। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, প্রশ্ন করা হল, হে আল্লাহর রাসূল! কোন কাজ জিহাদের সমতুল্য হতে পারে? তিনি বললেনঃ তোমরা তা করতে পারবে না। তারা দুই অথবা তিনবার একই প্রশ্ন করল। প্রতি বারই তিনি বললেন, তোমরা তা করতে পারবে না। তৃতীয় বারে তিনি বললেনঃ আল্লাহ্ তা'আলার রাস্তায় জিহাদকারী লোকের সাথে এমন লোকের তুলনা হতে পারে যে লোক অক্লান্তভাবে নামায-রোযায় ব্যস্ত থাকে যতক্ষণ না আল্লাহ্ তা'আলার পথের মুজাহিদ ফিরে না আসে। সহীহ, সহীহা (২৮৯৬), মুসলিম শিফাআ, আব্দুল্লাহ ইবনু হুবশী, আবূ মুসা, আবূ সাঈদ, উম্মু মালিক আল-বাহযিয়্যা ও আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এটা আবূ হুরাইরা (রাঃ) এর বরাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ আমার পথে জিহাদকারীর জন্য আমি নিজেই যামিন। আমি তার জীবনটা নিয়ে নিলে তবে তাকে জান্নাতের উত্তরাধিকারী বানিয়ে দেই। আমি তাকে (যুদ্ধক্ষেত্র হতে) ফিরিয়ে আনলে তবে তাকে সাওয়াব বা গানীমাতসহ ফিরিয়ে আনি। সহীহ, তা’লীকুর রাগীব (২/১৭৮) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা উল্লেখিত সনদসূত্রে সহীহ গারীব বলেছেন।
। ফাযালা ইবনু উবাইদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক মৃত ব্যক্তির সকল প্রকার কাজের উপর সীলমোহর করে দেওয়া হয় (কাজের পরিসমাপ্তি ঘটে)। কিন্তু আল্লাহ্ তা'আলার রাস্তায় পাহারাদানরত অবস্থায় যে লোক মৃত্যুবরণ করে কিয়ামত পর্যন্ত তার কর্মের সাওয়াব বাড়ানো হতে থাকে এবং তিনি কবরের সকল ফিতনা হতে নিরাপদে থাকেন। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যে লোক নিজের প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে জিহাদ করে সে-ই আসল মুজাহিদ। সহীহ, মিশকাত তাহকীক ছানী (৩৪) এবং (৩৮২৩), তা’লীকুর রাগীব (২/১৫০), সহীহা (৫৪৯), সহীহ আবূ দাউদ (১২৫৮) আবূ ঈসা বলেন, উকবা ইবনু আমির ও জাবির (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ফাজালা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদিসটি হাসান সহীহ।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক একদিন আল্লাহ্ তা'আলার পথে রোযা আদায় করে আল্লাহ তা'আলা তাকে জাহান্নাম হতে সত্তর বছরের (পথের) দূরত্বে রাখবেন। (উরওয়া ও সুলাইমানের) একজনের বর্ণনায় সত্তর বছর এবং অপরজনের বর্ণনায় চল্লিশ বছর উল্লেখ আছে। প্রথম শব্দে (অর্থাৎ সত্তর বছর) হাদীসটি সহীহ, তা’লীকুর রাগীব (২/৬২) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা উল্লেখিত সনদসূত্রে গারীব বলেছেন। আবূল আসওয়াদের নাম মুহাম্মাদ, বাবা আবদুর রাহমান, দাদা নাওফাল আল-আসাদী আল-মাদানী। আবূ সাঈদ, আনাস, উকবা ইবনু আমির ও আবূ উমামা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন মানুষ যদি একদিন আল্লাহ্ তা'আলার রাস্তায় রোযা আদায় করে তাহলে সেই দিনটি তার চেহারা হতে জাহান্নামকে সত্তর বছরের দূরত্বে সরিয়ে দেয়। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৭১৭), নাসা-ঈ এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
। আবূ উমামা আল-বাহিলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন লোক যদি একদিন আল্লাহ তা'আলা রাস্তায় রোযা আদায় করে তাহলে আল্লাহ তা’আলা তার ও জাহান্নামের মাঝখানে আকাশ ও যমীনের মাঝখানের দূরত্বের সমতুল্য একটি পরিখা সৃষ্টি করে দিবেন। হাসান সহীহ, সহীহা (৫৬৩) আবূ উমামার হাদীস হিসেবে এ হাদীসটি গারীব।
। খুরাইম ইবনু ফাতিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ্ তা'আলার রাস্তায় কিছু ব্যয় করে (এর বিনিময়ে) তার জন্য সাতশত গুণ সাওয়াব লেখা হয়। সহীহ, মিশকাত (৩৮২৬), তা’লীকুর রাগীব (২/১৫৬) আবূ ঈসা বলেন, আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান। আমরা এ হাদীস শুধুমাত্র আর-রুকাইন ইবনুর রাবীর সূত্রেই জেনেছি।
। আদী ইবনু হাতিম তাঈ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করেন, কোন রকমের দান-খাইরাত বেশি উত্তম? তিনি বললেনঃ আল্লাহ তা'আলার রাস্তায় সেবার উদ্দেশ্যে গোলাম দান করা, অথবা ছায়ার ব্যবস্থা করার জন্য তাবু দান করা বা আল্লাহর রাস্তায় জাওয়ান উষ্ট্রী দান করা। হাসান, তা’লীকুর রাগীব (২/১৫৮) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি মুআবিয়া ইবনু আবূ সালিহের সূত্রে মুরসাল হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। যাইদ তার কোন কোন সনদে গড়মিল করেছেন। যিয়াদ ইবনু আইয়ূব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, হাদীসটি “ওয়ালীদ ইবনু জামীল বর্ণনা করেছেন আবূ আব্দুর রাহমান আল কাসিম হতে, তিনি আবূ উমামা হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে।
। আবূ উমামা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ উত্তম সাদকা হচ্ছে, আল্লাহ্ তা'আলার রাস্তায় ছায়া সৃষ্টির জন্যে তাবু দান করা, আল্লাহ তা'আলার রাস্তায় সেবার উদ্দেশ্যে গোলাম দান করা অথবা আল্লাহ তা'আলার রাস্তায় জাওয়ান উস্ত্রী দান করা। হাসান, দেখুন পূর্বের হাদীস এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ গারীব বলেছেন। আমার মতে এই বর্ণনাটি মুআবিয়া ইবনু সালিহের বর্ণনার চাইতে অনেক বেশি সহীহ।
। যাইদ ইবনু খালিদ আল-জুহানী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে মানুষ আল্লাহ্ তা'আলার রাস্তায় জিহাদকারী কোন যোদ্ধার যুদ্ধে যাওয়ার সকল সাজ-সরামের যোগাড় করল সে যেন নিজেই জিহাদ করল। আর যে মানুষ কোন সৈনিকের পরিবার-পরিজনের খোজখবর রাখলো সেও যেন জিহাদ করল। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৭৫৯) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীসটি এ সূত্র ব্যতীত অন্য একটি সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে।