ ও ইসহাক এই মতের সমর্থক। ইমাম শাফিঈ বলেন, লোকেরা যখন দূরদূরান্ত হতে মসজিদে আসে তখন যুহরের নামায ঠাণ্ডার সময় আদায় করার নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু যে ব্যক্তি একাকি নামায আদায় করে অথবা নিজের গোত্রের মসজিদে নামায আদায় করে- খুব গরমের সময়েও আমি তার জন্য প্রথম ওয়াক্তে নামায আদায় করা উত্তম মনে করি। আবু ঈসা বলেনঃ অত্যধিক গরমের সময়ে যারা বিলম্বে যুহরের নামায আদায়ের কথা বলেন, তাদের মত অনুসরণযোগ্য। কিন্তু আবু যার (রাঃ)-এর হাদীস ইমাম শাফিঈর বক্তব্যের (দূর হতে আসা মুসল্লীর কারণে যুহরের নামায ঠাণ্ডার সময়ে আদায়ের নির্দেশ রয়েছে, কেননা তাতে তাদের কষ্ট কম হবে) পরিপন্থী। আবু যার (রাঃ) বলেনঃ “আমরা কোন এক সফরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম। বিলাল (রাঃ) যুহরের নামাযের আযান দিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে বিলাল! শীতল কর (গরমের তীব্রতা কমতে দাও)। তারপর শীতল করা হল (বিলম্বে নামায আদায় করা হল)।” ইমাম শাফিঈর বক্তব্য অনুযায়ী শীতল করার অর্থ যদি তাই হত তবে এ সময়ে শীতল করার কোন অর্থই হয় না। কেননা সফরের অবস্থায় সবাই একই স্থানে সমবেত ছিল, দূর হতে কারো আসার কোন প্রশ্নই ছিল না।
হাদিস 158 — Jami At Tirmidhi 2:10
সহিহসহিহহাসান Sahihসহিহ - Agreed Upon
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ الطَّيَالِسِيُّ، قَالَ أَنْبَأَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مُهَاجِرٍ أَبِي الْحَسَنِ، عَنْ زَيْدِ بْنِ وَهْبٍ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ فِي سَفَرٍ وَمَعَهُ بِلاَلٌ فَأَرَادَ بِلاَلٌ أَنْ يُقِيمَ فَقَالَ " أَبْرِدْ " . ثُمَّ أَرَادَ أَنْ يُقِيمَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَبْرِدْ فِي الظُّهْرِ " . قَالَ حَتَّى رَأَيْنَا فَىْءَ التُّلُولِ ثُمَّ أَقَامَ فَصَلَّى فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ شِدَّةَ الْحَرِّ مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ فَأَبْرِدُوا عَنِ الصَّلاَةِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
। আবু যার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন এক সফরে ছিলেন। বিলাল (রাঃ)-ও তার সাথে ছিলেন। তিনি ইকামাত দিতে চাইলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “যুহরকে শীতল কর।” আবু যার (রাঃ) বলেন, বিলাল (রাঃ) আবার ইকামাত দিতে চাইলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যুহরের নামায আরও শীতল করে আদায় কর। আবু যার (রাঃ) বলেন, এমনকি আমরা যখন বালির স্তুপের ছায়া দেখতে পেলাম তখন তিনি ইকামাত দিলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায আদায় করালেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “গরমের প্রচণ্ডতা জাহান্নামের নিঃশ্বাস। তোমরা শীতল করে (রোদের তাপ কমলে) নামায আদায় কর”। —সহীহ। সহীহ আবু দাউদ- (৪২৯), বুখারী ও মুসলিম। আবু ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহীহ।