। বারাআ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমার মামা আবূ বুরদা (রাঃ) আমার নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। তার হাতে একটি পতাকা ছিল। আমি তাকে প্রশ্ন করলাম, কোথায় যাচ্ছেন? তিনি বললেন, এক লোক তার বাবার স্ত্রীকে (সৎমাকে) বিয়ে করেছে। আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠিয়েছেন তার মাথা কেটে তার নিকট আনার জন্য। - সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৬০৭) কুররা আল-মুযানী (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। বারাআ (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। মুহাম্মদ ইবনু ইসহাক আদী ইবনু সাবিত হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ হতে তিনি বারাআ হতে, হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এই হাদীসটি তার পিতা হতে এই সূত্রেও বর্ণিত আছে। ইয়াযীদ ইবনু বারাআ তার মামা হতে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রেও বর্ণিত আছে।
। উরওয়া (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর (রাঃ) তাকে বলেছেন, হাররা হতে বয়ে আসা নালার পানির বণ্টনকে কেন্দ্র করে যুবাইর (রাঃ)-এর বিরুদ্ধে একজন আনসার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট অভিযোগ উত্থাপন করে। এ নালার পানি তারা খেজুর বাগানেও সিঞ্চন করতেন। আনসারী দাবি করল, পানি প্রবাহিত হতে দাও। কিন্তু যুবাইর (রাঃ) তা অস্বীকার করেন। তারা এই বিবাদকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে উপস্থাপন করল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুবাইর (রাঃ)-কে বললেনঃ হে যুবাইর! তোমার ক্ষেতে পানি প্রবাহিত কর, তারপর তোমার প্রতিবেশীর ক্ষেতের দিকে তা প্রবাহিত হতে দাও। আনসারী এতে ক্রোধান্বিত হয়ে বলল, আপনার ফুফাত ভাই তো! এ কথায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুখমণ্ডল রক্তিমবর্ণ ধারণ করল। তিনি বললেনঃ হে যুবাইর তোমার ক্ষেতে পানি প্রবাহিত কর, তারপর তা আটক করে রাখ-যাতে তা আইল পর্যন্ত উঠতে পারে। যুবাইর (রাঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! আমার মনে হয় এ প্রসঙ্গেই নিম্নোক্ত আয়াত অবতীর্ণ হয়েছেঃ “না, হে মুহাম্মাদ! তোমার প্রতিপালকের শপথ! এরা কোন অবস্থাতেই ঈমানদার হতে পারে না, যে পর্যন্ত না তাদের পারস্পরিক মতভেদের ব্যাপারসমূহে তোমাকে বিচারকরূপে মেনে না নিবে। তারপর তুমি যে ফায়সালাই করবে তার প্রসঙ্গে তারা নিজেদের মনে কিছুমাত্র কুষ্ঠাবোধ করবে না; বরং নিজেদেরকে এর সামনে সম্পূর্ণভাবে সমর্পণ করবে” (সূরাঃ নিসা-৬৫)। সহীহ, নাসা-ঈ এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীসটি শুআইব ইবনু আবূ হামযা-যুহরী হতে, তিনি উরওয়া হতে, তিনি যুবাইর (রাঃ) হতে এ সনদেও বর্ণিত আছে। তাতে আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর (রাঃ)-এর উল্লেখ নেই। পূর্বোক্ত হাদীসের মত আবদুল্লাহ ইবনু ওয়াহব-লাইস হতে ও ইউনুস-যুহরী হতে, তিনি উরওয়া হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু যুবাইর (রাঃ)হতে এ সূত্রেও বর্ণিত আছে।
। ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, আনসার বংশের একজন লোক মারা যাওয়ার সময় তার ছয়টি গোলামই মুক্ত করে দিল। তার-নিকটে এরা ব্যতীত আর কোন সম্পদ ছিল না। এ খবর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট পৌছানোর পর তিনি তার প্রসঙ্গে কঠোর মন্তব্য করেন। তিনি তারপর গোলামদের ডেকে পাঠালেন এবং তাদেরকে (তিন) ভাগ করে তাদের মধ্যে লটারী করলেন। তিনি সে মোতাবিক দুইজনকে মুক্ত করে দিলেন এবং বাকি চারজনকে গোলাম হিসাবে রেখে দিলেন। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৩৪৫), মুসলিম আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীসটি ইমরান (রাঃ) হতে একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। এ হাদীস অনুযায়ী একদল বিশেষজ্ঞ আলিম আমল করেছেন। এ প্রসঙ্গে বা অন্য কোন ব্যাপারে লটারী করে ঠিক করে নিতে হবে বলে মালিক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক মত প্রকাশ করেছেন। কিন্তু লটারীর পক্ষে রায় প্রদান করেননি কূফাবাসী কিছু আলিম। তাদের মতে, এক্ষেত্রে প্রতিটি গোলামের তিন ভাগের এক অংশ মুক্ত হবে। অবশিষ্ট দুই ভাগের মুক্তির জন্য তাদের মাধ্যমে কাজ করিয়ে নিতে হবে। আবূল মুহাল্লাবের নাম আবদুর রাহমান ইবনু আমর আলজারমী তিনি আবূ কিলাবা নহেন। মতান্তরে মুআবিয়া, পিতা আমর। আবূ কিলাবা আলজারমীর নাম আব্দুল্লাহ ইবনু যাইদ।
হাদিস 1365 — Jami At Tirmidhi 15:45
সহিহসহিহহাসান
। সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন লোক যদি তার কোন মাহরাম আত্মীয়ের মালিক হয় তাহলে সে (দাসত্ব হতে) স্বয়ং স্বাধীন হয়ে যাবে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৫২৪) আবূ ঈসা বলেন, আমরা শুধুমাত্র হাম্মাদ ইবনু সালামার বর্ণনা হতেই এ হাদীস মুসনাদ হিসেবে জেনেছি। এ হাদীসটি কাতাদা হতে হাসানের বরাতে উমর (রাঃ)-এর সূত্রে কিছু বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন। অন্য আরেকটি সনদেও সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন লোক যদি তার কোন মাহরাম আত্মীয়ের (দাসত্ব সূত্রে) মালিক হয় তাহলে সে (দাসত্ব হতে) নিজেই মুক্ত হয়ে যাবে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি আসিম আল-আহওয়াল হতে হাম্মাদ ইবনু সালামার সূত্রে মুহাম্মাদ ইবনু বাকর ছাড়া আর কেউ বর্ণনা করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। এ হাদীস অনুযায়ী একদল আলিম আমল করেছেন। ইবনু উমার (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন লোক যদি তার কোন মাহরাম আত্মীয়ের মালিক হয় তাহলে সে নিজেই মুক্ত হয়ে যাবে। উপরোক্ত হাদীসটি যামরা ইবনু রাবীআ-সাওরী হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু দীনার হতে, তিনি ইবনু উমর (রাঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এইসূত্রে বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু এক্ষেত্রে যামরার কোন অনুসারী নেই। তাই হাদীস বিশারদগণ মনে করেন এ হাদীসের সনদে ক্রটি আছে।
। রাফি ইবনু খাদীজ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন সম্প্রদায়ের জমিতে যদি কোন লোক তাদের বিনা অনুমতিতে কৃষিকাজ করে তাহলে সে ফসলের কোন অংশ পাবে না, শুধুমাত্র চাষাবাদের খরচ পাবে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৪৬৬) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা উল্লেখিত সনদসূত্রে হাসান গারীব বলেছেন। আমরা আবূ ইসহাকের এই হাদীস প্রসঙ্গে শুধুমাত্র শারীক ইবনু আবদুল্লাহর সনদেই জেনেছি। এ হাদীস অনুযায়ী একদল বিশেষজ্ঞ আলিম আমল করেছেন। একই কথা বলেছেন আহমাদ ও ইসহাকও। আবূ ঈসা বলেন, আমি এ হাদীস প্রসঙ্গে মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈলকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এটা হাসান হাদীস। আমরা আবূ ইসহাকের এ হাদীস প্রসঙ্গে শুধুমাত্র শারীকের সূত্রে জানতে পেরেছি। তিনি আরো বলেন, এটি মাকিল খাদীজ (রাঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
নুমান ইবনু বাশীর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তার আব্বা তার এক ছেলেকে একটি গোলাম প্রদান করেন। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এর সাক্ষী করার উদ্দেশ্যে তার নিকট আসেন। তিনি বললেনঃ তুমি তোমার এই সন্তানকে যা দিয়েছ, তোমার অন্য সন্তানদেরকেও কি তা দিয়েছ? তিনি বললেন, না। তিনি (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ এই দান ফিরিয়ে নাও। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৩৭৫, ২৩৭৬), নাসা-ঈ এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীসটি আরো কয়েকটি সূত্রে নুমান ইবনু বাশীরের নিকট হতে বর্ণিত হয়েছে। এ হাদীস অনুযায়ী একদল বিশেষজ্ঞ আলিম আমল করেছেন। তারা সন্তানদের মধ্যে সমতা বজায় রাখাকে খুবই পছন্দনীয় বলেছেন। কেউ কেউ এ পর্যন্তও বলেছেন যে, তাদের মধ্যে চুম্বন দেওয়ার ক্ষেত্রেও সমতা বজায় রাখতে হবে। আর একদল বিশেষজ্ঞ আলিম বলেছেন, সন্তানদের মধ্যে উপহার-উপটৌকন প্রদানের ক্ষেত্রে সমতা বজায় রাখতে হবে। এক্ষেত্রে ছেলে ও মেয়েদের মধ্যে ব্যবধান সৃষ্টি করা যাবে না। সুফিয়ান সাওরী এই মত দিয়েছেন। আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ) বলেছেন, মীরাস বণ্টনের নীতি মোতাবেক উপহার-উপটৌকনের ক্ষেত্রেও ছেলে সন্তান মেয়ে সন্তানের দ্বিগুণ পাবে।
হাদিস 1368 — Jami At Tirmidhi 15:49
সহিহসহিহহাসান Sahihহাসান
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " جَارُ الدَّارِ أَحَقُّ بِالدَّارِ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ الشَّرِيدِ وَأَبِي رَافِعٍ وَأَنَسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ سَمُرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَرَوَى عِيسَى بْنُ يُونُسَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ . وَرُوِيَ عَنْ سَعِيدٍ عَنْ قَتَادَةَ عَنِ الْحَسَنِ عَنْ سَمُرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . وَالصَّحِيحُ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ حَدِيثُ الْحَسَنِ عَنْ سَمُرَةَ وَلاَ نَعْرِفُ حَدِيثَ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ عِيسَى بْنِ يُونُسَ . وَحَدِيثُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الطَّائِفِيِّ عَنْ عَمْرِو بْنِ الشَّرِيدِ عَنْ أَبِيهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي هَذَا الْبَابِ هُوَ حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَرَوَى إِبْرَاهِيمُ بْنُ مَيْسَرَةَ عَنْ عَمْرِو بْنِ الشَّرِيدِ عَنْ أَبِي رَافِعٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . قَالَ سَمِعْتُ مُحَمَّدًا يَقُولُ كِلاَ الْحَدِيثَيْنِ عِنْدِي صَحِيحٌ .
। সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বাড়ীর প্রতিবেশী উক্ত বাড়ীর (ক্রয় করার ক্ষেত্রে) প্রাধান্য পাবে। সহীহ, ইরওয়া (১৫৩৯) শারীদ, আবূ রাফি ও আনাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। ঈসা ইবনু ইউনুস সাঈদ ইবনু আবী আরূবা হতে, তিনি কাতাদা হতে, তিনি আনাস (রাঃ) হতে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। সাঈদ কাতাদা হতে, তিনি হাসান হতে, তিনি সামুরা (রাঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রেও হাদীসটি বর্ণিত আছে। হাদীস বিশারদদের মতে সামুরা হতে হাসানের বর্ণনাটিই সঠিক। আনাস হতে কাতাদার বর্ণনাটি শুধুমাত্র ঈসা ইবনু ইউনুসের সূত্রেই জানা যায়। আব্দুল্লাহ ইবনু আব্দুর রহমান আমর ইবনু শারীদ হতে, তিনি তার বাবা হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতেও হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। ইবরাহীম ইবনু মাইমারী আমর ইবনু শারদ হতে, তিনি আবু রাফি হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এইসূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। উভয় হাদীসকেই ইমাম বুখারী সহীহ বলে মনে করেন।
। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রতিবেশী তার শুফআর ক্ষেত্রে বেশি হকদার। সে অনুপস্থিত থাকলে তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে-যদি উভয়ের যাতায়াতের একই রাস্তা হয়। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৪৯৪) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। এ হাদীসটিকে আবদুল মালিক ইবনু আবূ সুলাইমান-আতা হতে, তিনি জাবির (রাঃ)-এর সূত্র ছাড়া আর কেউ বর্ণনা করেছেন এমনটি আমাদের জানা নেই। শুবা (রাহঃ) এ হাদীসকে কেন্দ্র করে আবদুল মালিক ইবনু আবূ সুলাইমানের সমালোচনা করেছেন। হাদীস বিশারদদের মতে আবদুল মালিক একজন বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী। শুবা ব্যতীত আর কেউ উল্লেখিত হাদীসকে কেন্দ্র করে তার সমালোচনা করেছেন কি-না সে সম্বন্ধে আমাদের কোনকিছু জানা নেই। এ হাদীসটি ওয়াকী (রহঃ) শুবার সূত্রে, তিনি আবদুল মালিকের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। ইবনুল মুবারাক হতে বর্ণিত আছে, সুফিয়ান সাওরী বলেছেন, আবদুল মালিক ইবনু আবী সুলাইমান হাদীসের জ্ঞানের ক্ষেত্রে মানদণ্ডস্বরূপ। এ হাদীস মোতাবিক অভিজ্ঞ আলিমগণ আমল করেছেন। তারা মনে করেন, শুফআর ক্ষেত্রে প্রতিবেশীই অন্যান্যদের চাইতে বেশি হকদার, সে লোক হাযির না থাকা অবস্থায়ও। সে যখন ফিরবে তখন শুফআর জন্য দাবি করতে পারবে, যদিও অনুপস্থিতির সময় অনেক দীর্ঘ হয়।
হাদিস 1370 — Jami At Tirmidhi 15:51
সহিহসহিহহাসান Sahihসহিহ Bukhari
حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا وَقَعَتِ الْحُدُودُ وَصُرِّفَتِ الطُّرُقُ فَلاَ شُفْعَةَ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رَوَاهُ بَعْضُهُمْ مُرْسَلاً عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْهُمْ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ وَعُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ وَبِهِ يَقُولُ بَعْضُ فُقَهَاءِ التَّابِعِينَ مِثْلُ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ وَغَيْرِهِ وَهُوَ قَوْلُ أَهْلِ الْمَدِينَةِ مِنْهُمْ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الأَنْصَارِيُّ وَرَبِيعَةُ بْنُ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَمَالِكُ بْنُ أَنَسٍ وَبِهِ يَقُولُ الشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ لاَ يَرَوْنَ الشُّفْعَةَ إِلاَّ لِلْخَلِيطِ وَلاَ يَرَوْنَ لِلْجَارِ شُفْعَةً إِذَا لَمْ يَكُنْ خَلِيطًا . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمُ الشُّفْعَةُ لِلْجَارِ . وَاحْتَجُّوا بِالْحَدِيثِ الْمَرْفُوعِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " جَارُ الدَّارِ أَحَقُّ بِالدَّارِ " . وَقَالَ " الْجَارُ أَحَقُّ بِسَقَبِهِ " . وَهُوَ قَوْلُ الثَّوْرِيِّ وَابْنِ الْمُبَارَكِ وَأَهْلِ الْكُوفَةِ .
। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন সীমানা নির্ধারিত হয়ে যায় এবং রাস্তা আলাদা হয়ে যায় তখন শুফআর আর কোন অধিকার থাকে না। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৪৯৯), বুখারী এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীসটিকে কয়েকজন বর্ণনাকারী আবূ সালামার বরাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এ হাদীস মোতাবিক উমার, উসমান (রাঃ) প্রমুখ সাহাবীগণ আমল করেছেন। এরকমই বলেছেন উমার ইবনু আবদুল আযীয (রাহঃ) এবং আরো কয়েকজন তাবিঈ ও ফিকহবিদ। এই মত দিয়েছেন মাদীনার আলিমগণ তথা ও মালিক ইবনু আনাসও। শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকও একই রকম কথা বলেছেন। তারা সবাই মনে করেন শুফআ শুধুমাত্র শরীকানা সম্পত্তিতেই দাবি করা যায়। প্রতিবেশী অংশীদার না হলে সে শুফআর দাবি তুলতে পারে না। অন্য একদল সাহাবী ও অপরাপর আলিমের মতে, শুফআর জন্য প্রতিবেশী দাবি তুলতে পারে। এই মারফু হাদীসকে তারা দলীল হিসেবে নিয়েছেনঃ (১) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “প্রতিবেশী (অপর প্রতিবেশীর) ঘর কেনার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে।" (২) “তার নিকট অবস্থানের জন্যই প্রতিবেশী (শুফআর) বেশি হকদার”। এই মত দিয়েছেন সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক ও কূফাবাসীগন।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শারীক শুফআর অধিকারী। প্রতিটা জিনিসেই শুফআ আছে। মুনকার, যঈফা (১০০৯, ১০১০) আবূ ঈসা বলেন, আমরা শুধু আবূ হামযা আস-সুককারীর সূত্রেই এ হাদীস প্রসঙ্গে জেনেছি। একাধিক রাবী আবদুল আযীয ইবনু রুআইফির সূত্রে-ইবনু আবূ মুলাইকার বরাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে উক্ত হাদীস মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং এটাই সহীহ। হান্নাদ-আবূ বাকর ইবনু আইয়্যাশ হতে তিনি আবদুল আযীয ইবনু রুয়াইফি হতে তিনি ইবনু আবূ মুলাইকী হতে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে উক্ত মর্মে এরকম হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং তাতে “ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে" সূত্রের উল্লেখ নেই। একইভাবে একাধিক রাবী-আবদুল আযীয ইবনু রুআইফি হতে উক্ত হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং তাতেও "ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে” সূত্রের উল্লেখ নেই। এই হাদিসটি আবু হামযার সুত্রে বর্ণিত হাদিসের তুলনায় বেশী সহিহ মনে হয়। নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) রাবী আবূ হামযা ব্যতীত অন্য কারো এই ভুলটি হয়েছে। হান্নাদ-আবূল আহওয়াস হতে তিনি আবদুল আযীয ইবনু রুয়াইফি হতে তিনি ইবনু আবু মুলাইকা হতে তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে আবূ বাকর ইবনু আইয়্যাশের হাদীসের মতই বর্ণনা করেছেন। বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ আলিমের মতে, শুধুমাত্র ঘর-বাড়ি ও স্থাবর সম্পত্তিতেই শুফআ দাবি করা যাবে। তাদের মতে যে কোন জিনিসেই শুফআ দাবি করা যাবে না।অপর একদল বিশেষজ্ঞ আলিমের মতে যে কোন জিনিসেই শুফআ দাবি করা যায়। কিন্তু প্রথম মতই অনেক বেশী সহীহ।