। যাইদ ইবনু আরকাম (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ যদি কোন ওয়াদা করে এবং তা পুরা করার নিয়াত করে; কিন্তু কোন কারণে তা পুরা করতে না পারে, তাহলে এজন্য তার কোন গুনাহ হবে না। যঈফ, মিশকাত (৪৮৮১), যঈফা (১৪৪৭) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। এর সনদ মজবুত নয়। আলী-ইবনু আব্দুল আ'লা নির্ভরযোগ্য রাবী। আবূ নুমান এবং আবূ ওক্কাস এ দুইজন অপরিচিত রাবী।
। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুসলিমের বিরুদ্ধে লড়াই করা কুফুরী এবং তাকে গালি দেয়া ফাসিকী। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। অন্য সনদে ১৯৮৩ নং হাদীস পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। সাদ ও আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীসটি ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে একাধিক সূত্রে বর্ণিত আছে।
। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুসলিমকে গালি দেয়া ফাসিকী এবং তার বিরুদ্ধে লড়াই করা বা তাকে হত্যা করা কুফরী। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। ইহা ১৯৮৩ নং হাদীসের পুনরুক্তি। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। কোন মুসলিম তার মুসলিম ভাইকে হত্যা করা কুফুরী। তবে এর দ্বারা সে মুরতাদ (কাফির) হয় না। এর দলীল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত হাদীস "যাকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করা হয় তার উত্তরাধিকারীগণ ইচ্ছা করলে হত্যাকারীকে হত্যাও করতে পারে, ইচ্ছা করলে ক্ষমাও করতে পারে।” মুরতাদ হয়ে গেলে হত্যা করা ওয়াজিব হয়ে যেত। ইবনু আব্বাস, তাউস, আতা এবং আরো অনেক বিশেষজ্ঞ আলিমগণ উক্ত অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
। সাবিত ইবনুয যাহহাক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন বান্দার যে জিনিসের মালিকানা নেই সে সেই জিনিসের মানত করলে তা পূরণ করা তার জন্য অপরিহার্য নয়। মু'মিনকে অভিশাপকারী তাকে হত্যাকারীর অনুরূপ। যে লোক কোন মুমিন ব্যক্তিকে কুফরীর অপবাদ দেয়, সেও তার হত্যাকারীর অনুরূপ। আর যে ব্যক্তি যে জিনিসের সাহায্যে আত্মহত্যা করে, আল্লাহ তা'আলা তাকে সেই জিনিস দ্বারাই কিয়ামত দিবসে শাস্তি দিবেন। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (২০৯৮) আবূ যার ও ইবনু উমার (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন লোক তার ভাইকে কাফির বললে তা এ দু'জনের যে কোন একজনের উপর বর্তায়। সহীহঃ মুসলিম (১/৫৭)। এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। বায়া অর্থাৎ- স্বীকার করলো।
। আস-সুনাবিহী (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উবাদাহ ইবনুস সামিত (রাযিঃ)-এর নিকট উপস্থিত হলাম, সে সময় তিনি অন্তিম অবস্থায় ছিলেন। আমি (তাকে এ অবস্থায় দেখে) কেঁদে ফেললাম। তিনি বললেন, থামো, কাঁদছো কেন? আল্লাহর শপথ! যদি আমার সাক্ষ্য চাওয়া হয় তবে আমি অবশ্যই তোমার (ঈমানের) পক্ষে সাক্ষ্য দিব, যদি সুপারিশের অনুমতি আমাকে দেয়া হয় তবে অবশ্যই তোমার জন্য আমি সুপারিশ করবো; আর আমার পক্ষে সম্ভব হলে আমি অবশ্যই তোমার উপকার করবো। তিনি আবার বললেন, আল্লাহর কসম! আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে তোমাদের জন্য কল্যাণকর যেসব কথা শুনেছি তার সবই তোমাদেরকে বলেছি। শুধুমাত্র একটি কথা বলা বাকি আছে, যা আমি আজ তোমাদেরকে এমন অবস্থায় বলছি যে, মৃত্যু আমাকে বেষ্টন করে ফেলেছে। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দিবে যে, আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত আর কোন প্ৰভু নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, তার জন্য আল্লাহ তা'আলা জাহান্নামকে হারাম করে দিবেন। হাসানঃ মুসলিম (১/৪৩) আবূ বাকর, উমার, উসমান, তালহা, জাবির, ইবনু উমার ও যাইদ ইবনু খালিদ (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু আজলান নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী ও হাদীস শাস্ত্রে বিশ্বস্ত ব্যক্তি। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ এবং এ সূত্রে গারীব। আস-সুনাবিহী হলেন আবদুর রহমান ইবনু উসাইল উপনাম আবূ আবদুল্লাহ। যুহরী (রহঃ) হতে বর্ণিত যে, তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী- “যে ব্যক্তি বলবে আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত আর কোন প্ৰভু নেই, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে”-এর তাৎপর্য প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ইসলামের প্রাথমিক যুগে যখন ফরযসমূহ, আদেশ-নিষেধ ইত্যাদি বিধান পুরাপুরি অবতীর্ণ হয়নি, তখন হাদীসের এ অর্থ প্রযোজ্য ছিল। কিছু আলিমের মতে এ হাদীসের অর্থ এই যে, তাওহীদপন্থীরা জান্নাতে যাবেই, যদিও তাদের গুনাহর কারণে কিছু দিন জাহান্নামে শাস্তি দেয়া হবে, কিন্তু তারা চিরদিন জাহান্নামে থাকবে না। 'আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ, আবূ যার, ইমরান ইবনু হুসাইন, জাবির ইবনু 'আবদুল্লাহ, ইবনু আব্বাস, আবূ সাঈদ আল-খুদরী ও আনাস (রাযিঃ) প্রমুখ সাহাবী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ তাওহীদপন্থীরা জাহান্নাম থেকে বেরিয়ে আসবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করবে। একইভাবে সাঈদ ইবনু জুবাইর, ইবরাহীম নাখঈ প্রমুখ তাবিঈগণ- “কখনো কখনো কাফিররা আকাঙ্ক্ষা করবে যে, তারা যদি মুসলিম হত”– (সূরা হিজরঃ ২) আয়াতের তাফসীরে বলেন, যখন তাওহীদপন্থীদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে তখন কাফিররা আফসোস করে বলবে যে, তারাও যদি মুসলিম হতো।
। আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ তা'আলা কিয়ামত দিবসে আমার উম্মতের একজনকে সমস্ত সৃষ্টির সামনে আলাদা করে এনে উপস্থিত করবেন। তিনি তার সামনে নিরানব্বইটি আমলনামার খাতা খুলে ধরবেন। প্রতিটি খাতা দৃষ্টির সীমা পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। তারপর তিনি প্রশ্ন করবেন, তুমি কি এগুলো হতে কোন একটি (গুনাহ) অস্বীকার করতে পার? আমার লেখক ফেরেশতারা কি তোমার উপর যুলুম করেছে? সে বলবে, না, হে প্ৰভু! তিনি আবার প্রশ্ন করবেনঃ তোমার কোন অভিযোগ আছে কি? সে বলবে, না, হে আমার প্রভু! তিনি বলবেনঃ আমার নিকট তোমার একটি সাওয়াব আছে। আজ তোমার উপর এতটুকু যুলুমও করা হবে না। তখন ছোট একটি কাগজের টুকরা বের করা হবে। তাতে লিখা থাকবেঃ “আমি সাক্ষ্য প্রদান করে যে, আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত আর কোন প্রভু নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দেই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও তার রাসূল"। তিনি তাকে বলবেনঃ দাড়িপাল্লার সামনে যাও। সে বলবে, হে প্ৰভু! এতগুলো খাতার বিপরীতে এই সামান্য কাগজটুকুর কি আর ওজন হবে? তিনি বলবেনঃ তোমার উপর কোন রকম যুলুম করা হবে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তারপর খাতাগুলো এক পাল্লায় রাখা হবে এবং উক্ত টুকরাটি আরেক পাল্লায় রাখা হবে। ওজনে খাতাগুলোর পাল্লা হালকা হবে এবং কাগজের টুকরার পাল্লা ভারী হবে। আর আল্লাহ তা'আলার নামের বিপরীতে কোন কিছুই ভারী হতে পারে না। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (৪৩০০) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। কুতাইবা-ইবনু লাহীআ হতে, তিনি আমির ইবনু ইয়াহইয়া (রাহঃ) হতে এই সনদে উক্ত মর্মে অনুরূপ বর্ণিত আছে। বিতাকা অর্থ টুকরা বা খণ্ড।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামঃ বলেছেনঃ ইয়াহুদীরা একাত্তর অথবা বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছিল এবং খৃষ্টানেরাও অনুরূপ দলে বিভক্ত হয়েছিল। আর আমার উন্মাত বিভক্ত হবে তিয়াত্তর দলে। হাসান সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (৩৯৯১) সাদ, আবদুল্লাহ ইবনু আমর ও ‘আওফ ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বনী ইসরাঈল যে অবস্থায় পতিত হয়েছিল, নিঃসন্দেহে আমার উম্মাতও সেই অবস্থার সম্মুখীন হবে, যেমন একজোড়া জুতার একটি আরেকটির মতো হয়ে থাকে। এমনকি তাদের মধ্যে কেউ যদি প্রকাশ্যে তার মায়ের সাথে ব্যভিচার করে থাকে, তবে আমার উন্মাতের মধ্যেও কেউ তাই করবে। আর বনী ইসরাঈল ৭২ দলে বিভক্ত হয়েছিল। আমার উন্মাত ৭৩ দলে বিভক্ত হবে। শুধু একটি দল ছাড়া তাদের সবাই জাহান্নামী হবে। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সে দল কোনটি? তিনি বললেনঃ আমি ও আমার সাহাবীগণ যার উপর প্রতিষ্ঠিত। হাসানঃ মিশকাত, তাহকীক সানী (১৭১), সহীহাহ (১৩৪৮)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান গারীব ও সব্যাখ্যায়িত (মুফাসসার)। এই সনদসূত্র ব্যতীত উপরোক্ত প্রকৃতির কোন বর্ণনা প্রসঙ্গে আমাদের জানা নেই।
। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ তা'আলা অন্ধকারে তার মাখলুকাত সৃষ্টি করেছেন। তারপর তিনি এদের উপর তার নূরের আলোকপ্রভা ঢেলে দিয়েছেন। সুতরাং সেই নূরের আলোকপ্রভা যে ব্যক্তির উপর পড়েছে সে সৎপথ পেয়েছে এবং যে ব্যক্তির উপর তা পড়েনি সে পথভ্রষ্ট হয়েছে। এ জন্যেই আমি বলিঃ আল্লাহ তা'আলার ইলম অনুযায়ী কলম (তাকদীরের লিখন) শুকিয়ে গেছে। সহীহঃ মিশকাত (১০১), সহীহাহ (১০৭৬), আযযিলা-ল (২৪১-২৪৪)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান।