। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি পশুদের রক্ষণাবেক্ষণ শিকার কিংবা কৃষিক্ষেতের পাহারার উদ্দেশ্যে ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে কুকুর পোষে, তার সাওয়াব থেকে প্রত্যহ এক ক্বীরাত করে বিয়োগ করা হবে।
হাদিস 2845 — Sunan Abu Dawud 17:2
সহিহসহিহদাঈফ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ، حَدَّثَنَا يُونُسُ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَوْلاَ أَنَّ الْكِلاَبَ أُمَّةٌ مِنَ الأُمَمِ لأَمَرْتُ بِقَتْلِهَا فَاقْتُلُوا مِنْهَا الأَسْوَدَ الْبَهِيمَ " .
। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর সৃষ্টজীবের মধ্যে কুকুর এক প্রকার জীব না হলে আমি এগুলোকে হত্যা করতে আদেশ দিতাম। সুতরাং তোমরা গাঢ় কালো রঙের কুকুরগুলো হত্যা করো।
। জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে কুকুর হত্যার আদেশ দেন, এমন কি কোনো মহিলাও যদি জঙ্গল থেকে তার কুকুরসহ আসতো সেটাও ‘আমরা হত্যা করতাম। অতঃপর তিনি আমাদেরকে কুকুর হত্যা নিষেধ করে বললেনঃ তোমরা শুধুমাত্র কালো কুকুর হত্যা করবে।
হাদিস 2847 — Sunan Abu Dawud 17:4
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (5477) Sahih Muslim (1929)
। ‘আদী ইবনু হাতিম (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করি, আমি আমার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর শিকারে পাঠালে তা আমার জন্য শিকার ধরে আনলে আমি কি তা খাবো? তিনি বললেনঃ তুমি তোমার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুরকে আল্লাহর নাম নিয়ে শিকারে পাঠালে তা তোমার জন্য যে শিকার ধরে আনবে তা খাবে। আমি জিজ্ঞেস করি, কুকুর যদি শিকারকে হত্যা করে? তিনি বললেনঃ কুকুর যদি শিকার হত্যা করে এবং তোমার কুকুরের সাথে অন্য কুকুর অংশগ্রহণ না করে তাহলে খেতে পারবে। আমি বলি, আমি পালকবিহীন ধাতুর পাত ছুঁড়ে কোনো শিকার ধরলে তা খাবো কি? তিনি বললেনঃ আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে পালকবিহীন ধাতুর পাত ছোঁড়া হলে তা শিকারকে জখম করলে খেতে পারো। কিন্তু তীরের পার্শ্বের আঘাতে শিকার হয়ে থাকলে তা খেও না।
হাদিস 2848 — Sunan Abu Dawud 17:5
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (5484) Sahih Muslim (1929)
। ‘আদী ইবনু হাতিম (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করি, ‘আমরা এসব কুকুর দ্বারা শিকার করে থাকি। তিনি আমাকে বললেনঃ যখন তোমার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুরগুলো আল্লাহর নাম নিয়ে শিকারে পাঠাবে, সেগুলো তোমার জন্য যা ধরে আনবে তা খাও, এমন কি শিকার মেরে ফেললেও। কুকুর যদি তা থেকে না খেয়ে থাকে তাহলে খাও। আর যদি খেয়ে থাকে তবে খেও না। কেননা আমার আশঙ্কা হচ্ছে, ঐ শিকার সে নিজের জন্য ধরেছে।
। ‘আদী ইবনু হাতিম (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি যদি আল্লাহর নাম নিয়ে তোমার তীর ছুঁড়ো এবং ঐ শিকারকৃত পশু পরের দিন এমন অবস্থায় পাও যে, তা পানিতে পড়েনি এবং তাতে তোমার তীরের আঘাত ছাড়া অন্য কোনো চিহ্নও নেই, তবে তা খাও। আর যদি তোমার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুরের সাথে অন্য কুকুর দেখো তাহলে শিকার খেও না। কেননা তুমি অবহিত নয় যে, হয় তো অন্য কোনো কুকুর শিকার হত্যা করেছে।
। ‘আদী ইবনু হাতিম (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি কোনো কুকুর বা বাজ পাখি প্রশিক্ষণ দিয়ে শিকারে পাঠালে এবং আল্লাহর নাম স্মরণ করলে- সে তোমার জন্য যা ধরে আনবে তা খেতে পারো। আমি বলি, যদি সে তা মেরে ফেলে? তিনি বললেনঃ সে যদি শিকার হত্যা করে এর কোনো অংশ না খায়, তবে সে তা তোমার জন্যই শিকার করেছে। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, বাজ পাখি শিকারের কিছু খেলে অসুবিধা নেই। কুকুর শিকার থেকে খেলে তা খাওয়া নিষেধ, তবে কেবল রক্ত পান করলে তা খাওয়া দূষণীয় নয়।
। আবূ সা‘লাবাহ আল-খুশানী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুরের শিকার সম্পর্কে বলেনঃ তুমি যখন তোমার কুকুর শিকারে পাঠাবে এবং তাতে মহান আল্লাহর নাম স্মরণ করবে, অতঃপর সে যা ধরে নিয়ে আসবে তা খেতে পারো। এমন কি তা থেকে কুকুর সামান্য খেলেও অসুবিধা নেই। আর তোমার ধনুক তোমাকে যা ফিরিয়ে দিবে তা খাও।
। ‘আদী ইবনু হাতিম (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কেউ যদি শিকারের প্রতি তীর নিক্ষেপ করে, অতঃপর দুই বা তিন দিন নিখোঁজ থাকার পর মৃত অবস্থায় শিকারটি পায় এবং তার শরীরে তীরবিদ্ধ থাকে। সে কি তা খাবে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, সে ইচ্ছা হলে খেতে পারে।