। উমার ইবনু ইসহাক ইবনু আবূ তালহা (রহঃ)-এর নানা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিনবার পর্যন্ত হাঁচির উত্তর দাও। এরপরও সে যদি হাঁচি দেয় তবে তুমি চাইলে তার উত্তর দিতেও পার নাও দিতে পার। যঈফ, যঈফা (৪৮৩০) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব এবং এর সনদসূত্র অপরিচিত।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন হাঁচি দিতেন, তখন তার হাত কিংবা কাপড় দ্বারা মুখ ঢেকে রাখতেন এবং এর মাধ্যমে তার আওয়াজ নীচু করতেন। হাসান সহীহঃ রাওযুন নায়ীর (১১০৯)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হাঁচি আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে আর হাই তোলা শাইতানের পক্ষ থেকে। সুতরাং তোমাদের মাঝে কেউ হাই তুললে সে যেন মুখের উপর হাত রাখে। আর সে যখন আহ্ আহ্ বলে, তখন শয়তান তার ভিতর হতে হাসতে থাকে। আল্লাহ তা’আলা হাচি পছন্দ করেন এবং হাই তোলা অপছন্দ করেন। কাজেই কেউ যখন আহ আহ শব্দে হাই তোলে, তখন শাইতান তার ভিতর হতে হাসতে থাকে। হাসান সহীহঃ তা’লীক আলা ইবনে খুযাইমাহ (৯২১, ৯২২), ইরওয়াহ (৭৭৯), বুখারী অনুরূপ। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা হাঁচি পছন্দ করেন এবং হাই তোলা অপছন্দ করেন। সুতরাং তোমাদের মাঝে কেউ হাঁচি দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ বলার সময় সকল শ্রোতার জন্য ইয়ারহামুকাল্লাহ বলা খুবই জরুরী হয়ে যায়। আর তোমাদের মাঝে কারও হাই উঠার সময় যথাসম্ভব সে যেন তা ফিরিয়ে রাখে এবং আহ আহ না বলে। কেননা এটা শাইতানের পক্ষ হতে এবং সে তাতে হাঁসতে থাকে। সহীহঃ ইরওয়াহ (৭৭৬), বুখারী। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি সহীহ। ইবনু আজলানের সূত্রে বর্ণিত হাদীসের চাইতে এ হাদীসটি অনেক বেশি সহীহ। সাঈদ আল-মাকবুরী হতে হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে ইবনু আবূ যিব (রাহঃ) ইবনু আজলানের চাইতে অনেক হিফাযাতকারী ও নির্ভরযোগ্য। আমি তিরমিযী আবূ বাকর আল আত্তার আল বাসরীকে আলী ইবনুল মাদীনীর সুত্রে আলোচনা করতে শুনেছি, তিনি ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদকে বলতে শুনেছেন, মুহাম্মাদ ইবনু আজলান বলেন, সাঈদ আল-মাকবুরী তার রিওয়ায়াতসমূহের কতগুলো আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে সরাসরি বর্ণনা করেছেন এবং কতগুলো জনৈক ব্যক্তির সূত্রে আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। তাই আমার নিকট এগুলো একটি অন্যটির সাথে মিলে যাবার কারণে আমি সবগুলো রিওয়ায়াত সাঈদ-আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে এই সূত্রে বর্ণনা করেছি।
। আদী ইবনু সাবিত (রহঃ) হতে পালাক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে মারফু হিসেবে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ নামাযের মধ্যে হাঁচি, তন্দ্রা ও হাই তোলা এবং হায়িয, বমি ও নাক দিয়ে রক্ত পড়া শাইতানের পক্ষ হতে। যঈফ, মিশকাত (৯৯৯) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধুমাত্র শারীক হতে ইয়াকযান সূত্রে এ হাদীস জেনেছি। আমি মুহাম্মদ ইবনু ইসমাঈল (বুখারী)-কে আদী ইবনু সাবিত-তার পিতা-তার দাদা' এই সনদসূত্র প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলাম। আমি বললাম, আদীর দাদার নাম কি? তিনি বললেন, আমি জানি না। ইয়াহইয়া ইবনু মাঈন প্রসঙ্গে উল্লেখ আছে যে, তিনি আদীর দাদার নাম দীনার বলেছেন।
। ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মাঝে কোন ব্যক্তি যেন তার কোন ভাইকে তার আসন থেকে তুলে দিয়ে সেই আসনে না বসে। সহীহঃ বুখারী (৬২৬৯), মুসলিম (৭/৯-১০)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মাঝে কোন ব্যক্তি যেন তার ভাইকে তার আসন থেকে তুলে দিয়ে সে সেখানে না বসে। বর্ণনাকারী বলেন, লোকেরা ইবনু উমারের জন্য জায়গা ছেড়ে দিত কিন্তু তিনি তাতে বসতেন না। সহীহঃ বুখারী (৬২৭০), মুসলিম (৭/১০)।
। ওয়াহহাব ইবনু হুযাইফাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ আসনের বেশি হকদার। সে ব্যক্তি কোন প্রয়োজনে বেরিয়ে গিয়ে আবার ফিরে আসলে এ জায়গার জন্য সেই বেশি হকদার। সহীহঃ ইরওয়াহ (২/২৫৮) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। আবূ বাকরাহ, আবূ সাঈদ ও আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অনুমতি ব্যতীত দুজন লোককে ফাঁক করে বসা কারো জন্য বৈধ নয়। হাসান সহীহঃ মিশকাত তাহকীকু সানী (৭৪০৩) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীসটি আমর ইবনু শু'আইব (রাহঃ) হতে আমির আল-আহওয়ালও বর্ণনা করেছেন।