। আইয়ূব (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়া‘লা ইবনু হাকীম (রহঃ) আমাকে লিখে পাঠালেন যে, আমি (ইয়া‘লা) সুলায়মান ইবনু ইয়াসারের নিকট উবাইদুল্লাহর সামনে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস শুনেছি।
হাদিস 3397 — Sunan Abu Dawud 23:72
হাসানহাসান LighairihiসহিহIsnaad Sahih
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ ذَرٍّ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ جَاءَنَا أَبُو رَافِعٍ مِنْ عِنْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ نَهَانَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ أَمْرٍ كَانَ يَرْفَقُ بِنَا وَطَاعَةُ اللَّهِ وَطَاعَةُ رَسُولِهِ أَرْفَقُ بِنَا نَهَانَا أَنْ يَزْرَعَ أَحَدُنَا إِلاَّ أَرْضًا يَمْلِكُ رَقَبَتَهَا أَوْ مَنِيحَةً يَمْنَحُهَا رَجُلٌ .
। ইবনু রাফি‘ ইবনু খাদীজ (রাঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ রাফি‘ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছ থেকে আমাদের নিকট এসে বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে একটি লাভজনক কাজ থেকে নিষেধ করেছেন। কিন্তু আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করাই আমাদের জন্য অধিক লাভজনক। তিনি নিষেধ করেছেনঃ আমাদের কেউ যেন ভাগচাষের শর্তে কারো জমি না খাটায়। তবে তার নিজের জমি থাকলে কিংবা কেউ তাকে এমনিতেই চাষের জন্য জমি দান করলে সে চাষাবাদ করবে।
। মুজাহিদ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। উসাইদ ইবনু যুহাইর (রহঃ) বলেছেন, একদা রাফি‘ ইবনু খাদীজ (রাঃ) আমাদের নিকট এসে বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদেরকে একটি কাজ থেকে বিরত থাকতে বলেছেন যা তোমাদের জন্য লাভজনক ছিলো। কিন্তু আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের আনুগত্য করা তোমাদের জন্য অধিক লাভজনক। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদেরকে জমি বর্গা দিতে নিষেধ করেছেন। তিনি আরো বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তার জমির মুখাপেক্ষী নয় সে যেন তার অন্য ভাইকে কোনো বিনিময় ছাড়াই তা চাষাবাদ করতে দেয়, অথবা পরিত্যক্ত রেখে দেয়।
। আবূ জা‘ফর আল-খাতমী (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমার চাচা আমাকে ও তার এক গোলামকে সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহঃ)-এর নিকট প্রেরণ করেন। বর্ণনাকারী বলেন, ‘আমরা তাকে বললাম, ‘আমরা ভাগচাষ সম্পর্কে আপনার কিছু বক্তব্য জানতে পেরেছি। তিনি বললেন, ইবনু ‘উমার (রাঃ) রাফি‘ ইবনু খাদীজ বর্ণিত হাদীস না জানা পর্যন্ত ভাগচাষ আপত্তিকর মনে করেননি। ইবনু ‘উমার (রাঃ) রাফি‘র নিকট আসলে রাফি‘ (রাঃ) তাকে জানান, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনী হারিসাহর কাছে যান। তিনি যুহাইরের জমির ফসল দেখে বললেন, যুহাইরের জমিতে কী সুন্দর ফসল ফলেছে! লোকেরা বললো, হ্যাঁ তবে ফসল অমুক ব্যক্তির। তিনি বললেনঃ তোমাদের ফসল তোমরা নিয়ে যাও এবং তাকে কৃষিকাজের খরচ ফেরত দাও। রাফি‘ (রাঃ) বলেন, ‘আমরা আমাদের উৎপাদিত ফসল নিয়ে নিলাম এবং তাকে কৃষির খরচ ফেরত দিলাম। সাঈদ (রহঃ) বলেন, তোমার ভাইয়ের অভাব দূর করো অথবা দিরহামের বিনিময়ে ভাড়া খাটাও।
। রাফি‘ ইবনু খাদীজ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘মুহাকালা’ ও ‘মুযাবানা’ পদ্ধতির ক্রয়-বিক্রয় নিষেধ করেছেন। তিনি আরো বলেছেনঃ তিন ব্যক্তি কৃষিকাজ করতে পারে। (এক) যার নিজস্ব জমি আছে সে তাকে চাষাবাদ করতে পারে। (দুই) যে ব্যক্তি ধারে জমি নিয়েছে সে তাতে চাষাবাদ করতে পারে। (তিন) যে ব্যক্তি সোনা (দীনার) ও রূপার (দিরহাম) বিনিময়ে জমি ভাড়া দিয়েছে সে তাকে চাষাবাদ করতে পারে।
। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, আমি সাঈদ ইয়া‘কূব আত-তালাকানীকে এটি পাঠ করে শুনালাম। আপনাদেরকে ইবনুল মুবারক, সাঈদ আবূ শুজা‘র সূত্রে বলেছেন, তিনি বললেন, আমাকে ‘উসমান ইবনু সাগল ইবনু রাফি’ ইবনু খাদীজ (রাঃ) বলেছেন। উসমান বলেন, আমি রাফি‘ ইবনু খাদীজের নিকট ইয়াতীম হিসাবে প্রতিপালিত হয়েছি। আমি তার সাথে হজ (হজ্জ)ও করেছি। একদা আমার ভাই ইমরান ইবনু সাহল এসে তাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আমরা আমাদের অমুক জমি দু’শা দিরহামের বিনিময়ে অমুককে ধার দিয়েছি। তিনি (রাফি’) বললেন, এটা বর্জন করো। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জমি ধার দিতে নিষেধ করেছেন।
। রাফি‘ ইবনু খাদীজ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি একটি জমিতে চাষাবাদ করেন। একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখান দিয়ে যাচ্ছিলেন, এ সময় রাফি‘ জমিতে পানি দিচ্ছিলেন। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ এ ফসল কার এবং জমির মালিক কে? রাফি‘ (রাঃ) বললেন, এ ফসল আমার শ্রমও আমার। আমার অর্ধেক ভাগ এবং অমুকের পুত্রের (জমির মালিকের) অর্ধেক ভাগ। তিনি বললেনঃ তোমরা উভয়ে সুদের ব্যবসায় লিপ্ত হলে! মালিককে জমি ফিরিয়ে দাও এবং তোমার খরচ তার থেকে নিয়ে নাও।
। রাফি‘ ইবনু খাদীজ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মালিকের অনুমতি ছাড়া তার জমিতে চাষাবাদ করে সে উৎপাদিত ফসলের অংশ পাবে না। তবে সে তার খরচ ফেরত পাবে।
। জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘মুযাবানা’ ‘মুহাকালা’ ও ‘মু‘আওয়ামা’ করতে নিষেধ করেছেন। আবুয-যুবায়র হাম্মাদের সূত্রে বর্ণনা করেন, তাদের (হাম্মাদ ও সাঈদ ইবনু মীনা‘আ) উভয়ের একজন ‘মু‘আওয়ামা’ বর্ণনা করেছেন এবং অন্যজন ‘বায়‘উস সিনীন’ (কয়েক বছরের অগ্রিম চুক্তিতে ক্রয়-বিক্রয়) কথা বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তাদের বর্ণনা একই বিন্দুতে মিলিত হয়েছে। তিনি সানাইয়া নিষেধ করেছেন, কিন্তু ‘আরিয়ার’ অনুমতি দিয়েছেন।
। জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘মুযাবানা’ ও ‘সানাইয়া’ করতে নিষেধ করেছেন, তবে পরিমাণ নির্ধারিত থাকলে তা করা যাবে।