। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে ঘুম থেকে জেগে তাঁর প্রাকৃতিক প্রয়োজন সেরে উভয় হাত ও মুখ ধুয়ে পুনরায় ঘুমালেন। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, অর্থাৎ তিনি পেশাব করেছিলেন।[1] সহীহ।
হাদিস 5044 — Sunan Abu Dawud 43:272
দাঈফদাঈফদাঈফ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ بَعْضِ، آلِ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَ كَانَ فِرَاشُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوًا مِمَّا يُوضَعُ الإِنْسَانُ فِي قَبْرِهِ وَكَانَ الْمَسْجِدُ عِنْدَ رَأْسِهِ .
। উম্মু সালামাহ (রাঃ)-এর কোনো আত্মীয়র সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাধারণতঃ মৃত ব্যক্তিকে কবরে যেভাবে রাখা হয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিছানা সেই পদ্ধতিতে বিছানো ছিলো এবং তাঁর মাথার দিকে মাসজিদ ছিলো।[1] দুর্বলঃ মিশকাত হা/ ৪৭১৭।
হাদিস 5045 — Sunan Abu Dawud 43:273
সহিহসহিহসহিহ LighairihiIsnaad Hasan
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا أَبَانُ، حَدَّثَنَا عَاصِمٌ، عَنْ مَعْبَدِ بْنِ خَالِدٍ، عَنْ سَوَاءٍ، عَنْ حَفْصَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَرْقُدَ وَضَعَ يَدَهُ الْيُمْنَى تَحْتَ خَدِّهِ ثُمَّ يَقُولُ " اللَّهُمَّ قِنِي عَذَابَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ عِبَادَكَ " . ثَلاَثَ مِرَارٍ .
। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী হাফসাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন শয়ন করতেন তখন তার ডান হাত গালের নীচে রেখে তিনবার বলতেনঃ ‘‘আল্লাহুম্মা কিন্নী আযাবাকা ইয়াওমা তাব‘আসু ইবাদাকা’’ (অর্থঃ হে আল্লাহ! আপনি যেদিন আপনার বান্দাদেরকে কবর থেকে উঠাবেন, সেদিন আমাকে আপনার আযাব থেকে রক্ষা করুন)।[1] সহীহ। তবে ‘তিনবার’ কথাটি বাদে।
হাদিস 5046 — Sunan Abu Dawud 43:274
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (6311) Sahih Muslim (2710)
। আল বারাআ ইবনু আযিব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ যখন রাতে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিবে তখন সালাতের উযুর ন্যায় উযু করে ডান কাতে শুয়ে বলবেঃ ‘‘হে আল্লাহ! আমি নিজেকে আপনার নিকট সমর্পণ করলাম ও আপনার অনুগত হলাম, আমার কাজ আপনার উপর ন্যস্ত করলাম, আমার পিঠ আপনার নিকট সোর্পদ করলাম এবং আপনার সাহায্যের প্রতি আমি ভরসা করলাম আপনার প্রতি আগ্রহে ও ভয়ে। আপনি ছাড়া অন্য কোথাও মুক্তি ও নিরাপত্তার স্থান নেই। আমি আপনার সেই কিতাবে বিশ্বাস করি যা আপনি আপনার প্রেরিত নবীর উপর অবতীর্ণ করেছেন’’ অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ অতঃপর (ঐ রাতে) যদি তোমার মৃত্যু হয় তাহলে তুমি ইসলামের উপরেই মারা গেলে। এটাই হবে তোমার সর্বশেষ কথা। আল বারাআ (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, এটি আওড়াতে গিয়ে আমার মুখে ওয়াবিরাসূলিকাল্লাযি আরসালতা’ এসে গেলে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ না, বরং ‘‘ওয়া বিনাবিয়্যিকাল্লাযি আরসালতা।’’[1] সহীহ।
। আল-বারাআ (রাঃ) থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে উপরোক্ত হাদীস বর্ণিত। সুফিয়ান (রহঃ) বলেন, একজন বর্ণনাকারী বলেন, ‘তুমি পবিত্র হয়ে যখন তোমার বিছানায় আসো।’ অপর বর্ণনাকারী বলেন, ‘তুমি তোমার সালাতের উযুর মতো উযু করো।’ এভাবে হাদীসের বাকী বর্ণনা মু‘তামির বর্ণিত হাদীসের অর্থানুরূপ।[1] সহীহ।
। হুযাইফাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমানোর সময় বলতেনঃ ‘‘আল্লাহুম্মা বিইসমিকা আহইয়া ওয়া অমূতু’’ (অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি আপনার নামে মরি ও বাঁচি)। আবার তিনি যখন জাগতেন তখন বলতেনঃ ‘‘আলহামদু লিল্লাহিল্লাযী আহইয়ানা বা‘দা মা আমাতানা ওয়া ইলাইহিন নুশূর’’ (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদেরতেক মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত করবেন)।[1] সহীহ।
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ তার বিছানায় বিশ্রাম নেয়, সে যেন তার পরিধেয় বস্ত্রের (লূঙ্গির) ভেতরের দিক দিয়ে বিছানা ঝেঁড়ে নেয়। কেননা সে জানে না তার চলে যাওয়ার পর বিছানায় কি এসেছে। অতঃপর সে যেন তার ডান কাতে শুয়ে বলেঃ হে রব! আপনার নামে আমার দেহ রাখলাম এবং আপনার নামে তা উঠাবো। যদি আপনি আমার আত্মাকে রেখে দেন তবে তার প্রতি দয়া করবেন, আর যদি ফিরিয়ে দেন, তবে তার নিরাপত্তা দিবেন, যেভাবে আপনি আপনার নেক বান্দাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে থাকেন।[1] সহীহ।
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিছানয় বিশ্রাম নেয়ার সময় বলতেনঃ হে আল্লাহ! আসমান-যমীনের তথা প্রত্যেক বস্তুর রব; শস্যবীজ অঙ্কুরিতকারী, তাওরাত, ইনজিল ও কুরআন অবতীর্ণকারী। হে রব! আমি আপনার নিকট আপনার অধিনস্ত ও আয়ত্তাধীন সকল অনিষ্টকারীর অনিষ্ট থেকে মুক্তি চাই। আপনিই প্রথম, আপনার পূর্বে কিছুই ছিলো না, আপনি অনন্ত, আপনার পরে কেউ থাকবে না, আপনি প্রকাশ্য এবং আপনার উপরে কিছু নেই। আপনিই গোপন, আপনি ছাড়া কিছুই নেই। বর্ণনাকারী ওয়াহব (রহঃ) তার হাদীসের আরো উল্লেখ করেন, আপনি আমার ঋণ পরিশোধ করে দিন এবং অভাব থেকে মুক্তি দিন।[1] সহীহ।
। আলী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বিছানায় শোয়ার সময় বলতেনঃ ‘‘হে আল্লাহ! আমি আপনার মহান সত্তা ও পূর্ণ কালেমার মুক্তি কামনা করছি, যা আপনার অধীনে রয়েছে তার অকল্যাণ থেকে। হে আল্লাহ! আপনিই ঋণ ও পাপের বোঝা দূরীভূতকারী। হে আল্লাহ! আপনার সৈন্যবাহিনী বা আপনার দলকে কখনো পরাভূত করা যায় না এবং আপনার ওয়াদার কখনো ভঙ্গ হয় না। সম্পদশালীর সম্পদ তাকে আপনার হাত থেকে রক্ষা করতে পারে না। আপনার পবিত্রতা আপনার প্রশংসার সঙ্গে।[1] দুর্বলঃ মিশকাত হা/ ২৪০৩।