। মুহাম্মাদ ইবনু ইউসুফ ইবনু সাবিত ইবনু কায়িস ইবনু সাম্মাস (রহঃ) থেকে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাবিত ইবনু কায়িস (রাঃ)-এর নিকট গেলেন। আহমাদ বলেন, তিনি তখন অসুস্থ ছিলেন। তিনি বলেনঃ হে মানুষের রব! সাবিত ইবনু কায়িস ইবনু সাম্মাসের রোগ দূর করে দিন। অতঃপর তিনি বাতহান নামক উপত্যকার কিছু ধূলামাটি নিয়ে একটি পাত্র রাখলেন এবং পানিতে মিশিয়ে তার দেহে ঢেলে দিলেন।[1] সনদ দুর্বল।
। আওফ ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা জাহিলী যুগে ঝাড়ফুঁক করতাম। অতঃপর আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! এ বিষয়ে আপনার অভিমত কি? তিনি বলেনঃ তোমাদের ঝাড়ফুকের ব্যবস্থাগুলো আমার সামনে পেশ করো; তবে যেসব ঝাড়ফুঁক শির্কের পর্যায়ে পড়ে না, তাতে কোনো দোষ নেই।[1] সহীহ।
। আশ-শিফা বিনতু আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি হাফসাহ (রাঃ)-এর নিকট ছিলাম, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট এসে বললেনঃ তুমি ওকে (হাফসাহকে) যেভাবে লেখা শিখিয়েছ, সেখাবে পিপড়া (পোকা) কামড়ের ঝাড়ফুঁক শিক্ষা দাও না কেন।[1] সহীহ।
। রাবাব (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সাহল ইবনু হুনাইফ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, আমি বন্যার প্রবাহমান পানির পাশ দিয়ে অতিক্রমকালে তাতে নেমে গোসল করায় জ্বরে আক্রান্ত হই। এ সংবাদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পৌঁছলে তিনি বলেনঃ তোমরা আবূ সাবিতকে আশ্রয় প্রার্থনা করতে আদেশ দাও। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আমার নেতা! ঝাড়ফুঁক কি ফলদায়ক? তিনি বলেন, শুধুমাত্র বদনযর লাগা বা সাপ-বিছার দংশনে ঝাড়ফুঁক দেয়া চলে। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, ‘হামাহ’ হলো সাপ ও বিষধর কীটের কামড়।[1] সনদ দুর্বল।
। আনাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেবল বদনযর লাগা বা বিষাক্ত প্রাণীর দংশন বা রক্ত বইতে থাকলে ঝাড়ফুঁক দেয়া চলে। বর্ণনাকারী আল-আব্বাস (রহঃ) বদনযরের উল্লেখ করেননি। তবে সুলাইমান ইবনু দাঊদ তা উল্লেখ করেছেন।[1] দুর্বলঃ মিশকাত (৪৫৫৭)।
। আব্দুল আযীয ইবনু সুহাইব (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আনাস (রাঃ) সাবিত (রাঃ)-কে বললেন, আমি কি তোমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঝাড়ফুকের বাক্য দ্বারা ঝাড়ফুঁক করবো না? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আনাস (রাঃ) বলেন, ‘‘হে আল্লাহ, মানুষের রব! যন্ত্রণা দূরকারী! রোগ মুক্তি দিন, রোগ মুক্তির মালিক একমাত্র আপনি। এমন রোগ মুক্তি দিন যাতে কোনো রোগই অবশিষ্ট না থাকে।[1] সহীহ।
। উসমান ইবনু আবুল আস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি শরীর ব্যথায় প্রায় মুমূর্ষ অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসতাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি সাতবার তোমার ডান হাত ব্যথার স্থানে বুলাতে থাকো এবং বলো, ‘‘আমি যে ব্যথা অনুভব করছি তা থেকে মহাসম্মানিত আল্লাহ ও তাঁর ক্ষমতার নিকট আশ্রয় চাইছি।’’ তিনি বলেন, অতঃপর আমি তাই করলাম, আল্লাহ আমার ব্যথা দূর করে দিলেন। পরে সর্বদা আমি আমার পরিজন ও অন্যদের এরূপ করার আদেশ দেই।[1] সহীহ।
। আবূ দারদা (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ তোমাদের কেউ বা কারো ভাই যদি অসুস্থ হয় তবে সে যেন বলেঃ ‘‘হে আমাদের আসমানের রব, আল্লাহ! আপনার পবিত্র নাম, আপনার যাবতীয় নির্দেশ আসমান-যমীনে কার্যকর। আপনার রহমত যেমন আকাশে বিদ্যমান, তেমন যমীনেও রহমত বর্ষণ করুন! আমাদের পাপ ও অপরাধসমূহ ক্ষমা করুন। আপনি পবিত্র বান্দাদের রব, আপনার দয়া থেকে দয়া বর্ষণ করুন এবং এ রোগের জন্য আপনার আরোগ্য ব্যবস্থা থেকে রোগমুক্তি দিন।’’ তাহলে সে আরোগ্য লাভ করবে।[1] দুর্বলঃ মিশকাত (১৫৫৫)।
। আমর ইবনু শু‘আইব (রহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের ভীতিকর পরিস্থিতিতে এ বাক্যগুলোর মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করার শিক্ষা দিতেনঃ (অর্থ) ‘‘আল্লাহর পূর্ণ কালেমাসমূহের দ্বারা তাঁর গযব ও তাঁর বান্দাদের খারাবী ও শয়তানের কুমন্ত্রণা ও আমার নিকট তার উপস্থিত হওয়া থেকে আশ্রয় চাইছি।’’ আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) এ বাক্যগুলো তার বালেগ সন্তানদের শিখাতেন এবং নাবালেগদের জন্য লিখে তা তার গলায় ঝুলিয়ে দিতেন।[1] হাসান, কিন্তু তার এ কথা বাদেঃ আব্দুল্লাহ ইবনু আমর....।
। ইয়াযীদ ইবনু আবূ উবাইদাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি সালামাহ (রাঃ)-এর পায়ের গোছায় একটি ক্ষত চিহ্ন দেখে বললাম, এটা কি? তিনি বলেন, খায়বার যুদ্ধে এখানে আঘাত পেয়েছিলাম। লোকেরা বলতে লাগলো যে, সালামাহ আহত হয়েছেন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমার নিকট আনা হলে তিনি আমার ক্ষতস্থানে তিনবার ফুঁ দিলেন। ফলে আজ পর্যন্ত আমি তাতে কোনো ব্যথা অনুভব করি না।[1] সহীহ।