। লাইস (রাঃ) থেকে অনুরূপ অর্থবোধক হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উহুদ যুদ্ধের শহীদদের দু’ দু’ ব্যক্তিকে একই কাপড়ে একত্রে কাফন দেন।
। আলী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমার রান অনাবৃত করবে না এবং জীবিত ও মৃত কারো রানের প্রতি দৃষ্টিপাত করবে না।
হাদিস 3141 — Sunan Abu Dawud 21:53
হাসানহাসানহাসানIsnaad Hasan
حَدَّثَنَا النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ عَبَّادٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَبَّادِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ قَالَ سَمِعْتُ عَائِشَةَ، تَقُولُ لَمَّا أَرَادُوا غَسْلَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالُوا وَاللَّهِ مَا نَدْرِي أَنُجَرِّدُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ ثِيَابِهِ كَمَا نُجَرِّدُ مَوْتَانَا أَمْ نُغَسِّلُهُ وَعَلَيْهِ ثِيَابُهُ فَلَمَّا اخْتَلَفُوا أَلْقَى اللَّهُ عَلَيْهِمُ النَّوْمَ حَتَّى مَا مِنْهُمْ رَجُلٌ إِلاَّ وَذَقْنُهُ فِي صَدْرِهِ ثُمَّ كَلَّمَهُمْ مُكَلِّمٌ مِنْ نَاحِيَةِ الْبَيْتِ لاَ يَدْرُونَ مَنْ هُوَ أَنِ اغْسِلُوا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَعَلَيْهِ ثِيَابُهُ فَقَامُوا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَغَسَلُوهُ وَعَلَيْهِ قَمِيصُهُ يَصُبُّونَ الْمَاءَ فَوْقَ الْقَمِيصِ وَيُدَلِّكُونَهُ بِالْقَمِيصِ دُونَ أَيْدِيهِمْ وَكَانَتْ عَائِشَةُ تَقُولُ لَوِ اسْتَقْبَلْتُ مِنْ أَمْرِي مَا اسْتَدْبَرْتُ مَا غَسَّلَهُ إِلاَّ نِسَاؤُهُ .
। আব্বাস ইবনু ‘আব্দুল্লাহ ইবনুয যুবায়র (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে যখন সাহাবীগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে গোসল দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন, তারা বললেন, আল্লাহর শপথ! ‘আমরা বুঝে উঠতে পারছি না, ‘আমরা কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বস্ত্র খুলে নিবো যেভাবে সাধারণ লোকের মৃতদেহ থেকে বস্ত্র খুলে নেই, নাকি তাঁর পরিধেয় বস্ত্রসহ তাঁকে গোসল দিবো? তারা এ নিয়ে মতভেদে লিপ্ত হলে মহান আল্লাহ তাদের উপর ঘুম চাপিয়ে দিলেন। ঘুমের ঘোরে তাদের প্রত্যেকের থুতনি নিজ নিজ বুকের সাথে ঠেকে গেলো। এমতাবস্থায় ঘরের এককোণ থেকে অদৃশ্য আওয়াজ আসলো। ঐ আওয়াজ কে দিলো তা জানা গেলো না। ‘‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কাপড়ে আবৃত অবস্থায়ই গোসল দাও।’’ একথা শুনে তারা জেগে উঠলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর জামা পরিহিত অবস্থায় গোসল দিলেন। তারা জামার উপর পানি ঢাললেন এবং হাতের পরিবর্তে জামা দিয়ে তাঁর শরীর রগরালেন। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আমি যদি আগে বুঝতে পারতাম যা পরে বুঝতে পেরেছি তাহলে তাঁর স্ত্রীরাই তাঁর গোসল দিতেন।
। উম্মু আতিয়্যাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যা [যাইনাব (রাঃ)] মারা গেলে তিনি আমাদের কাছে এসে বললেনঃ তোমরা তাকে কুল পাতা মেশানো সিদ্ধ পানি দিয়ে তিন, পাঁচ অথবা প্রয়োজনবোধ এর চেয়ে অধিকবার গোসল করাও এবং শেষবারে কাফুর মিশিয়ে নাও। গোসল দেয়া হলে তোমরা আমাকে খবর দিবে। অতঃপর ‘আমরা গোসল দেয়া শেষ করে তাঁকে খবর দিলাম। তিনি তাঁর ব্যবহৃত একখানা কাপড় দিয়ে আমাদেরকে বললেনঃ এটা তার গায়ে পরিয়ে দাও।
। উম্মু আতিয়্যাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আমরা তাঁর (যাইনাবের) মাথার চুল তিন গোছায় ভাগ করলাম। এরপর কপালের (একভাগ) চুল এবং মাথার দু’পাশের (দু’ ভাগ) চুল তার পিছনের দিকে ফেলে দিলাম।
হাদিস 3145 — Sunan Abu Dawud 21:57
সহিহসহিহসহিহ Bukhari (167) Sahih Muslim (939)
حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ، وَحَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، عَنْ حَفْصَةَ بِنْتِ سِيرِينَ، عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَهُنَّ فِي غُسْلِ ابْنَتِهِ " ابْدَأْنَ بِمَيَامِنِهَا وَمَوَاضِعِ الْوُضُوءِ مِنْهَا " .
। উম্মু আতিয়্যাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কন্যার (যাইনাবের) গোসল সম্পর্কে তাদেরকে বললেনঃ তোমরা তার ডান দিক থেকে এবং উযুর অঙ্গসমূহ থেকে গোসল দেয়া আরম্ভ করবে।
হাদিস 3146 — Sunan Abu Dawud 21:58
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (1253) Sahih Muslim (939)
। উম্মু আতিয়্যাহ (রাঃ) থেকে হাফসাহ (রহঃ)-ও অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাতে এও রয়েছেঃ তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, অথবা সাতবার বা প্রয়োজনে এর চেয়ে অধিকবার গোসল দিবে।
। মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি উম্মু আতিয়্যাহ (রাঃ)-এর নিকট গোসল দেয়ার পদ্ধতি শিখেছেন। মুহাম্মাদ (রহঃ) বলেন, কুলপাতা মিশানো গরম পানি দিয়ে দু’ বার এবং কর্পুর মিশ্রিত পানি দিয়ে একবার গোসল দিতে হয়।
হাদিস 3148 — Sunan Abu Dawud 21:60
সহিহসহিহসহিহ Muslim (943)
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يُحَدِّثُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ خَطَبَ يَوْمًا فَذَكَرَ رَجُلاً مِنْ أَصْحَابِهِ قُبِضَ فَكُفِّنَ فِي كَفَنٍ غَيْرِ طَائِلٍ وَقُبِرَ لَيْلاً فَزَجَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُقْبَرَ الرَّجُلُ بِاللَّيْلِ حَتَّى يُصَلَّى عَلَيْهِ إِلاَّ أَنْ يُضْطَرَّ إِنْسَانٌ إِلَى ذَلِكَ وَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِذَا كَفَّنَ أَحَدُكُمْ أَخَاهُ فَلْيُحْسِنْ كَفَنَهُ " .
। জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন খুৎবা দেয়ার সময় তাতে তাঁর এক সাহাবীর কথা উল্লেখ করলেন। ঐ সাহাবী মারা গেলে লোকেরা তাকে রাতের বেলায় অপর্যাপ্ত কাপড়ে কাফন দিয়েছিল। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত ব্যক্তিকে রাতের বেলায় কবরস্থ করাকে তিরস্কার করলেন, যেন লোকজন জানাযা শরীক হতে পারে। তবে কেউ বিশেষ কারণে রাতে কবর দিতে চাইলে তা ভিন্ন কথা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বললেনঃ তোমাদের কেউ তার ভাইকে কাফন পরালে যেন উত্তমরূপে কাফন পরায়।