। মানসুর আল-কালবী (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। একদা রমাযান মাসে দিহয়া ইবনু খালীফাহ (রাযি.) দামিশকের এক অঞ্চল থেকে ‘আকাবাহ ও ফুসতাতের মধ্যবর্তী দূরত্বের সম-পরিমাণ অর্থাৎ তিন মাইল দূরত্ব পর্যন্ত সফর করেন। তখন তিনি সওম ভঙ্গ করলেন এবং তাঁর সাথের কিছু লোকও সওম ভঙ্গ করলো। এ সময় কিছু লোক সওম ভঙ্গ করা অপছন্দ করলো। পরে তিনি নিজ গ্রামে ফিরে এসে বললেন, আল্লাহর শপথ! আজ আমি এমন বিয়ষ দেখেছি, যা কখনো দেখার ধারণাও করিনি। কিছু লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীদের সুন্নাত থেকে বিমুখ হয়েছে। তিনি ঐ লোকদের নিন্দা করলেন যারা (সফরে) সওম রেখেছিল। তিনি বললেন, হে আল্লাহ! আমাকে তোমার হিফাযাতে নাও।[1] দুর্বল।
। আবূ বাকরাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন না বলে, আমি পুরো রমাযান মাস সওম রেখে এবং এর পূর্ণ রাত (সালাতে) দাঁড়িয়ে কাটিয়েছি। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এরূপ আত্মপবিত্রতা প্রকাশ অপছন্দ করেছেন নাকি কিছু সময় নিদ্রা ও বিশ্রামের প্রয়োজন বলেছেন তা আমার জানা নেই।[1] দুর্বলঃ যঈফ আল-জামি‘উস সাগীর (৬৩৬৭), যঈফ সুনান নাসায়ী
। আবূ ‘উবাইদ (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা উমার (রাযি.)-এর সাথে আমি এক ঈদের সালাতে উপস্থিত ছিলাম। তিনি খুত্ববাহর পূর্বে সালাত পড়লেন। অতঃপর বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দু‘দিন সওম রাখতে নিষেধ করেছেন। কেননা কুরবানীর দিন তোমরা তোমাদের কুরবানীর পশুর গোশত খেয়ে থাকো। আর ঈদুল ফিতরের দিন হলো তোমাদের সওমের সমাপ্তি।[1] সহীহ।
হাদিস 2417 — Sunan Abu Dawud 14:105
সহিহসহিহসহিহ Bukhari (1991، 1992) Sahih Muslim (827 After 1138)
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেনঃ ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা- এ দু‘দিন সওম পালন করতে এবং দুই ধরনের পোশাক পরতে (সাম্মা) এক কাপড়ে সমগ্র শরীর পেঁচিয়ে নিয়ে শরীরকে এভাবে ঢাকা যে, হাঁটু উঁচু করে বসলে নীচ থেকে লজ্জাস্থান খোলা থাকে এবং দুই সময়ে সালাত আদায় করতে ফজরের পর এবং ‘আসরের পর।[1] সহীহ।
। উম্মু হানী (রাযি.)-এর মুক্তদাস আবূ মুররাহ (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। একদা তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু আমরের সাথে তার পিতা আমর ইবনুল আস (রাযি.)-এর নিকট যান। তিনি তাদের উভয়ের সামনে খাবার এনে তা খেতে বললেন। আব্দুল্লাহ (রাযি.) বললেন, আমি সওমরত আছি। আমর (রাযি.) বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দিনগুলোতে আমাদেরকে সওম ভাঙ্গার নির্দেশ দিয়েছেন এবং সওম রাখতে নিষেধ করেছেন। মালিক (রহ.) বলেন, তা হলো তাশরীকের দিনগুলো।[1] সহীহ।
। ‘উকবাহ ইবনু ‘আমির (রাযি.) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আরাফাহর দিন, কুরবানীর দিন এবং তাশরীকের দিনগুলো হচ্ছে আমাদের মুসলিমদের ঈদের দিন, এগুলো পানাহারের দিন।[1] সহীহ।
হাদিস 2420 — Sunan Abu Dawud 14:108
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (1985) Sahih Muslim (1144)
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَصُمْ أَحَدُكُمْ يَوْمَ الْجُمُعَةِ إِلاَّ أَنْ يَصُومَ قَبْلَهُ بِيَوْمٍ أَوْ بَعْدَهُ " .
। আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন কেবল জুমু‘আহর দিন সওম না রাখে। (রাখতে চাইলে) জুমু‘আহর আগে অথবা পরের দিনও যেন সওম রাখে।[1] সহীহ।
। আব্দুল্লাহ ইবনু বুসর আস-সুলামী (রহ.) থেকে তার বোন আস-সাম্মা‘ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা শুধু শনিবারে সওম রেখো না। তবে ঐ দিন তোমাদের উফর ফরযকৃত সওম রাখতে পারো। তোমাদের কেউ যদি সওম ভঙ্গের জন্য আঙ্গুর গাছের ছাল বা অন্য গাছের ডালা ছাড়া কিছু না পায়, তাহলে তা চিবিয়ে সওম ভঙ্গ করবে। ইমাম আবূ দাঊদ (রহ.) বলেন, এ হাদীসটি মানসূখ।[1] সহীহ।
। জুয়াইরিয়াহ বিনতু হারিস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমু‘আহর দিন তাঁর কাছে আসলেন তখন তিনি সওম পালন অবস্থাল ছিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কি গতকাল সওম রেখেছিলে? তিনি বললেন, না। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমার কি আগামী কাল সওম পালনের ইচ্ছা আছে? তিনি বললেন, না। তিনি বললেনঃ তাহলে সওম ভঙ্গ করো।[1] সহীহ।