حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ هِلاَلٍ، عَنْ بِشْرِ بْنِ عَاصِمٍ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ مَالِكٍ، مِنْ رَهْطِهِ قَالَ بَعَثَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم سَرِيَّةً فَسَلَحْتُ رَجُلاً مِنْهُمْ سَيْفًا فَلَمَّا رَجَعَ قَالَ لَوْ رَأَيْتَ مَا لاَمَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَعَجَزْتُمْ إِذْ بَعَثْتُ رَجُلاً مِنْكُمْ فَلَمْ يَمْضِ لأَمْرِي أَنْ تَجْعَلُوا مَكَانَهُ مَنْ يَمْضِي لأَمْرِي " .
। ‘উকবাহ ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি ক্ষুদ্র সেনাদল অভিযানে পাঠালেন। আমি তাদের একজনকে একটি তরবারি দিলাম। লোকটি অভিযান থেকে ফিরে এসে আমাকে বললো, তুমি যদি দেখতে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের (অযোগ্যতার কারণে) কিভাবে তিরস্কার করেছেন! তিনি বলেছেনঃ আমি যখন তোমাদের একজনকে (অধিনায়ক করে) পাঠালাম, অথচ সে আমার নির্দেশ মোতাবেক চললো না, তখন আমার নির্দেশ কার্যকর করার জন্য অন্য কাউকে কেন তার স্থলাভিষিক্ত করলে না। তোমরা কি এতই অপারগ ছিলে?
। আবূ সা‘লাবাহ আল-খুশানী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সেনাবাহিনীর লোকজন যখন কোনো স্থানে (বিশ্রামের জন্য) নামতেন তখন তারা বিভিন্ন গিরিপথে ও উপত্যকায় ছড়িয়ে পড়তেন। সেজন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এসব গিরিপথে ও পাহাড়ী উপত্যকায় তোমাদের বিভক্ত হয়ে পড়াটা শয়তানের ষড়যন্ত্র। (বর্ণনাকারীদের বলেন) এরপর থেকে যে স্থানেই তিনি নামতেন, দলের লোকজন একত্রে অবস্থান করতো। এমন কি এরূপ বলা হতো যে, যদি একটি কাপড় তাদের উপর বিছিয়ে দেয়া হয় তাদের সবাইকে এর মধ্যে ঢেকে নেয়া সম্ভব।
হাদিস 2629 — Sunan Abu Dawud 15:153
হাসানহাসানহাসান
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ أَسِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْخَثْعَمِيِّ، عَنْ فَرْوَةَ بْنِ مُجَاهِدٍ اللَّخْمِيِّ، عَنْ سَهْلِ بْنِ مُعَاذِ بْنِ أَنَسٍ الْجُهَنِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ غَزَوْتُ مَعَ نَبِيِّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم غَزْوَةَ كَذَا وَكَذَا فَضَيَّقَ النَّاسُ الْمَنَازِلَ وَقَطَعُوا الطَّرِيقَ فَبَعَثَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُنَادِيًا يُنَادِي فِي النَّاسِ أَنَّ مَنْ ضَيَّقَ مَنْزِلاً أَوْ قَطَعَ طَرِيقًا فَلاَ جِهَادَ لَهُ .
। সাহল ইবনু মু‘আয ইবনু আনাস আল-জুহানীর থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (মু‘আয) বলেন, আমি আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে অমুক অমুক যুদ্ধে যোগদান করেছি। একদা সৈনিকেরা (বিক্ষিপ্তভাবে তাঁবু ফেলে) স্থান সংকীর্ণ ও পথ বন্ধ করে দিয়েছিলো। আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সাহাবীকে লোকদের মাঝে ঘোষণা দেয়ার জন্য প্রেরণ করলেনঃ যে লোক স্থান সংকীর্ণ করেছে এবং যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে, তার জিহাদ নেই।
হাদিস 2630 — Sunan Abu Dawud 15:154
দাঈফহাসানহাসানহাসান
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنْ أَسِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ فَرْوَةَ بْنِ مُجَاهِدٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ مُعَاذٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ غَزَوْنَا مَعَ نَبِيِّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . بِمَعْنَاهُ .
। সাহল ইবনু মু‘আয (রাঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আমরা আল্লাহর নবীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে যুদ্ধ অংশগ্রহণ করেছি। এরপর বাকী অংশ উপরের হাদীসের অনুরূপ।
হাদিস 2631 — Sunan Abu Dawud 15:155
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (3024) Sahih Muslim (1742)
। ‘উমার ইবনু ‘উবাইদুল্লাহর মুক্তদাস সালিম আবুন নাদর (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি ‘উমারের সচিব ছিলেন। তিনি বলেন, ‘উমার (রাঃ) হারূরার যুদ্ধে রওয়ানা হলে ‘আব্দুল্লাহ ইবনু আবূ ‘আওফা (রাঃ) তাকে পত্র লিখে জানালেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কোন কোন যুদ্ধে শত্রুর সম্মুখীন হয়েছেন, তিনি বলেছেনঃ ‘‘হে লোকসকল! তোমরা শত্রুবাহিনীর সাক্ষাৎ কামনা করো না, বরং আল্লাহর কাছে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করো। যখন তোমরা শত্রুর সাথে সংঘষে লিপ্ত হবে, ধৈর্য ধারণ করবে। আর জেনে রাখো, তরবারির ছায়ার নীচে জান্নাত।’’ অতঃপর তিনি বললেনঃ ‘‘হে আল্লাহ! আপনি কিতাব অবতীর্ণকারী, মেঘমালা পরিচালনকারী এবং শত্রুবাহিনীকে পর্যুদস্তকারী, আপনি তাদেরকে পরাজিত করুন এবং তাদের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য করুন।’’
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুদ্ধ আরম্ভের সময় বলতেনঃ ‘‘হে আল্লাহ! আপনিই আমার শক্তির উৎস ও সাহায্যকারী, আপনার সাহায্যেই আমি কৌশল অবলম্বন করি, আপনার সাহায্যেই বিজয়ী হই এবং আপনার সাহায্যেই যুদ্ধ করি।’’
। ইবনু ‘আওন (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যুদ্ধের সময় মুশরিকদের ইসলাম গ্রহণের দা‘ওয়াত দেয়া সম্পর্কে জানতে চেয়ে নাফি‘ (রহঃ)-এর নিকট পত্র লিখলাম। তিনি আমাকে লিখে জানালেন এ নিয়ম ছিলো ইসলামের প্রাথমিক যুগে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বানী মুসতালিকের উপর অতর্কিত আক্রমণ চালিয়েছেন। অথচ তারা মুসলিমদের এরূপ আক্রমণ সম্পর্কেই কিছুই জানতো না। তাদের পশুগুলো তখন পানি পান করছিলো। এমতাবস্থায় অতর্কিত আক্রমণ করে তিনি তাদের যুদ্ধে সক্ষম ব্যক্তিদের হত্যা করলেন এবং অবশিষ্টদের বন্দী করলেন। আর সেদিনই জুয়াইরিয়্যাহ বিনতুল হারিস তাঁর হাতে বন্দী হন। এ ঘটনা আমার কাছে ‘আব্দুল্লাহ (রাঃ) বর্ণনা করেছেন। তিনি সেদিন ঐ সৈন্যবাহিনীতে শরীক ছিলেন। আবূ দাঊদ (রাঃ) বলেন, এটি একটি উত্তম হাদীস। ইবনু ‘আওন (রহঃ) হাদীসটি নাফি‘ (রহঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এ হাদীস বর্ণনায় তার সাথে কেউ অংশগ্রহণ করেননি।
হাদিস 2634 — Sunan Abu Dawud 15:158
সহিহসহিহসহিহ Muslim (382)
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا ثَابِتٌ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُغِيرُ عِنْدَ صَلاَةِ الصُّبْحِ وَكَانَ يَتَسَمَّعُ فَإِذَا سَمِعَ أَذَانًا أَمْسَكَ وَإِلاَّ أَغَارَ .
। আনাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজর সালাতের সময় আক্রমণ করতেন এবং আযান শোনার প্রতি লক্ষ্য রাখতেন। তিনি আযান শুনতে পেলে আক্রমণ করা থেকে বিরত থাকতেন (জনপদে মুসলিম থাকার কারণে), অন্যথায় (আযান না শোনা গেলে) তিনি আক্রমণ চালাতেন।
। ইবনু ‘ইসাম আল-মুযানী (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের একটি ক্ষুদ্র বাহিনী প্রেরণের সময় বললেনঃ জনপদে কোনো মাসজিদ দেখতে পেলে কিংবা মুয়াজ্জিনের আযানধ্বনি শুনতে পেলে কাউকে হত্যা করবে না।
হাদিস 2636 — Sunan Abu Dawud 15:160
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (3030) Sahih Muslim (1739)
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرٍو، أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرًا، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْحَرْبُ خُدْعَةٌ " .
। ‘আমর (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি জাবির (রাঃ)-এর নিকট শুনেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যুদ্ধ হচ্ছে ধোঁকা বা রণকৌশল।