। ‘আদী ইবনু হাতিম (রাঃ) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে (পালাকহীন ও মধ্যবর্তী অংশ মোটা) তীর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেনঃ শিকার এর ধারালো দিকের আঘাতে মারা গেলে খাবে। আর প্রস্থের দিকের আঘাতে মারা গেলে খাবে না। কেননা তা আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মৃত প্রাণীর মতই (হারাম)। আমি বলি, আমি শিকার ধরার জন্য আমার কুকুর প্রেরণ করি। তিনি বললেনঃ আল্লাহর নাম নিয়ে ছেড়ে থাকলে খাও, অন্যথায় খেও না। তবে কুকুর শিকার থেকে খেয়ে থাকলে তা খেও না। কেননা সে তা নিজের জন্য ধরেছে। ‘আদী (রাঃ) বললেন, আমার শিকারের জন্য কুকুর প্রেরণ করি এবং এর সাথে অন্য কুকুরও দেখি। তিনি বললেনঃ তা খাবে না। কারণ তুমি তো কেবল তোমার কুকুরের উপর আল্লাহর নাম উচ্চারণ করেছো।
হাদিস 2855 — Sunan Abu Dawud 17:12
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (5488) Sahih Muslim (1930)
। আবূ সা‘লাবাহ আল-খুশানী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি বললাম, হে আল্লাহ রাসূল! আমি আমার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং প্রশিক্ষণহীন উভয় ধরণের কুকুর শিকারে প্রেরণ করি। তিনি বললেনঃ তোমার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুরকে আল্লাহর নাম নিয়ে ছেড়ে থাকলে তার শিকার খাও। আর তোমার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর শিকারে পাঠালে তার শিকার যবাহ করার সুযোগ পেলে তা খাবে।
। আবূ সা‘লাবাহ আল-খুশানী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ হে আবূ সা‘লাবাহ! তোমার তীর ও কুকুর তোমাকে যে শিকার এনে দিলে তা ভক্ষণ করো। বর্ণনাকারী ইবনু হারবের বর্ণনায় ‘প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত’ এবং ‘কাওসের’ স্থলে ‘ইয়াদ’ শব্দ উল্লেখ রয়েছে। তাতে এও আছে, হোক জীবিত বা মৃত তা খেতে পারবে।
। ‘আমর ইবনু শু‘আইব (রহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। একদা আবূ সা‘লাবাহ (রাঃ) নামক এক বেদুঈন এসে বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার শিকারী কুকুর রয়েছে। এর শিকার সম্পর্কে আমাকে অবহিত করুন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার শিকারী কুকুর তোমার জন্য যা ধরে নিয়ে আসে তা খাও। তিনি বলেন, তা যবাহ করার সুযোগ না পেলে? তিনি বললেনঃ সে তা থেকে কিছু খেলেও খেতে পারবে। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার তীর-ধনুক সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেনঃ তোমার তীর তোমাকে যা ফেরত দেয় তা খাও। তা যবাহ করার সুযোগ পাও অথবা না পাও। তিনি বলেন, শিকার যদি নিখোঁজ হয়। তিনি বললেনঃ যদি তাতে তোমার তীর ছাড়া অন্য কিছুর চিহ্ন না থাকে তবে খাবে। তিনি বলেন, অগ্নিপূজারীর রান্না ও পাত্র ব্যবহার সম্পর্কে ফতোয়া দিন; যদি ওগুলো ছাড়া আমাদের কোনো উপায় না থাকে। তিনি বললেনঃ ওগুলো ধুয়ে নিবে, তারপর খাবে।
। আবূ ওয়াকিদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ জীবিত পশুর দেহের অংশবিশেষ কেটে বিচ্ছিন্ন হলে ঐ অংশ মৃত বলে গণ্য (যা হারাম)।
হাদিস 2859 — Sunan Abu Dawud 17:16
সহিহসহিহ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ سُفْيَانَ، حَدَّثَنِي أَبُو مُوسَى، عَنْ وَهْبِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم - وَقَالَ مَرَّةً سُفْيَانُ وَلاَ أَعْلَمُهُ إِلاَّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم - وَقَالَ " مَنْ سَكَنَ الْبَادِيَةَ جَفَا وَمَنِ اتَّبَعَ الصَّيْدَ غَفَلَ وَمَنْ أَتَى السُّلْطَانَ افْتُتِنَ " .
। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ জঙ্গলে বসবাসকারীর অন্তর কঠিন হয়ে যায়। যে লোক শিকারের পিছনে ছুটে সে কর্মবিমুখ হয়। আর যে লোক রাজা-বাদশার নিকট আসা-যাওয়া করে সে বিপদগ্রস্ত হয়।
। আবূ হুরাইরাহ থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসে অনুরূপ বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাজা-বাদশার সাথে নিরবিচ্ছিন্ন সম্পর্ক স্থাপনকারী বিপদগ্রস্ত হয়। আর যে বান্দা রাজার সাথে অধিক ঘনিষ্ঠ হয় সে আল্লাহ থেকে ততোই দূরে সরে যেতে থাকে।
। আবূ সা‘লাবাহ আল-খুশানী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি শিকারের প্রতি তীর নিক্ষেপের তিনদিন পর তা পেলে এবং তোমার তীর আটকে থাকলে তা খেতে পারবে, যদি তাতে দুর্গন্ধ না থাকে।