। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা তার একখানা চাদর চুরি হয়ে যায়। তিনি চোরকে বদ্দু‘আ করতে শুরু করলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তুমি তার পাপকে হালকা করো না। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, ‘লা তুসাববিখী’ এর অর্থ হচ্ছে, হালকা করো না।[1] দুর্বল।
। ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘উমরাহ করতে যাবার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে অনুমতি চাইলে তিনি আমাকে অনুমতি দিয়ে বললেনঃ হে আমার ছোট ভাই! তোমার দু‘আয় আমাদেরকে যেন ভুলো না। পরবর্তীতে ‘উমার (রাঃ) বলেন, তাঁর এ একটি শব্দ আমাকে এতোটা আনন্দ দিয়েছে যে, এর বিনিময়ে সমগ্র দুনিয়ার সম্পদও আমাকে এতোটা আনন্দিত করতে পারতো না। শু‘বাহ (রহঃ) বলেন, পরবর্তীতে আমি মাদীনায় ‘আসিমের সাথে দেখা করলে তিনি আমাকে এ হাদীসটি বর্ণনা করেন। তবে তিনি ‘আমাদেরকে ভুলো না’ এর স্থলে ‘আমাদেরকেও শরীক করো’ বলেছেন।[1] দুর্বল।
হাদিস 1499 — Sunan Abu Dawud 8:84
সহিহসহিহসহিহদাঈফ
حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، قَالَ مَرَّ عَلَىَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا أَدْعُو بِأُصْبُعَىَّ فَقَالَ " أَحِّدْ أَحِّدْ " . وَأَشَارَ بِالسَّبَّابَةِ .
। সা‘দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি দু’ আঙ্গুল উঠিয়ে দু‘আ করছিলাম, এমন সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার পাশ দিয়ে অতিক্রমকালে বললেনঃ এক আঙ্গুল দিয়ে দু‘আ করো এবং তিনি তর্জনী (শাহাদাত আঙ্গুল) দ্বারা ইশারা করলেন।[1] সহীহ।
। ‘আয়িশাহ বিনতু সা‘দ (রাঃ) হতে তার পিতার সুত্রে বর্ণিত। একদা তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে এক মহিলার কাছে গিয়ে তার সম্মুখে খেজুর বিচি অথবা কংকর দেখতে পেলেন। মহিলাটি ওগুলোর সাহায্যে তাসবীহ পাঠ করছিলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি কি তোমাকে এর চাইতে অধিক সহজ ও উত্তম পদ্ধতি জানাবো না! ‘‘আকাশের সমস্ত সৃষ্টির সংখ্যা পরিমাণ সুবহানাল্লাহ এবং যমীনের সমস্ত সৃষ্টির সংখ্যা পরিমাণ সুবহানাল্লাহ। আকাশ ও যমীনের মাঝে যা কিছু রয়েছে সে পরিমাণ সুবহানাল্লাহ এবং অনুরূপ সংখ্যক আল্লাহু আকবার, আলহামদু লিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।’’[1] দুর্বল।
হাদিস 1501 — Sunan Abu Dawud 8:86
হাসানহাসানহাসানIsnaad Hasan
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دَاوُدَ، عَنْ هَانِئِ بْنِ عُثْمَانَ، عَنْ حُمَيْضَةَ بِنْتِ يَاسِرٍ، عَنْ يُسَيْرَةَ، أَخْبَرَتْهَا أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَمَرَهُنَّ أَنْ يُرَاعِينَ بِالتَّكْبِيرِ وَالتَّقْدِيسِ وَالتَّهْلِيلِ وَأَنْ يَعْقِدْنَ بِالأَنَامِلِ فَإِنَّهُنَّ مَسْئُولاَتٌ مُسْتَنْطَقَاتٌ .
। ইউসায়রাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেনঃ তোমরা তাকবীর, তাকদীস এবং তাহলীল এগুলো খুব ভালভাবে স্মরণে রাখবে এবং এগুলোকে আঙ্গুলে গুনে রাখবে। কেননা আঙ্গুলগুলোকে জিজ্ঞাসা করা হবে এবং এগুলোও সেদিন (কিয়ামতের দিন) কথা বলবে।[1] হাসান।
। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুওয়াইরিয়াহ (রাঃ) এর কাছ থেকে বেরিয়ে এলেন। ইতিপূর্বে তার নাম ছিলো বাররাহ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার এ নাম পরিবর্তন করেন। তিনি তার কাছ থেকে বেরিয়ে আসার সময়ও মুসাল্লায় বসে তাসবীহ পাঠ করতে দেখেন এবং ফিরে এসেও তাকে ঐ মুসাল্লায় বসে থাকতে দেখেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি তখন থেকে একটানা এ মুসাল্লায় বসে রয়েছো? তিনি বললেন, হাঁ। তিনি বললেন, তোমার কাছ থেকে যাওয়ার পর আমি তিনবার চারটি কালেমা পড়েছি; এ দীর্ঘ সময় পর্যন্ত তুমি যা কিছু পাঠ করেছো, উভয়টি ওজন হলে আমার ঐ চারটি কালেমা ওজনে ভারী হবে। তা হচ্ছেঃ ‘‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি ‘আদাদা খালক্বিহি, ওয়া রিদা নাফসিহি, ওয়া যিনাতা ‘আরশিহি, ওয়া মিদাদা কালিমাতিহি।’’[1] সহীহ : মুসলিম।
। আবূ হুরাইরাহ রাযিয়াল্লাহু ‘আনহু সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আবূ যার (রাঃ) বলেন, হে আল্লাহর রসূল! ধনীরা তো সওয়াবে অগ্রগামী হয়ে যাচ্ছে। আমরা যেমন সালাত আদায় করি, তেমন তারাও সালাত আদায় করে, আমরা যেমন সওম পালন করি, তারাও তেমন সওম পালন করে। কিন্তু তারা তাদের অতিরিক্ত ধন-সম্পদ দান-খয়রাত করে। (দান খয়রাতের জন্য) আমাদের তো পর্যাপ্ত সম্পদ নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আবূ যার! আমি কি তোমাকে এমন দুটি বাক্য শিক্ষা দিবো না যা পাঠ করলে তুমি তোমার চেয়ে অগ্রগামীদের সমপর্যায় হতে পারবে এবং তোমার পিছনের লোকেরাও তোমাকে অতিক্রম করতে পারবে না? তবে তার কথা ভিন্ন যে তোমার মতো আমল করে। তিনি বললেন, হ্যাঁ, নিশ্চয়। তিনি বললেনঃ তুমি প্রত্যেক সালাতের পর তেত্রিশবার ‘আল্লাহু আকবার’, তেত্রিশবার ‘আলহামদু লিল্লাহ’, তেত্রিশবার ‘সুবহানাল্লাহ’ এবং শেষে একবার ‘‘লা ’ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া ‘আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর’’ বলবে। কেউ এ দু‘আ পড়লে তার গুনাহ সমুদ্রের ফেনারাশি পরিমাণ হলেও তা ক্ষমা হবে।[1] সহীহ : কিন্তু : ‘‘কেউ এ দু‘আ পড়লে তার গুনাহ সমুদ্রের ফেনারাশি পরিমাণ হলেও তা ক্ষমা হবে।’’ তার এ কথাটুকু মুদরাজ।