। সাফিনাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নাবুওয়াতের ভিত্তিতে পরিচালিত খিলাফাত ত্রিশ বছর অব্যাহত থাকবে। অতঃপর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা রাজত্ব বা তাঁর রাজত্ব দান করবেন। সাঈদ (রহঃ) বলেন, আমাকে সাফিনাহ (রাঃ) বলেছেন, হিসেব করো, আবূ বাকর (রাঃ) দু’ বছর, উমার (রাঃ) দশ বছর, উসমান (রাঃ) বারো বছর ও আলী (রাঃ) এতো বছর খিলাফাতের দায়িত্ব পালন করেছেন। সাঈদ (রহঃ) বলেন, আমি সাফিনাহ (রাঃ)-কে বললাম, এরা ধারণা করে যে, আলী (রাঃ) খলিফা ছিলেন না। তিনি বলেন, বনী যারকা অর্থাৎ মারওয়ানের বংশধরগণ মিথ্যা বলেছেন।[1] হাসান সহীহ।
। সাফিনাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নাবুওয়াতি পন্থায় খিলাফাত ত্রিশ বছর পরিচালিত হবে। অতঃপর যাকে ইচ্ছা আল্লাহ রাজত্ব বা তাঁর রাজত্ব দান করবেন।[1] হাসান সহীহ।
। আব্দুল্লাহ ইবনু যালিম আল-মাযিনী (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাঈদ ইবনু যায়িদ ইবনু আমর ইবনু নুফাইল (রাঃ) বলেছেন এবং আমি শুনেছি, অমুক লোক (মু‘আবিয়াহ) যখন কুফায় এলেন তখন অমুকে (মুগীরাহ ইবনু শু‘বাহ) ভাষণ দিতে দাঁড়ালেন [ভাষনে আলী (রাঃ)-এর মর্যাদায় পরিপন্থী কথা থাকায়] সাঈদ ইবনু যায়িদ (রাঃ) আমার হাত ধরে বললেন, এ যালিম তার ভাষণে কি বলছে তুমি কি লক্ষ্য করছে না? তারপর তিনি নয় ব্যক্তির জান্নাতবাসী হওয়া সম্পর্কে সাক্ষ্য দিলেন এবং আরো বললেন, আমি যদি দশম ব্যক্তির নামও উল্লেখ করি তাতে আমি গুনাহগার হবো না। আব্দুল্লাহ ইবনু যালিম (রহঃ) বলেন, আমি বললাম, এই নয়জন কে কে? তিনি (সাঈদ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেরা পাহাড়ে দাঁড়িয়ে পাহাড়টিকে কাঁপতে দেখে বললেন, ওহে হেরা! স্থির হও। কেননা তোমার উপর একজন নবী, একজন সিদ্দীক এবং একজন শহীদ অবস্থান করছেন। আমি পুনরায় বললালম, সেই নয়জন কে কে? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আবূ বাকর, উমার, উসমান, আলী, তালহা, যুবায়র, সা‘দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস ও আব্দুর রাহমান ইবনু আওফ (রাঃ)। আমি আবার বললাম, দশম ব্যক্তি কে? তখন তিনি খানিক চুপ থেকে বললেন, আমি।[1] সহীহ।
। আব্দুর রাহমান ইবনুল আখনাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি মসজিদে থাকা অবস্থায় এক ব্যক্তি আলী (রাঃ)-এর সমালোচনা করলে সাঈদ ইবনু যায়িদ (রাঃ) দাঁড়িয়ে বলেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দশ ব্যক্তি জান্নাতীঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জান্নাতী, আবূ বাকর (রাঃ) জান্নাতী, উমার (রাঃ) জান্নাতী, উসমান (রাঃ) জান্নাতী, আলী (রাঃ) জান্নাতী, তালহা (রাঃ) জান্নাতী, যুবায়র ইবনুল আওয়াম(রাঃ) জান্নাতী, সা‘দ ইবনু মালিক (রাঃ) জান্নাতী, আব্দুর রাহমান ইবনু আওফ(রাঃ) জান্নাতী। আমি (সাঈদ) ইবনু যায়িদ ইচ্ছা করলে দশম ব্যক্তির নামও বলতে পারি। বর্ণনাকারী বলতে, তখন তারা বললেন, তিনি কে? তখন তিনি চুপ থাকলেন। বর্ণনাকারী বলেন, পুনরায় তারা বললেন, তিনি কে? বর্ণনাকারী বলেন, (আমি) সাঈদ ইবনু যায়িদ।[1] সহীহ।
। রিবাহ ইবনুল হারিস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি অমুক লোকের (মুগীরাহ ইবনু শু‘বাহর) নিকট কুফার মসজিদে বসা ছিলাম এবং তার নিকট কুফার লোকজনও উপস্থিত ছিলো। এ সময় সাঈদ ইবনু যায়িদ আমর ইবনু নুফাইল (রাঃ) এলে তিনি তাকে সাদর সম্ভাবষণ ও সালাম জানিয়ে খাটের উপর নিজের পায়ের কাছে বসালেন। অতঃপর কায়িস ইবনু আলকামাহ নামক জনৈক কুফাবাসী এলে তাকেও অভ্যর্থনা জানালেন। তারপর সে গালাগালি করতে লাগলো। সাঈদ (রাঃ) বললেন, এ ব্যক্তি কাকে গালি দিচ্ছে? তিনি বললেন, সে আলী (রাঃ)-কে গালি দিচ্ছে। তিনি বললেন, আমি দেখতে পাচ্ছি, সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীকে আপনার সম্মুখে গালি দিচ্ছে অথচ আপনি তাকে নিষেধ করছেন না আর থামাচ্ছেনও না! আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ আমি তাঁর সম্পর্কে এমন উক্তি করা থেকে মুক্ত যা তিনি বলেননি। অতঃপর কিয়ামতের দিন যখন তার সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হবে তখন এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। আবূ বাকর (রাঃ) জান্নাতী, উমার (রাঃ) জান্নাতী। বর্ণনাকারী অতঃপর অনুরূপ অর্থের বর্ণনা করলেন এবং তিনি বললেন, তাদের কোনো একজনের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহচর্য লাভ, যে সাহচর্যে তিনি সন্তুষ্ট ছিলেন না তাও তোমাদের কোনো ব্যক্তির সারা জীবনের আমলের চেয়ে উত্তম, যদিও সে নূহ (আঃ)-এর মতো দীর্ঘ আয়ু পায়।[1] সহীহ।
হাদিস 4651 — Sunan Abu Dawud 42:56
সহিহসহিহহাসান Sahihসহিহ Bukhari (3697)
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، ح وَحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، أَنَّ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، حَدَّثَهُمْ أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَعِدَ أُحُدًا فَتَبِعَهُ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَعُثْمَانُ فَرَجَفَ بِهِمْ فَضَرَبَهُ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِرِجْلِهِ وَقَالَ " اثْبُتْ أُحُدُ نَبِيٌّ وَصِدِّيقٌ وَشَهِيدَانِ " .
। কাতাদাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) তাদের নিকট বর্ণনা করেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদ পাহাড়ে উঠলেন। অতঃপর আবূ বাকর, উমার ও উসমান (রাঃ) তাঁর অনুসরণ করলেন। পাহাড় কাঁপতে থাকলে আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একে পদাঘাত করে বললেন, উহুদ স্থির হও! তোমার উপর একজন নবী, একজন সিদ্দীক ও দু’ জন শহীদ (উমার ও উসমান) রয়েছেন।[1] সহীহ।
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জিবরীল (আঃ) এসে আমার হাত ধরে আমার উম্মত জান্নাতের যে দরজা দিয়ে তাতে প্রবেশ করবে তা দেখালেন। আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার একান্ত বাসনা যে, আমি তা দেখা পর্যন্ত আপনার সঙ্গে থাকি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আবূ বাকর! আমার উম্মাতের মধ্যে যে ব্যক্তি সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবে সে তুমিই।[1] দুর্বলঃ মিশকাত হা/ ৬০২৪।
হাদিস 4653 — Sunan Abu Dawud 42:58
সহিহসহিহIsnaad Sahih
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَيَزِيدُ بْنُ خَالِدٍ الرَّمْلِيُّ، أَنَّ اللَّيْثَ، حَدَّثَهُمْ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " لاَ يَدْخُلُ النَّارَ أَحَدٌ مِمَّنْ بَايَعَ تَحْتَ الشَّجَرَةِ " .
। জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যারা গাছের নীচে বাই‘আত করেছে তাদের কেউ জাহান্নামে প্রবেশ করবে না।[1] সহীহ।
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বর্ণনাকারী মূসার বর্ণনায় রয়েছেঃ ‘‘আশা করা যায়, মহান আল্লাহ’’ এবং বর্ণনাকারী ইবনু সিনান (রহঃ) এর বর্ণনা রয়েছেঃ "আল্লাহ বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদেরকে অবহিত করে বলেন, তোমরা যা ইচ্ছা আমল করো, অবশ্যই আমি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছি।"[1] হাসান সহীহ।
হাদিস 4655 — Sunan Abu Dawud 42:60
সহিহসহিহহাসান
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ ثَوْرٍ، حَدَّثَهُمْ عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنِ الْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ، قَالَ خَرَجَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم زَمَنَ الْحُدَيْبِيَةِ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ . قَالَ فَأَتَاهُ - يَعْنِي عُرْوَةَ بْنَ مَسْعُودٍ - فَجَعَلَ يُكَلِّمُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَكُلَّمَا كَلَّمَهُ أَخَذَ بِلِحْيَتِهِ وَالْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ قَائِمٌ عَلَى رَأْسِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَمَعَهُ السَّيْفُ وَعَلَيْهِ الْمِغْفَرُ فَضَرَبَ يَدَهُ بِنَعْلِ السَّيْفِ وَقَالَ أَخِّرْ يَدَكَ عَنْ لِحْيَتِهِ . فَرَفَعَ عُرْوَةُ رَأْسَهُ فَقَالَ مَنْ هَذَا قَالُوا الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ .
। আল-মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুদায়বিয়ার সময় রাওয়ানা হলেন। অতঃপর বর্ণনাকারী হাদীসটি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, তখন উরওয়াহ ইবনু মাসঊদ এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে আলাপ করতে লাগলো এবং সে বরাবর তার দাড়ি মুবারকে হাত লাগালো। তখন মুগারাহ ইবনুস শু‘বাহ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এবং তার হাতে তরবারি ও মাথায় শিরস্ত্রাণ ছিলো। তিনি তার হাতে তরবারির হাতল দিয়ে আঘাত করে বললেন, তোমার হাত তাঁর দাড়ি থেকে সরাও। উরওয়াহ মাথা তুলে বললো, ইনি কে? তারা বললেন, ইনি হলেন মুগীরাহ ইবনু শু‘বাহ (রাঃ)।[1] সহীহ।