। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন মুসলিম লোক বৃক্ষ রোপণ করলে অথবা কৃষিকাজ করলে এবং তা হতে মানুষ অথবা পশু-পাখি খেয়ে নিলে সেটা তার জন্য দান-খায়রাত হিসেবে বিবেচিত হবে। সহীহ, সহীহাহ (৭), নাসা-ঈ আবূ আইয়ুব, জাবির, উম্মু মুবাশশির ও যাইদ ইবনু খালিদ (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ।
ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উৎপাদিত ফল অথবা শস্যের অর্ধেক প্রদানের চুক্তিতে খাইবারের জনগণকে কৃষিকাজে নিয়োগ করেছিলেন। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৪৬৭), নাসা-ঈ আনাস, ইবনু আব্বাস, যাইদ ইবনু সাবিত ও জাবির (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীস মোতাবিক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল সাহাবী ও কিছু আলিম অভিমত দিয়েছেন। অর্ধেক, তিন ভাগের এক অংশ বা চার ভাগের এক অংশ ফসলের বিনিময়ে ভাগচাষ করানোকে তারা দূষণীয় বলে মনে করেন না। কিছু আলিম বলেছেন, জমির মালিককে বীজ সরবরাহ করতে হবে। এই মত দিয়েছেন ইমাম আহমাদ ও ইসহাকও। কিছু আলিম এক-তৃতীয়াংশ বা এক চতুর্থাংশের বিনিময়ে ভাগচাষ করানো মাকরুহ বলেছেন। কিন্তু তারা এক-তৃতীয়াংশ বা এক-চতুর্থাংশ ফলের বিনিময়ে খেজুর বাগান ইত্যাদি বর্গা দেয়াকে মাকরূহ বলে মনে করেন না। ইমাম মালিক ও শাফিঈ (রাহঃ) এই মতামত দিয়েছেন। অপর একদল আলিমের মতে, যে কোন প্রকারের ভাগচাষই নাজায়িয। স্বর্ণ অথবা রূপার বিনিময়ে (নগদ অর্থে) ভাড়ায় তা চাষ করতে হবে।
। রাফি ইবনু খাদীজ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে এমন একটি কাজ হতে বিরত থাকতে বলেন, যা ছিল আমাদের জন্য খুবই লাভজনক। তা হলঃ আমাদের কারো জমি থাকলে তা উৎপাদিত ফসলের একটি অংশ দেওয়ার বিনিময়ে অথবা নগদ মূল্যে (কাউকে) চাষ করতে দেওয়া। তিনি বলেছেনঃ তোমাদের কারো উদ্বৃত্ত জমি থাকলে সে যেন তার ভাইকে তা ধার দেয় অথবা নিজে চাষ করে। সহীহ, “নগদ মূল্যে" অংশটুকু শাজ। ইরওয়া (৫/২৯৮-৩০০), গাইয়াতুল মারাম
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, বর্গাচাষ প্রথাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হারাম করেননি। বরং তিনি পরস্পরকে পরস্পরের প্রতি দয়া ও সহানুভূতি দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন। সহীহ, মুসলিম (৫/২৫) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। রাফি (রাঃ) বর্ণিত এ হাদীসের সনদে গরমিল আছে। এ হাদীস রাফি (রাঃ) তার চাচাদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। হাদীসটি যুহাইর ইবনু রাফি হতেও বর্ণিত আছে। তিনিও তার চাচাদের একজন। বিভিন্ন বর্ণনাকারী রাফি (রাঃ)-এর নিকট হতে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। যাইদ ইবনু সাবিত এবং জারির (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে (যা আবূ দাউদ, নাসাঈ ও ইবনু মাজায় বিদ্যমান রয়েছে)।