। আবূ ইসহাক হতে উপরোক্ত সানাদ ও অর্থে বর্ণিত। তাতে শেষাংশে রয়েছেঃ এগুলো বিতরের কুনূতে বলেছেন। কিন্তু এ কথা উল্লেখ নেই যে, ‘আমি এগুলো বিতরে বলেছি।’[1] সহীহ।
। ‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বিতর সালাত শেষে বলতেনঃ আল্লাহুমা ইন্নী আ‘উযু বিরিদাকা মিন সাখাতিকা ওয়া বিমু‘আফাতিকা মিন ‘উকুবিকা ওয়া আ‘উযুবিকা মিনকা লা উহসী সানা ‘আলাইকা আনতা কামা আসনাইতা ‘আলা নাফসিকা।’’ (অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি আপনার সন্তুষ্টির মাধ্যমে আপনার ক্রোধ হতে আশ্রয় চাই। আপনার শাস্তি হতে আপনার ক্ষমার মাধ্যমে আশ্রয় চাই। আমি আপনার থেকে সর্বপ্রকারের আশ্রয় চাই। আমি আপনার প্রশংসা গণনা করে শেষ করতে পারবো না, বরং তুমি আপনার নিজের যেরূপ প্রশংসা করেছেন, ঠিক সেরূপই’’। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, হিশাম হাম্মাদের প্রাক্তন শায়খ এবং ইয়াহইয়া ইবনু মাঈন হতে আমার কাছে এ হাদীস পৌঁছে যে, তার থেকে হাম্মাদ ইবনু সালামাহ ছাড়া অন্য কেউ এ হাদীস বর্ণনা করেননি। উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতর সালাতে রুকূ‘র আগে কুনূত পাঠ করেছেন। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, সাঈদ ইবনু ‘আবদুর রহমান ইবনু আবযা হতে তার পিতা থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তবে এ হাদীসে কুনূতের কথা এবং উবাইয়ের নাম উল্লেখ নেই। অনুরূপভাবে ‘আবদুল আ‘লা এবং মুহাম্মাদ ইবনু বিশর আল-আবদী বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি এ হাদীসটি ঈসা ইবনু ইউনুসের সাথে কুফাতে শুনেছেন। তবে কুনূতের কথা উল্লেখ করেননি। একইভাবে হিশাম আদ-দাসতাওয়াঈ এবং শু‘বাহ (রহঃ) ক্বাতাদাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এখানেও কুনূতের কথা উল্লেখ নেই। যুবাইদী সূত্রে বর্ণিত হাদীসে তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকূ‘র পূর্বে কুনূত পাঠ করেছেন। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, এরূপও বর্ণিত হয়েছে যে, উবাই (রাঃ) রমাযানের অর্ধ মাস কুনূত পাঠ করতেন।[1] সহীহ।
। হাসান বাসরী (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) (তারাবীহ সালাতের জন্য) উবাই ইবনু কা‘বের পিছনে লোকদেরকে জামা‘আতবদ্ধ করলেন। তিনি তাদেরকে নিয়ে বিশ রাত সালাত আদায় করলেন। কিন্তু তিনি রমাযান মাসের অর্ধেক পর্যন্ত কুনূত পাঠ করেননি। অতঃপর যখন রমাযানের শেষ দশকে তিনি মাসজিদ ছেড়ে নিজ ঘরে সালাত আদায় করলেন। লোকেরা বলাবলি করতে লাগলো, উবাই পালিয়ে গেছে।[1] দুর্বল। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, এ হাদীস এটাই প্রমাণ করে যে, কুনূত সংক্রান্ত যা কিছু উল্লেখ হয়েছে তা অনির্ভরযোগ্য এবং উল্লেখিত হাদীসদ্বয় দ্বারা এটা স্পষ্ট যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতরে কুনূত পড়েছেন এ মর্মে উবাইর বর্ণনা দুর্বল।
। আবূ সাঈদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি বিতর সালাত আদায় না করেই ঘুমায় অথবা আদায় করতে ভুলে যায়, পরে স্মরণ হওয়া মাত্রই সে যেন তা আদায় করে নেয়।[1] সহীহ।
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার বন্ধু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তিনটি কাজের ওয়াসিয়াত করেছেন, যা আমি সফরে কিংবা বাড়িতে অবস্থানকালেও পরিহার করি না। তা হলোঃ চাশতের দু’ রাক‘আত সালাত, প্রতি মাসে তিন দিন (১৩, ১৪,ও ১৫ তারিখে আইয়ামে বিযের) সওম পালন এবং বিতর আদায় না করা পর্যন্ত না ঘুমানো।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম, এ কথা বাদে : সফরে কিংবা বাড়িতেও নয়।
। আবূ দারদা (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার বন্ধু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তিনটি কাজের ওয়াসিয়াত করেছেন যা আমি কখনো বর্জন করি না। তিনি আমাকে ওয়াসিয়াত করেছেন প্রতি মাসে তিন দিন সওম পালন করতে, বিতর সালাত আদায়ের পূর্বে নিদ্রায় না যেতে এবং বাড়িতে ও সফরে প্রত্যেক অবস্থায় চাশতের সালাত আদায় করতে।[1] সহীহ : তার এ কথা বাদে : মুকীম অবস্থায় এবং সফর অবস্থায়ও নয়।
। আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বাকর (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেনঃ বিতর সালাত তুমি কোন সময়ে আদায় করো? তিনি বললেন, আমি রাতের প্রথমাংশে বিতর আদায় করি। তিনি ‘উমার (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি বিতর কোন সময়ে আদায় করো? তিনি বললেন, আমি বিতর শেষ রাতে আদায় করি। অতঃপর তিনি আবূ বাকর (রাঃ) সম্পর্কে বলেনঃ সে সতর্কতা অবলম্বন করেছে এবং ‘উমার (রাঃ) সম্পর্কে বলেনঃ সে শক্তভাবে ধারণ করেছে।[1] সহীহ।
। মাসরূক (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতর সালাত কোন সময়ে আদায় করতেন? তিনি বলেন, তিনি রাতের প্রথমভাগে, মধ্যভাগে এবং শেষভাগে- এগুলোর যে কোন সময়েই বিতর আদায় করেছেন। তবে তিনি ইন্তিকালের পূর্বে বিতর সালাত সাহারীর শেষ সময়ে আদায় করেছেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।