। আবূ হাম্মাম ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ইয়াসার (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। আবূ আব্দুর রাহমান আল-ফিহরী (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে হুনাইনে উপস্থিত ছিলাম। ‘আমরা প্রচন্ড গরমের দিনে সফর করলাম। ‘আমরা একটি গাছের ছায়ায় যাত্রাবিরতি করলাম। সূর্য ঢলে পড়লে আমি আমার সামরিক পোশাক পরিধান করে আমার ঘোড়ায় চড়লাম, তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলাম। তিনি তখন তাঁর তাবুতে অবস্থান করছিলেন। আমি বললাম, আসসালামু আলাইকা ইয়া রাসূলাল্লাহি ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। যাত্রার সময় হয়েছে। তিনি বললেনঃ ঠিক আছে। তারপর বললেনঃ হে বিলাল! উঠো। বিলাল (রাঃ) একটি বাবলা গাছের নিচ থেকে হন্তদন্ত হয়ে আসলেন। তার ছায়া পাখীর ছায়ার মতো (ছোট) ছিলো। বিলাল (রাঃ) বললেন, আমি আপনার ডাকে সাড়া দিলাম, আমি উপস্থিত আছি, আমি আপনার জন্য উৎসর্গীত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমার ঘোড়ায় গদি আটো। তিনি একটি গদি বের করলেন, যার উভয় পাশ খেজুর গাছের পাতা ভর্তি ছিলো। তাতে আত্মগর্বের কিছুই ছিলো না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাতে আরোহন করলেন এবং ‘আমরাও সওয়ার হলাম। অতঃপর বর্ণনাকারী পুরো হাদীস বর্ণনা করেন।[1] হাসান।
। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। আমি ও ‘আমর মা তখন আমার একটি দেয়াল মেরামত করছিলাম। তিনি বললেনঃ হে ‘আব্দুল্লাহ! কি হচ্ছে? আমি বললাম, মেরামত করছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি দেখছি, নির্দেশ (কিয়ামত বা মৃত্যু) এর চেয়েও দ্রুত ধাবমান।[1] সহীহ।
হাদিস 5236 — Sunan Abu Dawud 43:464
সহিহসহিহহাসান Sahihসহিহ
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَهَنَّادٌ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، بِإِسْنَادِهِ بِهَذَا قَالَ مَرَّ عَلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَنَحْنُ نُعَالِجُ خُصًّا لَنَا وَهَى فَقَالَ " مَا هَذَا " . فَقُلْنَا خُصٌّ لَنَا وَهَى فَنَحْنُ نُصْلِحُهُ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا أَرَى الأَمْرَ إِلاَّ أَعْجَلَ مِنْ ذَلِكَ " .
। আল-আ‘মাশ (রহঃ) এ সনদে উল্লেখিত হাদীস বর্ণনা করেন। তাতে রয়েছেঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। ‘আমরা তখন আমাদের জীর্ণশীর্ণ ঘরটি মেরামত করছিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এটা কি হচ্ছে? ‘আমরা বললাম, আমাদের এ জীর্ণশীর্ণ কুঁড়ে ঘরটি মেরামত করছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি তো দেখছি এ জীর্ণ ঘরের চাইতেও নির্দেশ দ্রুত ধাবমান।[1] সহীহ।
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাইরে বের হয়ে গম্বুজাকৃতির একটি উঁচু পাকা ঘর দেখতে পেয়ে বললেনঃ এটা কি? তাঁর সাহাবীগণ বললেন, এটা অমুক আনসারী ব্যক্তির। তিনি চুপ থাকলেন এবং বিষয়টি স্মরণে রাখলেন। পরে ঐ প্রাসাদের মালিক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে লোকদের মধ্যে তাঁকে সালাম দিলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। এরূপ কয়েকবার হলো। ফলে লোকটি তার প্রতি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রাগ হওয়া এবং তাঁর উপেক্ষা সম্পর্কে বুঝতে পারলো। এতে সে তার সাথীদের নিকট প্রকৃত ঘটনা জানতে চাইলো। সে বললো, আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এরূপ আচরণ তো আমি বুঝতে পারছি না! লোকেরা বললো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাইরে বের হয়েছিলেন। তিনি তোমার গম্বুজ দেখতে পেয়েছেন। অতএব সে তার পাকা বাড়িতে ফিরে এসে তা ধ্বংস করে একেবারে মাটির সাথে মিশিয়ে দিলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরেক দিন বের হলেন। তিনি ঐ প্রাসাদটি দেখতে না পেয়ে বললেন, প্রাসাদটির কি হলো? লোকেরা বললো, প্রাসাদের মালিক আমাদের নিকট তার প্রতি আপনার অসন্তুষ্টির ও উপেক্ষার বিষয়ে জানতে চাইলে ‘আমরা তাকে ঘটনা খুলে বলি, এতে সে তা বিধ্বস্ত করে দেয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ বস্তুত প্রত্যেক উচ্চ পাকা বাড়ি তার মালিকের জন্য দুর্ভাগ্যের কারণ হবে। তবে যেটি একান্ত জরূরী সেটি ছাড়া।[1] সহীহ। সহীহা হা/ ২৮৩০।
। দুকাইন ইবনু সাঈদ আল-মুযানী (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে খাবার চাইলাম। তিনি বললেনঃ হে ‘উমার! যাও, এদেরকে দাও। অতএব তিনি আমাদেরকে নিয়ে উপর তলার একটি রুমে উঠলেন, অতঃপর তার রুম থেকে চাবি নিয়ে তা খুললেন।[1] সনদ সহীহ।
। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু হুবশী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কুল গাছ কাটবে, আল্লাহ তাকে মাথা উপুড় করে জাহান্নামে ফেলবেন। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ)-কে এ হাদীসের তাৎপর্য সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এটি খুবই সংক্ষিপ্ত। অর্থাৎ খোলা ময়দানের কুল গাছ, যার ছায়ায় পথচারী ও চতুস্পদ প্রাণী আশ্রয় নিয়ে থাকে তা কোনো ব্যক্তি নিজ মালিকানাহীন, অপ্রয়োজনে ও অন্যায়ভাবে কেটে ফেললে আল্লাহ তাকে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন।[1] সহীহ।
হাদিস 5240 — Sunan Abu Dawud 43:468
দাঈফসহিহহাসান Lighairihiহাসান
حَدَّثَنَا مَخْلَدُ بْنُ خَالِدٍ، وَسَلَمَةُ، - يَعْنِي ابْنَ شَبِيبٍ - قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي سُلَيْمَانَ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ ثَقِيفٍ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، يَرْفَعُ الْحَدِيثَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ .
। উরওয়াহ ইবনুয যুবায়র (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি হাদীসের সনদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত উন্নীত করে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।[1] আমি এটি সহীহ এবং যঈফে পাইনি।
। হাসসান ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) বলেন, আমি উরওয়াহ (রহঃ)-এর পুত্র হিশাম (রাঃ)-কে কুল গাছ কাটা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। এ সময় তিনি উরওয়াহ (রহঃ)-এর দালানের সঙ্গে হেলান দেয়া অবস্থায় ছিলেন। তিনি বললেন, তুমি কি এসব দরজা ও পত্রপল্লব দেখতে পাচ্ছো? এসব দরজার চৌকাঠ উরওয়াহ (রহঃ)-এর কুল গাছ দ্বারা তৈরী। তিনি তার জমি থেকে তা কেটে এনেছিলেন। তিনি বলেছেন, তাতে কোনো অসুবিধা নেই। হুমাইদ (রহঃ)-এর বর্ণনায় রয়েছেঃ তিনি বলেন, হে ইরাকী! তুমি আমার নিকট একটি বিদ‘আত নিয়ে এসেছো। সে বললো, আমি বললাম, বিদ‘আত তো আপনাদের কাছ থেকেই। আমি মক্কায় এ ব্যক্তিকে বলতে শুনেছি, যে লোক কুল গাছ কাটে তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লানত করেছেন। অতঃপর বর্ণনাকারী অনুরূপ অর্থের হাদীস বর্ণনা করেন।[1] দুর্বল।
। বুরাইদাহ (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ মানুষের শরীরে তিনশো ষাটটি গ্রন্থি রয়েছে। তার প্রতিটি জোড়ার জন্য সাদাকাহ করা উচিত। লোকজন বললো, কেউ কি এতো সাদাকাহ করতে সক্ষম, হে আল্লাহর নবী! তিনি বললেনঃ তুমি মসজিদের শ্লেষ্মা পুতে দিবে এবং রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক জিনিস সরিয়ে ফেলবে। তুমি যদি তাও না পারো তাহলে চাশতের সময় দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করবে, এতেই তোমার জন্য যথেষ্ট হবে।[1] সহীহ।