। আবূ বকর ইবনু আবূ মূসা আল-আশআরী (রাঃ) হতে (যুদ্ধক্ষেত্রে) বলতে শুনেছিঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তলোয়ারের ছায়াতলে জান্নাতের দরজাসমূহ। দলের উস্ক খুষ্ক একজন লোক বললেন, আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কি তা বলতে শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। বর্ণনাকারী বলেন, লোকটি তার সাঙ্গীদের নিকট ফিরে গিয়ে বললেন, আমি তোমাদের বিদায়ী সালাম জানাচ্ছি। এই বলে তিনি নিজ তলোয়ারের খাপ ভেঙ্গে ফেললেন এবং তলোয়ার দ্বারা (শত্রুর প্রতি) আঘাত হানতে থাকেন। অবশেষে তিনি নিহত হন। সহীহ, ইরওয়া (৫/৭), মুসলিম এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র জাফর ইবনু সুলাইমান আয-যুবাঈর সূত্রেই জেনেছি। আবূ ইমরান আল-জাওনীর নাম আবদুল মালিক, পিতা হাবীব। আবূ বাকর ইবনু আবূ মূসার ব্যাপারে আহমাদ ইবনু হাম্বল (রাহঃ) বলেন, এটাই তার নাম, উপনাম নয়।
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করা হলঃ কোন ধরণের মানুষ সবচাইতে উত্তম? তিনি বললেনঃ আল্লাহ্ তা'আলার পথে যে সকল মানুষ জিহাদ করে। তারা আবার প্রশ্ন করলেন, তারপর কে? তিনি বললেনঃ পাহাড়ের কোন উপত্যকায় যে মু'মিন আশ্রয় নিয়ে নিজের প্রতিপালককে ভয় করে চলে এবং মানুষকে নিজের অনিষ্ট হতে নিরাপদে রাখে। সহীহ, তা’লীকুর রাগীব (২/১৭৩), নাসা-ঈ এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জান্নাতে বসবাসকারীদের মধ্যে শহীদ ব্যক্তি ব্যতীত আর কেউই পৃথিবীতে ফিরে আসার উৎসাহ বোধ করবে না। শহীদ ব্যক্তিই আবার পৃথিবীতে ফিরে আসতে চাইবে। আল্লাহ তা'আলা তাকে যেসব নিয়ামাত ও মর্যাদা দিবেন তা দেখে সে বলবে, আমি দশবার আল্লাহর রাস্তায় নিহত হব। সহীহ, নাসা-ঈ এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
হাদিস 1662 — Jami At Tirmidhi 22:45
সহিহ - Agreed Upon
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ بِمَعْنَاهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার-মুহাম্মাদ ইবনু জাফর হতে, তিনি শুবা হতে, তিনি কাতাদা হতে, তিনি আনাস (রাঃ)-এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে একইরকম বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা এ হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন।
। মিকদাম ইবনু মা'দীকারিব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শহীদের জন্য আল্লাহ্ তা'আলার নিকট ছয়টি পুরস্কার বা সুযোগ আছে। তার প্রথম রক্তবিন্দু পড়ার সাথে সাথে তাকে ক্ষমা করা হয়, তাকে তার জান্নাতের বাসস্থান দেখানো হয়, কবরের আযাব হতে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়, সে কঠিন ভীতি হতে নিরাপদ থাকবে, তার মাথায় মর্মর পাথর খচিত মর্যাদার টুপি পরিয়ে দেওয়া হবে। এর এক একটি পাথর দুনিয়া ও তার মধ্যকার সবকিছু হতে উত্তম। তার সাথে টানা টানা আয়তলোচনা বাহাত্তরজন জান্নাতী হুরকে বিয়ে দেওয়া হবে এবং তার সত্তরজন নিকটাত্মীয়ের জন্য তার সুপারিশ কুবুল করা হবে। সহীহ, আহকা-মুল জানায়িজ (৩৫-৩৬), তা’লীকুর রাগীব (২/১৯৪), সহীহা (৩২১৩) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ গারীব বলেছেন।
। সাহল ইবনু সা'দ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা'আলার পথে এক দিন সীমান্ত পাহারা দেওয়া পৃথিবী ও তার উপরের সকল কিছু হতে উত্তম। জান্নাতে তোমাদের কারো চাবুক পরিমাণ জায়গা পৃথিবী ও তার মধ্যকার (উপরের) সব কিছু হতে উত্তম। (জিহাদের মাঠে) বান্দার এক বিকাল অথবা এক সকালের ব্যয় পৃথিবী ও তার উপরের সকল কিছু হতে কল্যাণকর। সহীহ, বুখারী (২৭৯৪, ২৮৯২, ৬৪১৫) এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির (রাহঃ) বলেন, কোন এক সময় শুরাহবীল ইবনুস সিমতের সামনে দিয়ে সালমান ফারসী (রাঃ) পথ চলছিলেন। তিনি তখন তার ঘাটিতে পাহারারত ছিলেন। তার ও তার সার্থীদের জন্য পাহারার কাজটি খুবই কঠিন হয়ে গিয়েছিল। তিনি (সালমান) বললেন, হে সিমতের পুত্র! আমি কি তোমাকে এমন একটি হাদীস বলব, যা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট শুনেছি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। সালমান (রাঃ) বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ এক দিন আল্লাহ্ তা'আলার পথে সীমান্ত পাহারা দেওয়া একাধারে এক মাস রোযা রাখা এবং রাতে নামায আদায় হতেও উত্তম ও বেশি কল্যাণকর। এই কাজে লিপ্ত থাকাবস্থায় যে লোক মারা যাবে তাকে কবরের বিপর্যয়কর পরিস্থিতি হতে মুক্তি দেওয়া হবে এবং কিয়ামত পর্যন্ত তার আমল পরিবর্ধিত করা হবে। সহীহ, ইরওয়া (১২০০) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান বলেছেন।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি (নিজ দেহে) জিহাদের কোন চিহ্ন ব্যতীত আল্লাহ তা'আলার নিকটে হাযির হবে, তার দীনদারী ও কাজের মধ্যে বিরাট ত্রুটি থেকে যাবে। যঈফ, ইবনু মাজাহ (২৭৬৩) আবূ ঈসা বলেন, ওয়ালীদ ইবনু মুসলিম হতে ইসমাঈল ইবনু রাফি-এর সূত্রে এ হাদীসটি গারীব। ইসমাঈল ইবনু রাফিকে কোন কোন হাদীস বিশারদ দুর্বল আখ্যায়িত করেছেন। আমি ইমাম বুখারীকে বলতে শুনেছি, তিনি নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) রাবী বা তার সমপর্যায়ভুক্ত (মুকারিবুল হাদীস)। উল্লেখিত হাদীসটি আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সূত্রে অন্যভাবেও বর্ণিত হয়েছে। সালমানের হাদীসের সনদ মুত্তাসিল নয়, কেননা মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির সালমানের সাক্ষাৎ পান নাই। এই হাদীসটি আইয়ুব ইবনু মূসার সূত্রে, তিনি মাকহুল হতে তিনি শুরাহবীল হতে তিনি সালমান হতে হতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত হয়েছে।
। উসমান ইবনু আফফান (রাঃ)-এর গোলাম আবূ সালিহ (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি উসমান (রাঃ)-কে মিম্বারের উপরে দাড়িয়ে বলতে শুনেছিঃ আমি (উসমান) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে শুনা একটি হাদীস তোমাদেরকে বলিনি এই ভয়ে যে, হয়ত (তা শুনে) তোমরা আমার নিকট হতে আলাদা হয়ে যাবে। কিন্তু পরে আমার উপলব্ধি হল যে, তোমাদের নিকট এটা বর্ণনা করি, যাতে নিজের জন্য প্রত্যেকে তা পছন্দ করে নিতে পারে যা তার নিকট ভাল মনে হয়। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ অন্য (কোন কাজে) কোথাও এক হাজার দিন কাটানোর চাইতে এক দিন আল্লাহ্ তা'আলার পথে সীমান্ত পাহারা দেওয়া (বা শত্রুর অপেক্ষায় থাকা) বেশি কল্যাণকর। হাসান, তা’লীকুর রাগীব, তাহকীক ছানী (২/১৫২), তা’লীক আলা-আহাদীস মুখতারাহ (৩০৫-৩১০) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। ইমাম বুখারী (রাহঃ) বলেন, উসমান (রাঃ)-এর মুক্তদাস আবূ সালিহ-এর নাম বুরকান।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শহীদ ব্যক্তি মৃত্যুর কষ্ট ততটুকু অনুভর করে, তোমাদের কাউকে একবার চিমটি কাটলে! সে যতটুকু কষ্ট অনুভব করে। হাসান সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৮০২) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ গারীব বলেছেন।