। আবদুল্লাহ ইবনু বুরাইদা (রাঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি (বুরাইদা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে আমি বসা ছিলাম। এমন সময় তার নিকট এক মহিলা এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আমার মাকে একটি দাসী দান করেছিলাম। তিনি মারা গেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি সাওয়াবের অধিকারী হয়ে গেছ এবং উত্তরাধিকার স্বত্ত্ব দাসীটি তোমাকে ফেরত দিয়েছে। সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! এক মাসের রোযা আদায় করা তার বাকী আছে, তার পক্ষ হতে আমি কি রোযা আদায় করতে পারি? তিনি বললেনঃ তার পক্ষে তুমি রোযা আদায় কর। সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! কখনও তিনি হাজ্জ করেননি। তার পক্ষ হতে আমি কি হাজ আদায় করতে পারি? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, তার জন্য তুমি হাজ্জ আদায় কর। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৭৫৯, ২৩৯৪), মুসলিম আবু ঈসা এ হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। উপরোক্ত সূত্র ব্যতীত এটি বুরাইদার হাদীস হিসাবে জানা যায়নি। হাদীস বিশারদদের মতে আবদুল্লাহ ইবনু আতা সিকাহ (নির্ভরযোগ্য) বর্ণনাকারী। এ হাদীস অনুযায়ী বেশির ভাগ আলিম আমল করার মত ব্যক্ত করেছেন। কোন লোক কিছু সাদকা করল এবং পরে আবার সে তার উত্তরাধিকারী হল, এক্ষেত্রে তার জন্য ঐ সম্পদ বৈধ। অপর একদল মনীষী বলেনঃ সাদকা বা দান-খায়রাত এমন একটি জিনিস যা শুধুমাত্র আল্লাহ তা'আলার জন্য খরচ করা হয়। এরকম সম্পদ ওয়ারিস সূত্রে প্রাপ্ত হলে উচিত হচ্ছে ঐ জিনিস পুনরায় সে পথে খরচ করে দেয়া। সুফিয়ান সাওরী ও যুহাইর ইবনু মুআবিয়া-আবদুল্লাহ ইবনু আতার সূত্রে উল্লেখিত হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
। উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, এক ব্যক্তিকে তিনি আল্লাহ তা'আলার পথে ঘোড়া দান করলেন। তিনি দেখতে পেলেন যে, সে লোক ঘোড়াটিকে বিক্রয় করছে। তিনি তা কিনতে ইচ্ছা করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমার দান করা বস্তু তুমি ফিরত নিও না। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৩৯০), বুখারী, মুসলিম আবু ঈসা হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীস অনুযায়ী বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ আলিম আমল করার কথা বলেছেন।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, এক লোক বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার মা মৃত্যুবরণ করেছেন। তার পক্ষে আমি দান-খয়রাত করলে তার কি কোন কল্যাণে আসবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হ্যাঁ। সে বলল, আমার একটি বাগান আছে। আপনাকে আমি সাক্ষী রেখে তার পক্ষ থেকে তা দান করলাম। — সহীহ, সহীহ আবু দাউদ (৬৫৬৬), বুখারী আবু ঈসা এ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী আলিমগণ মত ব্যক্ত করেছেন। তারা বলেন, মৃত ব্যক্তির নিকটে দুআ এবং দান-খায়রাত পৌছে। এ হাদীসটিকে কিছু বর্ণনাকারী মুরসালভাবে বর্ণনা করেছেন। মাখরাফ শব্দের অর্থ হলো ফলের বাগান।
। আবু উমামা আল-বাহিলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি বিদায় হজ্জের বছর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তার বক্তৃতায় বলতে শুনেছিঃ স্বামীর ঘর হতে তার পূর্বানুমতি ছাড়া কোন স্ত্রীলোক যেন কিছু দান না করে। প্রশ্ন করা হল, হে আল্লাহর রাসূল! খাবারও কি নয়? তিনি বললেনঃ খাবার তো আমাদের উত্তম সম্পদ। – হাসান, ইবনু মা-জাহ (২২৯৫) সাদ ইবনু আবু ওয়াক্কাস, আসমা বিনতু আবু বাকর, আবু হুরাইরা, আবদুল্লাহ ইবনু আমর ও আইশা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিন আছে। আবু উসামা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান বলেছেন।
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ স্বামীর ঘর হতে স্ত্রী কোন কিছু দান করলে এতে তার সাওয়াব হয়। স্বামীরও সমপরিমাণ সাওয়াব হয় এবং রক্ষণাবেক্ষণকারীরও সমপরিমাণ সাওয়াব হয়। এতে একজন অন্যজনের কিছু পরিমাণ সাওয়াবও কমাতে পারে না। স্বামীকে উপার্জনের জন্য এবং স্ত্রীকে খরচের জন্য সাওয়াব দেওয়া হয়। – সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২২৯৪),বুখারী, মুসলিম আবূ ঈসা এ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন।
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ স্বামীর ঘর হতে যে মহিলা কোনরূপ অপচয় না করে এবং খুশি মনে কোন কিছু দান করে সে স্বামীর সমপরিমাণ সাওয়াব লাভ করে। তার সৎ উদ্দেশ্যের জন্য সে সাওয়াব লাভ করে এবং রক্ষণাবেক্ষণকারী একই পরিমণে সাওয়াব অর্জন করে। – পূর্ববর্তী হাদীসের সহায়তায় হাদীসটি সহীহ। আবু ঈসা এ হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। আবু ওয়ায়িল হতে আমর ইবনু মুররাহ কর্তৃক বর্ণিত হাদীস হতে এটা অনেক বেশি সহীহ। কেননা আমর ইবনু মুররাহ তার বর্ণনায় মাসরুকের উল্লেখ করেন নাই।
। আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে থাকা অবস্থায় আমরা (মাথাপিছু) এক সা খাবার অথবা এক সা' যব অথবা এক সা খেজুর অথবা এক সা’ কিশমিশ অথবা এক সা’ পনির (ফিত্রা হিসাবে) দান করতাম। আমরা এভাবেই দিয়ে আসছিলাম। কিন্তু মুআবিয়া (রাঃ) মাদীনায় এসে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে লোকদের সাথে আলোচনা করলেন। তার আলোচনার মধ্যে একটি ছিলঃ আমি দেখছি, সিরিয়ার দুই মুদ গম এক সা খেজুরের সমান। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর লোকেরা এটাই অনুসরণ করতে লাগলো। আবু সাঈদ (রাঃ) বলেন, কিন্তু আমি পূর্বের মতই দিতে থাকব। – সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৮২৯); বুখারী, মুসলিম। আবু ঈসা হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীসের অনুসরণ করে একদল মনীষী বলেন, প্রতিটি জিনিস এক সা’ পরিমাণ হতে হবে। একই রকম মত প্রকাশ করেছেন ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল বিশেষজ্ঞ সাহাবা ও অন্যান্যরাও বলেছেন, এক সা’ পরিমাণই প্রতিটি জিনিস হতে হবে কিন্তু গম অর্ধ সা’ পরিমাণ দিলেই যথেষ্ট। সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক ও কুফাবাসীদের মত এটাই যে, গম অর্ধেক সা’ পরিমাণ দিলেই চলবে।
হাদিস 674 — Jami At Tirmidhi 7:58
দাঈফ Isnaadদাঈফ Isnaadদাঈফ
حَدَّثَنَا عُقْبَةُ بْنُ مُكْرَمٍ الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا سَالِمُ بْنُ نُوحٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بَعَثَ مُنَادِيًا فِي فِجَاجِ مَكَّةَ " أَلاَ إِنَّ صَدَقَةَ الْفِطْرِ وَاجِبَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى حُرٍّ أَوْ عَبْدٍ صَغِيرٍ أَوْ كَبِيرٍ مُدَّانِ مِنْ قَمْحٍ أَوْ سِوَاهُ صَاعٌ مِنْ طَعَامٍ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ . وَرَوَى عُمَرُ بْنُ هَارُونَ هَذَا الْحَدِيثَ عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ وَقَالَ عَنِ الْعَبَّاسِ بْنِ مِينَاءَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ بَعْضَ هَذَا الْحَدِيثِ . حدثنا جارود حدثنا عمر بن هارون هذا الحديث
। আমর ইবনু শুআইব (রাহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কার অলিতেগলিতে লোক পাঠিয়ে ঘোষণা করলেনঃ জেনে রাখ! প্রত্যেক মুসলিম নারী-পুরুষ, আযাদ-গোলাম, ছোট অথবা বড় সকলের ওপর ফিতরা ওয়াজিব। এর পরিমাণ হল, (মাথাপিছু) দুই মুদ গম অথবা এটা ছাড়া এক সা’ পরিমাণ অন্যান্য খাদ্যদ্রব্য। সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। উমার ইবনু হারুন হাদীসটি ইবনু জুরাইজ হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি আমর ইবনু শুয়াইবের স্থলে আব্বাস ইবনু মীনার নাম উল্লেখ করেছেন। জারুদও উমার ইবনু হারুন হতে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, প্রত্যেক পুরুষ, নারী, মুক্ত দাস-দাসীর উপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সা’ পরিমাণ খেজুর অথবা এক সা’ পরিমাণ যব ফিত্রা হিসাবে নির্ধারণ করে দিয়েছেন। বর্ণনাকারী বলেন, কিন্তু পরবর্তীতে লোকেরা অর্ধেক সা’ গমকে এর সমপরিমাণ ধরে নিয়েছে। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৮২৫), বুখারী আবু ঈসা এ হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। আবু সাঈদ, ইবনু ইবনু আবৃ সুআইর ও আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
। আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, মুসলিম মুক্ত অথবা গোলাম, পুরুষ অথবা স্ত্রীলোক নির্বিশেষে সকলের উপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সা’ পরিমাণ খেজুর অথবা এক সা’ পরিমাণ যব রামাযান মাসের ফিতরা হিসাবে নির্ধারণ করে দিয়েছেন। - সহীহ ইবনু মা-জাহ (১৮২৬), বুখারী, মুসলিম ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। মালিক নাফি হতে, তিনি ইবনু উমার হতে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে আইয়ুবের হাদীসের মতই বর্ণনা করেছেন এবং তাতে তিনি মুসলিমীন শব্দের উল্লেখ করেছেন। এই হাদীসটি আরও অনেকে নাফি হতে বর্ণনা করেছেন তবে তারা মুসলিমীন শব্দের উল্লেখ করেননি। ইমাম মালিক, শাফিঈ ও আহমাদ বলেন, কারো নিকটে কাফির দাস থাকলে তার জন্য ফিতরা আদায় করতে হবে না। সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক ও ইসহাক বলেন, কাফির গোলাম হলেও তার জন্য ফিত্রা আদায় করতে হবে।