। আনাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বিছানায় বিশ্রাম নেয়ার সময় বলতেনঃ প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা সেই মহান রবের জন্য যিনি আমাদেরকে খাওয়ালেন, পান করালেন, আমাদের প্রয়োজন পূর্ণ করলেন এবং আমাদের মুক্তি দিলেন, অথচ এমন বহু লোক আছে যাদের না আছে প্রয়োজন পূর্ণকারী আর না আছে আশ্রয়দাতা।[1] সহীহ।
। আবুল আযহার আল-আনমারী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে শোয়ার সময় বলতেনঃ আল্লাহর নামে আমার দেহ রাখলাম। হে আল্লাহ! আমার গুনাহ ক্ষমা করুন, আমার থেকে শয়তানকে তাড়িয়ে দিন, আমার ঘাড়কে মুক্ত করুন এবং আমাকে উচ্চ মর্যাদাসম্পন্নদের কাতারে স্থান দিন।[1] সহীহ।
হাদিস 5055 — Sunan Abu Dawud 43:283
সহিহসহিহহাসানহাসান
حَدَّثَنَا النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ، عَنْ فَرْوَةَ بْنِ نَوْفَلٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لِنَوْفَلٍ " اقْرَأْ { قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ } ثُمَّ نَمْ عَلَى خَاتِمَتِهَا فَإِنَّهَا بَرَاءَةٌ مِنَ الشِّرْكِ " .
। ফারওয়াহ ইবনু নাওফাল (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাওফাল (রাঃ)-কে বলেনঃ তুমি ‘‘কুল ইয়া আয়্যুহাল কাফিরূন’’ সূরাটি পড়ে ঘুমাবে। কেননা তা শিরক থেকে মুক্তকারী।[1] সহীহ।
। আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি রাতে শোয়ার জন্য তাঁর বিছানায় এসে দু’ হাত একত্র করে ‘কুল হুওয়াল্লাহু আহদ’, ‘কুল আ‘ঊযুবিরব্বিল ফালাক’ ও ‘কুল আ‘ঊযু বিরব্বিন নাস’ সূরা তিনটি পড়ে (হাতে) ফুঁক দিতেন, অতঃপর সেই হাত দু’টো দিয়ে যতদূর সম্ভব তাঁর শরীর মাসেহ করতেন এবং মাথা থেকে মাসেহ শুরু করতেন, তারপর মুখমন্ডল, শরীরের সম্মুখভাগ, অতঃপর শরীরের যেখানে যেখানে হাত পৌঁছানো সম্ভব। তিনি এরূপ তিনবার করতেন।[1] সহীহ।
। ইরবায ইবনু সারিয়াহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শোয়ার পূর্বে যেসব সূরার শুরুতে ‘সাব্বাহা’ বা ইউসাব্বিহু’ আছে সেগুলো পড়তেন। তিনি বলেছেন, এ সূরাগুলোর মধ্যে একটি আয়াত রয়েছে যা হাজার আয়াতের চেয়েও উত্তম।[1] দুর্বল।
। ইবনু উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রাতে শোয়ার জন্য যেতেন তখন বলতেনঃ সকল প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা মহান আল্লাহর জন্য, যিনি আমার প্রতি অসীম দয়াবান এবং আমাকে দান করলেন। সুতরাং সর্বাবস্থায় আল্লাহর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা। হে আল্লাহ! প্রত্যেক বস্তুর রব ও অধিকারী এবং প্রত্যেক জিনিসের ইলাহ! আমি আপনার নিকট জাহান্নামের শাস্তি থেকে আশ্রয় চাই।[1] সনদ সহীহ।
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি শোয়ার সময় আল্লাহকে স্মরণ করলো না, সে কিয়ামতের দিন বঞ্চিত হবে। আর যে ব্যক্তি কোনো আসনে বসলো অথচ সেখানে সে মহামহিমান্বিত আল্লাহকে স্মরণ করলো না, কিয়ামতের দিন সে বঞ্চিত হবে।[1] হাসান।
। উবাদাহ ইবনুস সামিত (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রাতে ঘুম থেকে জেগে বলেঃ ‘‘আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই, সার্বভৌমত্ব, প্রভুত্ব, রাজত্ব ও প্রশংসা সবই তাঁর, তিনি প্রত্যেক বস্তুর উপর একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী; সকল প্রশংসা ও পবিত্রতা আল্লাহর জন্য, আল্লাহর সাহায্য ও ক্ষমতা ছাড়া কারো কোনো উপায় নেই; অতঃপর এ দু‘আ করেঃ ‘‘হে আমার রব! আমাকে মাফ করুন; ‘‘বর্ণনাকারী বলেনঃ দু‘আ করে। অর্থাৎ তাঁর বর্ণনায় ‘‘রব্বিগফিরলী’’ উল্লেখ নেই এবং এ দু‘আ কবূল করা হয়। অতঃপর সে যদি উঠে উযু করে সালাত আদায় করে তাহলে তার সালাত কবুল করা হয়।[1] সহীহ।
। আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে সজাগ হলে বলতেনঃ হে আল্লাহ! আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আমার গুনাহের ক্ষমা ও রহমত কামনা করছি। হে আল্লাহ! আমার ইলম বাড়িয়ে দিন এবং হিদায়াত দানের পর আমার অন্তরকে বাঁকা করবেন না এবং আমার জন্য আপনার পক্ষ থেকে রহমত দান করুন। নিশ্চয়ই আপনি মহাদানকারী।[1] দুর্বলঃ মিশকাত হা/ ১২১৪।
হাদিস 5062 — Sunan Abu Dawud 43:290
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (5361) Sahih Muslim (2727)
। আলী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, যাঁতা ঘুরাতে ঘুরাতে ফাতিমাহ (রাঃ)-এর হাত ফোসকা পড়ে যাওয়ায় তিনি একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট অভিযোগ করেন। কিছু সংখ্যক যুদ্ধবন্দী থেকে ফাতিমাহ (রাঃ) একটি খাদেম চাওয়ার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলেন, কিন্তু তাঁর দেখা না পেয়ে তিনি এ বিষয়ে আয়িশাহ (রাঃ)-কে জানিয়ে চলে গেলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিরে আসলে তিনি তাঁকে বিষয়টি জানালেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এমন সময় আমাদের নিকট উপস্থিত হলেন যখন আমরা ঘুমাতে যাচ্ছিলাম। তাঁর আগমনে আমরা বিছানা থেকে উঠতে উদ্যত হলে তিনি বললেনঃ তোমরা স্বস্থানে থাকো। তিনি এসে আমাদের দু’জনের মাঝখানে বসলেন। এমন কি আমি তাঁর পায়ের শীতল পরশ আমার বুকে অনুভব করছিলাম। তিনি বললেনঃ আমি কি তোমাদের দু’জনকে এমন একটি উত্তম পথ দেখাবো না যা তোমাদের পার্থিত জিনিসের চেয়ে উত্তম হবে? তা হলো, তোমরা শোয়ার সময় তেত্রিশ বার সুবহানাল্লাহ, তেত্রিশ বার আলহমাদু লিল্লাহ ও চৌত্রিশ বার আল্লাহু আকবার বলবে। আর এটা তোমাদের উভয়ের জন্য একটি খাদেমের চেয়ে অধিক উত্তম হবে।[1] সহীহ।