। ‘উবাইদ ইবনু তাগলা সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ‘আমরা খালিদ ইবনু ওয়ালীদ (রাঃ)-এর সূত্রে ‘আব্দুর রাহমানের সাথে এক যুদ্ধে যোগদান করি। শত্রুদের চারজন হৃষ্টপুষ্ট লোককে ধরে আনা হলো। তিনি তাদের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত দিলেন এবং সেই মোতাবেক তাদেরকে হাত-পা বেঁধে হত্যা করা হলো। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, সাঈদ ছাড়া অন্য সব বর্ণনাকারী হাদীসটি ইবনু ওয়াহব থেকে বর্ণনা করেছেনঃ ‘‘বেঁধে তীর মেরে হত্যা করা হয়েছে।’’ এ সংবাদ আবূ আইয়ূব আল-আনসারী (রাঃ)-এর নিকট পৌঁছলে তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ কাউকে হাত-পা বেঁধে হত্যা করা নিষেধ। সেই সত্ত্বার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! একটি মুরগীকেও আমি এভাবে বেঁধে হত্যা করবো না। একথা ‘আব্দুর রাহমান ইবনু খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রহঃ)-এর কানে পৌঁছলে তিনি চারজন গোলামকে আযাদ করে দেন।
হাদিস 2688 — Sunan Abu Dawud 15:212
সহিহসহিহসহিহসহিহ Muslim (1808)
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، قَالَ أَخْبَرَنَا ثَابِتٌ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ ثَمَانِينَ، رَجُلاً مِنْ أَهْلِ مَكَّةَ هَبَطُوا عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابِهِ مِنْ جِبَالِ التَّنْعِيمِ عِنْدَ صَلاَةِ الْفَجْرِ لِيَقْتُلُوهُمْ فَأَخَذَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَلَمًا فَأَعْتَقَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ { وَهُوَ الَّذِي كَفَّ أَيْدِيَهُمْ عَنْكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ عَنْهُمْ بِبَطْنِ مَكَّةَ } إِلَى آخِرِ الآيَةِ .
। আনাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীদেরকে হত্যার জন্য মক্কার আশি জন মুশরিক ফজরের সালাতের সময় আত-তানঈ‘ম পর্বত থেকে অবতরণ করে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে আত্মসমর্পণ করিয়ে ধরে ফেলেন। অতঃপর বিনিময় ছাড়াই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে মুক্ত করে দিলেন। মহান আল্লাহ আয়াত অবতীর্ণ করলেনঃ ‘‘তিনিই তো মক্কার উপত্যকায় তাদের হাত তোমাদের থেকে এবং তোমাদের হাত তাদের থেকে বিরত রেখেছিলেন... আয়াতের শেষ পর্যন্ত।
। যুবায়র ইবনু মুত্বইম (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদরের যুদ্ধবন্দীদের ব্যাপারে বলেনঃ মুত্বইম ইবনু ‘আদী জীবিত থাকলে এবং সে এসব নীচ কয়েদীদের মুক্তির জন্য সুপারিশ করলে আমি তার কারণে এদেরকে ছেড়ে দিতাম।
। ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, বদরের যুদ্ধের পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুদ্ধবন্দীদের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করেন। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ আয়াত অবতীর্ণ করলেনঃ ‘‘কোনো নবীর জন্য শোভনীয় নয়, তার কাছে যুদ্ধবন্দী থাকবে, যতক্ষণ সে পৃথিবীর বুক থেকে শত্রু-বাহিনীকে পুরোপুরি নির্মূল না করবে... তোমরা যা গ্রহণ করেছো সেজন্য তোমাদের উপর মহাশাস্তি আসতো’’ [সূরা আল-আনফালঃ ৬৭-৬৮] অতঃপর আল্লাহ তাদের মুসলিমদের জন্য গানীমাতের মাল হালাল করে দেন।
হাদিস 2691 — Sunan Abu Dawud 15:215
সহিহসহিহIsnaad Hasan
حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْمُبَارَكِ الْعَيْشِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ حَبِيبٍ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي الْعَنْبَسِ، عَنْ أَبِي الشَّعْثَاءِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم جَعَلَ فِدَاءَ أَهْلِ الْجَاهِلِيَّةِ يَوْمَ بَدْرٍ أَرْبَعَمِائَةٍ .
। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদরের মুশরিক যুদ্ধবন্দীদের জন্য মুক্তিপণ নির্ধারণ করেন চারশো (দিরহাম)।
। ‘আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কাবাসীরা যখন তাদের বন্দীদের মুক্তিপণের অর্থ পাঠায় তখন যাইনাব (রাঃ) আবুল ‘আসের মুক্তিপণ এবং সাথে তার গলার হার পাঠান। মা খাদীজাহ (রাঃ) আবুল ‘আসের সাথে বিয়েতে হারটি তাকে উপহার দিয়েছিলেন। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হারটি দেখে খাদীজাহর কথা মনে পড়ে যায়। তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে সাহাবীদের বললেনঃ যদি তোমরা ভালো মনে করো তাহলে যাইনাবের বন্দীকে ছেড়ে দাও এবং তার প্রেরিত মুক্তিপণও তাকে ফেরত দিয়ে দাও। সাহাবীরা বললেন, হ্যাঁ, ঠিক আছে। আবুল ‘আসের কাছ থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিশ্রুতি নিলেন যে, সে যাইনাবকে তাঁর কাছে আসার পথ পরিষ্কার করে দিবে। তাকে নিয়ে আসার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যায়িদ ইবনু হারিসাহ (রাঃ) এবং একজন আনসারীকে পাঠান। তিনি তাদেরকে বললেনঃ তোমরা ইয়াজিজ উপত্যকায় অবস্থান করবে। যাইনাব তোমাদের সাথে ঐ স্থানে একত্র হলে তোমরা তাকে নিয়ে চলে আসবে।
। মারওয়ান ও আল-মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। হাওয়াযিন গোত্রের লোক ইসলাম গ্রহণ করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে তারা তাদের সম্পদ ফিরিয়ে দেয়ার জন্য তাঁর কাছে আবেদন জানালো। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বললেনঃ আমার সাথে এদেরকে দেখছো। আমার নিকট সত্য কথা অধিক পছন্দনীয়। সুতরাং তোমরা বিবেচনা করো, তোমরা কি তোমাদের বন্দীদের ফেরত নিবে, নাকি ধন-সম্পদ ফেরত নিবে। তারা বললো, ‘আমরা বন্দীদের ছাড়িয়ে নিতে চাই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে দাঁড়িয়ে আল্লাহর গুণগান করার পর বললেনঃ তোমাদের এই ভাইয়েরা তওবা করে তোমাদের নিকট এসেছে। আমি তাদের বন্দীদেরকে ফেরত দেয়া সঠিক মনে করি। তোমাদের কেউ খুশি মনে বন্দীকে ছাড়তে চাইলে সে যেন বন্দীকে ছেড়ে দেয়। আর যে ব্যক্তি মুক্তিপণ চায়, তাকে আল্লাহর পক্ষ থেকে গনীমাত পাওয়ার সাথে সাথে তা আদায় করে দিবো, সেও যেন বন্দীদের ছেড়ে দেয়। লোকেরা বললো, হে আল্লাহর রাসূল! ‘আমরা খুশি মনে মুক্তিপণ ব্যতীতই বন্দীদের মুক্ত করে দিচ্ছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাদের কে মুক্তিপণ ছাড়া আর কে মুক্তিপণ নিয়ে বন্দীদের মুক্তি দিতে ইচ্ছুক তা আমি আলাদা জানতে পারিনি। কাজেই তোমরা চলে যাও এবং তোমাদের নেতৃবৃন্দের সাথে এ নিয়ে আলোচনা করো। নেতৃবৃন্দ এসে তাঁকে জানালেন, প্রত্যেকেই বন্দীদেরকে স্বেচ্ছায় ছেড়ে দিতে সম্মতি দিয়েছে।
। ‘আমর ইবনু শু‘আইব (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি তার পিতা থেকে তার দাদার সূত্রে উক্ত ঘটনা সম্পর্কে বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাদের নারী ও শিশুদের তাদের কাছে ফিরিয়ে দাও। যে ব্যক্তি নিজ অংশ বিনিময় ছাড়া ফেরত দিতে রাজী নয়, ‘আমরা বিনিময় হিসাবে তাকে ছয়টি উট দিবো। যখনই গনীমাতের মাল আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের হাতে আসবে তখনই তা থেকে এটি পরিশোধ করা হবে। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি উটের কাছে আসলেন। তিনি তার কুঁজ থেকে কিছু পশম নিয়ে বললেনঃ হে লোকেরা! এই ‘ফাই’-এ আমার কোনো অংশ নেই, এমন কি এই পশম পরিমাণও নয়, তিনি এ বলে পশমসহ আঙ্গুল উঁচু করে দেখালেন, শুধুমাত্র এক-পঞ্চমাংশ ছাড়া। আবার তাও তোমাদের কল্যাণের জন্যই ব্যয় করা হবে। সুতরাং তোমরা সুঁই-সূতাটা পর্যন্ত জমা করো। এক ব্যক্তি এক টুকরা পশমী সূতা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে বললো, আমি এই সূতাটুকু গদির কম্বলের ছেঁড়া অংশ মেরামত করার জন্য নিয়েছিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমার এবং ‘আব্দুল মোত্তালিব গোত্রের অংশ আমি তোমাকে ছেড়ে দিলাম। লোকটি বললো, আমি দেখলাম, এটুকুও গুনাহের কারণে হচ্ছে, সেজন্য আমার এর কোনো প্রয়োজন নেই। এ বলে সে সূতাটুকু ছুড়ে ফেলে দেয়।
। আবূ তালহা (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোনো জাতির বিরুদ্ধে বিজয়ী হতেন তখন সেখানে তিন দিন অবস্থান করতেন। ইবনুল মুসান্নার বর্ণনায় রয়েছে, যখন তিনি কোনো জাতির বিরুদ্ধে বিজয়ী হতেন, তাদের এলাকায় তিন দিন অবস্থান করা তিনি উত্তম মনে করতেন। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-কাত্তান (রহঃ) এ হাদীসের দোষারোপ করতেন। কারণ হাদীসটি সাঈদ ইবনু আরূবার প্রথম দিকের হাদীস নয়। ৪৫ হিজরীতে তার স্মরণশক্তি দুর্বল হয়ে যায়। এ হাদীসটি তার শেষ বয়সেই বর্ণিত। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, তার স্মরণশক্তির এ পরিবর্তনের যুগেই ওয়াকী (রহঃ) তার কাছ থেকে হাদীসটি অর্জন করেন।
। ‘আলী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বাঁদী ও তার সন্তানকে পৃথক করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে এভাবে (আলাদাভাবে) বিক্রয় করতে নিষেধ করে এ বিক্রয় বাতিল করেন। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, বর্ণনাকারী মাইমূন (রহঃ) ‘আলী (রাঃ)-এর সাক্ষাত পাননি। মাইমূন (রহঃ) আল-জামাজিমের যুদ্ধে ৮৩ হিজরীতে নিহত হন। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, হাররার ঘটনা ঘটে ৬৩ হিজরী সনে এবং ইবনুয যুবায়র (রাঃ) ৭৬ হিজরীতে শহীদ হন।