। জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি ‘মুখারাবা’ (বর্গা) বর্জন করেনি তার বিরুদ্ধে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা দাও।
। যায়িদ ইবনু সাবিত (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুখাবারা করতে নিষেধ করেছেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, মুখাবারা কি? তিনি বললেনঃ কারো জমি অর্ধাংশ, এক-তৃতীয়াংশ অথবা এক-চতুর্থাংশ ফসলের বিনিময়ে চাষ করা।
হাদিস 3408 — Sunan Abu Dawud 23:83
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (2329) Sahih Muslim (1551)
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَامَلَ أَهْلَ خَيْبَرَ بِشَطْرِ مَا يَخْرُجُ مِنْ ثَمَرٍ أَوْ زَرْعٍ .
। ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারের অধিবাসীদের এ শর্তে চাষাবাদ করতে দিয়েছিলেন যে, উৎপন্ন ফল অথবা ফসলের অর্ধেক তারা পাবে।
হাদিস 3409 — Sunan Abu Dawud 23:84
সহিহসহিহসহিহ Muslim (1551)
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنِ اللَّيْثِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، - يَعْنِي ابْنَ غَنَجٍ - عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم دَفَعَ إِلَى يَهُودِ خَيْبَرَ نَخْلَ خَيْبَرَ وَأَرْضَهَا عَلَى أَنْ يَعْتَمِلُوهَا مِنْ أَمْوَالِهِمْ وَأَنَّ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَطْرَ ثَمَرَتِهَا .
। ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারের ইয়াহুদীদেরকে সেখানকার বাগান ও জমি এই শর্তে চাষাবাদ করতে দিয়েছিলেন যে, তারা নিজেদের খরচে তা চাষাবাদ করবে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে উৎপন্ন ফলের অর্ধেক প্রদান করবে।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বার বিজয়ের পর শর্ত আরোপ করলেন যে, এখানকার জমি এবং যাবতীয় সোনা-রূপা আমার। খায়বারে বসবাসকারী ইয়াহুদীরা বললো, ‘আমরা কৃষিকাজে আপনাদের চেয়ে অধিক পারদর্শী। সুতরাং এখানে আমাদেরকে চাষাবাদ করতে দিন, উৎপাদিত ফলের অর্ধেক আপনাদের এবং অর্ধেক আমাদের। তিনি উক্ত শর্তে তাদেরকে জমি চাষ করতে দিলেন। অতঃপর খেজুর কাটার সময় তিনি ‘আব্দুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা (রাঃ)-কে তাদের কাছে প্রেরণ করেন। তিনি তাদের খেজুরের পরিমাণ অনুমান করলেন। মদীনাবাসীরা একে খারস বলতো। তিনি বললেন, এতে এই এই পরিমাণ খেজুর হবে। তারা বললো, হে ইবনু রাওয়াহা! আপনি পরিমাণের চেয়ে বেশী অনুমান করেছেন। তিনি বললেন, আমি প্রথমে খেজুর সংগ্রহ করবো। আমি যে পরিমাণ অনুমান করেছি তার অর্ধেক তোমাদের দিবো। তারা বললো, এটাই সঠিক (হক)। আর আসমান-যমীন হক্বের জন্যই সুপ্রতিষ্ঠিত আছে। ‘আমরা আপনার কথা মোতাবেক গ্রহণ করতে সম্মত।
। জা‘ফার ইবনু বুরকান (রহঃ) তার সনদে অনুরূপ অর্থবোধক হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, তিনি (‘আব্দুল্লাহ) ফলের পরিমাণ নির্ধারণ করলেন। বর্ণনাকারী বলেন, ‘সাফরা’ ও ‘বাইদা’ এর অর্থ হলোঃ সোনা ও রূপা।
। মিকসাম (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বার বিজয় করলেন। অতঃপর হাদীসের বাকী অংশ যায়িদ সূত্রে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি (‘আব্দুল্লাহ) অনুমান করে খেজুরের পরিমাণ নির্ধারণ করে বললেন, আমি খেজুর কাটবো এবং আমি অনুমানে নির্ধারিত পরিমাণের অর্ধেক তোমাদের দিবো।
। ‘আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আব্দুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা (রাঃ)-কে খায়বারে পাঠাতেন। তিনি সেখানকার বাগানের খেজুর পাকার সময় তা খাওয়ার উপযোগী হওয়ার পূর্বে অনুমান করে পরিমাণ নির্ধারণ করতেন। অতঃপর তিনি ইয়াহুদীদেরকে এখতিয়ার দিতেনঃ তারা এই পরিমাণ নিতে পারে। অথবা ঐ পরিমাণ নিয়ে অবশিষ্ট অংশ তাকে দিবে। এরূপ করা হতো ফল খাবারযোগ্য হওয়ার এবং বণ্টনের পূর্বে যাকাত নির্ধারণ করার জন্য।
। জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ তাঁর রাসূলকে খায়বার এলাকা ফাই হিসাবে দিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানকার অধিবাসীদের সেভাবে রাখলেন যেভাবে তারা ছিলো। তিনি সেখানকার জমি তাদেরকে চাষাবাদ করতে দিলেন। তিনি সেখানে ‘আব্দুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা (রাঃ)-কে প্রেরণ করলেন। তিনি সেখানে গিয়ে তাদের ফসলের পরিমাণ নির্ধারণ করলেন।
। জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু রাওয়াহা (রাঃ) খায়বারের বাগানে ফলের পরিমাণ অনুমানে নির্ধারণ করেন চল্লিশ হাজার ওয়াসক। এরপর তিনি সেখানকার ইয়াহুদীদের ইখতিয়ার দিলে তারা বিশ হাজার ওয়াসক দিতে রাজি হয় এবং ফল তাদের অধিকারে নিয়ে নেয়।