। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাযানের মধ্যম দশকে ই‘তিকাফ করতেন। এক বছর তিনি এভাবে ইতিকাফ করাকালে একুশ তারিখে তিনি ই‘তিকাফ হতে বেরিয়ে বললেনঃ যে ব্যক্তি (মধ্যম দশকে) আমার সাথে ই‘তিকাফে শরীক হয়েছে, সে যেন শেষ দশ দিনও ই‘তিকাফ করে। আমি লাইলাতুল ক্বদর প্রত্যক্ষ করেছি কিন্তু আমাকে তা ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। আমি নিজেকে ক্বদরের রাতের সকালে পানি ও কাদায় সিজদা্ করতে দেখেছি। কাজেই তোমরা শেষ দশকে এবং প্রত্যেক বেজোড় রাতে তা অন্বেষণ করো। আবূ সাঈদ (রাঃ) বলেন, ঐ রাতে আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষিত হলো, তখনকার মাসজিদ খেজুর পাতার চালনীর হওয়াতে ছাদ থেকে পানি পড়ছিলো। আবূ সাঈদ (রাঃ) বলেন, একুশ তারিখ সকালে আমার চোখ দিয়ে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কপালে ও নাকে কাদামাটি লেগে থাকতে দেখেছি।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
। আবূ সাঈদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা রমাযানের শেষ দশকে লাইলাতুল ক্বদর অন্বেষণ করো এবং তা অন্বেষণ করো নয়, সাত এবং পাঁচের মধ্যে।[1] আবূ নাদরাহ বলেন, আমি বললাম, হে আবূ সাঈদ! গণনার ব্যাপারে আপনারা আমাদের চেয়ে অধিক জ্ঞাত। তিনি বললেন, তাতো বটেই! আমি জিজ্ঞেস করলাম, নয়, সাত এবং পাঁচ কি? তিনি বললেন, নয় হচ্ছে রমাযানের একুশ তারিখের রাত, সাত হলো তেইশের রাত এবং পাঁচ হলো পঁচিশ তারিখের রাত। সহীহ : মুসলিম। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, এ হাদীসের কোন অংশ আমার নিকট অস্পষ্ট কিনা, আমি তা অবহিত নই।
حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ زَنْجُويَهْ النَّسَائِيُّ، أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا أَسْمَعُ عَنْ لَيْلَةِ الْقَدْرِ فَقَالَ " هِيَ فِي كُلِّ رَمَضَانَ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ سُفْيَانُ وَشُعْبَةُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ مَوْقُوفًا عَلَى ابْنِ عُمَرَ لَمْ يَرْفَعَاهُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .
। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ‘লাইলাতুল ক্বদর’ সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করা হলে তা আমি শুনি। তিনি বলেছেনঃ তা পুরো রমাযানেই নিহিত আছে। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, সুফিয়ান ও শু‘বাহ এ হাদীসটি আবূ ইসহাক হতে ইবনু ‘উমারের নিজস্ব বক্তব্যরূপে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা এর সানাদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছাননি।[1] দুর্বল; সহীহ হচ্ছে মাওকুফ।
হাদিস 1388 — Sunan Abu Dawud 6:18
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (5054) Sahih Muslim (1159)
। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছেনঃ তুমি কুরআন এক মাসে খতম করবে। তিনি বললেন, আমি এর চাইতে অধিক সামর্থ রাখি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তাহলে বিশ দিনে খতম করবে। তিনি বললেন, আমি এর চাইতে বেশি সামর্থ রাখি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তাহলে পনের দিনে খতম করবে। তিনি বললেন, আমি এর চেয়েও অধিক শক্তি রাখি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তাহলে দশ দিনে খতম করবে। তিনি বললেন, আমি আরো সামর্থ রাখি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তাহলে সাত দিনে, কিন্তু এর চেয়ে অধিক কম সময়ে খতম করবে না।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, মুসলিমের বর্ণনাটি পরিপূর্ণ।
। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেনঃ তুমি প্রত্যেক মাসে তিন দিন সওম পালন করবে এবং কুরআন এক মাসে খতম করবে। তারপর তিনি কুরআন খতমের সময় কমাতে থাকলে আমিও কমাতে থাকি। অতঃপর তিনি বললেনঃ তুমি একদিন সওম পালন করবে এবং একদিন বিরতি দিবে।[1] সহীহ। ‘আত্বা বলেন, আমরা আমার পিতার বর্ণনাতে মতভেদ করি, কেউ সাত দিন এবং কেউ পাঁচ দিনের কথা বর্ণনা করেন।
। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি কয়দিনে কুরআন খতম করবো? তিনি বললেনঃ এক মাসে। তিনি বললেন, আমি এর চেয়ে অধিক শক্তি রাখি। আবূ মূসার বর্ণনায় রয়েছে অতঃপর আলোচনার মাধ্যমে সময়ের ব্যবধান কমিয়ে অবশেষে বললেন, সাত দিনে খতম করবে। তিনি বললেন, আমি এর চেয়েও বেশি শক্তি রাখি। তিনি বললেনঃ যে ব্যক্তি তিন দিনের কমে কুরআন খতম করে, সে কুরআনকে হৃদয়ঙ্গম করতে পারে না।[1] সহীহ।