। ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মৃত ব্যক্তিকে তার পরিবারের লোকজনের কান্নাকাটির কারণে শাস্তি দেয়া হয়। এ কথা ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর নিকট উল্লেখ করা হলে তিনি বললেন, এ ধরণের কথা ইবনু ‘উমার কোথেকে শুনেছে। একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রমকালে বললেনঃ কবরবাসীর পরিবারের লোকজনের কান্নাকাটির কারণে এ কবরের বাসিন্দাকে শাস্তি দেয়অ হচ্ছে। অতঃপর ‘আয়িশাহ (রাঃ) এ আয়াত তিলাওয়াত করলেনঃ ‘‘একের বোঝা অন্যের উপর চাপানো হবে না।’’[সূরা আল-আন‘আমঃ ১৬৪, বনী ইসরাঈলঃ ১৫, ফাতিরঃ ১৮, যুমারঃ ৩৯ এবং নাজমঃ ৩৮] হান্নাদ (রহঃ) আবূ মু'আবিয়ার সুত্রে বলেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক ইয়াহুদীর কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলাম।
হাদিস 3130 — Sunan Abu Dawud 21:42
সহিহসহিহসহিহসহিহ
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَوْسٍ، قَالَ دَخَلْتُ عَلَى أَبِي مُوسَى وَهُوَ ثَقِيلٌ فَذَهَبَتِ امْرَأَتُهُ لِتَبْكِي أَوْ تَهُمَّ بِهِ فَقَالَ لَهَا أَبُو مُوسَى أَمَا سَمِعْتِ مَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ بَلَى . قَالَ فَسَكَتَتْ فَلَمَّا مَاتَ أَبُو مُوسَى - قَالَ يَزِيدُ - لَقِيتُ الْمَرْأَةَ فَقُلْتُ لَهَا مَا قَوْلُ أَبِي مُوسَى لَكِ أَمَا سَمِعْتِ مَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ سَكَتِّ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَيْسَ مِنَّا مَنْ حَلَقَ وَمَنْ سَلَقَ وَمَنْ خَرَقَ " .
। যায়িদ ইবনু আওস (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি অসুস্থ আবূ মূসা (রাঃ)-কে দেখতে যাই, তার স্ত্রী কাঁদতে লাগলেন। আবূ মূসা (রাঃ) তাকে বললেন, তুমি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশ শুননি? তিনি বললেন, হ্যাঁ শুনেছি। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি কান্না থামিয়ে চুপ হলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আবূ মূসা (রাঃ) যখন মারা যান, তখন ইয়াযীদ বলেন, আমি মহিলার সাথে সাক্ষাৎ করে তাকে বললাম, আবূ মূসা আপনাকে কী বলেছিলেন? (তিনি বলেছিলেন), তুমি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশ শুননি- অতঃপর আপনি তখন চুপ হয়েছিলেন। মহিলাটি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (মৃত্যুশোকে প্রকাশে) যে মহিলা মাথা মুড়িয়ে বিলাপ করে কাঁদে এবং কাপড় ছিঁড়ে ফেলে সে আমাদের দলভুক্ত নয়।
। আসীদ ইবনু আবূ আসীদ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বাই‘আত গ্রহণকারী জনৈক মহিলার সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছ থেকে যেসব সৎকাজের বাই‘আত গ্রহণ করেছিলেন তাতে এটাও ছিলোঃ ‘আমরা তাঁর অবাধ্য হবো না, মুখমন্ডল ক্ষতবিক্ষত করবো না, বুক চাপড়াবো না, ধ্বংসের আহবান করবো না, কাপড়-চোপড় ফাঁড়বো না এবং চুল এলোমেলো করবো না।
হাদিস 3132 — Sunan Abu Dawud 21:44
হাসানহাসানহাসান Lighairihiহাসান
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنِي جَعْفَرُ بْنُ خَالِدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اصْنَعُوا لآلِ جَعْفَرٍ طَعَامًا فَإِنَّهُ قَدْ أَتَاهُمْ أَمْرٌ شَغَلَهُمْ " .
। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু জা‘ফর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা জা‘ফরের পরিবারের জন্য খাবার তৈরী করো। কারণ তাদের কাছে এমন দুঃসংবাদ এসেছে যা তাদেরকে ব্যস্ত রাখবে।
। জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তির বুকে বা কণ্ঠনালীতে একটি তীর বিদ্ধ হলে তাতেই সে নিহত হলো। অতঃপর তার পরিহিত কাপড়েই তাকে (দাফনে) জড়ানো হলো। ‘আমরা তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথেই ছিলাম।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদের শহীদদের ব্যাপারে নির্দেশ দিলেন যে, তাদের শরীর থেকে যুদ্ধাস্ত্র ও চামড়ার বস্ত্র খুলে নিয়ে তাদের রক্তমাখা পরিধেয় বস্ত্রসহ তাদেরকে দাফন করতে হবে।
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হামযাহ (রাঃ)-এর (লাশের) পাশ দিয়ে অতিক্রমকালে দেখলেন, তার লাশ বিকৃত করা হয়েছে। তিনি বললেনঃ সাফিয়্যাহ (হামযাহর বোন) যদি কষ্ট না পেতো তাহলে আমি তার লাশ পড়ে থাকতে দিতাম এবং পশু-পাখিরা তা খেয়ে নিতো এবং কিয়ামতের দিন তাকে এদের পেট থেকেই উত্থিত করা হতো। এ সময় কাফনের কাপড় কম ছিলো, কিন্তু মৃতদেহ ছিলো অনেক। ফলে এক, দুই, এমন কি তিন ব্যক্তিকে একই কাপড়ে জড়িয়ে কাফন দেয়া হয়। কুতাইবাহর বর্ণনায় রয়েছেঃ অতঃপর তাদেরকে একই কবরে দাফন করা হয়। এ সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করতেনঃ এদের মধ্যে কোনো ব্যক্তি কুরআন সম্পর্কে অধিক পারদর্শী ছিলো। তিনি তাকে (কিবলাহর দিকে (ডানে) রাখতেন।
হাদিস 3137 — Sunan Abu Dawud 21:49
হাসানহাসানদাঈফ
حَدَّثَنَا عَبَّاسٌ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا أُسَامَةُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مَرَّ بِحَمْزَةَ وَقَدْ مُثِّلَ بِهِ وَلَمْ يُصَلِّ عَلَى أَحَدٍ مِنَ الشُّهَدَاءِ غَيْرِهِ .
। আনাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হামযাহ (রাঃ)-এর লাশের পাশ দিয়ে অতিক্রমকালে দেখলেন, তার মৃতদেহ বিকৃত করা হয়েছে। তিনি হামযাহ (রাঃ) ছাড়া অন্য কোনো শহীদ জানাযা পড়েননি।
। জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদ যুদ্ধের শহীদদের দু’ জনকে একই কবরে দাফনের নির্দেশ দেন এবং জিজ্ঞেস করতে থাকেনঃ এদের মধ্যে কোনো ব্যক্তি কুরআন সম্পর্কে অধিক পারদর্শী ছিলো। অতঃপর তাদের কারো প্রতি ইঙ্গিত করা হলে তাকেই তিনি প্রথম কবরে রাখতেন। তিনি বললেনঃ আমি কিয়ামতের দিন তাদের জন্য সাক্ষী হবো। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদেরকে রক্তমাখা দেহে দাফনের নির্দেশ দেন এবং তাদের গোসল দিলেন না।