Qurani·قرآني
বাংলা

নবীজির আদর্শ আচরণ (কিতাবুস সুন্নাহ)

177 হাদিস · #4596–4772

হাদিস 4656 — Sunan Abu Dawud 42:61
দাঈফ Isnaadদাঈফ IsnaadIsnaad Sahih
حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ أَبُو عُمَرَ الضَّرِيرُ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، أَنَّ سَعِيدَ بْنَ إِيَاسٍ الْجُرَيْرِيَّ، أَخْبَرَهُمْ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ الْعُقَيْلِيِّ، عَنِ الأَقْرَعِ، مُؤَذِّنِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ بَعَثَنِي عُمَرُ إِلَى الأُسْقُفِّ فَدَعَوْتُهُ فَقَالَ لَهُ عُمَرُ وَهَلْ تَجِدُنِي فِي الْكِتَابِ قَالَ نَعَمْ ‏.‏ قَالَ كَيْفَ تَجِدُنِي قَالَ أَجِدُكَ قَرْنًا ‏.‏ فَرَفَعَ عَلَيْهِ الدِّرَّةَ فَقَالَ قَرْنُ مَهْ فَقَالَ قَرْنٌ حَدِيدٌ أَمِينٌ شَدِيدٌ ‏.‏ قَالَ كَيْفَ تَجِدُ الَّذِي يَجِيءُ مِنْ بَعْدِي فَقَالَ أَجِدُهُ خَلِيفَةً صَالِحًا غَيْرَ أَنَّهُ يُؤْثِرُ قَرَابَتَهُ ‏.‏ قَالَ عُمَرُ يَرْحَمُ اللَّهُ عُثْمَانَ ثَلاَثًا فَقَالَ كَيْفَ تَجِدُ الَّذِي بَعْدَهُ قَالَ أَجِدُهُ صَدَأَ حَدِيدٍ فَوَضَعَ عُمَرُ يَدَهُ عَلَى رَأْسِهِ فَقَالَ يَا دَفْرَاهُ يَا دَفْرَاهُ ‏.‏ فَقَالَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ إِنَّهُ خَلِيفَةٌ صَالِحٌ وَلَكِنَّهُ يُسْتَخْلَفُ حِينَ يُسْتَخْلَفُ وَالسَّيْفُ مَسْلُولٌ وَالدَّمُ مُهْرَاقٌ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ الدَّفْرُ النَّتْنُ ‏.‏
। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর মুয়াযযিন আকরা (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমার (রাঃ) আমাকে উশকুফ (খৃষ্টানদের ধর্মগুরু)-এর নিকট প্রেরণ করলেন। আমি তাকে ডেকে আনলে উমার (রাঃ) তাকে বললেন, তুমি আমার সম্পর্কে কোনো কিছু কিতাবে দেখতে পাও কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন, আমাকে কিভাবে পাও। তিনি বললেন, আমি আপনাকে দুর্গ হিসেবে পাই। বর্ণনাকারী বলেন, উমার (রাঃ) তার উপর চাবুক তুলে বললেন, দুর্গ মানে? সে বললো, একটি লৌহ দুর্গ ও কঠোর আস্থাভাজন ব্যক্তি। তিনি বলেন, আমার পরে যিনি আসবেন তাকে তুমি কেমন পাচ্ছো? তিনি বললেন, আমি তাকে পুণ্যবান খলীফাহ হিসেবে পাচ্ছি, তবে তিনি আত্মীয়দের দ্বারা প্রভাবিত হবেন। উমার (রাঃ) তিনবার বললেন, আল্লাহ উসমানের উপর দয়া করুন। উমার (রাঃ) বললেন, তারপর যিনি আসবেন তাকে কেমন পাচ্ছো? উশকুফ বলেন, তাঁকে লোহার মরিচা হিসেবে পাচ্ছি। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর উমার (রাঃ) তার হাত তার মাথায় রেখে বলেন, হে দুর্গন্ধ! ধর্মগুরু বললো, হে আমীরুল মু‘মিনীন! তিনি একজন সৎ ও ন্যায়নিষ্ঠ খলীফাহ, কিন্তু যখন তাকে নির্বাচন করা হবে তখন তরবারি কোষমুক্ত অবস্থায় থাকবে এবং হানাহানি চলবে।[1] সনদ দুর্বল।
হাদিস 4657 — Sunan Abu Dawud 42:62
সহিহসহিহসহিহসহিহ Muslim (2535)
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا ح، وَحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ زُرَارَةَ بْنِ أَوْفَى، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ خَيْرُ أُمَّتِي الْقَرْنُ الَّذِينَ بُعِثْتُ فِيهِمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ‏"‏ ‏.‏ وَاللَّهُ أَعْلَمُ أَذَكَرَ الثَّالِثَ أَمْ لاَ ‏"‏ ثُمَّ يَظْهَرُ قَوْمٌ يَشْهَدُونَ وَلاَ يُسْتَشْهَدُونَ وَيَنْذِرُونَ وَلاَ يُوفُونَ وَيَخُونُونَ وَلاَ يُؤْتَمَنُونَ وَيَفْشُو فِيهِمُ السِّمَنُ ‏"‏ ‏.‏
। ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মাতের মধ্যে সর্বোত্তম হলো তারা যাদের মধ্যে আমি প্রেরিত হয়েছি। অতঃপর যারা তাদের সঙ্গে সংলগ্ন, আল্লাহই ভালো জানেন যে, তিনি তৃতীয় স্তরটি উল্লেখ করেছেন কি না। তারপর এমন সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটবে যারা সাক্ষী হিসেবে তাদেরকে না ডাকা হলেও সাক্ষ্য দিবে। তার মান্নাত করে তা পূর্ণ করবে না, তারা আত্মসাৎ করবে এবং আমানতদার হবে না। আর তাদের মধ্যে মেদ-ভূঁড়ি প্রকাশ পাবে।[1] সহীহ।
হাদিস 4658 — Sunan Abu Dawud 42:63
সহিহসহিহসহিহ Bukhari (3673) Sahih Muslim (2541)
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ لاَ تَسُبُّوا أَصْحَابِي فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْ أَنْفَقَ أَحَدُكُمْ مِثْلَ أُحُدٍ ذَهَبًا مَا بَلَغَ مُدَّ أَحَدِهِمْ وَلاَ نَصِيفَهُ ‏"‏ ‏.‏
। আবূ সাঈদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আমার সাহাবীদেরকে গালি দিও না। যে মহান সত্তার হাতে আমার জীবন তাঁর কসম! তোমাদের মধ্যে কেউ যদি উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণ (দান) ব্যয় করো তবে তা তাদের কোনো একজনের এক মুদ্দ বা অর্থ মুদ্দ ব্যয়ের সমানও হবে না।[1] সহীহ।
হাদিস 4659 — Sunan Abu Dawud 42:64
সহিহসহিহIsnaad Hasan
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زَائِدَةُ بْنُ قُدَامَةَ الثَّقَفِيُّ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ قَيْسٍ الْمَاصِرُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ أَبِي قُرَّةَ، قَالَ كَانَ حُذَيْفَةُ بِالْمَدَائِنِ فَكَانَ يَذْكُرُ أَشْيَاءَ قَالَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لأُنَاسٍ مِنْ أَصْحَابِهِ فِي الْغَضَبِ فَيَنْطَلِقُ نَاسٌ مِمَّنْ سَمِعَ ذَلِكَ مِنْ حُذَيْفَةَ فَيَأْتُونَ سَلْمَانَ فَيَذْكُرُونَ لَهُ قَوْلَ حُذَيْفَةَ فَيَقُولُ سَلْمَانُ حُذَيْفَةُ أَعْلَمُ بِمَا يَقُولُ فَيَرْجِعُونَ إِلَى حُذَيْفَةَ فَيَقُولُونَ لَهُ قَدْ ذَكَرْنَا قَوْلَكَ لِسَلْمَانَ فَمَا صَدَّقَكَ وَلاَ كَذَّبَكَ ‏.‏ فَأَتَى حُذَيْفَةُ سَلْمَانَ وَهُوَ فِي مَبْقَلَةٍ فَقَالَ يَا سَلْمَانُ مَا يَمْنَعُكَ أَنْ تُصَدِّقَنِي بِمَا سَمِعْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ سَلْمَانُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَغْضَبُ فَيَقُولُ فِي الْغَضَبِ لِنَاسٍ مِنْ أَصْحَابِهِ وَيَرْضَى فَيَقُولُ فِي الرِّضَا لِنَاسٍ مِنْ أَصْحَابِهِ أَمَا تَنْتَهِي حَتَّى تُوَرِّثَ رِجَالاً حُبَّ رِجَالٍ وَرِجَالاً بُغْضَ رِجَالٍ وَحَتَّى تُوقِعَ اخْتِلاَفًا وَفُرْقَةً وَلَقَدْ عَلِمْتَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَطَبَ فَقَالَ ‏ "‏ أَيُّمَا رَجُلٍ مِنْ أُمَّتِي سَبَبْتُهُ سَبَّةً أَوْ لَعَنْتُهُ لَعْنَةً فِي غَضَبِي - فَإِنَّمَا أَنَا مِنْ وَلَدِ آدَمَ أَغْضَبُ كَمَا يَغْضَبُونَ وَإِنَّمَا بَعَثَنِي رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ - فَاجْعَلْهَا عَلَيْهِمْ صَلاَةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ ‏"‏ ‏.‏ وَاللَّهِ لَتَنْتَهِيَنَّ أَوْ لأَكْتُبَنَّ إِلَى عُمَرَ ‏.‏
। আমর ইবনু আবূ কুররা (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুযাইফাহ (রাঃ) মাদায়েনে অবস্থানকালে এমন কিছু কথা উল্লেখ করেন, যে কথাগুলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসন্তুষ্ট অবস্থায় কতিপয় সাহাবীকে বলেছিলেন। হুযাইফাহ (রাঃ)-এর কথাগুলো যারা শুনেছিল, তাদের কতক এসে সালমান (রাঃ)-এর নিকট হুযাইফাহ (রাঃ)-এর বক্তব্যে বর্ণনা দিলে সালমান (রাঃ) বলেন, হুযাইফাহ (রাঃ) যা বলেছেন, তা তিনিই ভালো জানেন। অতঃপর তারা হুযাইফাহ (রাঃ)-এর নিকট ফিরে এসে বললেন, আমরা সালমান (রাঃ)-এর নিকট আপনার কথাগুলো বলেছি কিন্তু তিনি আপনার কথার সমর্থন বা অসমর্থন কোনোটিই দেননি। অতঃপর হুযাইফাহ (রাঃ) সালমান (রাঃ)-এর সঙ্গে সবজি বাগানে সাক্ষাৎ করে বলেন, হে সালমান! যে কথা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট শুনেছি, তার সমর্থন দিতে তোমাকে কিসে বিরত রেখেছে? সালমান (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসন্তুষ্ট হলে তাঁর কিছু সাহাবীকে কিছু কথা বলতেন এবং তাঁর সাহাবীদের মধ্যে কারো উপর সন্তুষ্ট হয়ে সন্তোষসূচ কিছু কথা বলতেন। যদি তুমি এ বিষয়গুলোর উল্লেখ থেকে বিরত না থাকো, তাহলে তুমি অনেক লোককে পরস্পর ভালবাসা ও বন্ধুত্বে আবদ্ধ করবে আর একদলকে পরস্পর মনমালিন্য ও অসন্তোষে ফেলবে, এতে দলাদলির সৃষ্টি হবে। তুমি জানো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ভাষণে বলেছেন, আমার উম্মাতের যাকে আমি অসন্তুষ্ট অবস্থায় মন্দ বলি অভিশাপ দেই কেননা আদম সন্তান হিসেবে আমিও তাদের মতো অসন্তুষ্ট হয়ে থাকি। তিনি আমাকে সৃষ্টিকূলের জন্য করুণার আধার করে পাঠিয়েছেন। হে আল্লাহ! আমার গালি ও অভিশাপকে কিয়ামতের দিন তাদের জন্য রহমতে পরিবর্তন করো। আল্লাহর কসম! যদি তুমি বিরত না থাকো তাহলে আমি অবশ্যই উমার (রাঃ)-কে লিখে পাঠাবো। অতঃপর কিছু সংখ্যক লোকের দ্বারা তার উপর চাপ সৃষ্টি করা হলে তিনি তার কসম ভঙ্গের কাফফারা দিলেন, উমার (রাঃ)-কে চিঠি লিখেননি এবং কসম ভঙ্গের আগেই কাফফারা দিলেন। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, কসম ভঙ্গের (কাফফারা) আগে বা পরে দেয়া উভয়ই জায়িয।[1] সহীহ।
হাদিস 4660 — Sunan Abu Dawud 42:65
হাসান Sahihহাসান SahihIsnaad Hasan
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، قَالَ حَدَّثَنِي الزُّهْرِيُّ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَمْعَةَ، قَالَ لَمَّا اسْتُعِزَّ بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا عِنْدَهُ فِي نَفَرٍ مِنَ الْمُسْلِمِينَ دَعَاهُ بِلاَلٌ إِلَى الصَّلاَةِ فَقَالَ مُرُوا مَنْ يُصَلِّي لِلنَّاسِ ‏.‏ فَخَرَجَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَمَعَةَ فَإِذَا عُمَرُ فِي النَّاسِ وَكَانَ أَبُو بَكْرٍ غَائِبًا فَقُلْتُ يَا عُمَرُ قُمْ فَصَلِّ بِالنَّاسِ فَتَقَدَّمَ فَكَبَّرَ فَلَمَّا سَمِعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَوْتَهُ وَكَانَ عُمَرُ رَجُلاً مُجْهِرًا قَالَ ‏ "‏ فَأَيْنَ أَبُو بَكْرٍ يَأْبَى اللَّهُ ذَلِكَ وَالْمُسْلِمُونَ يَأْبَى اللَّهُ ذَلِكَ وَالْمُسْلِمُونَ ‏"‏ ‏.‏ فَبَعَثَ إِلَى أَبِي بَكْرٍ فَجَاءَ بَعْدَ أَنْ صَلَّى عُمَرُ تِلْكَ الصَّلاَةَ فَصَلَّى بِالنَّاسِ ‏.‏
। আব্দুল্লাহ ইবনু যাম‘আহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রোগ যখন মারাত্মক রূপ ধারণ করলো তখন আমি মুসলিমদের একটি দলের সঙ্গে তাঁর নিকট উপস্থিত ছিলাম। বিলাল (রাঃ) তাঁকে সালাতের জন্য ডাকলে তিনি বললেন, ‘‘লোকদের সালাত পড়াতে তোমরা কাউকে নির্দেশ দাও। অতঃপর আব্দুল্লাহ ইবনু যাম‘আহ (রাঃ) বেরিয়ে এসে দেখলেন লোকদের মধ্যে উমার (রাঃ) উপস্থিত আছেন। কিন্তু আবূ বাকর (রাঃ) অনুপস্থিত। আমি বললাম, হে উমার! আপনি দাঁড়িয়ে সালাত পড়ান। অতএব তিনি সামনে এসে তাকবীর তাহরীমা বললেন। উমার (রাঃ) উচ্চস্বর সম্পন্ন হওয়ায় যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার শব্দ শুনতে পেলেন তখন বললেন, আবূ বাকর কোথায়? আল্লাহ এবং মুসলিমগণ এটা (আবূ বাকর ছাড়া অন্য কারো ইমামতি) অপছন্দ করেন। তিনি পুনরায় বললেন, আল্লাহ ও মুসলিমগণ এটা অপছন্দ করেন। অতঃপর আবূ বাকর (রাঃ)-এর নিকট লোক পাঠানো হলো, কিন্তু তিনি উমার (রাঃ)-এর ঐ ওয়াক্তের সালাত পড়ানোর পরে উপস্থিত হলেন এবং এরপর থেকে তিনি লোকদের সালাতে ইমামতি করেন।[1] হাসান সহীহ।
হাদিস 4661 — Sunan Abu Dawud 42:66
সহিহসহিহহাসান
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ، قَالَ حَدَّثَنِي مُوسَى بْنُ يَعْقُوبَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ زَمْعَةَ، أَخْبَرَهُ بِهَذَا الْخَبَرِ، قَالَ لَمَّا سَمِعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم صَوْتَ عُمَرَ قَالَ ابْنُ زَمَعَةَ خَرَجَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم حَتَّى أَطْلَعَ رَأْسَهُ مِنْ حُجْرَتِهِ ثُمَّ قَالَ ‏ "‏ لاَ لاَ لاَ لِيُصَلِّ لِلنَّاسِ ابْنُ أَبِي قُحَافَةَ ‏"‏ ‏.‏ يَقُولُ ذَلِكَ مُغْضَبًا ‏.‏
। উবাইদুল্লাহ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু উত্ববাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। এ হাদীস সম্পর্কে তাকে আব্দুল্লাহ ইবনু যাম‘আহ (রাঃ) জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমার (রাঃ)-এর কণ্ঠস্বর শোনার সঙ্গে উঠে এসে তাঁর ঘর থেকে মাথা বের করে ক্রোধের সঙ্গে বললেন, না, না, না; আবূ কুহাফার পুত্র যেন লোকদের সালাতে ইমামতি করে।[1] সহীহ।
হাদিস 4662 — Sunan Abu Dawud 42:67
সহিহসহিহসহিহ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، وَمُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أَبِي بَكْرَةَ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الأَنْصَارِيِّ، قَالَ حَدَّثَنِي الأَشْعَثُ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أَبِي بَكْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِلْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ ‏"‏ إِنَّ ابْنِي هَذَا سَيِّدٌ وَإِنِّي أَرْجُو أَنْ يُصْلِحَ اللَّهُ بِهِ بَيْنَ فِئَتَيْنِ مِنْ أُمَّتِي ‏"‏ ‏.‏ وَقَالَ فِي حَدِيثِ حَمَّادٍ ‏"‏ وَلَعَلَّ اللَّهَ أَنْ يُصْلِحَ بِهِ بَيْنَ فِئَتَيْنِ مِنَ الْمُسْلِمِينَ عَظِيمَتَيْنِ ‏"‏ ‏.‏
। আবূ বাকরা (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসান ইবনু আলী (রাঃ) সম্পর্কে বললেন, আমার এ ছেলে (নাতী) নেতা হবে। আর আমি কামনা করি, আল্লাহ তার মাধ্যমে আমার উম্মাতের দু’টি দলের মধ্যে সমঝোতা করাবে। হাম্মাদ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত হাদীসে রয়েছেঃ তিনি বলেন, আশা করি আল্লাহ তার মাধ্যমে মুসলিমদের বৃহৎ দু’টি দলের মধ্যে সমঝোতা করাবেন।[1] সহীহ।
হাদিস 4663 — Sunan Abu Dawud 42:68
সহিহসহিহদাঈফ
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ، أَخْبَرَنَا هِشَامٌ، عَنْ مُحَمَّدٍ، قَالَ قَالَ حُذَيْفَةُ مَا أَحَدٌ مِنَ النَّاسِ تُدْرِكُهُ الْفِتْنَةُ إِلاَّ أَنَا أَخَافُهَا عَلَيْهِ إِلاَّ مُحَمَّدُ بْنُ مَسْلَمَةَ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ "‏ لاَ تَضُرُّكَ الْفِتْنَةُ ‏"‏ ‏.‏
। মুহাম্মাদ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুযাইফাহ (রাঃ) বলেছেন, মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামাহ (রাঃ) ছাড়া অন্য সবার ব্যাপারেই হাঙ্গামার শিকার হওয়ার আশঙ্কা করেছি। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, হাঙ্গামা তোমার (মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামাহর) কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।[1] সহীহ।
হাদিস 4664 — Sunan Abu Dawud 42:69
সহিহদাঈফ
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مَرْزُوقٍ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الأَشْعَثِ بْنِ سُلَيْمٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ ثَعْلَبَةَ بْنِ ضُبَيْعَةَ، قَالَ دَخَلْنَا عَلَى حُذَيْفَةَ فَقَالَ إِنِّي لأَعْرِفُ رَجُلاً لاَ تَضُرُّهُ الْفِتَنُ شَيْئًا ‏.‏ قَالَ فَخَرَجْنَا فَإِذَا فُسْطَاطٌ مَضْرُوبٌ فَدَخَلْنَا فَإِذَا فِيهِ مُحَمَّدُ بْنُ مَسْلَمَةَ فَسَأَلْنَاهُ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ مَا أُرِيدُ أَنْ يَشْتَمِلَ عَلَىَّ شَىْءٌ مِنْ أَمْصَارِكُمْ حَتَّى تَنْجَلِيَ عَمَّا انْجَلَتْ ‏.‏
। সা‘লাবাহ ইবনু দুবাই‘আহ সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা হুযাইফাহ (রাঃ)-এর নিকট গেলে তিনি বললেন, আমি এমন একজনকে চিনি, সংঘাত যার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর আমরা রাওয়ানা হয়ে একটি তাবুক খাটানো দেখতে পেয়ে তাতে ঢুকে মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামাহর সাক্ষাৎ পেলাম। আমরা তাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমি চাই না যে, দাঙ্গ-হাঙ্গামার অবসান না হওয়া পর্যন্ত তোমাদের কোনো এক শহর আমাকে ঘিরে ধরুক (আমি বসবাস করি)।[1] সহীহ।
হাদিস 4665 — Sunan Abu Dawud 42:70
দাঈফসহিহ Lighairihiদাঈফ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ أَشْعَثَ بْنِ سُلَيْمٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ ضُبَيْعَةَ بْنِ حُصَيْنٍ الثَّعْلَبِيِّ، بِمَعْنَاهُ ‏.‏
। দুবাই‘আহ ইবনু হুসাইন আস-সা‘লাবী (রহঃ) সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অথানুরূপ বর্ণিত। আমি এটি সহীহ এবং যঈফে পাইনি।
← আগের সংগ্রহে ফিরে যান পরের →

শুধুমাত্র সহিহ ও হাসান হাদিস দেখানো হয়।