। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ আমাদের রব মহান আল্লাহ ঐ লোকদেরকে দেখে বিস্মিত হবেন, যাদেরকে শৃঙ্খলিত অবস্থায় জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে।
। জুনদুব ইবনু মাকীস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আব্দুল্লাহ ইবনু গালিব আল-লাইসী (রাঃ)-কে একটি অভিযানে পাঠালেন। তাদের সাথে ‘আমিও ছিলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে নির্দেশ দিলেন যে, কাদীদের বনূ মালূহ গোত্রকে কয়েক দিক থেকে আক্রমণ করবে। ‘আমরা রাওয়ানা হলাম এবং কাদীদ এলাকায় পৌঁছে সেখানে আল-হারিস ইবনুল বারসাআ আল-লাইসীর সাক্ষাত পেলাম। ‘আমরা তাকে গ্রেপ্তার করলে সে বললো, আমি ইসলাম কবূলের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট যাওয়ার উদ্দেশ্যে বেরিয়েছি। ‘আমরা বললাম, তুমি মুসলিম হলে তোমাকে একদিন ও একরাত বেঁধে রাখতে তোমার কোনো ক্ষতি হবে না। আর যদি অন্য কিছু হও তাহলে ‘আমরা তোমাকে শক্ত করে বাঁধবো। অতঃপর ‘আমরা তাকে শক্ত করে বেঁধে রাখলাম।
হাদিস 2679 — Sunan Abu Dawud 15:203
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (469) Sahih Muslim (1764)
حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ حَمَّادٍ الْمِصْرِيُّ، وَقُتَيْبَةُ، قَالَ قُتَيْبَةُ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَيْلاً قِبَلَ نَجْدٍ فَجَاءَتْ بِرَجُلٍ مِنْ بَنِي حَنِيفَةَ يُقَالُ لَهُ ثُمَامَةُ بْنُ أُثَالٍ سَيِّدُ أَهْلِ الْيَمَامَةِ فَرَبَطُوهُ بِسَارِيَةٍ مِنْ سَوَارِي الْمَسْجِدِ فَخَرَجَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " مَاذَا عِنْدَكَ يَا ثُمَامَةُ " . قَالَ عِنْدِي يَا مُحَمَّدُ خَيْرٌ إِنْ تَقْتُلْ تَقْتُلْ ذَا دَمٍ وَإِنْ تُنْعِمْ تُنْعِمْ عَلَى شَاكِرٍ وَإِنْ كُنْتَ تُرِيدُ الْمَالَ فَسَلْ تُعْطَ مِنْهُ مَا شِئْتَ . فَتَرَكَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى إِذَا كَانَ الْغَدُ ثُمَّ قَالَ لَهُ " مَا عِنْدَكَ يَا ثُمَامَةُ " . فَأَعَادَ مِثْلَ هَذَا الْكَلاَمِ فَتَرَكَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى كَانَ بَعْدَ الْغَدِ فَذَكَرَ مِثْلَ هَذَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَطْلِقُوا ثُمَامَةَ " . فَانْطَلَقَ إِلَى نَخْلٍ قَرِيبٍ مِنَ الْمَسْجِدِ فَاغْتَسَلَ فِيهِ ثُمَّ دَخَلَ الْمَسْجِدَ فَقَالَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ . وَسَاقَ الْحَدِيثَ . قَالَ عِيسَى أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ وَقَالَ ذَا ذِمٍّ .
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজদ এলাকায় অশ্বারোহী কাফেলা পাঠালেন। তারা বনী হানীফাহ গোত্রের সুমামাহ ইবনু ইসাল নামক এক ব্যক্তিকে ধরে নিয়ে এলো। সে ইয়ামেনবাসীদের নেতা ছিলো। লোকটিকে মসজিদে নাববীর একটি খুঁটিতে বেঁধে রাখা হলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে এসে বললেনঃ হে সুমামাহ! তোমার নিকট কি আছে? সে বললো, হে মুহাম্মাদ! আমার কাছে কল্যাণ আছে? আপনি আমাকে হত্যা করলে এমন এক ব্যক্তিকে হত্যা করলেন যার রক্তের প্রতিশোধ নেয়া হবে। আর আপনি যদি অনুগ্রহ করেন, তাহলে একজন সম্মানী লোককে অনুগ্রহ করলেন। আপনি সম্পদের আশা করলে যত ইচ্ছে চাইতে পারেন দেয়া হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চলে গেলেন। পরবর্তী সকাল বেলায় তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ হে সুমামাহ! তুমি তোমার সাথে কেমন আচরণের প্রত্যাশা করো? সে আগের মতই জবাব দিলো। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চলে গেলেন। তৃতীয় দিনের সকাল বেলায়ও সে একই জবাব দিলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সুমামাহকে ছেড়ে দাও। সে মসজিদের নিকটস্থ খেজুর বাগানে ঢুকে (কূপের পানিতে) গোসল করে মসজিদে এসে বললো, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। বর্ণনাকারী ঈসা বলেন, লাইস আমাদের জানিয়েছেন, সুমামাহ বললো, আপনি আমাকে হত্যা করলে একজন অপরাধীকেই হত্যা করলেন।
। ইয়াহইয়া ইবনু ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আব্দুর রাহমান ইবনু সা‘দ ইবনু যুরারাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি (ইয়াহইয়া) বলেন, যখন বদর যুদ্ধের বন্দীদেরকে আনা হয় তখন সাওদাহ বিনতু যাম‘আহ (রাঃ) ‘আফরা পরিবারের নিকট ‘আফরার ছেলে ‘আওফ ও মুআব্বিজের পাশে উটশালায় ছিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, এটি পর্দার বিধানের পূর্বের ঘটনা। বর্ণনাকারী বলেন, সাওদাহ (রাঃ) বললেন, আল্লাহর শপথ! আমি তাদের কাছেই ছিলাম। আমি ফিরে আসলে বলা হলো, এরা সবাই বন্দী। এদরকে আনা হয়েছে। আমি নিজের ঘরে এলাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরেই ছিলেন। আমাদের ঘরের এক কোণে আবূ ইয়াযীদ সুহাইল ইবনু ‘আমরকে দেখতে পেলাম। তার দু’টি হাত রশি দিয়ে ঘাড়ের সাথে বাঁধা। অতঃপর বর্ণনাকারী অবশিষ্ট হাদীস বর্ণনা করেন। আবূ দাঊদ (রাঃ) বলেন, ‘আওফ ইবনু ‘আফরাহ ও মুআব্বিজ ইবনু ‘আফফাহ (রাঃ) বদর যুদ্ধে আবূ জাহল ইবনু হিশামকে হত্যা করেন। তারা তার বিরুদ্ধে লড়েছেন, আবূ জাহলকে তারা চিনতেন না। তারাও বদর যুদ্ধে নিহত হন।
হাদিস 2681 — Sunan Abu Dawud 15:205
সহিহসহিহসহিহসহিহ Muslim (1779)
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَدَبَ أَصْحَابَهُ فَانْطَلَقُوا إِلَى بَدْرٍ فَإِذَا هُمْ بِرَوَايَا قُرَيْشٍ فِيهَا عَبْدٌ أَسْوَدُ لِبَنِي الْحَجَّاجِ فَأَخَذَهُ أَصْحَابُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجَعَلُوا يَسْأَلُونَهُ أَيْنَ أَبُو سُفْيَانَ فَيَقُولُ وَاللَّهِ مَا لِي بِشَىْءٍ مِنْ أَمْرِهِ عِلْمٌ وَلَكِنْ هَذِهِ قُرَيْشٌ قَدْ جَاءَتْ فِيهِمْ أَبُو جَهْلٍ وَعُتْبَةُ وَشَيْبَةُ ابْنَا رَبِيعَةَ وَأُمَيَّةُ بْنُ خَلَفٍ . فَإِذَا قَالَ لَهُمْ ذَلِكَ ضَرَبُوهُ فَيَقُولُ دَعُونِي دَعُونِي أُخْبِرْكُمْ . فَإِذَا تَرَكُوهُ قَالَ وَاللَّهِ مَا لِي بِأَبِي سُفْيَانَ مِنْ عِلْمٍ وَلَكِنْ هَذِهِ قُرَيْشٌ قَدْ أَقْبَلَتْ فِيهِمْ أَبُو جَهْلٍ وَعُتْبَةُ وَشَيْبَةُ ابْنَا رَبِيعَةَ وَأُمَيَّةُ بْنُ خَلَفٍ قَدْ أَقْبَلُوا . وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي وَهُوَ يَسْمَعُ ذَلِكَ فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ " وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنَّكُمْ لَتَضْرِبُونَهُ إِذَا صَدَقَكُمْ وَتَدَعُونَهُ إِذَا كَذَبَكُمْ هَذِهِ قُرَيْشٌ قَدْ أَقْبَلَتْ لِتَمْنَعَ أَبَا سُفْيَانَ " . قَالَ أَنَسٌ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هَذَا مَصْرَعُ فُلاَنٍ غَدًا " . وَوَضَعَ يَدَهُ عَلَى الأَرْضِ " وَهَذَا مَصْرَعُ فُلاَنٍ غَدًا " . وَوَضَعَ يَدَهُ عَلَى الأَرْضِ " وَهَذَا مَصْرَعُ فُلاَنٍ غَدًا " . وَوَضَعَ يَدَهُ عَلَى الأَرْضِ فَقَالَ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا جَاوَزَ أَحَدٌ مِنْهُمْ عَنْ مَوْضِعِ يَدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَمَرَ بِهِمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأُخِذَ بِأَرْجُلِهِمْ فَسُحِبُوا فَأُلْقُوا فِي قَلِيبِ بَدْرٍ .
। আনাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদেরকে যুদ্ধে অংশ গ্রহণের আহবান জানালেন। তারা বদর অভিমুখে রওয়ানা হলেন। তারা হাজ্জাজ গোত্রের এক কালো কৃতদাসকে কুরাইশদের পানি বহনকারী উটের সঙ্গে পেয়ে গেলেন। সাহাবায়ি কিরাম তাকে ধরে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করতে লাগলেন, আবূ সুফিয়ান কোথায় বলো? সে বললো, আল্লাহর শপথ! তার সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না, তবে কুরাইশ বাহিনী আসছে, সঙ্গে আবূ জাহল, ‘উতবাহ ও শাইবাহ ইবনু রবী‘আহ এবং উমাইয়া ইবনু খালাফ রয়েছে। সে একথা জানালে সাহাবীগণ তাকে মারধর করতে লাগলেন। সে চিৎকার করে বললো, ছাড়ো! ছাড়ো! আমি বলছি! তারা তাকে ছেড়ে দিলে সে বললো, আল্লাহর শপথ! আবূ সুফিয়ান সম্পর্কে আমার কিছুই জানা নেই। তবে এই কোরাইশ বাহিনী আসছে। তাদের সাথে আবূ জাহল, রবী‘আহর দু’ পুত্র ‘উতবাহ ও শাইবাহ এবং খালফের পুত্র উমাইয়াহ আছে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতরত ছিলেন। তিনি কথাগুলো শুনলেন। সালাত শেষে তিনি বললেনঃ ঐ সত্ত্বার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! সে যখন তোমাদেরকে সত্য কথা বলেছে, তোমরা তাকে প্রহার করেছো, আর যখন মিথ্যা বলেছে তখন ছেড়ে দিয়েছো। কোরাইশ বাহিনী আবূ সুফিয়ানের (কাফেলা) রক্ষা করতে এসেছে। আনাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এটা আগামীকাল অমুকের নিহত হওয়ার স্থান, এ বলে তিনি যমীনের উপর হাত রাখলেন। এটা আগামীকাল অমুকের নিহত হওয়ার স্থান, এ বলে তিনি নির্দিষ্ট স্থানে তাঁর হাত রাখলেন। এ হলো আগামীকাল অমুকের নিহত হওয়ার স্থান এবং এ বলে তিনি নির্দিষ্ট স্থানে তাঁর হাত রাখলেন। আনাস (রাঃ) বলেন, সেই সত্ত্বার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! কাফিরদের কেউই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাত রাখার নির্দিষ্ট স্থান অতিক্রম করেনি (তারা ঐ নির্দিষ্ট স্থানেই নিহত হয়)। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশ মোতাবেক ওদের লাশের পা ধরে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে বদরের একটি অন্ধকার কূপে নিক্ষেপ করা হয়।
। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, জাহিলী যুগে যদি কোনো মহিলার সন্তান বেঁচে না থাকতো তাহলে সে এ মর্মে মানত করতো যে, তার সন্তান বাঁচলে তাকে ইয়াহুদী ধর্মে দীক্ষিত করা হবে। অতঃপর যখন ইয়াহুদী গোত্র বানী নাযীরকে উচ্ছেদ করা হয়, তখন তাদের মধ্যে আনসারদের কতিপয় ঐরূপ সন্তান ছিলো। আনসারগণ বললেন, ‘আমরা আমাদের সন্তানদের (ইয়াহুদীদের সাথে) ছেড়ে দিতে পারবো না। তখন মহান আল্লাহ আয়াত অবতীর্ণ করলেন, ‘‘দীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই। হিদায়াতের নির্ভুল পথকে ভ্রান্ত পথ থেকে সুস্পষ্টভাকে পৃথক করা হয়েছে’’[সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত ২৫৬] আবূ দাঊদ (রাঃ) বলেন, যেসব মহিলাদের সন্তান বেঁচে থাকে না তাদেরকে ‘মিকলাত’ বলা হয়।
। সা‘দ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কাহ্ বিজয়ের দিন চারজন পুরুষ ও দু’জন মহিলা ছাড়া অন্য সবাইর জন্য নিরাপত্তার (ক্ষমার) ঘোষণা দিলেন। তিনি তাদের নামও উল্লেখ করলেন। তন্মধ্যে ইবনু আবূ সারহও ছিলো। অতঃপর বর্ণনাকারী হাদীসের বাকী অংশ বর্ণনা করেন। সা‘দ (রাঃ) বলেন, ‘আব্দুল্লাহ ইবনু আবূ সারহ ‘উসমান ইবনু আ‘ফফান (রাঃ)-এর নিকট নিকট আত্মগোপন করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন জনসাধারণকে বায়‘আত গ্রহণের জন্য আহবান জানালেন ‘উসমান (রাঃ) তাকে নিয়ে এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে দাঁড় করিয়ে বললেন, হে আল্লাহর নবী! ‘আব্দুল্লাহর বায়‘আত নিন। তিনি মাথা তুলে তার দিকে পরপর তিনবার তাকালেন এবং প্রতিবারই অসন্তোষ প্রকাশ করলেন। তিনবারের পর তিনি ‘আব্দুল্লাহর বায়‘আত গ্রহণ করলেন, অতঃপর সাহাবীদের লক্ষ্য করে বললেনঃ তোমাদের মধ্যে কি কোনো বৃদ্ধমা লোক ছিলো না, যখন সে আমাকে দেখলো যে, আমি বায়‘আত নিচ্ছি না, তখন সে তাকে কেন হত্যা করলো না? সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার মনের ইচ্ছা ‘আমরা উপলদ্ধি করতে পারিনি। আপনি আমাদেরকে চোখ দিয়ে ইশারা করলেন না কেন! তিনি বললেনঃ কোনো নবীর জন্য চোখের খেয়ানাতকারী হওয়া শোভা পায় না। ইমাম আবূ দাঊদ (রাঃ) বলেন, ‘আব্দুল্লাহ ইবনু আবূ সারহ হলো ‘উসমান (রাঃ)-এর দুধভাই এবং ওয়ালীদ ইবনু ‘উকবাহ তার বৈপিত্রেয় ভাই। ‘উসমান (রাঃ)-এর খিলাফাতের সময় ওয়ালীদ মদ পান করলে তিনি তাকে শাস্তি দেন।
। সাঈদ ইবনু ইয়ারবূ’ আল-মাখযূমী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন ঘোষণা করলেনঃ চার ব্যক্তির জন্য হারাম শরীফ অথবা এর বাইরে কোথাও নিরাপত্তার অঙ্গীকার নাই। তিনি তাদের নামও বলে দিলেন। তিনি মাক্বীসের দু’ গায়িকা ক্রীতদাসীর নামও উল্লেখ করেন। এদের একজনকে হত্যা করা হয় এবং অপরজন পলায়ন করে। পরবর্তীতে সে ইসলাম গ্রহণ করে। আবূ দাঊদ (রাঃ) বলেন, আমি ইবনুল ‘আলার থেকে এর সনদ উত্তমরূপে বুঝতে পারিনি।
হাদিস 2685 — Sunan Abu Dawud 15:209
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (3044) Sahih Muslim (1357)
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। মক্কাহ্ বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লৌহ শিরস্ত্রাণ পরিহিত অবস্থায় মক্কাতে প্রবেশ করেন। তিনি যখন শিরস্ত্রাণ খুলেন, তখন এক ব্যক্তি এসে বললো, ইবনু খাতাল কা‘বার পর্দার আড়ালে লুকিয়ে আছে। তিনি বললেনঃ তোমরা তাকে হত্যা করো। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, ইবনু খাতালের নাম ‘আব্দুল্লাহ। আবূ বায়যাহ আল-আসলামী (রাঃ) তাকে হত্যা করেন।
। ইবরাহীম (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, দাহহাক ইবনু কায়িস উমামাহ (রাঃ) মাসরূক (রহঃ)-কে কর্মকর্তা নিয়োগ করার ইচ্ছা করলেন। ‘উমারাহ ইবনু ‘উকবাহ তাকে বললেন, আপনি কি ‘উসমান (রাঃ)-এর হত্যাকারীদের মধ্যে বেঁচে থাকা একজন কর্মচারী নিয়োগ করবেন? মাসরূক (রহঃ) ‘উমারাহকে বলেন, ‘আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) আমাদেরকে একটি হাদীস বলেছেন। তিনি ছিলেন আমাদের মধ্যে নির্ভরযোগ্য হাদীসবেত্তা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তোমার পিতা (‘উকবাহ)-কে মৃত্যুদন্ড দেয়ার ইচ্ছা করেন, তখন তোমার পিতা বললো, আমার বাচ্চাদের কি অবস্থা হবে? তিনি জবাবে বলেনঃ আগুন। মাসরূক বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমার জন্য যা পছন্দ করেছেন, ‘আমিও তোমার জন্য সেটাই পছন্দ করেছি।