। ইয়াস ইবনু সালামাহ (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (সালামাহ) বলেন, ‘আমরা আবূ বাকর (রাঃ)-এর সঙ্গে অভিযানে বের হওয়ার সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে আমাদের সেনাপতি নিযুক্ত করেন। ‘আমরা ফাযারাহ গোত্রের বিরুদ্ধে হামলা করে তাদেরকে তছনছ করে দেই। অতঃপর আমি কিছু লোক দেখতে পাই, যাদের সাথে শিশু ও নারী ছিলো। আমি একটি তীর ছুঁড়লে সেটা তাদের এবং পাহাড়ের মাঝখানে গিয়ে পড়ে। এতে তারা দাঁড়িয়ে যায়। আমি তাদেরকে ধরে আবূ বাকরের কাছে নিয়ে আসি। তাদের মধ্যে ফাযারাহ গোত্রের এক মহিলা ছিলো। সে শুকনা চামড়া পরা ছিলো। তার কন্যাও তার সাথে ছিলো। ঐ কন্যাটি আরবের অন্যতম সুন্দরী। তার কন্যাকে আবূ বাকর (রাঃ) আমাকে (গানীমাত হিসাবে) প্রদান করেন। আমি মদীনায় ফিরে এলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার সাথে সাক্ষাৎ করে আমাকে বললেনঃ হে সালামাহ! কন্যাটি আমাকে উপহার দিয়ে দাও। আমি বললাম, আল্লাহর শপথ! তার সৌন্দর্য আমাকে হতবাক করেছে। আমি তার পোশাক খুলিনি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিশ্চুপ থাকলেন। পরের দিন সকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাজারে আমার সাথে সাক্ষাত করলেন। তিনি আমাকে বললেনঃ হে সালামাহ! তুমি আল্লাহর ওয়াস্তে কন্যাটি আমাকে দিয়ে দাও। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর শপথ! আমি তার পোশাক খুলিনি। সে আপনার জন্যই। কন্যাটিকে তিনি মক্কাহ্বাসীদের কাছে পাঠিয়ে দিলেন। মক্কাবাসীদের হাতে কিছু মুসলিম বন্দী ছিলো। তাদের মুক্তির জন্য তিনি মেয়েটিকে বিনিময় হিসাবে মক্কায় ফেরত দিয়ে তাদেরকে মুক্ত করেন।
। ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। ইবনু ‘উমারের একটি গোলাম পালিয়ে শত্রুবাহিনীতে চলে যায়। মুসলিম সেনাবাহিনী যুদ্ধে বিজয়ী হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ইবনু ‘উমারের নিকট ফেরত দেন, তাকে গানীমাত হিসাবে বন্টন করেননি। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, তিনি ছাড়া অন্য বর্ণনাকারীরা বলেছেন, খালিদ ইবনু ওয়ালীদ (রাঃ) গোলামটি তাকে ফেরত দেন।
হাদিস 2699 — Sunan Abu Dawud 15:223
সহিহসহিহসহিহIsnaad Sahih
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الأَنْبَارِيُّ، وَالْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ ذَهَبَ فَرَسٌ لَهُ فَأَخَذَهَا الْعَدُوُّ فَظَهَرَ عَلَيْهِمُ الْمُسْلِمُونَ فَرُدَّ عَلَيْهِ فِي زَمَنِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . وَأَبَقَ عَبْدٌ لَهُ فَلَحِقَ بِأَرْضِ الرُّومِ فَظَهَرَ عَلَيْهِمُ الْمُسْلِمُونَ فَرَدَّهُ عَلَيْهِ خَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ بَعْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .
। ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, তার একটি ঘোড়া ছুটে গেলে তা দুশমনরা ধরে নিয়ে যায়। অতঃপর মুসলিমরা বিজয়ী হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে তা পুনরায় তাকে ফেরত দেয়া হয়। (অপর বর্ণনায় রয়েছে) ইবনু ‘উমারের একটি গোলাম পালিয়ে রূম এলাকায় চলে যায়। মুসলিমরা রূমীয়দের বিরুদ্ধে বিজয়ী হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পর খালিদ ইবনু ওয়ালীদ (রাঃ) গোলামটি পুনরায় তাকে ফিরিয়ে দেন।
। ‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুদায়বিয়ার দিন সন্ধি করার পূর্বে মুশরিকদের কিছু গোলাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে পালিয়ে এলে তাদের মনিবরা তাঁকে চিঠি লিখে বললো, হে মুহাম্মাদ! আল্লাহর শপথ! এরা তোমার ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তোমার নিকট আসেনি। তারা তাদের গোলামী থেকে পালিয়ে এসেছে। কতিপয় লোক বললো, হে আল্লাহর রাসূল! মনিবরা সত্যই বলেছে, এদেরকে তাদের নিকট ফিরিয়ে দিন। এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুবই নারাজ হলেন এবং বললেনঃ হে কোরাইশরা! আমি দেখছি তোমরা অন্যায় থেকে বিরত হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ তোমাদের বিরুদ্ধে এমন লোক না পাঠান যারা তোমাদের গর্দান উড়িয়ে দেয়। তিনি তাদেরকে ফিরিয়ে দিতে অস্বীকার করে বলেনঃ এরা মহান আল্লাহর অনুগ্রহে স্বাধীন।
হাদিস 2701 — Sunan Abu Dawud 15:225
সহিহসহিহসহিহIsnaad Sahih
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ حَمْزَةَ الزُّبَيْرِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ عِيَاضٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ جَيْشًا، غَنِمُوا فِي زَمَانِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم طَعَامًا وَعَسَلاً فَلَمْ يُؤْخَذْ مِنْهُمُ الْخُمُسُ .
। ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদল সৈনিক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে গানীমাত হিসাবে কিছু খাদ্যশস্য ও মধু পায়। কিন্তু তার এক-পঞ্চমাংশ নেয়া হয়নি।
হাদিস 2702 — Sunan Abu Dawud 15:226
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (3153) Sahih Muslim (1772)
। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, খায়বার যুদ্ধের দিন চর্বিভর্তি একটি ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখে আমি তা উঠিয়ে নিয়ে বললাম, এ চর্বি থেকে কাউকে একটুও দিবো না। বর্ণনাকারী বলেন, দৃষ্টি ফিরিয়ে দেখি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসছেন।
। আবূ লাবীদ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আমরা এক অভিযানে কাবুল নামক জায়গায় ‘আব্দুর রাহমান ইবনু মাসুরাহ (রাঃ)-এর সঙ্গী হই। গানীমাত সংগ্রহের সুযোগ এলে লোকেরা তা লুণ্ঠন করে নেয়। ‘আব্দুর রাহমান (রাঃ) দাঁড়িয়ে বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ‘‘গানীমাত বণ্টনের পূর্বে তা থেকে কিছু নিতে নিষেধ করতে শুনেছি।’’ সুতরাং লোকেরা যা নিয়েছিল তা ফেরত দিলো। পরে তিনি সেগুলোকে তাদের মধ্যে বণ্টন করে দিলেন।
। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু আবূ ‘আওফা (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে কি আপনারা খাদ্যদ্রব্য থেকেও এক-পঞ্চমাংশ বের করতেন? এক সাহাবী বললেন, খায়বারের যুদ্ধের দিন ‘আমরা খাদ্যদ্রব্য পাই। লোকজন এসে তাদের প্রয়োজন মতো খাদ্যদ্রব্য উঠিয়ে নিয়ে চলে যেতো।
। ‘আসিম ইবনু কুলাইব (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি একজন আনসারীর নিকট থেকে বর্ণনা করেন যে, আনসার লোকটি বললেন, একদা ‘আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে এক সফরে বের হই। লোকেরা ভীষণ খাদ্যকষ্টের শিকার হলো। ইতোমধ্যে কিছু সংখ্যক বকরী তাদের হস্তগত হয়। কিন্তু বণ্টনের পূর্বেই তারা সেগুলো লুণ্ঠন করে নেয়। আমাদের হাঁড়িগুলোতে গোশত টগবগ করে ফুটছিল। এমন সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ধনুকে ভর দিয়ে এখানে উপস্থিত হলেন এবং ধনুক দিয়ে গোশতের হাঁড়ি উল্টিয়ে ফেলে দিয়ে তা বালির সাথে মিশিয়ে দিলেন। তিনি বললেনঃ এই লুটের মাল মৃত জন্তুর চেয়ে কিছু কম নয় অথবা বলেছেনঃ মৃত জন্তু এই লুটের মালের চেয়ে কিছু কম নয়।
। ‘আব্দুর রাহমান (রহঃ)-এর আযাদকৃত গোলাম আল-কাসিম (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জনৈক সাহাবী থেকে বর্ণনা করেন, ‘আমরা যুদ্ধের সময় (গানীমাতের) উট যবাহ করে খেতাম, বণ্টন করতাম না। এমন কি ‘আমরা যখন দেশে ফিরে যেতাম তখনও আমাদের থলি গোশতে ভরা থাকতো।