। সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। কাতাদাহ উল্লেখিত ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, তৃতীয় দিনে দা‘ওয়াত করা হলো, কিন্তু তিনি তা কবূল করেননি এবং যে লোক তাকে দা‘ওয়াত দিতে এসেছিল তিনি তার দিকে ঢিল ছুড়ে মারেন।[1] দুর্বল।
হাদিস 3747 — Sunan Abu Dawud 28:12
সহিহ Isnaadসহিহ Isnaadসহিহসহিহ Bukhari (3089)
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ مُحَارِبِ بْنِ دِثَارٍ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ لَمَّا قَدِمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ نَحَرَ جَزُورًا أَوْ بَقَرَةً .
। জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তাবূকের সফর থেকে) মদীনায় ফিরে এসে একটি উট অথবা গরু যাবাহ করলেন।[1] সনদ সহীহ।
হাদিস 3748 — Sunan Abu Dawud 28:13
সহিহ Isnaad Maqtuসহিহসহিহ Bukhari (6135) Sahih Muslim (48 After 1726)
। আবূ শুরাইহ আল কা‘বি (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে সে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে। উত্তমরূপে মেহমানদারীর সীমা একদিন এক রাত। মেহমানদারী তিনদিন। এরপর অতিরিক্ত দিনগুলোর মেহমানদারী সাদাকাহ হিসেবে গণ্য। তিনদিন পর আপ্যায়নকারীর বাড়ীতে তার বিনা অনুমতিতে মেহমানদের অবস্থান করা উচিত নয়। এতে সে বিরক্ত হতে পারে। মালিক (রহঃ)-কে প্রশ্ন করা হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীঃ 'জাইযাহ' একদিন ও এক রাত- এর অর্থ কি? তিনি বলেন, কথাটির অর্থ হলো, মেহমানকে সম্মান প্রদর্শন, উপহার প্রদান ও তার নিরাপত্তা বিধান করা একদিন ও এক রাত। আর আতিথ্য প্রদান হচ্ছে তিনদিন।[1] আবূ সুরাইহ বর্ণিত হাদীসটি সহীহ। মালিক ইবনু আনাসের বর্ণিত সনদ সহীহ মাকতূ।
হাদিস 3749 — Sunan Abu Dawud 28:14
হাসান Sahih Isnaadহাসান Sahih IsnaadIsnaad Hasan
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ مَحْبُوبٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الضِّيَافَةُ ثَلاَثَةُ أَيَّامٍ فَمَا سِوَى ذَلِكَ فَهُوَ صَدَقَةٌ " .
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মেহমানদারীর সীমা তিনদিন। এর অতিরিক্ত দিনের আতিথ্য প্রদান সাদাকাহ হিসেবে গণ্য।[1] সনদ হাসান সহীহ।
। আবূ কারীম (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এক রাত মেহমানদারী করা মুসলিমের কর্তব্য। যার আঙ্গিনায় মেহমান নামে, একদিন মেহমানদারী করা তার উপর ঋণ পরিশোধের সমান। সে ইচ্ছা করলে তার এ ঋণ ত্যাগ পরিশোধ করবে বা ত্যাগ করবে।[1] সহীহ।
। আল মিকদাম আবূ কারিমাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোনো ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের নিকট মেহমান হয়ে এলো, (অথচ) বঞ্চিত অবস্থায় তার সকাল হলো, তাকে সাহায্য করা প্রত্যেক মুসলিমের কর্তব্য। তাদের খাদ্য ও মাল থেকে সে তার রাতের মেহমানদারীর পরিমাণ আদায় করে নিতে পারে।[1] দুর্বলঃ মিশকাত (৪২৪৭)।
হাদিস 3752 — Sunan Abu Dawud 28:17
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (6137) Sahih Muslim (1727)
। উকবাহ ইবনু আমির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাদেরকে বাইরে প্রেরণ করে থাকেন। আমরা কোনো জনপদে গিয়ে যাত্রা বিরতি করি। তারা আমাদের মেহমানদারী করে না। এ বিষয়ে আপনি কি বলেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বললেনঃ তোমরা যদি কোনো সম্প্রদায়ের নিকট অবতরণ করার পর তারা নিজেদের সামর্থ্য মোতাবেক তোমাদের আপ্যায়ন করে তবে তোমরা তা গ্রহণ করো। যদি তারা তা না করে, তবে তাদের কাছ থেকে তাদের সামর্থ্যের দিকে লক্ষ্য রেখে মেহমানের অধিকার আদায় করবে।[1] সহীহ।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। মহান আল্লাহর বাণীঃ ‘‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা একে অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভোগ করো না। তবে ব্যবসায়ে লেনদেন পরস্পরের সন্তোষের ভিত্তিতে হওয়া আবশ্যক...।’’ (সূরা আন-নিসাঃ ২৯) ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, এ আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর লোকেরা অন্য কারো বাড়ীতে আতিথ্য গ্রহণ করা অন্যায় ভাবলো। অতঃপর সূরা আন-নূরের মাধ্যমে উপরের আয়াতের হুকুম রহিত করা হলো। মহান আল্লাহ বলেনঃ ‘‘এতে কোনো দোষ নেই যে, কোনো ব্যক্তি নিজেদের ঘর থেকে খাবে... আলাদা আলাদাভাবে খাও।’’ (সূরা আন-নূরঃ ৬১) পর্যন্ত। এ আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে অবস্থা এরূপ ছিলো যে, কোনো ধনী লোক কাউকে খাওয়া দা‘ওয়াত দিলে সে বলতো, আমি এর থেকে খাওয়া অন্যায় মনে করি। التَّجَنُّحُ অর্থ আপত্তি। সে আরো বলতো, এ খাদ্যে আমার চেয়ে দরিদ্ররাই অধিক হকদার। এর প্রেক্ষিতে অন্য মুসলিমের বাড়ীতে খাবার গ্রহণ বৈধ করা হয়, যার উপর আল্লাহর নাম নেয়া হয়েছে। আহলে কিতাবদের খাদ্য দ্রব্য হালাল করা হয়েছে।[1] সনদ হাসান।
। সাফীনাহ আবূ আব্দুর রাহমান (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা একটি লোক আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ)-কে দা‘ওয়াত করে তার জন্য খাদ্য তৈরী করে (বাড়িয়ে) দিয়ে গেলো। ফাতিমাহ (রাঃ) বললেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ডাকলে তিনি আমাদের সঙ্গে আহার করতেন। আলী (রাঃ) তাঁকে দা‘ওয়াত দিলেন এবং তিনি এসে দরজায় চৌকাঠের উপর নিজের হাত রাখলেন। তিনি একটি রঙ্গিন পর্দা ঘরের একদিকে টানিয়ে রাখা দেখতে পেয়ে ঘরে প্রবেশ না করে ফিরে গেলেন। ফাতিমাহ (রাঃ) আলী (রাঃ)-কে বললেন, গিয়ে দেখুন, তিনি কেন ফিরে যাচ্ছেন? সুতরাং আমি তাঁর অনুসরণ করলাম, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! কিসে আপনাকে ফিরে আসতে বাধ্য করল? তিনি বললেনঃ আমার জন্য বা কোনো নবীর জন্য কারুকার্য খচিত সজ্জিত ঘরে প্রবেশ করা সমীচীন নয়।[1] হাসান।