। মুআবিয়া (রাঃ)-কে আমর ইবনু মুররা (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমি বলতে শুনেছিঃ গরীব-মিসকীন ও নিজ প্রয়োজন মেটানোর উদ্দেশ্য আগমনকারী লোকের জন্য যে নেতা নিজের দরজাকে বন্ধ করে রাখে, এ ধরণের লোকের দারিদ্র্য, অভাব ও প্রয়োজনের সময় আল্লাহ তা'আলাও আকাশের দরজা বন্ধ করে রাখবেন। মুআবিয়া (রাঃ) একথা শুনার পর থেকে এক লোককে মানুষের প্রয়োজন মেটানোর উদ্দেশ্যে নিযুক্ত করেন। সহীহ, মিশকাত তাহকীক ছানী (৩৭২৮), সহীহা (৬২৯), সহীহ আবূ দাউদ (২৬১৪) ইবনু উমার (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আমর ইবনু মুররা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা গারীব বলেছেন। অন্য একটি সূত্রেও এ হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। আবূ মারইয়াম হচ্ছে আমর ইবনু মুররার উপনাম।
হাদিস 1333 — Jami At Tirmidhi 15:13
Isnaad Hasan
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمْزَةَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي مَرْيَمَ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُخَيْمِرَةَ، عَنْ أَبِي مَرْيَمَ، صَاحِبِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَ هَذَا الْحَدِيثِ بِمَعْنَاهُ . وَيَزِيدُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ شَامِيٌّ وَبُرَيْدُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ كُوفِيٌّ وَأَبُو مَرْيَمَ هُوَ عَمْرُو بْنُ مُرَّةَ الْجُهَنِيُّ .
। আলী ইবনু হুজর ইয়াহইয়া ইবনু হামযা হতে, তিনি ইয়াযিদ ইবনু আবী মারইয়াম হতে, তিনি আল-কাসিম ইবনু মুখাইমিরাহ তিনি রাসুলের সাহাবী আবু মারইয়াম হতে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে উপরোক্ত হাদীসের মতই হাদীস বর্ণনা করেছেন। ইয়াযীদ ইবনু আবূ মারইয়াম ছিলেন সিরিয়ার অধিবাসী এবং বুরাইদ ইবনু আবূ মারইয়াম ছিলেন কূফার অধিবাসী। আবূ মারইয়ামের নাম আমর ইবনু মুররা আল-জুহানী।
। আবদুর রাহমান ইবনু আবূ বাকরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, উবাইদুল্লাহ ইবনু আবূ বাকরা একজন বিচারক ছিলেন। আমার আব্বা তাকে লিখে পাঠালেন, তুমি উত্তেজিত অবস্থায় কখনো দুই পক্ষের মধ্যে বিচারকার্য সমাধা করবে না। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমি বলতে শুনেছিঃ বিচারক রাগের অবস্থায় যেন দুই পক্ষের মধ্যে বিচারকার্য পরিচালনা না করে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৩১৬), নাসা-ঈ এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। আবূ বাকরা (রাঃ)-এর নাম নুফাই।
। মুআয ইবনু জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ইয়ামানে পাঠান। আমি রাওনা হলে তিনি আমার পিছনে এক ব্যক্তিকে পাঠিয়ে আমাকে ফিরিয়ে আনলেন। তিনি আমাকে বললেনঃ তুমি কি বুঝেছো আমি তোমাকে ডাকার জন্য কেন লোক পাঠালাম? তিনি বললেন, আমার অনুমতি ব্যতীত তুমি (লোকদের নিকট হতে উপহার হিসেবে) কিছু নিবে না। কেননা এটা আত্মসাৎ৷ যে ব্যক্তি আত্মসাৎ করবে সে কিয়ামতের দিন আত্মসাতের মালসহ হাযির হবে। আমি তোমাকে এটা জানাবার উদ্দেশ্যে ডেকেছি। এখন নিজের কাজে রাওনা হয়ে যাও। সনদ দুর্বল এ অনুচ্ছেদে আদী ইবনু আমীরাহ বুরাইদা, মুসতাওরিদ ইবনু শাদাদ, আবূ হুমাইদ ও ইবনু উমার (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, মুয়ায (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি গারীব। আবূ উসামা হতে দাউদ আল-আওদীর সূত্রেই শুধু আমরা এ হাদীস জেনেছি।
হাদিস 1336 — Jami At Tirmidhi 15:16
সহিহসহিহহাসানIsnaad Hasan
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ عُمَرَ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الرَّاشِي وَالْمُرْتَشِي فِي الْحُكْمِ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَعَائِشَةَ وَابْنِ حَدِيدَةَ وَأُمِّ سَلَمَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . وَرُوِيَ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَلاَ يَصِحُّ . قَالَ وَسَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ يَقُولُ حَدِيثُ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَحْسَنُ شَيْءٍ فِي هَذَا الْبَابِ وَأَصَحُّ .
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, বিচারের ক্ষেত্রে ঘুষখোর ও ঘুষ প্রদানকারীকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অভিসম্পাত করেছেন। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৩১৩) আবদুল্লাহ ইবনু আমর, আইশা, ইবনু হাদীদা ও উম্মু সালামা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। আবূ সালমার সূত্রে আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতেও উল্লেখিত হাদীসটি বর্ণিত আছে। আবূ সালামা-তার আব্বা আবদুর রাহমানের সূত্রেও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এ হাদীসটি বর্ণিত আছে, কিন্তু তা সহীহ নয়। আমি আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রাহমানকে বলতে শুনেছিঃ এই অনুচ্ছেদের আওতাভুক্ত হাদীসসমূহের মধ্যে আবূ সালামা কর্তৃক আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ)-এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত হাদীসটি সর্বোত্তম ও সর্বাধিক সহীহ।
। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, ঘুষ গ্রহণকারী ও ঘুষ প্রদানকারী দুজনকেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অভিসম্পাত করেছেন। সহীহ, প্রাগুক্ত এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বকরীর পায়ের একটি খুরও যদি আমাকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়, আমি সেটা অবশ্যই গ্রহণ করব। আমাকে যদি তা খাওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয় তবে আমি তাতে সাড়া দিব। সহীহ, সহীহুল জা-মি’ মুখতাসার শামা-ইলুল মুহাম্মাদিয়া (২৯০), বুখারী আলী, আইশা, মুগীরা ইবনু শুবা, সালমান, মুআবিয়া ইবনু হাইদা ও আবদুর রাহমান ইবনু আলকামা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
। উম্মু সালামা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আমার নিকট ঝগড়া বিবাদ সমাধানের উদ্দেশ্যে এসে থাক। আমিও একজন মানুষ। হয়ত তোমাদের কোন লোক অন্য কারো তুলনায় (নিজের যুক্তি-প্রমাণ পেশে) অত্যন্ত বাকপটু হয়ে থাকবে। সুতরাং আমি তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তির অনুকূলে তার ভাইয়ের প্রাপ্য কোন অংশ দিয়ে দিতে পারি। এরকম পরিস্থিতিতে আমি যেন তার জন্য জাহান্নামের একটি টুকরাই তাকে দিয়ে দিচ্ছি। অতএব সে যেন (আসল বিষয় জানা থাকলে) এর কোন কিছুই গ্রহন না করে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৩১৭), মুসলিম আবূ হুরাইরা ও আইশা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। উম্মু সালামা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
। আলকামা ইবনু ওয়াইল (রাঃ) হতে তার বাবার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, হাযরামাওত এলাকার একজন লোক এবং কিন্দার একজন লোক এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হাযির হল। হাযরামী বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার অল্পকিছু জমি জোরপূর্বক এই লোক দখল করে নিয়েছে। কিনদী বলল, সেটা আমার জমি, আমার দখলেই আছে, সেটাতে তার কোন মালিকানা নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাযরামীকে বললেনঃ তোমার কাছে কোন প্রকারের সাক্ষী-প্রমাণ আছে কি? সে বলল, না। তিনি বললেনঃ তাহলে তোমাকে তার শপথের উপর নির্ভর করতে হবে। সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! এ লোকটি তো বদমাইশ, যে কোন ব্যাপারে শপথ করতে তার কোন দ্বিধা নেই, কোন কিছুতেই তার ভীতি-বিহব্বলতা নেই। তিনি বললেনঃ এটা ব্যতীত তোমার আর কোন উপায় নেই। বর্ণনাকারী বলেন, কিনদী শপথের উদ্দেশ্যে এগিয়ে আসলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যদি অন্যায়ভাবে তার সম্পদ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে সে মিথ্যা শপথ করে তবে সে এমনভাবে আল্লাহর সামনে উপস্থিত হবে যে, আল্লাহ্ তা'আলা তার হতে (অসন্তোষে) মুখ সরিয়ে নিবেন। সহীহ, ইরওয়া (২৬৩২), মুসলিম উমার, ইবনু আব্বাস, আবদুল্লাহ ইবনু আমর ও আশআস ইবনু কাইস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ওয়াইল ইবনু হুজর (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
। আমর ইবনু শুআইব (রাহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার বাবা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার এক ভাষণে বলেছেনঃ বাদীর দায়িত্ব হচ্ছে সাক্ষী-প্রমাণ হাযির করা এবং বিবাদীর দায়িত্ব হচ্ছে শপথ করা। সহীহ, ইরওয়া (৮/২৬৫-২৬৭) এ হাদীসের সনদকে আবূ ঈসা সমালোচিত বলেছেন। বর্ণনাকারী মুহাম্মাদ ইবনু উবাইদুল্লাহ আরযামীর স্মরণ-শক্তি দুর্বল। তাকে ইবনুল মুবারাক ও অন্যান্যরা দুর্বল বর্ণনাকারী বলে আখ্যায়িত করেছেন।