। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমি বলতে শুনেছিঃ জাহান্নামের আগুন দুটি চোখকে স্পর্শ করবে না। আল্লাহ্ তা'আলার ভয়ে যে চোখ ক্ৰন্দন করে এবং আল্লাহ্ তা'আলার রাস্তায় যে চোখ (নিরাপত্তার জন্য) পাহারা দিয়ে ঘুমবিহীনভাবে রাত পার করে দেয়। সহীহ, মিশকাত (৩৮২৯), তা’লীকুর রাগীব (২/১৫৩) আবূ ঈসা বলেন, উসমান ও আবূ রাইহানা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র শুয়াইব ইবনু যুরাইক-এর সূত্রেই জেনেছি।
হাদিস 1640 — Jami At Tirmidhi 22:23
সহিহসহিহসহিহ
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ طَلْحَةَ الْيَرْبُوعِيُّ الْكُوفِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْقَتْلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ يُكَفِّرُ كُلَّ خَطِيئَةٍ " . فَقَالَ جِبْرِيلُ إِلاَّ الدَّيْنَ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِلاَّ الدَّيْنَ " . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ وَجَابِرٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَأَبِي قَتَادَةَ . وَهَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ مِنْ حَدِيثِ أَبِي بَكْرٍ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ هَذَا الشَّيْخِ . قَالَ وَسَأَلْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْمَاعِيلَ عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ فَلَمْ يَعْرِفْهُ وَقَالَ أُرَى أَنَّهُ أَرَادَ حَدِيثَ حُمَيْدٍ عَنْ أَنَسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " لَيْسَ أَحَدٌ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ يَسُرُّهُ أَنْ يَرْجِعَ إِلَى الدُّنْيَا إِلاَّ الشَّهِيدُ " .
। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা'আলার পথে মৃত্যুবরণ করা সকল পাপের কাফফারা হয়ে যায়। তখন জিবরীল (আঃ) বললেন, ঋণ ব্যতীত (তা ক্ষমা করা হয় না)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ঋণ ব্যতীত। সহীহ, মুসলিম ইবনু উমার হতে, ইরওয়া (১১৯৬), গাইয়াতুল মারাম (৩৫১), তাখরাজ মুশকিলাতুল ফাকর (৬৭) আবূ ঈসা বলেন, কাব ইবনু উজরা, জাবির, আবূ হুরাইরা ও আবূ কাতাদা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি গারীব। আমরা এ হাদীস বিষয়ে শুধুমাত্র আবূ বাকর ইবনু আইয়্যাশের নিকট হতে এই শাইখ (ইয়াহইয়া ইবনু তালহা) কর্তৃক বর্ণিত সূত্রেই জেনেছি। মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈলকে উল্লেখিত হাদীস প্রসঙ্গে আমি (তিরমিয়ী) প্রশ্ন করলে এ বিষয়ে তিনি তার অজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, আমার মনে হয় তিনি হয়ত আনাস (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত হুমাইদ এর হাদীসটি বুঝাতে চেয়েছেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “জান্নাত হতে পৃথিবীতে ফিরে আসতে শহীদ ব্যতীত অন্য কেউই আনন্দবোধ করবে না।”
। কাব ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সবুজ পাখির মধ্যে শহীদদের রূহ অবস্থান করে। তারা জান্নাতের বৃক্ষসমূহের ফল ভক্ষণ করে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৪২৭১) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সবার আগে যে তিনজন জান্নাতে যাবে তাদেরকে আমার সামনে উপস্থিত করা হয়েছে। শহীদ, হারাম ও সংশয়পূর্ণ জিনিস হতে ও অপরের নিকটে হাত পাতা হতে দূরে অবস্থানকারী এবং উত্তমরূপে আল্লাহ্ তা'আলার ইবাদতকারী ও মনিবদের কল্যাণকামী গোলাম। যঈফ, তা’লীকুর রাগীব (১/২৬৮) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান।
। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলার নিকট সঞ্চিত সাওয়াবের অধিকারী যে কোন বান্দার মৃত্যুর পর তাকে পৃথিবী এবং এর সকল কিছু দিলেও সে আবার পৃথিবীতে চলে আসা পছন্দ করবে না। কিন্তু যখন শহীদ ব্যক্তি শাহাদাত লাভের ফায়ীলাত ও মর্যাদা প্রত্যক্ষভাবে দেখতে পাবে তখন সে আবার দুনিয়াতে আসতে আগ্রহী হবে, যাতে সে আবার আল্লাহ তা'আলার পথে শহীদ হতে পারে। সহীহ, নাসা-ঈ এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। ইবনু আবী উমার বলেন, সুফিয়ান ইবনু উয়াইনাহ বলেছেন যে, আমর ইবনু দীনার যুহরীর চাইতে বয়সে বড় ছিলেন।
উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ শহীদ চার প্রকারের।। (১) উত্তম ঈমানের অধিকারী মুমিন, যে শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং আল্লাহ তা'আলার ওয়াদা (প্রতিশ্রুতি) সত্য বলে বিশ্বাস করে যুদ্ধ করে, অবশেষে মারা যায়। কিয়ামতের দিন লোকেরা তার প্রতি এভাবে উপরে চোখ তুলে তাকাবে, এই বলে তিনি মাথা উপরের দিকে তুলে (বাস্তবরূপে) দেখালেন, এমনকি তার মাথার টুপি পড়ে গেল। রাবী বলেন, এখানে উমারের টুপির কথা বলা হয়েছে না নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের টুপি বুঝানো হয়েছে তা আমার জানা নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ (২) আরেক ব্যক্তিও উত্তম ঈমানের অধিকারী মু’মিন। সেও শত্রুর মুকাবিলায় অবতীর্ণ হয়, কিন্তু ভীরুতার কারণে তার দেহ এমনভাবে কম্পিত হতে থাকে যেন তাকে বাবলা গাছের কাঁটাযুক্ত ডাল দিয়ে মারা হয়েছে। একটি অদৃশ্য তীর এসে তার শরীরে বিদ্ধ হলে তার আঘাতে সে মারা গেল! এ হল দ্বিতীয় পর্যায়ের শহীদ। (৩) আরেক মুমিন ব্যক্তি তার ভাল কাজের সাথে কিছু খারাপ কাজও করে ফেলেছে। সে শত্রুর বিরুদ্ধে অবতীর্ণ হয়ে আল্লাহ তা'আলার ওয়াদা সত্য বলে বিশ্বাস করে যুদ্ধ করে অবশেষে মারা যায়। এ ব্যক্তি তৃতীয় পর্যায়ের শহীদ। (৪) অপর মু'মিন ব্যক্তি নিজের উপর যুলুম করেছে। সেও শত্রুর মুকাবিলায় অবতীর্ণ হয় এবং আল্লাহ্ তা'আলার ওয়াদা সত্য বলে বিশ্বাস করে যুদ্ধ করে, তারপর মারা যায়। এই ব্যক্তি চতুর্থ স্তরের শহীদ। যঈফ, মিশকাত, তাহকীক ছানী (৩৮৫৮), যঈফা (২০০৪) আবূ ঈসা বলেছেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধু আতা ইবনু দীনারের বর্ণিত হাদীস হিসেবে এটি জেনেছি। আমি ইমাম বুখারীকে বলতে শুনেছি যে, সাঈদ ইবনু আবূ আইউব (রাহঃ) আতা ইবনু দীনার হতে, তিনি বানু খাওলানের কিছু শাইখের সূত্রে উক্ত হাদীস বর্ণনা করেছেন। এই সূত্রে আবূ ইয়াযীদের উল্লেখ নেই। তিনি আরও বলেনঃ আতা ইবনু দীনারের মধ্যে কোন দোষ নেই।
। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিলহানের মেয়ে উম্মু হারামের বাসায় গেলে তিনি তাকে খাবার খাওয়াতেন। উম্মু হারাম (রাঃ) ছিলেন উবাদা ইবনু সামিত (রাঃ)-এর স্ত্রী। এক দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বাসায় গেলে তিনি তাকে খাওয়ান এবং তার ঘুমানোর ব্যবস্থা করে তার মাথায় বিলি কাটতে লাগলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমিয়ে যান। তারপর তিনি হাসতে হাসতে ঘুম হতে জেগে উঠেন। তিনি (উম্মু হারাম) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি কারণে হাসছেন? তিনি বললেনঃ আমার উম্মাতের একদল লোককে (স্বপ্নে) আমার সামনে হাযির করা হল। তারা সাগরের বুকে সিংহাসনে বসা শাসকের মত সাওয়ার হয়ে আল্লাহ্ তা'আলার রাস্তায় (নৌ) যুদ্ধে নিয়োজিত। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল। আল্লাহ তা'আলার নিকট আমার জন্য দু’আ করুন, তিনি আমাকেও যেন তাদের অন্তর্ভুক্ত করে দেন। তিনি তার জন্য দু'আ করেন এবং (বালিশে) মাথা রেখে আবার ঘুমিয়ে পড়েন। তিনি পুনরায় হাসতে হাসতে ঘুম হতে সজাগ হন। আমি তাকে প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি হাসছেন কেন? তিনি বললেনঃ আমার সামনে আমার উন্মাতের এক দল লোককে (স্বপ্লে) হাযির করা হয়, যারা আল্লাহ্ তা'আলার রাস্তায় (নেী) যুদ্ধে নিয়োজিত। তিনি পূর্বানুরূপ বর্ণনা করেন। তিনি (উম্মু হারাম) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ্ তা'আলার নিকট আমার জন্য দু’আ করুন, তিনি আমাকেও যেন তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি বললেনঃ তুমি প্রথম দলের অন্তর্ভুক্ত হবে। মুআবিয়া ইবনু আবূ সুফিয়ান (রাঃ)-এর রাজত্বকালে উম্মু হারাম (রাঃ) নৌযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি নৌযুদ্ধ হতে ফিরে এসে তার সাওয়ারী হতে পড়ে গিয়ে মারা যান। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৭৭৬), নাসা-ঈ এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। উম্মু হারাম (রাঃ) উম্মু সুলাইম (রাঃ)-এর বোন এবং আনাস (রাঃ)-এর খালা।
। আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করা হল, এক লোক বীরত্ব দেখানোর উদ্দেশ্যে যুদ্ধে লিপ্ত হয়, এক লোক গোত্রীয় মর্যাদা রক্ষার উদ্দেশ্যে যুদ্ধ করে এবং এক লোক মানুষকে দেখানোর জন্য যুদ্ধ করে এদের মধ্যে কোন ব্যক্তি আল্লাহ্ তা'আলার পথে তিনি বললেনঃ আল্লাহ্ তা'আলার বাণীকে সমুন্নত করার উদ্দেশ্যে যে ব্যক্তি যুদ্ধ করে শুধুমাত্র সে-ই আল্লাহর পথে (জিহাদ করে)। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৭৮৩), নাসা-ঈ আবূ ঈসা বলেন, উমার (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদিসটি হাসান সহীহ।
। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সকল কর্মের ফলাফল নিয়াতের উপর নির্ভরশীল। প্রত্যেক মানুষের জন্য তার নিয়্যাত (উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য) মতো ফলাফল রয়েছে। সুতরাং যে মানুষের হিজরাত আল্লাহ ও তার রাসূলের দিকে, আল্লাহ ও তার রাসূলের জন্যই তার হিজরাত পরিগণিত হয়। যে মানুষের হিজরাত দুনিয়াবি স্বার্থের জন্য সে তা-ই অর্জন করবে। অথবা তার হিজরাত কোন নারীকে বিয়ের উদ্দেশ্যে হলে সে যে উদ্দেশ্যে হিজরাত করেছে তার হিজরাত সেই উদ্দেশ্যের জন্যেই পরিগণিত হবে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৪২২৭), নাসা-ঈ এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীসটি ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদের সূত্রে মালিক ইবনু আনাস, সুফিয়ান সাওরী ও অন্যান্য ইমামগণও বর্ণনা করেছেন। আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদের বর্ণনার মাধ্যমেই জেনেছি। আব্দুর রাহমান ইবনু মাহদী বলেন, এই হাদীস প্রত্যেক অনুচ্ছেদেই সংযোজন করা উচিত।
। সাহল ইবনু সা’দ আস-সাঈদী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলার রাস্তায় একটি সকালের ব্যয় পৃথিবী এবং এর মধ্যকার সবকিছু হতে উত্তম। জান্নাতের এক চাবুক পরিমাণ জায়গা পৃথিবী এবং এর মধ্যকার সবকিছু হতে উত্তম। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৭৫৬), নাসা-ঈ আবূ ঈসা বলেন, আবূ হুরাইরা, ইবনু আব্বাস, আবূ আইয়ূব ও আনাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদিসটি হাসান সহীহ।