। ইবনু শিহাব (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তার নিকট শুধু শনিবার সওম রাখা নিষেধ সম্পর্কিত হাদীস আলোচনা করা হলে তিনি বলেন, এটা তো হিমসী বর্ণিত হাদীস।[1] মাকতূ‘ মারফূয।
। আল-আওযাঈ (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, শনিবারের সওম সম্পর্কিত ইবনু বুসর বর্ণিত হাদীসটি আমি গোপন রেখেছিলাম। কিন্তু আমি দেখলাম যে, তা ব্যাপকভাবে প্রসার পেয়েছে। ইমাম আবূ দাঊদ (রহ.) বলেন, ইমাম মালিক (রহ.) বলেছেন, এ হাদীসটি মিথ্যা।[1] সহীহ মাকতূ‘।
। আবূ কাতাদাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এক ব্যক্তি এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কিভাবে সওম রাখেন? এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসন্তুষ্ট হলেন। উমার (রাযি.) তা দেখতে পেয়ে বললেন, আমরা আল্লাহকে আমাদের রব, ইসলামকে আমাদের দীন এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমাদের নবী হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট। আমরা আল্লাহর কাছে তাঁর রাসূলের অসন্তুষ্টি থেকে আশ্রয় চাই। উমার (রাযি.) উক্ত বাক্যটি বারবার বলতে লাগলেন, এক পর্যায়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অসন্তুষ্টির ভাব দূরীভূত হলো। এরপর উমার (রাযি.) জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! ঐ ব্যক্তি কেমন যে সারা বছর সওম রাখে? তিনি বললেনঃ এমনও কি কেউ সামর্থ্য রাখে? তিনি জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! ঐ ব্যক্তি কেমন যে দুই দিন সওম পালন করে এবং একদিন রোযদীন থাকে? তিনি বললেন, কেউ কি এরূপ করতে সক্ষম? তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এ ব্যক্তি কেমন যে একদিন সওম পালন করে এবং একদিন রোযহীন থাকে? তিনি বললেন, তা দাঊদ (আঃ)-এর সওমের মতই। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! ঐ ব্যক্তির সওম কেমন যে একদিন সওম রেখে দু‘দিন রোযাহীন থাকে? তিনি বললেনঃ আমি এটাই কামনা করি, যেন আমাকে এরূপ করার শক্তি দেয়া হয়। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ প্রতি মাসে তিনটি সওম এবং এক রমাযান থেকে পরবর্তী রমাযান পর্যন্ত প্রতি বছরের রমাযানের সওম, এটাই হচ্ছে সর্বদা সওম পালনের সমতুল্য। আরাফাহ্ দিনের সওম আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, এর দ্বারা তিনি পূর্বের এক বছর এবং পরের বছরের গুনাহ ক্ষমা করবেন। আর আশূরার সওম, আমি আল্লাহর কাছে আশা করি তিনি (এর বিনিময়ে) আগামী এক বছরের গুনাহ ক্ষমা করবেন।[1] সহীহ।
। আবূ কাতাদাহ (রহ.) থেকে এই সনদে পূর্বোক্ত হাদীস বর্ণিত। তাতে অতিরিক্ত রয়েছেঃ তিনি জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! সোমবার ও বৃহস্পতিবার সওম পালনের ব্যাপারে আপনার কি অভিমত? তিনি বললেনঃ ঐ দিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং ঐ দিনই আমার উপর কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে।[1] সহীহ।
হাদিস 2427 — Sunan Abu Dawud 14:115
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (1976) Sahih Muslim (1159)
। আব্দুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল ‘আস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার সাথে সাক্ষাৎ করে বললেনঃ আমাকে কি জানানো হয়নি যে, তুমি বলেছো, আল্লাহর শপথ! আমি সারা দিন সওম রাখবো এবং সারা রাত দাঁড়িয়ে সালাত পড়বো? তিনি বলেন, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল! আমি এরূপ বলেছি। তিনি বললেনঃ সালাত আদায় করবে এবং নিদ্রায়ও যাবে। সওম পালন করবে এবং কোনো দিন সওম থেকে বিরত থাকবে। তুমি প্রতি মাসে (১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ) তিনটি সওম রাখো, এটাই সারা বছর সওম পালনের সমতুল্য। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি এর চেয়ে অধিক শক্তি রাখি। তিনি বললেনঃ তাহলে একদিন সওম রাখো এবং একদিন সওম থেকে বিরত থাকো। এটিই সর্বোত্তম সওম এবং এটিই হচ্ছে দাঊদ (আঃ)-এর সওম। আমি বললাম, আমি এর চেয়েও অধিক শক্তি রাখি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এর চেয়ে উত্তম সওম নেই।[1] সহীহ।
। বাহিলিয়্যাহ গোত্রীয় ‘মুজীবা’ নাম্নী নামক জনৈক মহিলা থেকে তার পিতা অথবা চাচার সূত্রে বর্ণিত। একদা তিনি (পিতা অথবা চাচা) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে দেখা করে চলে যান। অতঃপর এক বছর পরে তিনি আসেন। তখন তার মারাত্মক স্বাস্থ্যহানি ঘটেছিল। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি আমাকে চিনতে পারেননি? তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কে? তিনি বললেন, আমি ঐ বাহিলী, আমি গত বছর এসেছিলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ কি কারণে তোমার এরূপ পরিবর্তন ঘটলো, অথচ তুমি তো সুন্দর স্বাস্থ্যের অধিকারী ছিলে? আমি বললাম, আমি আপনার নিকট থেকে বিদায় নেয়ার পর থেকে রাত ছাড়া আহার করিনি (দিনে অনবরত সাওম রেখেছি)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি তোমার নফসকে কেন এরূপ কষ্ট দিয়েছো? অতঃপর তিনি বললেনঃ ধৈর্যের মাস (রমাযান) এবং প্রতি মাসে একটি করে সওম রাখো। তিনি বললেন, আমাকে আরো বাড়িয়ে দিন, কেননা আমার সামর্থ্য আছে। তিনি বললেনঃ দু‘দিন সওম রাখো। লোকটি বললেন, আরো আরো বাড়িয়ে দিন। তিনি বললেনঃ (প্রতি মাসে) তিনটি সওম রাখো। লোকটি বললেন, আরো বাড়িয়ে দিন। তিনি বললেনঃ তুমি হারাম মাসগুলোতে সওম রাখো এবং সওম বর্জনও করো। তুমি হারাম মাসগুলোতে সওম রাখো এবং সওম বর্জনও করো। তুমি হারাম মাসগুলোতে সওম রাখো এবং সওম বর্জনও করো। একথা বলে তিনি তিনটি আঙ্গুল একত্র করার পর তা ফাঁক করে দিলেন।[1] দুর্বল।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রমাযান মাসের পর আল্লাহর মাস মুহাররম-এর সওম হচ্ছে সর্বোত্তম এবং ফরয সালাতের পর রাতের সালাতই সর্বোত্তম।[1] সহীহ।
হাদিস 2430 — Sunan Abu Dawud 14:118
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (1971 Mukhtasar) Sahih Muslim (1157)
। উসমান ইবনু হাকিম (রহ.) বলেন, আমি সাঈদ ইবনু যুবায়র (রহ.)-কে রজব মাসের সওম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) আমাকে জানিয়েছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনবরত সওম পালন করতেন, এমনকি আমরা বলতাম, তিনি এ মাসে সওম বর্জন করবেন না। আবার তিনি অনবরত সওম বর্জনও করতেন, এমনকি আমরা বলতাম তিনি (হয় তো) আর সওম রাখবেন না।[1] সহীহ।
হাদিস 2431 — Sunan Abu Dawud 14:119
সহিহসহিহসহিহIsnaad Sahih
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَيْسٍ، سَمِعَ عَائِشَةَ، تَقُولُ كَانَ أَحَبَّ الشُّهُورِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَصُومَهُ شَعْبَانُ ثُمَّ يَصِلُهُ بِرَمَضَانَ .
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট সকল মাসের মধ্যে শা‘বান মাসে অধিক সওম রাখা অধিক পছন্দনীয় ছিলো। তিনি এ মাসে সওম অব্যাহত রেখে তা রমাযানের সাথে যুক্ত করতেন।[1] সহীহ।
। ‘উবাইদুল্লাহ ইবনু মুসলিম আল-কারাশী (রহ.) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করেছি (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) অথবা তাঁকে সারা বছর সওম পালন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো। তিনি বললেনঃ তোমার স্ত্রীর প্রতি তোমার কর্তব্য রয়েছে। সুতরাং তুমি রমাযান মাস এবং তার সাথে সংশ্লিষ্ট মাসে আর প্রতি বুধ ও বৃহস্পতিবার সওম পালন করো। তুমি এরূপ করলে তুমি যেন সারা বছরই সওম রাখলে।[1] দুর্বলঃ যঈফ আল-জামি‘উস সাগীর (১৯১৪), মিশকাত (২০১৬), যঈফ সুনান আত-তিরমিযী (১২২/৭৫২)।